কমবেশী আমরা সবাই বটগাছ চিনি। এটি বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিমণ্ডলে অনেক উপকারী গাছ। এই গাছের যেমন ব্যবসায়ী মূল্য রয়েছে, তেমন রয়েছে ঔষধি গুণাবলী। তার উপরে এর অবস্থান হল, বটগাছ পরিবেশ এবং প্রাণীকুলের অন্যতম বন্ধু। বটগাছ আকৃতিতে যেমন বড়, তার উপকারও তেমনি ব্যাপক। আমাদের অনেকের কাছে বটগাছের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা একেবারেই ভাসা ভাসা। তাই চলুন এই গাছটির উপকারিতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করি। বটগাছের ছায়া আর অশরীরীর মায়া
আরো পড়তে পারেন…
- গাছ : সদাস্থায়ী কল্যাণের বাহন
- জামাল গোটার তেলেসমাতি
- বাথুয়া : লড়াকু উদ্ভিদের উপকারিতা
বটের পাতা প্রশস্ত, পুরু ও ঘন আকারে সন্নিবেশিত থাকে।
বটের ফল মিষ্টি স্বভাবের, প্রায় সকল পাখিদের প্রিয় খাবার।
একটি বটগাছ হাজারো পাখির জীবনধারণের অন্যতম উপায়।
ঠিক ডুমুরের মত ফলের ভিতরেই ফুল ফুটে, দানা গুলো তিলের মত ক্ষুদ্র।
পাখিরাই চারিদিকে বটগাছের বংশ বিস্তার ঘটায়।
বটগাছে প্রচুর কষ, কার্যকারিতায় অনেকটা রাবার গাছের মত।
বটগাছের বাকল শক্ত, আঁশযুক্ত; দড়ি জাতীয় জিনিষ তৈরিতে কার্যকর।
বটগাছের নীচে ঘর্মাক্ত পথিক, ঠাণ্ডা বাতাসে ক্লান্তি নিবারণ করে।
অতীত কালে বট গাছের নীচেই হাট, মেলা সহ নানা জমায়েত বসত
একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে বটগাছ তার ডাল-পালা চারিদিকে ছড়াতে থাকে।
ফলে তার ছায়ায় মানুষ ও সকল শ্রেণীর প্রাণীরা বসবাস করতে পারে।
পার্শ্ব-দিকের যতটুকু যায়গায় ডাল প্রসারিত করা যায়, বটগাছ তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করে।
ডাল নিচে পরে যাবার ভয়ে, সে ডাল থেকেই ঝুড়ি বের করে নিজেকে ঠেলে ধরে।
বটগাছ উঁচু-প্রশস্ত হবার কারণে, বাতাসের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এতে করে বাতাসের চাপ দ্রুত নিচের দিকে প্রবাহিত হয়, ঠিক বিমানের ডানার মত।
ফলে বিশ্রামরত পথিকেরা সার্বক্ষণিক প্রাকৃতিক মোলায়েম বাতাসের পরশ পায়।
এভাবে বাতাস চলাচলের কারণে বটে নীচের স্যাঁতস্যাঁতে মাটির পানি শুকিয়ে যায়।
ফলে বটগাছের নীচের মাটি সর্বদাই ঝরঝরে থাকে, যাতে সহজে আসন পাতা যায়।
বাতাসে বটের পাতার সহিত পাতার ঘর্ষণে এক ধরনের শব্দের সৃষ্টি হয়।
ছোট ডাল-পালা নাচতে থাকে, মানুষের মনে শঙ্কা ও সন্দেহের উদ্রেক হয়
রাত-বীরাতে এটাকে অনেকে অশরীরী আত্মার মায়া ও দুর্বিসন্ধি বলে থাকে।
বটগাছ আকারে বড় হলেও ফলগুলো খুবই ছোট, হালকা ও শুষ্ক।
তাই নিচে আশ্রয় নেওয়া পথিকের গায়ে পড়লেও কেউ আহত হয়না।
গাছের পাতা বড় হওয়াতে, পাখির পায়খানা আটকে রাখাতে সাহায্য করে।
বটগাছ সার্বক্ষণিক অক্সিজেন উৎপাদন করে, এটাকে বৃহৎ কারখানা বলা হয়।
ফলে জিরিয়ে নেওয়া পথিক বুক ভরে দম নিতে পারে, হারানো প্রাণবল ফিরে পায়।
বটগাছ পাখি খাদ্যের যোগানদাতা, অক্সিজেন উৎপাদন ও কার্বন ধ্বংসের উৎস।
বটগাছ ইউনানি ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রীয় চিকিৎসায় অন্যতম ঔষধ যোগান দাতা।
বটের আঠা পায়ের ফাটা সারিয়ে তুলে।
বটের ছালের গুড়ো দেহের মেদ কমাতে সাহায্য করে।
বটের ছাল বাটা শরীরের ফোলা-স্থানের ব্যথা দূর করতে কার্যকরী।
বটের মুকুল শুক্র তারল্য দূরীকরণে কার্যকরী
গায়ের জ্বালা-পোড়া নিবারণে বটের ছাল সেদ্ধ উপকারী
তাই চলুন প্রতি গ্রামে অন্তত একটি করে হলেও বট গাছের চারা রোপণ করি। রাস্তার মোড়, ঈদগাহ, মজা পুকুর পাড়ে, গ্রাম্য কবরস্থান, শ্মশান, মাঠ কিংবা পরিত্যক্ত অনাবাদী জমিতে বটের চারা রোপণ করি। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য যেভাবে রক্ষা পাবে, পক্ষীকুলের জীবন ধারণের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া গাছ রোপণ করা অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ইসলামে স্বীকৃত। ফলে এই কাজটি একজন প্রকৃত ধার্মীক মানুষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রমাণ করে।
পুনশ্চ: বটগাছের উপকারিতা বর্ণনা করতে গিয়ে তার ঔষধি গুনাগুণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তাই বলে এই লেখার সূত্র ধরে কেউ খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। অবশ্যই হার্বাল কলেজ থেকে পাশকরা ইউনানি-আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের পরামর্শ মতে খেতে হবে। অথবা নিজ শহরের হামর্দদ ল্যাবরেটরির স্থানীয় শাখায় যোগাযোগ করা যেতে পারে। হামর্দদ ল্যাবটেরিতে পাশকরা ডাক্তার থাকে এবং তারা বিনা ফিতে চিকিৎসা দিয়ে থাকে।


Discussion about this post