কুকুর চরম হিংসুক এবং সগোত্রের বিরুদ্ধে মারাত্মক আগ্রাসী। তবে তার একটি গুনের কারণে সে আলোচিত ও কিছু মানুষের কাছে অতি আদরণীয় প্রাণী। সেটা হল তার প্রভুভক্তি, জীবন দিয়ে হলেও তা প্রমাণ করে। কুকুরের প্রভুভক্তি নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলে না বরং তার প্রভুভক্তি নিয়ে বহু কথা বই পুস্তকে রচিত আছে। কুকুরের সাহচর্য ও প্রভুভক্তির দায়
আরো পড়তে পারেন…
- শৃগালের সাথে মানুষের মিল যেখানে
- চড়ুই পাখি নিধন ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ
- মৌমাছি সেরা খাদ্য প্রস্তুতকারক
কুকুর শত বছর মানুষের ঘরে বসবাস করার সুযোগ পেলেও কখনও সে মানবীয় গুন অর্জন করতে পারে না। আবার কুকুরের সাথে চলতে গিয়ে বহু মানুষ কুকুরের কিছু গুন অর্জন করে ফেলে, যদ্বারা সেগুলো দিয়ে সে সমাজে দাপট দেখিয়ে চলে।
মানুষের প্রতি কুকুরের প্রভুভক্ত গুণ যদি না থাকত, তাহলে সে দুনিয়াতে বসবাস করতে পারত না। এটার দ্বারাই কুকুর গোত্র আজো দুনিয়াতে টিকে আছে। এই গুন শত্রুদের নিকট থেকে তাকে রেহাই দেয়। তাই সে এই গুনকে হিসেব করে কাজে লাগায়। এটা তার টিকে থাকার গুন।
কুকুর সর্বদা শঙ্কা ও অ-নিরাপত্তার মধ্যেই বেচে থাকে। তার শত্রু চারিদিকে ছিটিয়ে থাকে। ছাগলের চার পায়ের ছায়া দেখলেও কুকুরের পঞ্চ ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠে এই ভয়ের যে, বাড়ীতে আবার কোন জ্ঞাতি দুষমনের আগমন হল! এত ভয়-ভীতি বুকে নিয়ে কুকুর বাড়ী চৌহদ্দির বাইরে আসে এবং সামনের পাড়ার দিকে মাথা তুলে তাকায়। আর ভাবে, ঈশ! যদি ও পাড়ায় যেতে পারতাম তাহলে সারা দুনিয়া দেখার স্বাদ মিটত এবং ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতো। এটাই কুকুরের একমাত্র ইচ্ছে ও আশা কিন্তু কুকুরের পক্ষে শুরুতে একাকী এই সাহস দেখানো অসম্ভবের মত লাগে। সে জন্য তার দরকার একজন অভিভাবক। যার উপস্থিতিতে সে বুকে সাহস বাড়াতে পারে।
গরীব মানুষ ধনী হবার জন্য যেভাবে সিন্দাবাদের বোতলে আটকানো দৈত্যের সন্ধান করে। ঠিক সেভাবে কুকুর সন্ধান করে একজন মানুষের সাহচর্য। কোন মানুষের সাথী হতে পারলে, সে দুনিয়া ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং দূরের গ্রামের পাশ দিয়ে ঘুরে আসার হিম্মত পায়। তাই কুকুর তক্কে থাকে গৃহ মনিব কিংবা গৃহস্থের সন্তানের স্নেহ, দরদ পেতে। এ কারণে গৃহস্থের ছোট্ট শিশুটিও কিন্তু কুকুরের আশা-ভরসার স্থল। কখনও তার সাথে রাগ দেখায় না! বরং তার সাথে খেলাধুলায় মন দেয় এবং তাকে নিরাপত্তা দেয়। মানুষের কাছে কুকুরের এই চরিত্রটিকেই প্রভুভক্তির মত লাগে।
কুকুর তার পরিচিত মানুষকে সাথে পেলে পাশের গ্রামের কুকুরের সাথে বীরত্বের সাথে লড়তে পারে। তাও না পারলে ঘেউ বলে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে পারে। গৃহকর্তার গাড়ীতে করে গেলেও ঘেউ শব্দে সে তার ধমকের জানান দেয়। কর্তার উপস্থিতিতে দুর্বল শরীর নিয়েও সে সবল প্রতিপক্ষের উপর ঠাট দেখাতে পারে। কখনও আক্রমণ করে। ঠিক আমাদের দেশের গোপটি মারা নেড়ি সন্ত্রাসীদের মত! গণ্ডগোলের সময় ওরা পুলিশের বেষ্টনীর পিছনে নিরাপদে লুকিয়ে থেকে, সবল প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে।
ঘরের শিশু সন্তানটিও কুকুরের উপর মাতব্বরি করতে পারে। কুকুর মানব শিশুর অযাচিত আচরণ মেনে নেয়। লাটি, লাথি, ঝাড়ুর আঘাত খেয়েও কুকুর কখনও গৃহস্থের বাড়ী ত্যাগ করে না। কেননা বাহিরের দুনিয়াটা তার জন্য খুবই ছোট। সে ঠিকি বুঝে, শত গজ দুরেই শত্রু ছড়িয়ে আছে। সেখানকার জীবন আরো অনিশ্চিত এবং অনিরাপদ। কুকুরের সাহচর্য ও প্রভুভক্তির দায়
বাড়ীর গৃহপালিত হাঁস-মুরগীর সাথেও কখনও গৃহপালিত কুকুরের ধন্ধ সংঘাত হয়। কুকুর ওদের সাথে সংঘাত এড়িয়ে চলতে পছন্দ করে। কুকুর এড়াতে চাইলে তো আর হবেনা। গায়ে পড়ে যখন অন্য কেউ আক্রমণ করে, তখন পরিস্থিতি একটু ভিন্ন স্বাদের হয়ে উঠে। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, গৃহস্থের পালিত মোরগের সাথে কুকুরের অসম লড়াইয়ে কুকুরই কুলিয়ে উঠতে পারছে না! পাতি হাঁসের মত নিরীহ প্রাণীও কুকুরতে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। দৃশ্যত কুকুরের চরিত্রে পরাজয়ের ভাব থাকলেও বিষয়টিকে সেভাবে সরল সমীকরণ করলে চলবে না।
কুকুর হল শৃগালের খালাত ভাই। সে গোত্রীয় রক্তের মাধ্যমেই আক্রমণ প্রতি আক্রমণের পদ্ধতি জানে, কিভাবে মোরগের আক্রমণ দমন করতে হয়। কিন্তু কুকুর সেটা করতে যায় না! কেননা কুকুর ঠিকই বুঝে যে, দুই জনের মধ্যে মোরগই হল গৃহকর্তার প্রিয়জন। তাকে ঘরে থাকতে দেয় আর কুকুরকে রাখে ঘরের বাইরে।
তাই কুকুর-মোরগ একই ঘর কিংবা একই দলের ভিন্ন সদস্য হবার পরও, ঘরের ভিতরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় যদি মোরগের উপরই বর্তায় এবং মোরগ জিতে যায়; তদুপরি রায় কুকুরের পক্ষে যাবেনা, সে কোন সুবিচারও পাবেনা। অধিকন্তু কুকুর-মোরগের যুদ্ধে যদি কুকুর জিতে যায়। গৃহকর্তী তার আন্তরিকতা, বিশ্বস্ততা, নির্লোভ চরিত্র ও প্রভুভক্তি গুণাবলীর কোনটাই বিবেচনায় রাখবে না। তাকেই বাড়ীর বাহির হতে হবে নতুবা হত্যার মুখোমুখি পড়তে হবে।