মুলতানি মাটির গুন ও Mud Theraphy

মুলতানি মাটি

মানবদেহ মাটি থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। তাই দেহের যাবতীয় ঘাটতি পূরণের সকল উপাদানই মাটির মধ্যে বিদ্যমান। পৃথিবীতে অঞ্চল ভেদে বহু বর্ণের, বহু ধরনের মাটি রয়েছে। তার মধ্যে ভিন্ন গুণাবলীর একটি মাটির নাম হল ‘মুলতানি মাটি’! মুলতানি মাটির গুন ও Mud Theraphy

আরো পড়তে পারেন…

  • তিতা করল্লা ও চাহিদার বিবর্তন
  • ইসবগুলের ভুষি, রোগের মুখে ঘুষি
  • ওজনে কম দেওয়া ও দেহের গোশত দিয়ে প্রতিদান

মুলতান একটি ঐতিহাসিক ভূখণ্ড। দীর্ঘ সময় পারস্যের পদানত থাকলেও বর্তমানে সেটি পাকিস্তানের অন্তর্গত। সেখানকার ভূগর্ভস্থ একপ্রকার মাটির সুনাম-সুখ্যাতি বিশ্বময়। সেটাকেই মুলতানি মাটি বলা হয়।

বেশীর ভাগ সময় এই মাটি হলুদাভ দেখা গেলেও সাদা, বাদামী, জলপাই কিংবা নীল বর্ণেরও হতে পারে। বাজারে চাহিদা বাড়ার কারণে বর্তমানে এই মাটি কৃত্রিমভাবেও তৈরি হচ্ছে!

এই মাটিতে সিলিকা, আইরন অক্সাইড, চুন ও ম্যাগনেশিয়া মিশ্রিত থাকে। পানির সংস্পর্শে আসলে পিচ্ছিল, আঠালো আকার ধারণ করে। শুকিয়ে গেলে টানটান ভাব অনুভূত হয়। যখন সাবান আবিষ্কার হয়নি কিংবা যেখানে সাবান ছিলনা, সেখানে পরিষ্কারের জন্য, মুলতানি মাটিকে সাবানের মত ব্যবহার করা হত।

সরকারী রাজন্যবর্গ, ধনী, ব্যবসায়ীদের পরিবারেও মুলতানি মাটি ছিল সৌন্দর্য বর্ধনের হাতিয়ার। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ তাজমহল দেখতে গিয়েছিলেন, তখন সেটাকে পরিষ্কার করা হয় মুলতানি মাটি ঘষে! মুলতানি মাটির গুন ও Mud Theraphy

বর্তমানে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিউটি পার্লার সমূহে মুলতানি মাটির ব্যবহার বেড়েছে বহু গুনে। মুলতানি মাটির কাই মুখের চামড়ায় লাগালে সুখকর অনুভূতি জাগে।

এটির অন্যতম কাজ হল মুখের তৈলাক্ত ভাবকে স্বাভাবিক করা, মুখের মরা চামড়া তুলে ফেলা। লোমকূপ সতেজ ও তরতরে করা। মুখের মাটি শুকিয়ে টানটান পর্যায়ে এলে চামড়াকে মোচড়াতে থাকে ফলে ব্রণ-মেচতার বিষ আর চামড়ার নীচে আত্মগোপন করতে পারে না। বের হয়ে আসতে হয়।

এতে করে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বেড়ে যায় এবং মুখের সজীবতা দৃশ্যমান হয়। উল্লেখ্য দ্বিতীয় প্রকারের গুণাবলী কিন্তু আমাদের দেশের ভূগর্ভের এটেল মাটির মধ্যেও বিদ্যমান! যদ্বারা মাটির আসবাব পত্র তৈরি হয়।

ব্যবসায়ীক সমৃদ্ধি বাড়ানো ও কর্ম-কৌশলে নতুনত্ব আনার জন্য মুলতানি মাটির সাথে ডিমের কুসুম, দুধ, মধু, লেবুর রস, চন্দন গুড়া যোগ করার ঐতিহ্যও চালু হয়েছে। যাহাই যোগ করা হউক না কেন মূলত এখানে মাটির ক্ষমতাটাই মূল।

আমাদের দেশে আগের যুগে পায়ের ফাটা ও মরা চামড়া তুলে ফেলার জন্য কাদামাটিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হত। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অন্যতম একটি চিকিৎসা পদ্ধতির নাম ‘Mud Theraphy’. সারা শরীরে কাদা মাখিয়ে, মালিশ করিয়ে দেহ শুকানো হয়! সারা বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে এই প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি।

আমাদের দেশে এমন মিহি, পিচ্ছল ও আঠালো প্রকৃতির মাটি আছে যা চামড়ায় লাগলে, সাবান তো দুরের কথা, যে মাটি আলাদা করতে বাটাল দিয়ে ঘষার দরকার পরে! এসব মাটির চরিত্রকে বিশ্লেষণ করে, নানাবিধ কাজে লাগানো যেতে পারে। যার জন্য দরকার একদল চিন্তাশীল উদ্যমী তরুণ গবেষকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *