হিলফুল ফযুল এবং ওহীর জ্ঞানের অপরিহার্যতা

হিলফুল ফযুল এবং ওহীর জ্ঞানের অপরিহার্যতা

হিলফুল ফযুল প্রতিষ্ঠিত হয় মুহাম্মদ (সাঃ) এর ১৭ বছর বয়সে

ইতিহাস যে যুগটি সম্পর্কে মন্তব্য করে, ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা মূর্খতার যুগ হিসাবে, সেই মূর্খতার ঘোর অন্ধকার অমানিশার ঘনঘটার মধ্যেই প্রদীপ্ত সূর্যের মত আগমন করেছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, শোষিত নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনতার মুক্তির দিশারী নবী সম্রাট মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

তদানীন্তন পৃথিবীতে মানুষ সুদ ভিত্তিক অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে শোষিত হচ্ছিল, রাজনৈতিক-ভাবে গোত্রতন্ত্র তথা জুলুমমূলক ব্যবস্থার জগদ্দল পাথরের মত মানুষের ওপরে চেপে বসেছিল, ঘৃণা ও লাঞ্ছনার অতল গহ্বরে ময়ের জাত নারীকে তলিয়ে দেয়া হয়েছিল, ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এ নীতিই ছিল সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত।

এহেন সমাজ ব্যবস্থায় নিষ্পেষিত মানবতা মুক্তির লক্ষ্যে আর্তনাদ করছিল। মানবতার এই করুণ অবস্থা অবলোকন করে করুণার মূর্তি প্রতীক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয় ব্যথা কাতর হয়ে উঠেছিল।

হিলফুল ফযুলের লক্ষ্য ছিল মানুষকে নিপীড়ন থেকে মুক্ত করা

তিনি মানুষকে এ অপমানজনক অবস্থা থেকে মুক্ত করে মহামুক্তির স্বর্গদ্বারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মাত্র সতের বছর বয়সে (কেউ বলেছেন, বিশ বছর বয়সে) কিছু উৎসাহী মানুষকে সাথে নিয়ে হিলফুল ফযুল নামে একটি সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িত করলেন।

এ মহান সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল, মানবতাকে যে কোন ধরনের নিপীড়ন থেকে মুক্ত করে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী নিরাপদ-পূর্ণ ও শোষণ মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং জাতিকে সুসভ্য হিসাবে গড়ে তোলা।

নবুওয়্যাত লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিরামহীন গতিতে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে আন্দোলন পরিচালনা করলেন। পক্ষান্তরে তিনি কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারলেন না। গোটা জাতিকে মুক্ত করে শোষণ মুক্ত সমাজ উপহার দিতে তিনি সক্ষম হলেন না।

এ প্রসঙ্গে একটা প্রশ্ন জাগে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেন সক্ষম হলেন না? তিনি কি ঐ আন্দোলনের প্রতি আন্তরিক ছিলেন না? অথবা (আল্লাহ ক্ষমা করুন) তাঁর চরিত্রে কোন দুর্বলতা ছিল ?

অথবা, তাঁর মধ্যে আন্দোলন সংগঠন ও নেতৃত্বের কোন ধারণা বর্তমান ছিল না? অথবা ব্যক্তিগত উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি মানব মুক্তির মহান আন্দোলনকে চোরাবালিতে নিক্ষেপ করেছিলেন?

ইতিহাস সাক্ষী, মহান আল্লাহ তাকে এ ধরনের যাবতীয় দুর্বলতা থেকে মুক্ত করেই এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ তাকে “সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী” বলে সনদ পত্র দিয়েছেন এবং সর্বকালের মানুষদের জন্য “একমাত্র উত্তম আদর্শ ও অনুসরণীয় চরিত্র” হিসাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

হিলফুল ফযুলের সামাজিক কাজের প্রভাবে মুহাম্মদ (সাঃ) কে আল আমীন বলা হত

তাঁর প্রাণের শত্রু যারা ছিল সে সমাজেও, তাঁরাও তাকে “আল আমীন” অর্থাৎ বিশ্বাসী এই উপাধিতে ভূষিত করেছেন। পূর্ণিমার পূর্ণ শশীর মধ্যেও কালো-দাগ Blackspot থাকলেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরিত্রে কোন কালো-দাগ আবিষ্কার করতে পারেন না। Spotless character-এর অধিকারী ছিলেন তিনি।

আবার প্রশ্ন জাগে, এ ধরনের একজন Spotless character-এর অধিকারী এক মহান ব্যক্তি মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৪০ বছর বয়স অর্থাৎ ২৩ বছর পর্যন্ত অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়েও সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে কেন সক্ষম হলেন না?

পক্ষান্তরে ঐ একই ব্যক্তি ৪০ বছর বয়স থেকে ৬৩ বছর বয়স পর্যন্ত অর্থাৎ এই দ্বিতীয় তেইশ বছর আন্দোলন করে এমন একটি সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতি পৃথিবীর সভ্যতায় উপহার দিলেন, যে সমাজ রাষ্ট্র ও জাতি বর্তমান এবং আগামী দিনের জাতিসমূহের জন্য চীর অনুসরণীয়।

এ সময়ের অবস্থা সম্পর্কে ডক্টর আল্লামা ইকবাল বলেছেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আন্দোলন ছিল বজ্রের আওয়াজের মতই। যার প্রচণ্ড আলোড়নে আরব আলোড়িত হয়ে ইউরোপ আফ্রিকাতেও কম্পন জাগিয়ে দিল।

যে কারণে সবার সহযোগীতার পরও হিলফুল ফযুল আন্দোলন সফল হয়নি

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আন্দোলনের দুটো অধ্যায়ের প্রতি অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে যে প্রকৃত সত্য দৃষ্টি গোচর হয়, তাহালে ১৭  বছর থেকে ৪০ বছর অর্থাৎ এই তেইশ বছর আন্দোলন করে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে সক্ষম হননি।

অপরদিকে ৪০ বছর থেকে ৬৩ বছর আন্দোলন সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে ছিল। মানব জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে একটা বিরাট এবং অকল্পনীয় পরিবর্তন সাধিত হলো। ফলে এমন একটি সমাজ জাতি ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, আকাশের নিচে ও পৃথিবীর বুকে এ ধরনের বৈষম্যহীন শোষণ-মুক্ত ভীতি-হীন নিরাপত্তাপূর্ণ সুখী-সমৃদ্ধশালী ভাতৃত্ব-সূলভ জীবন ব্যবস্থা ইতিহাসে অনুপস্থিত।

যে সভ্যতা-সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা, শ্রমনীতি, শিল্পনীতি ছিল গবেষকদের কল্পনার বিষয় বস্তু, তা-ই এই তেইশ বছরের আন্দোলনে বাস্তব রূপ পরিগ্রহ করলো। পৃথিবী ধ্বংস হবার পূর্ব পর্যন্ত এ তেইশ বছরের আন্দোলন ও তার ফলাফল, গোটা পৃথিবীর মানুষের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

আবার প্রশ্ন জাগে, প্রথম তেইশ বছরের আন্দোলন কেন যৌক্তিক পরিণতি লাভ করলো না? আর দ্বিতীয় তেইশ বছরের আন্দোলন কোন অলৌকিক ক্ষমতার স্পর্শে সাফল্য লাভ করলো? এ-সম্পর্কে চিন্তা করলে আমাদের সামনে যে সত্যটি প্রতিভাত হয়ে ওঠে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রথম তেইশ বছরের আন্দোলন ছিল তাঁর নিজস্ব ধ্যান ধারণা চিন্তা কল্পনা ও মস্তিষ্ক প্রসূত।

আর দ্বিতীয় তেইশ বছরের আন্দোলন ছিল ওহী-ভিত্তিক জ্ঞান দ্বারা পরিচালিত। এখানে প্রকারান্তরে মহান আল্লাহ প্রমাণ দেখালেন, মানুষের চিন্তা কল্পনা ধ্যান-ধারণা তথা মানুষের তৈরি কোন আদর্শ মানুষের মুক্তি দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মানুষের সমস্যার সার্বিক সমাধান দিতে পারে একমাত্র ওহী তথা আল্লাহর অবতীর্ণ করা জীবন বিধান।

মানুষ যতই সৎ, নীতিবান, নিষ্ঠাবান এবং অনুপম গুণাবলীর অধিকারী হোক না কেন, সে মানুষ তাঁর মন-মস্তিষ্ক প্রসূত, ধারণানুযায়ী বা কল্পনা নির্ভর কোন নীতিমালা দিয়ে যদি মানব গোষ্ঠীর সমস্যার সার্বিক সমাধান দানে অগ্রসর হয়, হয়, তাহলে সে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হবে। তার সমস্ত প্রচেষ্টা ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শ্রম ব্যর্থতার চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে বাধ্য হবে।

মানুষ যদি তার কল্পনা প্রসূত নীতিমালা প্রয়োগ করে মানব গোষ্ঠীর সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সুষ্ঠু সমাধান দানে সক্ষম হতো, তবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নীতিবান ও চরিত্রবান ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই সর্বাগ্রে সফল হতেন।

মানব জাতির জীবনের সার্বিক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ জীবনধারা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ওহী-ভিত্তিক জ্ঞান তথা আল কোরআনের যে বিকল্প নেই, তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রথম ২৩ বছরের আন্দোলন জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করে।

হিলফুল ফযুলের ২৩ বছরের প্রচেষ্টার পর ওহীর জ্ঞান দুনিয়াতে আসে

তাঁর পরবর্তী তেইশ বছরের আন্দোলন যখন ওহীর জ্ঞান দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, তখনই তিনি শোষিত নিপীড়িত ও নির্যাতিত আর্ত মানবতাকে মহা-মুক্তির স্বর্ণ শিখরে উপনীত করতে সফল হয়েছেন।

এক বর্ণনায় দেখা যায়, ‘বিশ্বনবীর চাচা যুবায়ের ইবনে আব্দুল মুত্তালিব পরিকল্পনা করেছিলেন যে, বনী হাশেম, বনী তাঈম এবং বনী জোহরা আব্দুল্লাহ ইবনে জাদআনের বাড়িতে একত্রিত হবে। তাঁরা একত্রিত হয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপস্থিতিতে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলো যে, তাঁরা সহৃয়দদের সাহায্য করবে এবং জালিমের জুলুম প্রতিরোধ করবে।’

পরবর্তীতে নবুওয়্যাত লাভ করার পরে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, ‘এই চুক্তির পরিবর্তে কোন ব্যক্তি যদি আমাকে লাল রঙের উট দান করতো তবুও আমি সে চুক্তি পরিবর্তন করতাম না।

বর্তমানেও কেউ যদি আমাকে এই ধরনের চুক্তি পালনে আহ্বান করে আমি উৎফুল্ল হয়ে তাঁর ডাকে সাড়া দেবো।’ উল্লেখ্য, লাল উট ছিল সে সময়ে দুষ্প্রাপ্য এবং অতি মূল্যবান। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই উটের উপমা ব্যবহার করেছেন।

আরেক বর্ণনা মতে এই চুক্তি-নামাকে হিলফুল ফযুল এ কারণে বলা হয় যে, ‘এর সংগঠনকারীদের নামের ভেতরে ফযুল শব্দটা ছিল। যেমন সুফাজ্জাল, ফুজায়েল ইবনে হারেস এবং ফুজায়েল ইবনে ওয়াআ। এরা সবাই ছিল জোর্হাম এবং কাতুরা গোত্রের লোক।’

পরবর্তীতে কুরাইশরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপস্থিতিতে সেই চুক্তিকে পুনর্জীবিত করেন। তবুও কয়েক শত বছর পরে সে সময়ে চুক্তির প্রথম পরিকল্পনাকারীদের নাম তখন পর্যন্ত জীবিত ছিল।

ইবনে আসীর তাঁর আল বিদায়া ওয়াননিহায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘উপস্থিত সবাই এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে যে, তারা অধিকারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে এবং কোন অত্যাচারী দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করতে পারবে না।’ (আল বিদায়া ওয়াননিহায়া, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-২৯১)

হিলফুল ফযুলের এই চুক্তি সম্পর্কে ইবনে সাআদ বলেন, তারা পরস্পরে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল, যে অধিকার হারাদের অধিকার তাঁরা প্রতিষ্ঠিত করবে। ইবনে হিশাম বলেছেন, তারা মক্কা নগরের কোন নাগরিকের প্রতি বা কোন বহিরাগতের প্রতি কোন জুলুম অত্যাচার হতে দেবে না।

কেউ অত্যাচারিত হতে থাকলে তাঁরা মজলুমের পক্ষাবলম্বন করবে। আমূল ফীলে যিলকাদ মাসের বিশ তারিখে এই চুক্তি সাধিত হয় বলে ইবনে সাআদ উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির পটভূমি ছিল, যূবাইদী গোত্রের ইয়েমেনের এক নাগরিক ব্যবসা-সামগ্রীসহ মক্কায় এসেছিল।

মক্কার আস ইবনে ওয়ায়েল নামক এক নেতা তাঁর কাছ থেকে তা কিনে তা কোন মূল্য প্রদান করেনি। ইয়েমেনের সে লোক মক্কার বিভিন্ন গোত্রের কাছে গিয়ে ফরিয়াদ জানায়। কিন্তু কেউ তাঁর আবেদনে সাড়া দেয় না। এরপরে সে লোক পরদিন সকালে কুরাইশ পাহাড়ের ওপরে ওঠে উচ্চ কণ্ঠে বলতে থাকে তাঁর অধিকার হরণ করা হয়েছে। তাঁর করুণ আবেদনে সাড়া দিলেন বিশ্বনবীর চাচা যুবায়ের ইবনে আব্দুল মুত্তালিব।

তিনি হযরত আবু বকরের ভাতিজা আব্দুল্লাহ ইবনে জাদআনের বাড়িতে একটা বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে ইয়েমেনের নাগরিকের বিষয়টি আলোচিত হয় এবং তাঁরা সর্ব সম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, মক্কার নাগরিক হোক অথবা অন্য যে কোন দেশের নাগরিক হোক, মক্কায় সে যদি অত্যাচারিত হয় তাহলে তারা সবাই সেই অত্যাচারিতের পক্ষে এগিয়ে যাবে এবং তাঁর অধিকার আদায় করে দেবে।

তারপরে তারা ঐ ব্যক্তির কাছে গেল, যে ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিকের কাছ থেকে পন্যক্রয় করে মূল্য পরিশোধ করেনি। ইয়েমেনের নাগরিকের অধিকার তারা আদায় করে দিয়েছিল। সেখানে যে চুক্তি বা অঙ্গীকার নামা প্রস্তুত করা করা হয়েছিল, তার মধ্যে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শামিল ছিলেন।

হিলফুল ফযুল, ওহীর জ্ঞান, সীরাতুন্নবী, Hilful Fuzul, Divine Knowledge, Wahi, Islamic History

 

👈পূর্বের পোষ্ট 𝕋 পরের পোষ্ট 👉

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *