পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠান : সুচনার ২৪ বছর ও স্থবিরতার ৫৪ বছর

পাকিস্তান আমলেই দেশের সকল সেরা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে

পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানের হিসাব করতে গেলে মূলত আজকের বাংলাদেশের ইতিহাসকে পঙ্গু মনে করা হবে! পাকিস্তান স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালে এবং বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালে। মাঝখানে গ্যাপ হল মাত্র ২৪ বছর। এই ২৪ বছরে পাকিস্তান আমলে এতগুলো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যা স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ৫৪ বছরে হয়নি।

আবার বাংলাদেশে যা হয়েছে, সেগুলোতে চুরি, চামাড়ি, দুর্নিতী হয়েছে বন্যার মত। একটি ছোট ভুখন্ডে এতগুলো চোরের পাল নিয়ে, উন্নয়ন করা সত্যিই দূরহ। চলুন দেখে নেই পাকিস্তান আমলে সৃষ্টি হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও পরিচয়।

আমলে (১৯৪৭-১৯৭১) বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) প্রতিষ্ঠিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম ও তারিখ নিচে দেওয়া হলো:

পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানের মধ্য প্রথমে আসে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৫৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৬৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৭০

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৬১

বুয়েট – বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় – ১৯৬২

রুয়েট – রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – ১৯৬৪

চুয়েট – চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – ১৯৬৮

কুয়েট – খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – ১৯৬৯

পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানের মধ্য পরের ধাপে আসে মেডিক্যাল কলেজ সমূহ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ: ১৯৪৭ (সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়)

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ: ১৯৫৭

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ: ১৯৫৮

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ: ১৯৬২

সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ: ১৯৬২

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ: ১৯৬৩

ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (IPGMR): ১৯৬৫ (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়)

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (বরিশাল): ১৯৬৮

রংপুর মেডিকেল কলেজ: ১৯৭০

পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানের মধ্য আছে ক্যাডেট কলেজ

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ: ১৯৫৮

মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ: ১৯৬৩

ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ: ১৯৬৩

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ: ১৯৬৫

পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানের মধ্য আরো যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে

ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট (বর্তমানে বুটেক্স): ১৯৫০

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি: ১৯৬২ (তৎকালীন দ্য মারকেন্টাইল মেরিন একাডেমি)

চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: ১৯৬২

পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানের মধ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান, মিল ও কল-কারখানা

আদমজী জুট মিলস (নারায়ণগঞ্জ): ১৯৫১

খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস: ১৯৫৯

চিটাগং ড্রাই ডক: ১৯৬০

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৬৮

ঢাকা জুট মিলস লিমিটেড: ১৯৫০ এর দশক

আমিন জুট মিলস লিমিটেড (চট্টগ্রাম): ১৯৫৩

খুলনা জুট মিলস: ১৯৫০ এর দশক

ইস্পাহানী কটন মিলস: পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানের মধ্য আজো আলোচিত রয়েছে

কাপ্তাই জল বিদ্যুত – ১৯৬২

চন্দ্রঘোনা পেপার মিল – ১৯৫৩

কর্ণফূলী রেয়ন মিল – ১৯৫৩

প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজ – ১৯৫৩

ভাগ্য বিড়ম্বিত এই জাতি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে, ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ন ভূখন্ড পেয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রের মালীকানা পেয়েছে, বিশাল সংখ্যক নাগরিক পেয়েছে। এগুলোকে না কাজে লাগাতে পেরেছে, না নাগরিকদের অলস হাতকে সচল করে কাজে লাগাতে পেরেছে। বিশাল জনগোষ্টির হাতগুলো বেকার। এই শুন্য হাত শুধুমাত্র অন্যের সাহায্যের প্রত্যাশায় মেলে ধরা হয়।

আমাদের দেশে আমরা এমন কোন শাসক পাইনি, যারা কর্মনির্ভর জাতি গড়তে পেরেছে। যারা বেকারদের হাতে কাজ দিতে পেরেছে। সর্বসাকুল্যে সরকার গুলো বেকারদের হাতে কিছু ভিক্ষার টাকা তুলে দিতে পেরেছে মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *