সৎকাজে বাধা প্রদান শয়তানের প্রবৃত্তি ওটা তার চলমান খাসিয়ত। মানুষের প্রবৃত্তির দুটো উৎস আছে। একটির উৎস ফেরেশতাদের চরিত্র থেকে উৎসরিত, অন্যটি দুনিয়ার ইতর জানোয়ারদের খাসিয়ত থেকেই আসে। মানুষ দুটো দ্বারাই প্রভাবিত। তবে শয়তানের লক্ষ্য থাকে, মানুষ যেন দুনিয়ার এসব ইতর প্রাণীর খাসিয়তের প্রতি আগ্রহী হয়।
দুনিয়ায় কিছু মানুষের খাসিয়ত ফেরেশতাদের মাধ্যমে প্রভাবিত, তাই তারা সৎকাজে আনন্দ পায়। অসৎ মানুষ ভাঙ্গন সৃষ্টি, কেড়ে খাওয়া, অধিকার হরণ ও ধ্বংস করায় আনন্দ পায়। শয়তান এদের উপর সহজে ভর করে।
এরা মানুষের কল্যাণ হতে দেখলেই বিষিয়ে উঠে এবং সেটার ক্ষতি সাধন করে আনন্দ পায়। মানুষ এই খাসিয়ত পায়, দুনিয়ার সৃষ্ট সকল জানোয়ারের চরিত্র থেকে।
পবিত্র কোরআনে সুরা আলাকে এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই বলেছেন, “আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে বাধা দেয়, একজন বান্দা (মোহাম্মদ সাঃ) কে, যখন সে সালাত আদায় করে?” (সুরা আলাক: ৯-১০)
মোহাম্মাদ (সা) আরবের সকল মানুষের জন্যে উপকারী ব্যক্তি ছিলেন। মক্কা শহরে শত-সহস্র ঠগবাজের ভিড়ে তিনি একাই বিশ্বাসী মানুষ ছিলেন, তাই আমানত তার কাছে রাখা হত।
তিনি ঝামেলা মিটিয়ে দিতেন, গোলমাল মিমাংসা করতেন, তার বিচার মানুষ মেনে নিত। তিনি উপকার ব্যতীত সারাজীবনে কারো ক্ষতি করেন নাই।
সেই তিনি যখন মানুষের মুক্তির জন্যে কথা বলা শুরু করেন, তখনই তাকে রুখে দিতে দাড়িয়ে গেল, সেই সমাজের হর্তা-কর্তা ব্যক্তিরা।
সৎকাজে বাধা পেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির
ছাত্রশিবির ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঢাবির হলের জন্যে স্টেন-লেস স্টিলের তৈরি ৪ চ্যানেলের পানির ফিল্টার বসিয়েছে! ব্যক্তি উদ্যোগে এমন কাজ করা কঠিন। খোদ ঢাবি তাদের ফাণ্ডের অভাবের কথা বলেছিল।
ছাত্রশিবির তাদের সুধী জনদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এসব ফিল্টার সংগ্রহ করে। কিন্তু ছাত্রশিবির বিরোধী মহলে এটা নিয়ে বিষ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এটাকে হঠাতে চায়, উৎখাত করতে চায়। ফলে সেগুলোকে ভেঙ্গে, টেনে হিঁছড়ে, বাইরে গিয়ে ফেলে আসে।
ঘুর্ণাক্ষরেও এসব পশুবৃত্তির মানুষের অন্তরে একটি কথা উদয় হয় না যে, সৎকাজকে কোনদিন অসৎ কর্ম দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। ওটা বাজে ও নোংরা দৃষ্টান্তের পরিধি বাড়ায় মাত্র।
পৃথিবীর ইতর প্রাণী যেমন ঝগড়ার নিমিত্তে নিজের বাসস্থান ও খাদ্য বিনষ্ট করে; তেমনি সৎ কাজে বাধা দেওয়ার খাসিয়তও এসব জানোয়ার থেকে প্রাপ্ত খাসিয়তেরই অংশ।
সৎকাজের উৎসাহ দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেছেন, “আর প্রত্যেকের একটি দিক রয়েছে, যেদিকে সে মুখ করে; সুতরাং তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর।” বাকারা-১৪৮
সৎকাজে উৎসাহ শুধু ধর্মীয় কাজের সাহস যোগায় না। এটা দুনিয়ার মানুষদের জন্যে উপকার করতে থাকার একটি অব্যাহত চর্চা। ছাত্রশিবির কাজটি করেছে বলে সেটাকে উৎখাত করতে হবে এমন ভাবনা জাতির চরিত্রকে নষ্ট করবে।
সৎকাজের চেষ্টা সমাজ থেকে হারিয়ে গেলে, সে সমাজে মূর্খতা, ভণ্ডামি, স্বার্থ-বাদিতার প্রসার ঘট। সৎকাজের চেষ্টাকে দমিয়ে ফেলা হলে, সে সমাজে ভাঙ্গন ব্যাপকতর হবে।
আগে মানুষ একে অপরকে হাওলাত দিত কিন্তু সমাজে যখন সুদের কারবার চেপে বসে, তখন হাওলাতি প্রথাকে বেকুবি মাধ্যম হিসেবে ভাবা হল এবং হাওলাত পরিশোধ না করার চরিত্র মানুষের খাসিয়তে চেপে বসল।
তাই এখন সুদি মহাজনের দ্বারস্থ হওয়া ব্যতীত কেউ হাওলাত দেবার রিস্ক কেউ নেয় না! এটা সৎকাজকে নিরুৎসাহিত করার ফল।
সুতরাং সৎকাজে বাধা দেওয়া শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের অগ্রগতিকেও ব্যাহত করে। তাই আসুন, নিজেরা সৎকাজ করি, অন্যকে সৎকাজে উৎসাহ দেই।
যারা সৎকাজে বাধা দেয়ে, তাদের হাতকে রুখে দিয়ে, সৎকাজে একে অপরের সহযোগী হই। সুন্দর ও উন্নত সমাজ গঠনে এটি অপরিহার্য।