পৃথিবী ভরা অক্সিজেন কিন্তু অক্সিজেনের মূল্য কত তা কেউ জানেনা। মানুষ সারা জীবন নিজের ফুসফুস ব্যবহার করেই শ্বাস নেয় কিন্তু সে জানেনা একটি নিঃশ্বাসের মূল্য কত! একমাত্র মৃত্যুপথযাত্রীই বুঝতে পারে, এই পৃথিবীতে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বাসের দাম কত। যদি কারো কাছে সারা দুনিয়ার থাকে এবং সে যদি এ ধরনের একটি বিপদের মুখে পড়ে, তাহলে এই বিপদের বিনিময়ে সেটাও দিয়ে দিতে চাইবে! একটি নিঃশ্বাসের মূল্য কত
আরো পড়তে পারেন…
- স্কুল শিক্ষক ও এক রাজমিস্ত্রি
- ইমাম মালেক বিন আনাস আছবাহী (রহঃ)
- সন্তানকে জ্ঞানী ও সৃজনশীল বানানোর সেরা উপায়
কিন্তু যখন শেষ সময় চলে আসে এবং হিসেবের খাতা বন্ধ হবার সময় হয়; তখন ব্যাংক ভরা অর্থ, সুঠাম স্বাস্থ্য, রাজন্যবর্গের সহযোগিতা কোন কাজেই আসেনা। ভীষণ ক্ষমতাবান মানুষও তখন চরম অসহায় হয়ে পড়ে। শিশুর মত অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এবং ওয়াদা করে যদি জীবন ফিরে পায়, তাহলে বাকী জীবন জনকল্যাণেই কাটিয়ে দিবে।
ছবিটি ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রা শহরের। দম্পতি বেবি ট্যাক্সিতে বসা। অনেক হাসপাতাল ঘুরে কোথাও স্বামীর জন্য একটি সিটের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ওদিকে অক্সিজেনের অভাবে স্বামীর ফুসফুস হাঁস-ফাঁস করছে। এখুনি বুঝি প্রাণ বায়ু বেড়িয়ে যায়। পাশে বসে থাকা স্ত্রীকে চরম অসহায়ত্ব ঘিরে ধরে। কি করবে, কি করা উচিত বুঝে আসছে না। অগত্যা নিরুপায় সহধর্মীনি নিজের ফুসফুসে ধরে রাখা অক্সিজেনের কিছুটা, অসহায় স্বামীর মুখের মাধ্যমে বিনিময় করছে।
কিন্তু এটি একেবারেই ব্যর্থ প্রচেষ্টা! মরণ যুদ্ধে পরাস্ত স্বামীর দুর্বল শরীর স্ত্রী কোলেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। প্রিয়তম স্বামীর ছটফটানি দেখে, স্ত্রী নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবার সময় পায়নি। বিপদজনক ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত স্বামীর মুখে নিজের মুখটাও লাগিয়ে দিয়েছে। আমরা বুঝতেই পারি, সামনের দিনে স্ত্রীর কি পরিণতি অপেক্ষা করছে। সেতো কিছুটা অক্সিজেনের স্বামীকে দিয়েছিল তার জন্য হয়ত সেটাও জুটবে না।
এটা দ্বারা বুঝা যায়, জীবন সায়াহ্নে কখনও আপনজন কাছে থাকলেও কোন উপকারে আসেনা। নিজের উপকার নিজের জন্যই বানাতে হয়। নিজেকেই সচেতন হতে হয়। বিচারের দিনে হাশরের ময়দানে, প্রত্যেকটি মানুষকে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ব্যতীত এক কদমও নড়তে দেওয়া হবে না। আল্লাহ প্রশ্ন করবেন, বান্দাহ!
“তোমাকে সুন্দর স্বাস্থ্য দেওয়া হয়েছিল, তুমি সেটাকে কি কাজে লাগিয়েছ?”
দুনিয়া-বাসী জানে প্রতিটি মানুষই নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা করে, তাই সেদিন ধানাই পানাই করে উত্তর দেওয়া চলবে না। দেহ-স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা করার অধিকার আল্লাহ তার কোন বান্দাকে দেয় নি। তাই সবার উচিত সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বোচ্চ সর্তকতা সহকারে রাস্তায় নামা এবং অন্যকেও বাধ্য করা। নিজের অবহেলার কারণে, চরম দুর্ভোগ সহ্য করে, এভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেই মুক্তি নাই। মৃত্যুর পরক্ষণেই এই অবহেলার উত্তর দিতেই হবে নতুবা জাহান্নামের আগুনের নল নিজের দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়া হবে। সেখানে ভং-চং করে উত্তর দেবার কোন সুযোগ নেই।