নূহ (আঃ) প্রতি শয়তানের দুটি চাঞ্চল্যকর উপদেশ

নূহ (আঃ) প্রতি শয়তানের দুটি চাঞ্চল্যকর উপদেশ

নূহ (আঃ) প্রতি শয়তানের নসিহত কি ছিল

নূহ (আঃ) এর সময় সংঘটিত অভিশপ্ত মহা প্লাবনের প্রস্তুতি কালে, কথার ফাঁক ধরে শয়তান গাধার লেজ ধরে নৌকায় চড়ে বসে! নূহ (আঃ) শয়তানকে নৌকা থেকে নামিয়ে দিতে চাইলে, শয়তান জাহাজ থেকে না নামার জন্য বেঁকে বসে! নূহ (আঃ) জাহাজ থেকে নেমে যাবার জন্য, ধমক দিলে শয়তান প্রতিউত্তরে জানায়:

আপনি আমাকে নৌকা থেকে নামিয়ে হত্যা করতে পারবেন না, কেননা আল্লাহ আমাকে কথা দিয়েছেন যে, তিনি আমাকে কেয়ামত পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবেন। সুতরাং আজকে আপনার জাহাজে উঠে বসার এই সুযোগটিও সেই ওয়াদারই ধারাবাহিকতা। সুতরাং প্লাবন শেষ না হওয়া অবধি আপনি আমাকে আপনার সাথে জাহাজে থাকতে দিন, আর আমিও আপনার অশান্তির কোন ব্যাঘাত ঘটাব না।

নূহ (আঃ) শয়তানকে তৎক্ষণাৎ নির্দেশ দিলেন যে, তুমি জাহাজের মাস্তুলের উপরে থাকবে কোন অবস্থাতেই নিচে নামবে না। শয়তান শর্তে প্লাবন শেষ অবধি মাস্তুলের উপর থেকে নিচে নামেনি।

মহাপ্লাবন শেষে নূহ (আঃ) এর নৌকা যখন স্থলভাগে ভিড়ে; তখন শয়তানকে আগে নেমে যাবার নির্দেশ দিলে, সে খুশী হয়। তখন শয়তান নূহ (আঃ) দুটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে।

শয়তান নূহ (আঃ) কে বলল,

‘হে মহান নবী! আপনি খুব ভাল মানুষ। আপনি জাহাজে আমার সাথে বদান্যতা দেখিয়েছেন এবং উত্তম আচরণ করেছেন, তাই আমার উপরে আপনার প্রতি বদান্যতার হক আরোপ হয়েছে’

সেই বদান্যতার হক হিসেবে, আমি মানুষকে কিভাবে পথভ্রষ্ট করি তার পাঁচটি উপায় থেকে তিনটি উপায়ের কথা আপনাকে বলে দিতে চাই, বাকি দুটি আমি প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নই। ফলে আপনি আপনার উম্মতদের এই তিনটি বিষয় থেকে দৃঢ় ভাবে মুক্ত রাখতে সক্ষম হবেন।

ঠিক সে সময় নূহ (আঃ) কে ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী করে বলা হয় যে, ‘শয়তান  তার আক্রমণের দুটি পদ্ধতি বাদ দিয়ে, বাকি তিনটি শুনাতে চাচ্ছে। আপনি বরং তার কাছে সেই তিনটির বদলে, যে দুটি শুনাতে চাচ্ছে না, সে গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন’।

নূহ (আঃ) ফেরেশতার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য মত,এ তিনটি বিষয় বাদ দিয়ে, দুটি বিষয় জানার আগ্রহ দেখালে. শয়তান সে দুটি বিষয় জানাতে ইচ্ছুক হয়।

শয়তান তার দুটি বিষয় জানাতে আগ্রহী হল, শয়তান বলল তার দুটি বিষয় হচ্ছে:

১. নূহ (আঃ) প্রতি প্রথম উপদেশ হল ‘হিংসা না করা’!

আপনার উম্মতদের হিংসা করতে নিষেধ করবেন। হিংসা মানুষকে পরিপূর্ণ নিঃশেষ করে দেবে। আদমের প্রতি আমার অতিরিক্ত হিংসার কারণেই, আমি অভিশপ্ত হয়ে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছি এবং শয়তান হিসেবে পরিগণিত হয়েছি।

২. নূহ (আঃ) প্রতি দ্বিতীয় উপদেশ হল হল ‘লোভ না করা’!

আপনার উম্মতদের লোভ থেকে দূরে রাখবেন। কেননা, আল্লাহ আদম (আঃ) এর জন্য জান্নাতে থাকার জন্য বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। আমি তাকে বুঝিয়েছিলাম যে, তোমাকে জান্নাত থেকে বিতাড়নের জন্যই ‘গন্ধম’এর ফাঁদ পাতা হয়েছে। তাই আদম চিরকাল জান্নাতে থাকার লোভ করেই গন্ধম খেয়েছিলেন! আমি আদমের সে লোভ কে কাজে লাগিয়েই, তাকে জান্নাত থেকে বিতাড়ন করতে পেরেছিলাম।

হিংসা এবং লোভ থেকে বেঁচে চলার জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর উম্মতদের সর্বদা নসিহত করতেন। এই দুটি খারাপ গুণ অন্য সকল ভাল গুনকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেয় এবং মানুষকে জাহান্নাম পর্যন্ত পৌছিয়ে দেয়। দুনিয়াবি জীবনেও হিংসুক-লোভী মানুষ সর্বদা অপমানিত ও লজ্জিত হয়।

তাই আসুন আমরা এই দুটি মৌলিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত থেকে জীবন পার করতে পারার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য ও সহযোগিতা চাই এবং নিজে নিজে দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

পুনশ্চ: ঘটনাটি আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়তী (রহ) ‘জ্বীন’ নামক গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *