গত বার কৃপণের বাড়ীতে ঈদের মেহমান হতে গিয়ে কি ঝামেলাটাই না হয়েছিল! সেটা আমাদের মনে দাগ কাটা ছিল। তাই পরের বছর সবার ঘরে গিয়ে, গায়ে পড়ে মেহমান হবার ধারণাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এক বছরে আমাদের জ্ঞান বুদ্ধিও কিছুটা বেড়েছে, আবার কিছু নতুন আইডিয়া দেবার মত বন্ধুও জুটেছে! বিড়ির আদালতে দিগম্বর বিচারক
আরো পড়তে পারেন…
- ঈদের দিনে ধনী কৃপণের বাড়ীতে
- পা তোলে ক্ষমতা প্রদর্শন
- তেল বাজের রকম ফের
আমাদের সময়ে সামাজিক অবস্থা কঠিন ছিল। বর্তমান সময়ে তরুণ-কিশোরেরা যার যেভাবে রুচি সেভাবে চলতে থাকে; আমাদের সময়ে নিজের ইচ্ছে মত, রুচির প্রকাশ ঘটাতে পারত না। ধনী-গরীব যেই হউক না কেন, সকল শ্রেণীর প্রবীণেরা কৈফিয়ত তলব করতে পারত!
যাই হউক, ছোটদের কাছে জনশ্রুতি আছে যে, ছোট ছাত্ররা যখন কলেজে উঠবে, তখনই বিড়ি পান করার স্বাধীনতা পাবে। বড় না হওয়া অবধি ছোটদের জন্য একাজ নিষিদ্ধ। তবুও দলের কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সাহস করে নিয়মের ফাঁক গলিয়ে, এবারের ঈদে লোক চক্ষুর অন্তরালে কোথাও ফাঁকি দিয়ে ধূমপান করবে!
সিদ্ধান্ত ছিল, ঈদের দিনে গুরুত্বপূর্ণ আত্মীয়দের বাড়ীতে সহসা মেহমান পর্ব শেষ করেই, কোন এক নিরাপদ স্থানে বসে আবুল বিড়ি আর স্টার সিগারেটে আগুন লাগানো হবে!
আমাদের গ্রামের পাশেই বয়ে চলেছে, বাংলাদেশের মিষ্টি পানির ঐতিহাসিক নদী ‘হালদা’। এটি একটি ছোট নদী কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্ণফুলী ও হালদা সংযোগ স্থলে বহু প্রজাতির মাছের ডিমের উৎসস্থল এটিই। হালদার উভয় পাশেই উত্তম প্রজাতির বাঁশ জন্মে আর নিচে ‘আচাড়’ বনের (স্থানীয় ভাষা) সারি। দুঃখিত পাঠক, আমি বলছিলাম বিড়ির ঘটনা, আর মাঝপথে এসে গেছে মাছের কাহিনী!
সিদ্ধান্ত হলো, আচাড় বনের সুন্দর লোকেশন বাছাই করে, নিরাপদে বসে, বিড়িতে আগুন লাগিয়ে, সারাদিন মনের সুখে ধূমপান করা হবে! যদিও, বিড়ি টানার পরিকল্পনা কারী সেই ইঁচড়ে পাকা বন্ধু, আগেই একটি যুতসই স্থান নির্বাচন করে রেখেছিল।
সকল অন্যায় ও অন্যায্য কাজে নিজের মন ও বিবেক বাধা দেয়! ছোট্ট হলেও আমাদের মনেও গোপনে বিড়ি টানার মত এই অসুন্দর কাজের খারাপ উপলব্ধি ঘুরপাক খাচ্ছিল। আচাড় বনে ঢুকার সময়ে, কেউ দেখে ফেলছে কিনা বুঝতে, চারিদিকে তাকালাম। এক কিলোমিটার দূরে একজন মানুষকে বাজার অভিমুখে আসতে দেখা গেল। মনে হচ্ছিল তিনি বুঝি আমাদের দেখে ফেলছেন! মূলত এটা হল মনের ভিতর থেকে, খারাপ কাজের বাধার ফল। প্রতিটি মানুষই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, এভাবে নিজের মনে বাধা পেয়ে থাকে।
ইঁচড়ে পাকা বন্ধুটি বলল, আচ্ছা বলত, সেই মানুষটি কে?
উত্তরে বললাম, এতদূর থেকে কিভাবে চিনব?
তার সোজা সাপটা উত্তর, এতদূর থেকে যেহেতু তুমি তাকে চিনতে পারছ না, তাহলে তিনিও আমাদেরকে চিনতে পারবে না! জলদি বনে ঢুকে পড়! তার কথাতেও একটি বলিষ্ঠ যুক্তি আছে! সবাই তার কথার সাথে একমত হলো। মূলত ন্যায় অন্যায়ের ধান্ধা তথা সন্দিহানের মধ্যেও উভয় পক্ষে বলিষ্ঠ তথ্য ও যুক্তি প্রমাণ থাকে। কে কোনটা গ্রহণ করবে, সেটা তার সহপাঠী, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও মনের টানের দ্বারাই নির্ধারিত হয়।
একদা এই বনে কত লুকোচুরি খেলেছি তার ইয়ত্তা নেই! কেউ বাজে সন্দেহ করবে, এমন ভাবনাও কোনদিন একটি বারের জন্যও মনে উঁকি দেয়নি! আজও আমাদের লুকোচুরির বয়স পার হয়ে যায়নি যে, মানুষ বনে ঢুকার কাজকে সন্দেহের চোখে দেখবে। কিন্তু মনের ভিতরে আমরা জানি, আজ লুকোচুরির জন্য বনে ঢুকছি না বরং মুরুব্বীদের অপছন্দের কাজ তথা বিড়ি টানার জন্যই বনে ঢুকছি। মূলত মনের বিরুদ্ধের যায় তথা মন সায় দেয়না এমন প্রতিটি কাজই অন্যায্য, যদিও তাতে আইন বাধা হয়ে দাড়ায় না।
বর্তমান সময়ে বিড়ি-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল। সচেতন অনেকেই এসব পান করে না। আমাদের ছোটকালে এটাকে নেতিবাচক দেখা হলেও, উচ্চ শিক্ষিতদের জন্য সিগারেট ছিল কিছুটা আভিজাত্যের প্রতীক! এলাকার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আঙ্গুলের দু’ফাঁকে সিগারেট ধরে অনেকটা প্রকাশ্যেই ধূমপান করত! আমাদের কাছে, এটাকে খুবই গৌরব ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ বলে মনে হত! অনেক পিতা কলেজে পড়ুয়া ছেলের জন্য সিগারেটের টাকাও বরাদ্দ রাখতেন! দেশের সকল এলাকার কথা জানিনা, তবে আমাদের এলাকার চিত্র এমনই ছিল!
অথচ এ ধরনের একটি গৌরবজনক কাজে প্রাকটিস করতে কিশোরদের বারণ আছে! কিছুদিন পরে তো, এমনিতেই বিড়ি টানার অধিকার হস্তগত হবে। সময়ের অপেক্ষার সাথে একটু পান করে দেখার সুযোগ নিতে মন চায়। তাও সঙ্গোপনে! বিড়ি টানায় কি সুখ তখনও বুঝি নি তবে এতটুকু বুঝেছি যে, বিড়ির মাথায় আগুন লাগিয়ে, পাছায় মুখ লাগিয়ে চুম্বকের মত লম্বা টান মেরে, নাক-মুখ দিয়ে বাতাসে ধূয়ার কুণ্ডলী ছেড়ে দেয়াই হল, বিড়ি টানার অন্যতম হকিকত!
একটি পরিপাটি জায়গায় বসে, সুন্দর ভাবেই কাজটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে এক মহা বিপত্তি ঘটে গেল! হঠাৎ হুড়মুড় করে কেউ একজন আচাড় বনে ঢুকে বনে পড়ে এবং কাল বিলম্ব না করেই, আমাদের ঠিক তিন হাত দূরেই লুঙ্গি খুলে বসে পড়ে। বুঝতে বাকি রইল না, আগন্তুকের সমস্যা কোথায়! ঈদের খানাটা বোধহয় একটু বেশীই হয়ে গিয়েছিল, তাই বাড়ী পৌছা অবধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাই। নিকটবর্তী জঙ্গলেই কাজ সাড়তে বাধ্য হয়েছে!
আমাদের মন আগে থেকেই অপরাধীর মত আচরণ করছিল! নিজেদেরকে আড়াল করার যথাসাধ্য চেষ্টার ত্রুটি করা হয়নি। নড়াচড়া না করে, ঠিক গিরগিটির মত নিশ্চল বসে রইলাম। তাই হয়ত ভদ্রলোক আমাদের উপস্থিতি সেভাবে লক্ষ্য করতে পারেন নি।
পেট খালি করার জন্য পরিপূর্ণ ‘তিন শট’ নেবার পরে, তিনি কিছুটা রিলাক্স হলেন। এবং কোথায়, কোন স্থানে, কিভাবে বসলেন সেটা দেখার জন্য আশে পাশে নজর বুলালেন! ওনার মনেও হয়ত খটকা লেগে থাকবে। ছোট্ট বনে বিড়ির তাজা গন্ধের উৎস কোত্থেকে সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে আমাদের অবস্থা চরম শোচনীয়। ভাবলাম, এত অধিক মাত্রায় বিড়ি টানা ঠিক হয়নি! বিড়ির গন্ধের কারণেই হয়ত আজ আমরা সবাই ধরা পড়ে যাব। আবার জায়গাটিতে শান্ত হয়ে চুপচাপ বসে থাকাটাও বেশ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছিল।
প্রথমত, মনে অপরাধের ভয়।
দ্বিতীয়ত, বিড়ির উৎকট গন্ধ ও ধুঁয়ার ভয়।
তৃতীয়ত, এই ব্যক্তি যে পরিমাণ তাজা মল ত্যাগ করেছে কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গলের আশেপাশে কেউ দাঁড়াতে পারবে না।
বিড়ি ও মলের গন্ধে পুরো পরিবেশ তেতে উঠেছিল! প্রাণ ভরে দম নেয়া বড় দায় হয়ে উঠল! হাতখানা নাক বরাবর আনা খুবই দরকার কিন্তু সামান্য নড়াচড়াতেও আমাদের উপস্থিতি আগন্তুকের নজরে পড়বে। তাছাড়া ইতিমধ্যেই তিনি সন্দিগ্ধ হয়ে উঠেছেন!
না! এই পরিবেশে এভাবে বেশীক্ষণ ঠিকে থাকা, অন্তত সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়! ইঁচড়ে পাকা বন্ধুটিই আইন ভঙ্গ করে ফেলে! ওয়াক বলে, প্রথমেই নাকে হাত দিয়ে বসল। মুহূর্তেই আশেপাশে কারো নীরব উপস্থিতির কথা আগন্তুক টের পেয়ে গেল। এবং বুঝে ফেলল ঘটনা কি? তিনি তড়াক করে লাফিয়ে উঠে, দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিলেন, তোমরা কেন জঙ্গলে ঢুকে এমন অপকর্ম করছ! তোমাদের সাহস তো কম নয়! আজকেই তোমাদের বাড়ীতে গিয়ে এসব কথা বলে দিব এবং স্কুল খোলার পর বিষয়টি স্যারদের জানানো হবে।
মাথায় আসমান ভেঙ্গে পড়ল, একেবারে যমের হাতে পড়েছি। তার এই ধমকে, আমরা সবাই কাহিল হয়ে গেলাম! মা-বাপের বেতের নগদ পিটুনির ভয় ছাড়াও, স্কুলের বেত্রাঘাতের শাস্তি ভবিষ্যতের জন্য বাকী রয়েই যাবে। এতেও ঘটনা শেষ হবেনা! একঘরে হয়ে পড়ার বিপদ আছে। তার উপরে বন্ধুদের হাসি, মস্করা, ঠাট্টা, তাচ্ছিল্যের বিষয়টি আজীবন দগদগে ক্ষতের মত জিইয়ে থাকবে।
মূলত এভাবে আগন্তুকের বনে আগমন ও তার হাস্য-পদ কর্ম সাধনের বিষয়টিই অপমান আর হাসা-হাসির কারণ হতে পারত। তাকেই শরমিন্দা হওয়া লাগত। কিন্তু বিড়ি টানার অপরাধকে কাজে লাগিয়ে, আমাদের মানসিক অবস্থাকে চাপে ফেলে, তিনি দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইলেন। তার শরম পাওয়ার বিষয়টিকে কৌশলে গৌণ করে, আমাদের অপরাধকে বড় করে ফেলেছেন! আমরাও কোনভাবে এই ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিষ্কৃতি পাওয়াকেই, সবচেয়ে উত্তম সিদ্ধান্ত ও বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে ভাবতে থাকি।
যাই হোক! বিড়ি ও মলের সংমিশ্রণে বিতিকিচ্ছিরি গন্ধের মধ্যে দাড়িয়ে, এই জায়গাটিকে তিনি আজ বিচারালয় বানিয়ে ফেলেছেন। নিজেই বিচারক সেজে সবাইকে নির্দেশ দিলেন, সবাই যেন, কান ধরে উঠে দাঁড়ায় এবং দশবার উঠ-বস করে!
ওদিকে, আগন্তুক আমাদের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে, সেই যে তড়াক করে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন! কিংকর্তব্য বিমূঢ় আগন্তুক তার পরনের লুঙ্গিটা নামানোর কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন! অর্থাৎ তিনি পুরো দিগম্বর হয়েই আমাদের বিচারকার্য শুরু করেছিলেন। মূলত তিনিও এভাবে বনে ঢুকে শরমিন্দার মুখোমুখি হবেন ভাবেন নি! তাই হতচকিত হয়ে, কাপড় নামানোর কথাটিই ভুলে গিয়ে, উলঙ্গ দাঁড়িয়েই আমাদের অন্যায় কাজের বিচার শুরু করছেন! আমাদের সম্ভাব্য খারাপ পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে, ধমক আরর শাসন কাজ চালু করেছেন। যাতে করে আমরাও কথাটি তার ঘটনাটি চেপে যাই। বিচারক ও আসামী উভয়েই মানসিক চাপে পড়ে গেলে, বোধহয় কদাচিৎ এমন কাণ্ড ঘটে যেতে পারে।
দলের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য অপরাধের ভয়ে কান্না করে দিল। এই অপকর্ম আর কোনদিন হবে না বলে জানিয়ে দিল। এতে বিচারক বুঝলেন যে, আমাদের মনের মধ্যে অপরাধ-বোধ ও শাস্তির ভয় ঢুকেছে। তাই তিনি আবারো নির্দেশ দিলেন, সবাই কান ধরে আরো পঁচিশ বার উঠ-বস করতে হবে এবং সর্বকনিষ্ঠ সদস্য আমাদের আনিত বিড়ি-সিগারেট, দিয়াশলাই ও ঈদি বাবদ প্রাপ্ত যৎ সামান্য টাকা সাথে ছিল, সেটা তার কাছে হস্তান্তর করতে হবে! এবারের মত তিনি আমাদের মাফ করে দিবেন। এই ঘটনার কথা আর তিনি কাউকে বলবেন না, আমরাও যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের গর্হিত কাজ না করি।
বিড়ি-সিগারেট হারিয়েও এই বিচার কর্মটি আমাদের কাছে অনেকটা উত্তম সমাধান বলে মনে হল। আমাদের তো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির মত দশা। ঘরের মার ও স্কুলের বেত থেকে অন্তত রেহাই মিলবে। এই কঠিন পরিস্থিতিতেও ইঁচড়ে পাকা সদস্যটি বরাবরই মুচকি হেসে চলছেন আর কনিষ্ঠ সদস্য বিড়ি-সিগারেট একত্র করে, বিচারকের হাতে দিতে গেলেন। ইঁচড়ে পাকা এমনিতেই স্কুলে অনিয়মিত ছিল, বাবার সাথে দোকানে কাজ করত। এমন ছেলেদের কাছে পিতা-মাতার বিশ্বাস হারানো কোন বিষয় নয় কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তার হাসিটা ছিল দুঃসাহসের পরিচায়ক! সে বরাবরই বিচারকের কোমর বরাবর তাকিয়ে আছে।
বিচারক বিড়ি-সিগারেট, ঈদি নিলেন বটে কিন্তু এসব রাখবেন কোথায়? লুঙ্গির মাঝেই কোথাও ধরে রাখার কথা চিন্তা করলেন। তখনই তিনি নিজেকে আবিষ্কার করলেন যে, লুঙ্গিটা কোমর বরাবর স্থানে, মুচড়িয়ে আটকানো! তারমানে বিচার কার্যের পুরোটা তিনি ল্যাংটা দাড়িয়েই সমাধান করেছেন! এই দৃশ্যে তিনি চরম আহত হলেন এবং চেহারা রক্তিম বর্ণ ধারণ করল।
অপমান, আত্মসম্মানবোধ ও লজ্জার আতিশয্যে তিনি নিজেকে আর সেখানে এক মুহূর্তের জন্যও ধরে রাখতে পারলেন না! মুহূর্ত মাত্র সময় নিয়ে, ভোঁ-দৌড় দিয়ে চোখের অলক্ষ্যে হারিয়ে গেলেন!
এভাবে তিনি মুক্তি পেলেন, আমরাও আশু বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম। এই ঘটনার কথা ভয়ে না প্রকাশ করা গেল, না ঈদি হারানোর ব্যথার কথা পিতা-মাতাকে জানানো গেল! কেননা সেই ব্যক্তিটি আমাদের সবারই পরিচিত মুখ, সমাজে তার অবস্থানও মজবুত। তিনি আর কেউ নয়, আমাদের স্কুলের সাথে একটা বিষয়ে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িতদের একজন। এভাবে আমরা বাঁচলাম শাস্তি থেকে, তিনি বাঁচলেন অপমান থেকে। আর দূরত্ব সৃষ্টি করলাম এমনতর ইঁচড়ে পাকা কু-বন্ধুর সংস্পর্শ থেকে।