তখন আমরা স্পন্সর ছিলাম আজ হয়ে গেছি প্রবাসী মজুর

পৃথিবীর মাটির আচরণ সদা পরিবর্তনশীল। আজ আমাদের কাছে যে মাটি উর্বর, অতীতে তা ছিল গুরুত্বহীন। আজ যেটা সম্ভাবনাময়, ভবিষ্যতে তা হবে পরিত্যক্ত। আজ হাজারো বাংলাদেশী নিজেদের ক্ষুন্নিবৃত্তি মেটানোর তাগিদে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে, লড়াই করে চলছে ভাগ্য পরিবর্তনের নেশায়। একদা এই বাংলা মুল্লুকই ছিল পৃথিবীর বহু জাতির রুটি-রুজি অর্জনের মূল সূতিকাগার। কাছের ও দূরের বহু সমৃদ্ধ জাতি নিজেদের দেশের জীবন চকচকে করতে বাংলা মুল্লুকের শহরের আনাচে কোনাচে যাযাবরের মত বসতি গড়ে নিজেদের জীবন কাটাত! সে সব জায়গা আজো আছে! কিন্তু বর্তমানে আমরা অশিক্ষিত জাতি হিসেবে বিবেচিত বলেই, এসবের খবর জানিনা। চলুন কিছু স্থানের সাথে পরিচিত হয়ে নেই।

 
– ঢাকার আরমানিটোলায় বসবাস করত মধ্য এশিয়ার অন্তর্গত আর্মেনিয়ার মানুষেরা
– ঢাকার ফরাস গঞ্জে বসতি গড়েছিল বর্তমান ফ্রান্সের ব্যবসায়ীরা
– ঢাকার ইস্কাটনে ঘাটি গেড়েছিল স্কটিশ তথা স্কটল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা
– আর ইংলিশ রোডে থাকত ইংরেজেরা
– চট্টগ্রামের পাঠান ঠুলিতে থাকত আফগান পাঠানেরা
– চট্টগ্রামের মোগল ঠুলিতে থাকত চিনা-মঙ্গোলিয়া ব্যবসায়ীরা
– আর ফিরিঙ্গি বাজারে থাকত পর্তুগীজেরা
তুর্কি, ভারতী, আরবি, ইরানী, ইয়েমেনী, চীনাদের ব্যবসায়ের মূল স্থান ছিল বাংলা।
 
যখন আমরা সৃষ্টিশীল ছিলাম, তখন সারা দুনিয়া আমাদের পানের তাকাত। এখন আমরা বেশী সংখ্যক অশিক্ষিত মূর্খের সমষ্টি গড়ে তুলেছি, তাই আমরা পরনির্ভর হয়ে পড়েছি। অন্যের কাঁধে চড়ে নিজের পেট চালানো যায় কিন্তু কখনও সমৃদ্ধি অর্জন করা যায় না। আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখতে হয় এবং নিজেদের দেশীয় সম্পদের উপরই নির্ভর করতে হয়। এসবকে কাজে লাগানোর মত কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে হয়। চীন, জার্মান, জাপান, তুর্কি, ইরানী সহ পৃথিবীর অনেক চৌকশ জাতি, আগে নিজেদের প্রাপ্ত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দুনিয়ায় বিকশিত হয়েছে। তাই আসুন দেশীয় সম্পদ ও পণ্যকে কাজে লাগাই এবং ভাবতে থাকি আরো কতকাজে এসব জিনিষ দিয়ে উপকার পাওয়া যায় সেটা নিয়ে গবেষণা করি।