মুহাম্মদ (সাঃ) দুধ মা হালিমা ছাড়া অন্য যাদের দুধ পান করেছিলেন

মুহাম্মদ (সাঃ) যাদের দুধ পান করেছিলেন

মুহাম্মদ (সাঃ) আর যাদের দুধ পান করেছিলেন

পৃথিবীতে আগমন করে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গর্ভধারিনী মায়ের দুধ দুই অথবা তিন দিন পান করেছিলেন।

মুহাম্মদ (সাঃ) আবু লাহাবের ক্রীতদাসী সুয়ায়বিয়ার দুধ পান করেন

এরপর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু লাহাবের ক্রীতদাসী সুয়ায়বিয়ার দুধ পান করেন। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যুবক তখন তিনি তাঁর এই দুধ মা’কেও অত্যন্ত সম্মান করতেন।

খাদিজা রাদিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু ঐ মহিলাকে আবু লাহাবের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দিতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু আবু লাহাব তাঁর দাসী সুয়ায়বিয়াকে বিক্রি করতে রাজি হয়নি। পরে সে নিজেই ঐ মহিলাকে মুক্ত করে দিয়েছিল।

দুধ মায়েদের খেদমতে মুহাম্মদ (সাঃ) এর কিছু ঘটনা

মক্কা ছেড়ে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করেছিলেন, তখনো তিনি তাঁর এই দুধ মা সুয়ায়বিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাপড় ও অর্থ প্রেরণ করতেন।

হিজরী সপ্তম সনে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নারী ও তাঁর একমাত্র সন্তানের ইন্তেকালের সংবাদ পেয়েছিলেন।

আবু লাহাবের মুক্ত করা দাসী সুয়ায়বিয়ার দুধ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক দিন পান করেছিলেন বলে সে জীবিত থাকা পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খেদমত করেছেন তেমনি হালিমা খেদমতও বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন।

খাদিজার সাথে বিশ্বনবীর বিয়ের পরে হালিমা নবীর কাছে এসেছিলেন। তাকে দেখেই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পবিত্র শরীরের চাদর বিছিয়ে বসতে দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন, আসুন আমার আম্মা আসুন!

আল্লামা শিবলীর বর্ণনাদনুসারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুধ মাতা হালিমাকে শ্রদ্ধাভরে জড়িয়ে ধরেছিলেন।

হালিমা রাদিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু নবীকে জানালেন, ‘আমাদের অঞ্চলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বিরাজ করছে এবং সে কারণে আমাদের পশু সম্পদ সব নিঃশেষ হয়ে গেছে।’

দুধ মায়ের মুখে অভাবের কথা শোনার সাথে সাথে তিনি তাকে ৪০ টি ছাগল এবং একটা উট বোঝাই করে নানা ধরণের সামগ্রী দিয়ে দিলেন।

দুধ মা হালিমার স্বামী মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে যেমন ধারণা করতেন

হালিমার স্বামীর নাম ছিল হারিস ইবনে আব্দুল উজ্জা। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময়ে নবুওয়ত লাভ করেছিলেন, সে সময়ে তিনি নবীর কাছে এসে জানতে চেয়েছিলেন, ‘আপনি মানুষকে কি শিক্ষা দিচ্ছেন?’

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুধ পিতাকে বলেছিলেন, ‘এমন দিন সামনে আসবে যখন আপনারা অনুভব করতে পারবেন আমি সত্য প্রচার করছি।’

নবীর মুখে এ কথা শোনার পরে হারিস এতটা প্রভাবিত হয়েছিল যে, তিনি সেই মুহূর্তেই ইসলাম কবুল করেছিলেন।

হালিমা সম্পর্কে ইবনে কাসীর বলেছেন, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়ত লাভ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ ঐতিহাসিকগণ বলেছেন, হুনাইনের যুদ্ধের সময়ে নবীর দুধমাতা তাঁর কাছে যখন এসেছিলেন সে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পবিত্র চাদর বিছিয়ে তাকে বসতে দিয়েছিলেন।

হালিমা বিশ্বনবীর কাছে থেকে শুনে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর কাছে থেকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু রেওয়ায়েত করেছেন (ইবনুল বার-আল ইস্তিআব)

মক্কা জয়ের সময় হযরত হালিমার বোন অর্থাৎ নবীর খালা এসে নবীর কাছে তাঁর দুধমাতার ইন্তেকালের সংবাদ দিয়েছিলেন। এ বেদনাদায়ক সংবাদ শোনার পরে বিশ্বনবীর দু’চোখ দিয়ে ঝর্ণাধারার মত পানি প্রবাহিত হয়েছিল।

দুধ মা হালিমার বোনের প্রতিও মুহাম্মদ (সাঃ) এর শ্রদ্ধা জাগরুক ছিল

তারপর তিনি তাঁর এই খালাকে কিছু কাপড় ও দুইশত দিরাম ও গদিসহ একটা উত্তদান করেছিলেন। হাফেজ মোগলতাই, মুনজেরী, হাফিজ ইবনে হাজার আস্‌ কালানী, ইবনে খুজাইমা, ইবনে জাওয়ী প্রমুখ মনীষীগণ উল্লেখ করেছেন, হালিমা ইসলাম গ্রহণ করার পরে ইন্তেকাল করেছিলেন।

বনী সাআদ ছিল হাওয়াজেন গোত্রের একটা শাখা। সে সময়ে হাওয়াজেন গোত্রের খ্যাতি ছিল যে, তারা স্পষ্ট উচ্চারণে আরবী ভাষা বিশুদ্ধভাবে বলে থাকে।

ইবনে সাআদ উল্লেখ করেছেন, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে উত্তম বিশুদ্ধ ভাষী। কারণ আমি কুরাইশ বংশের লোক এবং আমার ভাষা হচ্ছে হাওয়াজেন গোত্রের ভাষা।’

👈পূর্বের পোষ্ট পরের পোষ্ট 👉

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *