কঠোর চিত্তের সন্তান এমনিতে তৈরি হয়না। পিতা-মাতার কিছু অবহেলা এর জন্যে কিছুটা দায়ী। ফড়িং এর লেজ ছিঁড়ে, তাতে সুতা বেঁধে আহত ফড়িংকে উড়ানো, কিছু গ্রামীণ শিশুদের একটি অন্যতম খেলা। অনেক সময় বড়রাও শিশুদের এ খেলায় সহযোগীতা করে। শিশুদের এই ধরনের উপভোগের চরিত্র, বাস্তব জীবনে তাকে কঠোর হৃদয়ের অধিকারী করতে পারে।
শহুরে পিতা-মাতা ভাবতে পারে, যাকগে আমরা বেঁচে গেছি! শহরে যেহেতু ফড়িং নেই তাই তাদের সন্তানও কঠোরতা শিখতে পারবে না! অথচ শহুরের জীবনের সন্তানেরাও আমাদের অজান্তে কঠোরতার দীক্ষা নিচ্ছে প্রতিদিন। একটু সচেতনতার অভাবে সেটা আমরা বুঝতে পারিনা।
সেই খেলায়, অবিরত গুলি, বোমা, আগুন দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। শিশুদের এই চরিত্রটিও গ্রামীণ শিশুদের ফড়িং চরিত্রের চেয়ে কম নয় বরং বেশী। শিশুদের সুকুমার বৃত্তি যখন দয়া, মায়া দিয়ে গড়ে উঠার কথা তখন তারা পিতার পকেটের টাকা খরচ করে কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতার প্রশিক্ষণ নেয়। একটি শিশুকে অসমাজিক ও অবাস্তব ধারণায় বড় করার জন্য এই ধরনের খেলাগুলো কয়েক বছর খেললেই যথেষ্ট।
যেখানে কারো উপর আল্লাহ অসন্তুষ্ট হলে তার হৃদয়কে পাষণ্ড করে দেন, সেখানে পিতা-মাতাই অর্থ কড়ি খরচ করে সন্তানকে পাষাণ চিত্তের অধিকারী করতে কাজে লাগিয়ে দেয়! যদিও বেশীর ভাগ পিতা-মাতা এটাকে কল্যাণজনক মনে করেই, গাছাড়া ভাব দেখান।
এদের বন্ধুত্বের কারণে, ভদ্র মানুষের সুবোদ সন্তানটিও একদিন এমন এক পাষণ্ডপনা দেখিয়ে দেবে, যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিতেও কল্পনা করতে পারে না। বর্তমান সমাজে কঠোরতা, পাষণ্ডপনা দিনে দিনে বাড়ছে এবং প্রতিদিনই নিত্য নতুন চরিত্রের খবরের কাজগের শিরোনাম হচ্ছে। একবাক্যে, সমাজে এসব বিকাশের জন্য মানুষের মনুষ্যত্ব বোধের উপর কঠোরতা ভর করেছে। কেননা আমরা সজ্ঞানে অজ্ঞানে শিশুদের সুকুমার বৃত্তিকে শিশুকালেই বিষিয়ে তুলছি।
রাসুল (সা) বলেছেন, “শুধুমাত্র হতভাগাদের নিকট থেকেই রহমত উঠিয়ে নেওয়া হয়”
পৃথিবীর ইতিহাস এ ধরনের খবরে ঠাসা। ব্যক্তিগত শত্রুতা না থাকা স্বত্ত্বেও নিষ্ঠুর মানুষের মৃত্যু সাধারনের মনে শান্তি আনে, তারা সামান্য সময়ের জন্য হলেও উল্লাস প্রকাশ করে, প্রশান্তি পায়। ফেসবুকে হাসাহাসি করে, কেউ পকেটের টাকায় মিষ্টি বিতরণ করে।
তাই সকল পিতা-মাতার উচিত, তাদের সন্তানের হৃদয়কে দয়া দিয়ে যদি ভড়িয়ে তুলতে না পারে, তাহলে অন্তত কঠোরতা অনুশীলনের পথ থেকে যেন দূরে রাখে। তাহলে সেই খালি স্থানে দয়া, মানবিকতার গুন ভর করবে। হাদিস শরীফে আছে, জান্নাতবাসী সকল মানুষেরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হবে। তারা যথাক্রমে,
- ১. সদকা দানকারী ন্যায় পরায়ণ শাসক।
- ২. প্রত্যেক নিকটাত্মীয় ও মুসলমানদের উপর দয়ালু ও দয়াদ্রচিত্তের অধিকারী।
- ৩. পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেও, পুতঃপবিত্র থাকার জন্য যারা কারো কাছে নিজের হাত প্রসারিত করে না।
ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন। উপরের এই গুনগুলো জান্নাতে বসবাস কারী মানুষদের সার্বিক পরিচয় বহন করে। এই তিন প্রকারের মানুষের বাহিরে যাদের অবস্থান তারা কমবেশী সবাই হৃদয়ের কঠোরতায় আচ্ছন্ন। তাই উন্নত চরিত্রের মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ হবার জন্য দরকার হৃদয়ের কঠোরতা পরিহার করার চেষ্টা করা সাথে সাথে নম্রতা, দয়া পরবশের চরিত্র অর্জনের জন্য সদা চেষ্টা করা।