বিশ্বকাপ ফুটবল ও বাংলাদেশের বিরল অর্জন

footballl
এবারে ঈদ আর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দুটোই প্রায় কাছাকাছি সময়ে এসে পড়েছিল। ফলে দুই মাস আগে থেকেই টেইলরদের উপর কাজের চাপ বেড়েছিল। ঈদের পোশাক তো আছেই, তার উপর বিভিন্ন দেশের পতাকা সেলাইয়ের অগ্রিম চাপে তারা দু’টো বেশী টাকা কামানোর দারুণ সুযোগ পেয়ে যায়। 
 
টেইলরদের কাজের চাপ দেশের রঙের কোম্পানিগুলো কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের ব্যবসাও মোটামুটি খারাপ হয়নাই। পরিণামে পুরানা দেওয়াল, গাছের গুড়ি, জ্যৈষ্ঠের কাঁঠাল, শুকনো নারকেল, ঘরের বলদ, বাড়ির পাঁঠা ছাগল, বাজারের বেওয়ারিশ কুত্তার দশা হয়েছে কাহিল। নিজের পছন্দের পতাকার রং মেখেছিল পোষা প্রাণীর গায়ে, হিংসুক তার উপর ছিটিয়েছে আল কাতরা! আচ্ছা আলকাতরার মত রং জানি কোন দেশের পতাকায় আছে? যাক, রঙের তেলেসমাতি তেমনটা জুতসই হয়নি যতটুক হয়েছে কাপড়ের পতাকায়।
 
বিশ্বজোড়া স্বীকৃত একটি কথা, বাংলাদেশের মানুষ বিরাট ফুটবল প্রেমী। তারা জনস্বার্থ, ব্যক্তি স্বার্থ লুটের দৃশ্য দেখে ঠাঁই নির্বিকার থাকতে পারে। কিন্তু প্রিয় ফুটবল দলের বিপক্ষে কেউ তির্যক মন্তব্য করুক সেটা বরদাশত করতে পারেনা। ফুটবল দলীয় প্রীতির এই বন্ধন পুরো জাতিকে দুই ভাগ করে, নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে করেছে মজবুত অটল? এছাড়াও জনগণের অজ্ঞাতে, ফুটবল সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে ভিতরে ভিতরে জাতির বেশ কিছু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, যেটা অনেক পাঠকের নজরে আসে নি। আজকে সে বিষয়গুলো উত্থাপন করা জরুরী।
 
বাংলার মহিলারা দশ হাতি শাড়ী পড়ে কিন্তু শাড়ী সেলাইয়ের জন্য কখনও টেইলরের কাছে ধর্না ধরতে হয়না। লম্বা কাপড় সেলাইয়ে টেইলর বরাবরই অনভ্যস্ত। বিশ্বকাপ উপলক্ষে টেইলর দের দক্ষতা বাড়ার একটা সুযোগ এসে যায়। একশ, দু’শো মিটার নয় বহু লম্বা পতাকা বানানোর অভিজ্ঞতা একমাত্র বাংলাদেশী কারিগরদের হাতেই। গার্মেন্টস শিল্পের বিশ্বজোড়া এই সহযোজন জাতিকে করেছে গর্বিত শিল্পকে করেছে উর্বর।
 
বাংলাদেশের মানুষ এমনিতেই একটু খ্যাতি পাগল, কখনও ক্ষ্যাপা আকৃতির হয়ে উঠে। কিন্তু বেশ কিছু খ্যাতি আমরা ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছি কেউ কি খেয়াল করেছে? দেশে এত লম্বা লম্বা পতাকা সৃষ্টি হল! যেগুলো দিয়ে কয়েকটি গ্রীনিজ রেকর্ড সৃষ্টি করা যেত। গ্রীনিজ কমিটিকে রীতিমত ঝামেলায় পড়তে হত। লম্বা, বহু লম্বা পতাকা সৃষ্টির অমূল্য কর্মের জন্য, এক গ্রামের রেকর্ড অন্য গ্রামের ফুটবল প্রেমীরা ভেঙ্গে চুরমার করতে ফেলত। গ্রীণিজ কমিটির বহু কাজ বেড়ে যেত, তার সদস্যদের খেলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই কাজেই ব্যস্ত থাকতে হত। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে জাতি একটি বিরল সম্মাননা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
 
ফুটবল শব্দটি ইংরেজি, ছ্যাঁচড়ামি বাংলায় এর অনুবাদ হল ‘লাথির গোলক’। অর্থাৎ এই খেলার যত জাদুকরী সব পায়ের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়। কার পায়ে কত জোড়, কত নিপুণতা, কত দাপট সেটা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরেই দেখিয়ে দেওয়া হয়। জাতি হিসেবে আমরা গোলকে লাথি হানতে না পারলেও, দুর্বল প্রতিপক্ষকে লাথি মারতে খুবই পারদর্শী! এটা আমাদের ভিন্ন ধরনের সৌভাগ্য। তবে খেলায় আমাদের পায়ের জোড় না থাকলেও; হাতের ও মনের জোড় প্রবল। আমাদের তরুণেরা ক্রিকেট বল হাতে নিয়ে কত দল ও দেশকে সোজা প্লেনে তুলে দিয়েছে তার ইতিহাস কম নয়। হাতের বল নিয়ে আমরা কখনও গর্বিত, কখন গর্ভিত হলেও পতাকা নিয়ে মাতম করার মত ঘটনা ঘটেনা।
 
তবে, জাতির ছেলেদের মনোবল নিয়ে দুটো কথা না বললেই নয়। বেকার ছেলেদের হাতে কাজ কর্ম না থাকলেও মনোবল বেজায় প্রবল! তারা প্রিয় দলের জন্য এক মাইল লম্বা পতাকা বানাতে পারে। আধা মাইল লম্বা পতাকা আকাশে উড়ানোর জন্য তিন মাইল লম্বা বাঁশের দরকার! বাংলার মাটি এত লম্বা বাঁশ প্রসব করতে অক্ষম! তাই বলে কি এই পতাকা প্রদর্শিত হবেনা? বাঙ্গালীরা এতটুক হিনমন্য নয়! আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবলের পদ-পদক অর্জনের বহু আগেই আমাদের সন্তানেরা আধা মাইল লম্বা পতাকা বানিয়ে, গর্বের সাথে নিজের মাথার উপরে তুলে ধরে সারা মহল্লায় প্রদর্শন করেছে। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের প্রধানমন্ত্রীরা নাকি জীবনেও নিজের দেশের এত লম্বা পতাকা দেখেনি; তারা ঢাকার দূতাবাসে নির্দেশ দেন, যাতে করে লম্বা পতাকার ছবিগুলো পাঠায়। দূতাবাস পড়েছে গ্যাঁড়াকলে! কোন ছবি পাঠাবে! বাংলাদেশের পুরো আকাশই তো পতাকায় ঠাসা।
 
বাংলার ছেলেরা যখন হাতের বল দিয়ে কৃতিত্ব আনে তখন দেশীয় পতাকার যে বিতিকিচ্ছিরি দশা হয় তার ফটো তুলতেই শরম লাগে। টোকাইদের মাধ্যমে কাগজের পতাকার ব্যবস্থা যদি না থাকত, তাহলে তরুণদের হৃদয়ে বাংলাদেশের জায়গাটি খালি থাকত।
 
একটা সুনাম আছে, বাংলাদেশের মানুষ দল-প্রীতি, গোত্রপ্রীতি, গোষ্ঠী প্রীতিতে খুবই সিদ্ধহস্ত। পয়সা খেয়ে নির্বাচনী মিছিলে যোগদানের অভ্যাস চিরাচরিত। মন্ত্রীর জনসভায় মানুষ বাড়াতে টাকা খেয়ে গতর খাটতে তার সিদ্ধহস্ত। বিশ্বকাপের এই আসরে তারা সেই পুরাতন ধারা ভেঙ্গে নতুন দিগন্তের বারতা এনেছে। এখানেও নতুন গ্রীনিজ রেকর্ড করা ও পুরাতন রেকর্ড ভাঙ্গার বহু সুযোগ আমরা হাত ছাড়া করেছি! পিতার, বড় ভাইয়ের পকেটের টাকায় উদারতার সহিত এই বারে তারা লম্বা লম্বা শোডাউন করেছে। শরীয়তপুরের বিশাল গাড়ী মিছিলের কথা তো না বললেই নয়। গাড়িভাড়া আর জ্বালানী তেলের উচ্চমূল্য কোনটাই তাদের দমায়ে রাখতে পারে নি! হিংসুকেরা বলে ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’। হিংসুকের কথায় কান দেবার মানুষ নন বাংলার ‘লাথির গোলকের’ (ফুটবল) অনুসারী প্রেমীরা। জাতীয় জীবনের চিরাচরিত প্রথা ভেঙ্গে নিজেদের পকেটের টাকায় মিছিল করার একটা অভ্যাস যে গড়তে পেরেছে, এটাই বা কম কিসের!
 
ফুটবল প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া জাতির উল্লেখযোগ্য ইতিহাস কোনটা রেখে কোনটা তুলে আনি সেটা নিয়েই সমস্যায় পড়েছি। আবার বিস্তারিত উপস্থাপনা করতে গেলে এই লিখা আলিফ লায়লার মত মহাকাব্য হয়ে যায় কিনা সে ভয়েই আছি। ফুটবলে প্রেমে আপ্লুত ও ফুটবল নিন্দুকদের কিছু স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা শেষ করব।
 
বাংলাদেশী ফুটবল প্রেমীদের অনন্য দৃষ্টান্ত সমূহ
– পুরো দেশটাই বিদেশী পতাকায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠে।
– টেইলর, রিকশাওয়ালা, ফেরিওয়ালারা সকল দলের হয়েই কথা বলে।
– নাটকে-সিনেমায় ফুটবল খেলার অনুষঙ্গ যোগ হওয়া।
– ওয়াজ-নসিহতে ফুটবল ঢুকে পড়া।
– মসজিদের খোতবায় ফুটবল নিয়ে কথা বলা।
– দলে দলে তরুণদের নিজ দলের জন্য দোয়া চাওয়া।
– কোথাও কোথাও খানা-মেজবানি সহ জেয়াফতের ব্যবস্থা করা।
– খতমে ইউনুস পালনের মাধ্যমে দলের উন্নতি কামনা করা।
– দলীয় নেতারা জার্সি পড়ে কর্মীদেরকে নির্বাচনের জন্য চাঙ্গা করা।
– বিজ্ঞাপন হিসেবে বাহারি পণ্যের মাঝে সর্বত্র বিদেশী পতাকা আঁকা।
– দলের খেলা খারাপ হবার কারণে বাবা-মাকে বাই বাই জানিয়ে আত্মহত্যা।
– পতাকা টাঙ্গাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ও গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ গ্রহণ।
– প্রিয় দলকে নিয়ে কটূক্তি করায়, প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে-খুঁচিয়ে ভর্তা বানানো।
– প্রিয় দলের পতনে খুশী হওয়ায় উত্তেজিত স্ত্রী, স্বামীর গলায় ছুরি চালানো।
– প্রিয় দলকে শ্বশুর সাপোর্ট না করায়, স্ত্রীকে একসাথে চার তালাক প্রদান।
– রাতদিন দলের নাম ধরে ধরে, মহা-কীর্তন নাম জপ করা।
প্রিয় দল খারাপ করায়, তরুণীদের বিধবা হবার মত কান্না জুড়ে দেওয়া সহ অগণিত তথ্য হাজির করা যাবে বাংলার তরুণদের কাছে ফুটবল কত জনপ্রিয় সেটা প্রমাণ করতে।
 
ফুটবল প্রেমে আচ্ছন্ন তুরুনদের কাজে ত্যক্ত, বিরক্তি, অতিষ্ঠ হয়ে উঠা ফুটবল নিন্দুকের সংখ্যাও কম নয়। তারা সরাসরি সাহস দেখালেও; বিভিন্ন মন্তব্য থেকে হৃদয়ে তাদের গোস্বার মাত্রা উপলব্ধি করা যায়।
– একজন তো হাইকোর্টে রীতিমত মামলা দায়ের করেই বসলেন!
– অনেকে প্রশাসনের কাছে আর্জি পেশ করলেন যাতে শুরুতে দমন করা হয়।
– স্বদেশী জাতিয় পতাকার এমন অবমাননা রাষ্ট্র কিভাবে সহ্য করে! 
– যেখানে একদা স্বদেশী পতাকায় একজন নামাজ পড়ার কারণে হুলিয়া নিয়ে পালিয়েছিল।
– নেতারা প্রমাদ গুনেন, ফুটবল প্রেমীদের খ্যাপানো যাবেনা, সামনে নির্বাচন।
– সময় ও অর্থের অপচয় না করার জন্য হুজুরেরা কড়া ভাষায় ওয়াজ নসিহত করেন।
– কে শুনে হুজুরের কথা! এদের বেশীর ভাগই তো বরাত, কদর আর দুই ঈদের মুসল্লি।
– তবে, এই ইস্যুতে বাংলাদেশের সকল হুজুর ঐকমত্য হয়ে, এক পয়েন্টে কথা বলেছেন!
– অনেকে বলেন, আহা! পুরো বছর যদি বিশ্বকাপ হইত, তাহলে আলেমদের একত্রে পাইতাম।
– প্রতিপক্ষ দলের পতাকা দিয়ে নিজের টয়লেটের পর্দা দেওয়া।
– প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করতে, পতাকা দিয়ে ঝাড়ু বানানো।
– প্রতিপক্ষের পতনে খুশী হয়ে, তাদেরই পোশাক পড়ে মাথায় পানি নেবার কসরত করা।
– টিউশনির ছাত্র হারাবার ভয়ে, শিক্ষক ছাত্রদের মন বুঝে আচরণ করা।
 
– হাজার হাজার তরুণের মিছিল দেখে গরীব কৃষক মতি মিয়া বলে, এসব বেকারেরা যদি মিছিল নিয়ে ধানী জমির উপর দিয়া যাইত, তাহলে দশ বিঘা জমিতে নাঙল দিতে হইত না।
– কেউ বলে এতগুলো বেকার পোলাপান আজকে একটি দিন যদি খুশী কইরা রিক্সা চালাইত, তাইলে রিক্সার মজা পাইয়া তারা আয় রোজগারে লাইগ্যা যাইত।
– কেউ বলেন, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা, এদের জন্য কাজ নাই। ঘরের খাইয়া বনের মোষ তো তাড়াবেই। বনের শুকুর যে দৌড়াচ্ছেনা সে জন্য শোকর করুন।
– ফেসবুকার সালাউদ্দীন তো বলেই ফেললেন, এরা উন্মাদের দল এরা খেলার কি বুঝে? এরা কি দলের খেলোয়াড়দের দেখে নাকি ফুটবল খেলা দেখে। ফুটবল খেলা দেখলে তো, পেশাদারী খেলোয়াড়ের নৈপুণ্য দেখত। তিনি যোগ করে বলেন, তাদের প্রিয় দল পরাজিত হলে কি খেলা দেখা বন্ধ করে দেয়। নাকি অন্য সকল দলের পতন দেখার জন্যই খেলা দেখে। 
– জ্ঞানী মুরুব্বী বলেন, এদের দোষ কি? ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় ক্যামেরুন পরাজিত হইলে, রেফারীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংসদে তুমুল বিতর্ক ও নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন হয়। যে দেশের সংসদ সদস্যরাই যখন অর্থহীন মূর্খতায় নিজেদের জড়িয়ে রাখে, সেদেশের বেকার অকর্মা তরুণদের এমন পাগলামি-ছাগলামিকে উপেক্ষা করাই যায়।
– মাহফুজ কবিরাজ বলেন, আরামের সহিত শব্দ করে উদরস্থ বায়ু ছাড়া অন্যায়-অনৈতিক নয়। কিন্তু যার পেট খারাপ তাকে সেবা না করিলে, নিজেকে সে পরিবেশে ধরে রাখা বড়ই কঠিন ও দূরহ। নতুবা নিজেকেও উদরস্থ রোগী হতে হবে সাথে অতিরিক্ত যোগ হবে বমির ভাব। তাই জাতিকে উদরস্থ রোগ থেকে মুক্তি দিতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ভূমিকা বেশী অপরিহার্য।
 
উপরের কথা আমার নয়। বিভিন্ন সাময়িকী, দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত দিয়ে লিখা। আমি ফুটবল ভালবাসি কেননা আমিও ফুটবলার ছিলাম। কোন দল বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বহু সৌজন্য খেলায় অংশ নিয়েছি। একবার এক অবিস্মরণীয় গোলের কারণে দলের সতীর্থরা খুশীতে অবিরাম চুমো দিতে থাকে! খেলা শেষে গালে শুকনো টান টান অনুভব করলাম! টেনে দেখি কারো নাকের কফ আমার গালে লেগে তা শুকিয়ে পিঠার মত হয়েছে! ঘেন্নায় শরীর রি রি করে উঠল। সে থেকে খেলা দেখলে আমার অতীতের নাকের কফের কথা মনে পড়ে যায়। সে থেকে ফলে খেলা আমি কাগজের পাতায় দেখি, আর দেখি দুনিয়ার যত বৈসাদৃশ্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *