চরিত্রের মধ্যে লুকিয়ে থাকে আরেকটি গুণাবলী যার নাম ‘আবেগ’। ইংরেজিতে যাকে Emotion বলা হয়। মানব জীবনে কোন কারণে আবেগ যদি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠলে, তা অন্যান্য মানব চরিত্রকেই পর্যদূস্ত করে।
মানুষের চরিত্রে যদি আবেগের প্রভাব প্রখর হয়ে উঠে, তাহলে মানব চরিত্রের সকল দিকই আবেগ-মুখী হয়ে উঠে।
আরো পড়তে পারেন…
- এবাদতে প্রদর্শনেচ্ছা ও শয়তানের প্ররোচনা
- সেই সাংবাদিকতা গেল কই
- নিজের পায়ে দাঁড়ানো
আবেগের পরিমাপ
চিন্তাশীল মানুষ অন্যের আবেগ পরিমাপ করতে পারে! ধরুন, এস এস সিতে গোল্ডেন এ প্লাস প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীকে যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন তুমি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও?
উত্তরে সে যদি বলে, প্রতিপত্তি অর্জন, বেশী বেতনের সুবিধা, নাগরিক সম্মান, বাড়ী-গাড়ীর মালিক হওয়া, বিদেশে উন্নত জীবনের সুযোগ, পিতার সূত্রে একই প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার ভবিষ্যতের সুযোগ; ছাত্রদের এমনতর ইঙ্গিতগুলোই আবেগী প্রলাপ। তারা এখন দুনিয়ার কঠিন বাস্তবতা দেখেনি।
বয়স্করাও আবেগমুক্ত নয়
মানুষ বুড়ো হলেও আবেগ মুক্ত হয় না। অনভিজ্ঞ-অদক্ষ মানুষ আবেগের গর্তে বেশী হোঁচট খায়। ইউটিউবের ভিডিও দেখে, কাজটি সহজ লাগার কারণে, তার পিছনে ব্যাপক পুঁজি খাটিয়ে বসা।
কারো বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অজানা বিষয়ের পিছনে বিস্তর পুঁজি ঢেলে দেওয়া। প্রচুর ঘুরাঘুরি করে চাকুরী মেলানো যাচ্ছেই না; অতঃপর বিকল্প হিসেবে ব্যবসা শুরু করে দেওয়া। এগুলো সবই আবেগের অন্যতম কুফল।
আবেগ এমন এক অনুভূতির নাম। যদ্বারা পরিচালিত হলে মানুষের সকল উত্তম চরিত্র অসহায়ত্ব বরণ করে। চরিত্রের ভাল-মন্দ দিকগুলো তফাত করতে ব্যর্থ হয়। দান করে খোঁটা দেওয়া, শাস্তি দিয়ে ক্ষমা করা, উপঢৌকন দিয়ে প্রচার করা, গালি দিয়ে উপদেশ দেওয়া, কটুবাক্য প্রয়োগে বিচার করা, মহিমা প্রকাশে অন্যকে হেয় করা, সবই আবেগী মানুষের কর্ম।
নেতারা আবেগী হলে
নেতাদের চরিত্রে আবেগ ভর করলে, তারা নিজ চরিত্রের খারাপ দিক গুলো ধরতে পারে না। বরং বাছাই করে নিজের ভাল দিকগুলোর প্রচার করে। একাজে বাহবা দানকারীকে কাছে রেখে ভিতরে ভিতরে স্ফীত হওয়া সহ অগণিত বৈপরীত্ব্য নিজের চরিত্রের মাঝে ভর করে।
এমন ব্যক্তিরা যুক্তি ও বাস্তবতার ধার ধারে না। আস্তে আস্তে তাদের চরিত্র থেকে ভাল গুণাবলী উদাও হয়ে যায় এবং মন্দ চরিত্রগুলো তার অনুগত হয়ে পড়ে। ফলে মানুষের কাছে তাদের উত্তম কাজগুলো উপেক্ষিত হয়।
তাদের অনেক ভাল কর্ম থাকলেও, মানুষ খারাপ দিকগুলোকেই নজির হিসেবে হাজির করে। একপক্ষ যত ভাল কাজের বর্ণনা দিবে অন্যপক্ষ ততোধিক বলীয়ান হয়ে মন্দ কাজ সমূহের প্রমাণ হাজির করবে। পরিচালনা, চিন্তা-চেতনায় আবেগ ভর করলে এমন পরিণতিই আবেগী মানুষৈল সাথী হয়।