সুরা আল মাউন – দারসুল কোরআন

দারসুল কোরআন - সুরা আল মাউন

সুরা আল মাউন – দারসুল কোরআন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
﴿أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ﴾ ﴿فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ﴾ ﴿وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ﴾ ﴿فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ﴾ ﴿الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ﴾ ﴿الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ﴾ ﴿وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ﴾
তুমি কি তাকে দেখেছো! যে আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তিকে  মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে? সে-ই তো এতিমকে ধাক্কা দেয় এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করে না! তারপর সেই নামাযীদের জন্য ধবংস, যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে গাফলতি করে। যারা লোক দেখানো কাজ করে এবং মামুলি বস্তু হাওলাত দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
আরাআইতা– তুমি কি দেখেছ? আল্লাজি-তাকে, ইয়ুকাজ্জিবু-মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, দ্বীন-দ্বীনকে, ফা-জালিকা-সে তো ঐ ব্যক্তি, ইয়াদু’ওয়ু-ধাক্কাদেয়, ইয়াতিম, ওয়ালা-এবং না, ইয়াহুদ্বু-উৎসাহিত (করে না), ত্বয়াম-খাদ্য দানে, মিসকিন-অভাবীদের, ফাওয়াইলুল্লিল-অতএব দুর্ভোগ, মুসাল্লিন-ঐসব নামাজিদের প্রতি, ছালাতিহিম-ছালাতের প্রতি, ছাহুন-উদাসীন, ইউরাউন-লোক দেখানো কাজ, ওয়া’ইয়ামনা-এবং বিরত থাকে, মাউন-মামুলি বস্তু হাওলাত দেওয়া থেকে (সুবিধার্থে বাংলা উচ্চারণ লিখা হয়েছে, বাংলায় উচ্চারণ ভুল হবে, সদা আরবীতে উচ্চারন করার আহবান রইল)

পবিত্র কোরআনে সুরা আল মাউনের অবস্থান

আল মাউন পবিত্র কোরআনের ১০৭ নম্বর সুরা এবং এর আয়াত সংখ্যা ৭ টি

সুরা আল মাউনের নামকরণ:

এই সুরার সর্বশেষ আয়াতের সর্বশেষ শব্দটিকে সুরার নাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

‘আল-মাউন’ শব্দের অর্থ হলো নিত্য প্রয়োজনীয় বা গৃহস্থালির ছোটখাটো ব্যবহার্য জিনিসপত্র, সাময়িক ব্যবহারের জন্যে হাওলাত দেওয়া। যেমন: দা, কুড়াল, বটি, বালতি, ডেকচি, খুন্তি, চট, বস্তা ইত্যাদি। এমন সাধারণ জিনিস যা ব্যবহারে লয় হয় না সেসব বস্তু প্রতিবেশীকে ধার দিতে বা সাহায্য করতে কৃপণতা করে।

সুরা আল মাউনের নাযিলের সময় কাল:

নাজিলের সময়কাল নিয়ে দুটি মত একটি মক্কী, অন্যটি মাদানী

১. মক্কী মত: বেশিরভাগ তাফসীরবিদ ও ঐতিহাসিকের মতে, সূরা আল-মাউন একটি মক্কী সূরা। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), আতা ও জাবের (রাঃ) প্রমুখ সাহাবি ও তাবেয়ীদের থেকে এটি মক্কায় অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। এই মতের ভিত্তি হলো সূরার প্রথম অংশের বক্তব্য, যা মক্কার কাফেরদের পরকাল অস্বীকার ও এতিমদের অধিকার হঞ্চনের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল।

২. মাদানী মত: অপরপক্ষে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে অন্য একটি বর্ণনায় এবং হযরত কাতাদাহ ও দাহহাক (রহ.)-এর মতে সূরাটি মাদানী। এছাড়া বিশিষ্ট মুফাসসির ও গবেষকদের (যেমন, আল্লামা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী) মতে, সূরার শেষ অংশের আয়াতগুলো (যেখানে মুনাফেকদের লোক দেখানো নামাজ ও সালাতের প্রতি উদাসীনতার কথা বলা হয়েছে) গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এটি মাদানী বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ মক্কা যুগে প্রকাশ্যে জামায়াতে নামাজ পড়ার বা লোক দেখানোর মতো মুনাফেক সমাজ মক্কায় ছিল না; মুনাফেকদের এই প্রবৃত্তি ও শ্রেণিটি মূলত মদীনায় আত্মপ্রকাশ করেছিল।  

সার-সংক্ষেপ: কুরআন মাজীদের প্রচলিত বিন্যাসের অধিকাংশ মতে এটি মক্কী সূরা হিসেবে পরিগণিত। তবে এর ভাবার্থ ও বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যের কারণে কোনো কোনো মুফাসসির একে মিশ্র বা মাদানী হিসেবেও মত দিয়েছেন।  

সুরা আল মাউনের ঐতিহাসিক পটভূমি:

সুরাটি নাজিল হওয়ার একক কোন পটভূমি নেই। বরং প্রাক-ইসলামিক আরব সমাজের সাধারণ নৈতিক অবক্ষয়, পরকালের প্রতি অবিশ্বাস এবং পরবর্তীতে সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা মুনাফেকদের চরিত্র উন্মোচন করার জন্য এই সুরা গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে সুরাটির আহবান সর্বকালের সকল জমানার সকল পটভূমির জন্যে প্রযোজ্য।

সূরার প্রথম অংশের তথা ১ – ৩ নং আয়াতে, মক্কার অনেক কাফের ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল, যারা প্রকাশ্যে কিয়ামত বা বিচারদিবসকে অস্বীকার করত। পরকালে জবাবদিহিতার ভয় না থাকায় তাদের মধ্যে চরম নিষ্ঠুরতা ও হঠকারিতা তৈরি হয়েছিল। তারা অসহায় এতিম শিশুদের অধিকার হরণ করত, তাদের ওপর নির্যাতন চালাতো বা গলা ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিত। যেমন, আবু জাহেল সেই গরীব ইরাশী ব্যক্তির উটের টাকা পরিশোধ না করার ঘটনা

জনৈক ইরাশী (الْإِرَاشِيُّ) ব্যক্তি মক্কায় উট নিয়ে আসেন। আবু জাহল তার নিকট থেকে একটি উট খরীদ করেন। কিন্তু তার মূল্য পরিশোধে টাল-বাহানা করেন। তখন উক্ত ব্যক্তি কুরায়েশদের ভরা মজলিসে দাঁড়িয়ে অভিযোগ পেশ করে বলেন, আমি একজন গরীব পথিক। অথচ আমার হক নষ্ট করা হয়েছে। লোকেরা তাকে রাসূল (ছাঃ)-কে দেখিয়ে বলল, তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে চেন? তাঁর কাছে যাও। তখন লোকটি অনতিদূরে বসা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে এল এবং উক্ত অভিযোগ পেশ করে বলল, আপনি আমার হক আদায় করে দিন। আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন! তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে নিয়ে আবু জাহল-এর বাড়ি অভিমুখে চললেন। মুশরিকদের পক্ষ হ’তে একজন তাদের পিছু নিল, ঘটনা দেখার জন্য। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) এসে আবু জাহলের দরজায় করাঘাত করলেন। তখন আবু জাহল বেরিয়ে এলেন। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, আপনি এই ব্যক্তিকে তার হক বুঝে দিন। আবু জাহল বললেন, হ্যাঁ। আমি এখনই দিয়ে দিচ্ছি। অতঃপর তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন ও টাকা এনে ইরাশীকে দিয়ে দিলেন।… একথা জানতে পেরে লোকেরা আবু জাহলের কাছে এসে ধিক্কার দিয়ে বলল, আপনার কি হয়েছে? কখনই তো আপনার কাছ থেকে এরূপ আচরণ আমরা দেখিনি। আবু জাহল বললেন, তোমাদের ধ্বংস হৌক! আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ আমার দরজায় করাঘাত করার পর তাঁর কণ্ঠ শুনে আমি ভয়ে কম্পিত হয়ে পড়ি। অতঃপর বেরিয়ে এসে দেখি তাঁর মাথার উপরে ভয়ংকর একটি উট। যার চোয়াল ও দাঁতসমূহের মতো আমি কখনো দেখিনি। আল্লাহর কসম! যদি আমি অস্বীকার করতাম, তাহ’লে সে আমাকে খেয়ে ফেলত’ (ইবনু হিশাম ১/৩৮৯-৯০; বিস্তারিত দ্র. ‘সীরাতুর রাসূল (ছাঃ)’ ৩য় মুদ্রণ)। ঘটনাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। কিন্তু সনদগতভাবে বিশুদ্ধ নয়।

পাশাপাশি নিজেদের সম্পত্তিতে গরিব-দুঃখী ও মিসকীনদের যে হক বা অধিকার রয়েছে, তা তো দিতোই না; বরং অন্য কাউকেও অভাবগ্রস্তদের অন্নদানে উৎসাহিত করত না।

বরং বলত, “আল্লাহ ইচ্ছা করলে তো নিজেই এদের খাওয়াতে পারতেন! আল্লাহ যাদের গরিব রেখেছেন, আমরা যদি তাদের খাবার দিই বা তাদের ভাগ্য বদলাই, তবে তা তো আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হবে!”  

أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ – তুমি কি তাকে দেখেছো, যে আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।

অর্থাৎ এখানে কিছু ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরা হবে, যারা দ্বীন ও পরকালকে অস্বীকার করে

এখানে কিছু মানুষের এমন কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরা হবে, যেগুলো করার মাধ্যমে পরকাল অস্বীকার করাই বুঝায়

সেই ব্যক্তি মুখে যত দাবীই করুক না কেন, এই কাজগুলো প্রমান দিবে যে, সে পরকাল অস্বীকারকারী

পরকাল অস্বীকার শুধু মুখে হয়না, ইমানদার ব্যক্তিদের কাজ কর্মের মাধ্যমেও ফুটে উঠে

সেই কাজ বা সে সব মানুষকে দেখানোর জন্যই প্রশ্ন করা হচ্ছে তোমরা কি তাদের চিন কিংবা দেখেছ

তারা কারা, সেই কথাগুলো শুরু হচ্ছে এখান থেকে

فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ – এরা তো সেই লোক যারা ইয়াতিমকে ধাক্কা দেয় 

পরকাল অস্বীকারকারীর অন্যতম প্রধান পরিচয় হল,

সে ইয়াতিমকে ঘৃণা করে, উপেক্ষা, অবহেলা করে, তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে রাখে

অর্থাৎ নিজেদের কাছাকাছি থেকে ইয়াতিমের অবস্থানের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়

কথার গভীরে যাবার আগে আমাদের জানতে হবে ইয়াতিম কে বা কাকে বলে

যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুর পিতা মারা যায় তাকে আরবীতে ইয়াতিম (اليتيم) বলে, আর

যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুর পিতা-মাতা উভয়ে মারা যায় তাকে ‘আল লাত্বীম’ (اللطِيم) বলে, আর

যে শিশুর পিতা আছে কিন্তু মাতা মারা গেছে তাকে আল-আজী (العَجِيّ) বলে।

এখানে কথা বলা হচ্ছে ইয়াতিমদের নিয়ে

ইয়াতিম হল সেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু যার জন্যে আয় করার কেউ নেই, আবার

সে এতই অবুঝ ও এত ছোট থাকে যে, ফলে নিজের জন্যে আয় করতে পারে না

আবার তার জন্যে আয় করে দিবে কিংবা তার আব্দার পূরণ করারও কেউ থাকে না

মায়ের পক্ষেও ইয়াতিম ছেলের জন্যে বায়না কিংবা অভাব পূরন করা সম্ভব হয়না

ইয়াতিম ছেলের মা সমাজে একাকী হয়ে পড়ে, পর পুরুষের উৎপীড়ন বেড়ে যায়

ফলে ইয়াতিমের মায়ের পক্ষে তার জন্যে কারো নিকট থেকে কিছু চেয়ে সংগ্রহ করা কঠিন হয়

কিংবা তার ভরণ পোষনের ব্যবস্থা করা কঠিন ও সামাজিক ভাবে অনিরাপদ হয়ে যায়

মায়ের বিয়ে হওয়া কিংবা, সেই মা নিজেও অন্যের উপর নির্ভরের কারণে বিপদে থাকে

বিধবা রমনীরা সমাজে অনিরাপদ হয়, মা তার দুঃখের কথা শিশুকে বুঝাতে পারেনা

আবার শিশু নিজের চাহিদাও দুঃখিনি মা থেকে আদায় করতে পারে না, ফলে

শিশু এক পর্যায়ে নিজের মাকেও অপরিচিত মনে করতে থাকে, সারা দুনিয়া তার অন্ধকার হয়ে যায়

এতে করে এতিমের ভাষা মুখ থেকে হারিয়ে যায় এবং চোখে ক্ষোভের ভাষার জন্ম নেয়

মহান আল্লাহর এতিমের এই দুঃখ অনুভূতি ভাল করে বুঝেই বলে শুরুটা ইয়াতিমকে দিয়ে করেছে

দুনিয়াতে কেউ ইচ্ছে করে ইয়াতীম হয়না, এটা আল্লাহর পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতি

ইয়াতীমকে উপেক্ষা করা মানেই আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করার নামান্তর

রাসুল (সাঃ) নিজেও ইয়াতিম ও লাতিম দুটোই ছিলেন, এটা আল্লাহর কুদরতি সিদ্ধান্ত

সিরিয়া সফরে গেলে বাহিরা নামক খ্রিষ্টান পাদ্রী মুহাম্মদ (সাঃ) কে দেখে বলেছিলেন, এর চরিত্র শেষ নবীর মত

কিশোর মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে কথা বলে বুঝতে পারেন তিনি শেষ পয়গম্বরই হবেন, কিন্তু

কিন্তু চাচা আবু তালিব যখন বলল, ওটা তার ছেলে,তখন প্রাদ্রী বাহিরার মনে খটকা লাগল, 

বাহিরা বলল সবই তো মিলে গেল কিন্তু সে পয়গম্বর তো ইয়াতীম হবে বলে কিতাবে লেখা আছে

পরে চাচা আবু তালিব সত্য কথা জানালেন যে, তার নিরাপত্তার খাতিরে আমার ছেলে বলেছি, মূলত ছেলেটি ইয়াতিম

ইয়াতীমকে উপেক্ষা করায় আখেরাতে যেমন ক্ষতি আছে, তেমনি দুনিয়াতেও বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা থাকে

ইয়াতিম ধৈর্যশীল, অধ্যাবসায়ী, তত্বকথার গভীরে প্রবেশকারী ও আল্লাহর কাছাকাছি হয়

তার কথা মন দিয়ে কেউ শোনার থাকেনা, তাকে নিয়ে কারো আগ্রহ থাকেনা, ফলে

সে তার সকল দাবী, ইচ্ছে, আগ্রহ, অভিলাষ, পরিকল্পনা আল্লাহর কাছেই নিবেদন করে

আর মুক্তাকি হবার সর্বোত্তম মানদন্ড এটাই যে, মানুষ সবকিছু আল্লাহর কাছেই প্রত্যাশা করে

এমন একটি চরিত্র ইচ্ছায় হউক আর অনিচ্ছায় হউক, এতিম সন্তান নিজের অজান্তে করতে থাকে

তারা আল্লাহর কাছাকাছি হবার সুযোগ বেশী পায়, ফলে মহান বারিতায়ালা তাদের রক্ষা করেন আসমানি সাহায্যে, যেমন

ইয়াতিমের সম্পদ রক্ষার্থে খিজির (আঃ) মুসাকে নিয়ে তাদের পড়ন্ত দেওয়াল ঠিক করেছেন

সুরা বাকারায় বর্ণিত, মুসার সেই হত্যাকারী তালাশ, দুই ইয়াতিমের গরু সোনার ওজন দিয়ে কিনে আনা হয়েছিল

মদিনার দুই ইয়াতিমের অখ্যাত যায়গা, বেশী দামে কিনেই মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠা হয়েছে

সুতরাং ইয়াতিমেরা আল্লাহর অনেক নিকটে থাকে, তাকে ধাক্কা না দেওয়া, অবহেলা, অবজ্ঞা যেন না করে

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইয়াতিমের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর ভাষায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন,

وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ- (তোমরা) ইয়াতীমের সম্পদের ধারে কাছেও যেয়ো না (বনী ইসরাইল-৩৪) [ইয়াতিমের সম্পদ রক্ষার্থে এই কঠোরবানী]

كَلَّا ۖ بَل لَّا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ – কখনোই নয় বরং তোমরা এতিমের সাথে সম্মানজনক ব্যবহার কর না (ফজর-১৭) [অকৃতজ্ঞ বান্দা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছেন]

মহান আল্লাহ রাসুল (সাঃ) দৃষ্টান্ত দিয়ে বলছেন, তিনি তোমাকে এতিম হিসেবে পেয়েছেন, তুমি ছিলে পথহারা, ছিলে নিঃস্ব

فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ – কাজেই এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না, প্রার্থীকে তিরষ্কার করো না, রবের নেয়ামত প্রকাশ করো (দুহা-৯) [কৃতজ্ঞতা ও বদান্যতার প্রকাশার্থেই নবী সাঃ কে নসিহত করা হয়েছে] 

সুরা আল মাউনে ইয়াতিমের প্রতি অবজ্ঞা করতে নিষেধ করার অন্তনিহিত আরেকটি কঠোর কারণ রয়েছে

আগেই বলেছি ইয়াতিমের পিছুটান না থাকা ও অধ্যাবসায়ের জোড়ে সহজে যোগ্যতা, দক্ষতা, বুৎপত্তি অর্জন করে

ফলে তার যদি সমাজ, রাষ্ট্র ও জনগনের উপর ক্ষোভ জন্মায় এবং সে যদি কখনও শাসন ক্ষমতা পায়

তাহলে মানুষের ভাগ্য ও নিয়তিকে নিষ্ঠুর করে তোলে, দুনিয়াতে উন্মাতাল করে তুলে

নিচের ব্যক্তিগন ইতিহাসে সেরা, চৌকশ, যোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তারা হয় বিখ্যাত ছিলেন নয় কুখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন।

কারন একটাই অবজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ কিংবা দায় শোধ,

ইতিহাসের বিখ্যাত ইয়াতিম ব্যক্তিদের তালিকা

মহাবীর সাইরাস – পবিত্র কোরআনে যাকে জুলকারনাইন বলা হয়েছে
জুলিয়াস সিজার – রোমান প্রজাতন্ত্র ধ্বংসের কারিগর
ইসা (আঃ) – পিতার সান্নিধ্য পান নাই, চরম প্রতিকুলতা মোকাবেলা করেছেন
মুসা (আঃ) – পিতার সান্নিধ্য পান নাই, ফেরআউনের ঘরে বড় হয়েছেন
মুহাম্মদ (সাঃ) – সর্বকালের মহামানব জন্মের আগেই পিতা মারা যান
প্রথম কন্সট্যান্টটাইন – খ্রিষ্টান ধর্মকে রাষ্ট্রিয় বৈধতা দানকারি
রোমান কায়সার – রোমান আইন প্রনেতা ও আয়া সুফিয়ার স্রষ্টা
সুলতান সালাউদ্দীন আইয়্যুবী – ক্রুসেড থেকে মুক্তিদাতা
শাহ ইসমাইল – শিয়া ধর্মকে আলাদা ধর্মমতে রূপদান কারী
চেঙ্গিস খান – নৃশংস এই ব্যক্তিকে ইয়াজুজ মজুজ বলা হত
সম্রাট আকবর – অশিক্ষিত কিন্তু ৫০ বছর শাসন করেছেন
পিটার দ্য গ্রেট – রাশিয়াকে ইউরোপিয়ান পরাশক্তিতে তৈরি করেন
আব্রাহাম লিংকন – গৃহযুদ্ধ বন্ধ, দাসপ্রথা বিলুপ্ত ও আধুনিক আমেরিকার পুরোধা
মোস্তফা কামাল পাশা – আধুনিক তুরস্কের ফেরাউন
জোসেফ স্টালিন – সোভিয়েত ইউনিয়নের কসাই
এডলফ হিটলার – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জনক

وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ – এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করে না।

এখানে যে মিসকিনকে খাবার দেয় না বা খাওয়াতে বাধা দেয়, তার কথা বলা হচ্ছে না

তার পরিনতি তো খারাপই হবে এবং তার জায়গা সুনিশ্চিত জাহান্নাম

কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে তাদের নিয়ে, যারা মিসকিনকে খাবার দিতে উৎসাহ প্রদান করে না

জাহান্নামিতের প্রশ্ন করা হবে, কেন এসেছ জাহান্নামে? তারা বলবে,

 وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ – আমরা অভাবীদের খাবার দিতাম না (মুদাস্সির-৪৪)

অতঃপর প্রশ্ন করা হবে, তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আসে নাই? তারা উত্তরে বলবে,

وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ –  আর আমরা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যা মনে করতাম (মুদাস্সির-৪৬)

গলায় লোহার বেড়ি পড়িয়ে, সত্তর হাত লম্বা শিকল পেঁচিয়ে জাহান্নামে ফেলা হবে

তাদের প্রশ্ন করা হলে, উত্তরে জানাবে হায়!

 وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ  – এবং দুস্থদের খাদ্য দিতে উৎসাহ দিত না (সুরা হাক্কাহ-৩৫)

বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা হয়ে গেছে, ক্ষমতা পেয়ে তাদেরই সম্পদ পুরোটাই মেরে দেয়

সুতরাং সুরা মাউনের এই বাক্যে উপরের ওদের কথা বলা হচ্ছে না, বরং বলা হচ্ছে

তাদের কথা, যারা মিসকিনকে খাদ্য দেবার গুরুত্বের বিষয়ে গাফেল ও চুপচাপ

ফলে এ বিষয়ে কথা বলা আগে, মিসকিন কারা আগে তাদের পরিচিয় জানতে হবে

‘মিসকিন’ শব্দ এসেছে আরবী ‘সাকান’ থেকে। সাকান অর্থ হল স্থবিরতা। অগ্রগতি থেমে যাওয়া, চুপচাপ বসে পড়া। ফলে মিসকিন হল অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত, অসহায় বা গরিব ব্যক্তি।

ইসলামী শরীয়তের ভাষায় এমন ব্যক্তি: যিনি একেবারেই নিঃস্ব, যার কাছে নিজের ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মতো কোনো সম্পদ বা উপার্জনের ব্যবস্থা নেই। যার ঘরে এক বা দুই ওয়াক্তের খাদ্য আছে কিন্তু পরের দিনের জন্যে সে চিন্তিত।

অথবা এমন কম রোজির আয়ের মানুষ, যা দিয়ে তার ও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য যথেষ্ট নয়। মাসের শেষে আবারো কারো কাছে হাত পাতা লাগে।

বাহ্যিক দৃষ্টিতে দৃশ্যত স্বচ্ছল ও সুখী মানুষ মনে হলেও তলে তলে, সঙ্গীন, নিরুপায়, অভাবী। লজ্জায় হাত পাততে পারে না আবার বলতেও পারে না।

ফকির: মিসকিনের চেয়েও অভাবী। কিন্তু তারা সহজেই জন সমাজে নিজের অভাবের কথা বলে বেড়াতে কিংবা হাত পাততে কুন্ঠিত বোধ করে না। তারা এ বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ফলে সমাজে তার জন্যে একটি দয়ার স্থান নির্ধারিত হয়ে থাকে, যেটা মিসকিনের জন্যে থাকে না। সে কোনভাবেই ফকিরের মত সাহায্য চাইতে পারে না।

উপরন্তু ইয়াতিম মিসকিনকে খাদ্য দেবার বেলায় সর্বোচ্চ সম্মান দেবার তাগিদ এসেছে

সেটা যেন লোক দেখানো চাতুর্যে পরিণত না হয়, পবিত্র কোরআনের বলা হয়েছে

আর আল্লাহর মহব্বতে মিসকীন, ইয়াতীম এবং বন্দীকে খাবার দান করে।  এবং (তাদেরকে বলে) আমরা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই তোমাদের খেতে দিচ্ছি। আমরা তোমাদের কাছে এর কোন প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা পেতে চাই না।  আমরা তো আমাদের রবের পক্ষ থেকে সেদিনের আযাবের ভয়ে ভীত, যা হবে কঠিন বিপদ ভরা অতিশয় দীর্ঘ দিন৷ 
﴿وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا﴾ ﴿إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا﴾﴿إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًا﴾

 

আগের যুগে বিপদগ্রস্থরা মেজবান দিত, দোয়া পেতে কিংবা বিপদ কাটাতে এই ব্যবস্থা

সর্বসাধারণ নিঃসঙ্কোচে মেজাবানীতে অংশ নিত; মেজবান অর্থ হল, মেহমানদারী

আমরা যারা আন্দোলনের ভাইদের জন্যে খাবার দেই, নাস্তা দেই, তারাও দুঃস্থ অভাবী

তাদের অনেকেই খাবারের জন্যে কারো মোহতাজ নয় কিন্তু দিলে অনেক খুশী হয়

এসব দিলে মানুষের জমায়েত ভারী হয়, উপস্থিতি বেড়ে যায়

ওবায়দুল্লাহ ইবনে আব্বাস একটি উট কোরবানী, অতঃপর দুটো উট কোরবানী

আয়েশা (রাঃ) কাছে কিছু এলেই বিতরণ করে দিতেন, তিনিও না খেয়ে থাকেন নাই

স্বীয় ভাগ্নে আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের উট-ছাগল দিলেন দুধ খেতে, তিনি তা বিলিয়ে দেন

ফলে খাওয়ানোর ব্যবস্থাটা জারী রাখার আমাদের সবার জন্যে জরুরী

যারা ধনী তাদের সম্পদ ও আয় থেকে যেন এ বিষয়ে বেশী বেশী ভূমিকা থাকে

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ – ধ্বংস সেই লোক দেখানো নামাজীদের

যার না পারতে সালাত আদায় করে, মানুষের কথা থেকে বাঁচার জন্যে পড়ে

মোনাফেকেরাই এই কাজটি করে, রাজনীতি গরম হলে তারা প্রতিওয়াক্ত নামাজ পড়ে

বেড়াতে গেলে, সভা-সমিতির কাজের উছিলায় নামাজ বাদ যায় কিন্তু সভা ঠিক থাকে

রাসুল (সাঃ) যুগেও আবদুল্লাহ ইবনে কাতারের প্রথমে বসে গোলযোগ বাধাত

নিজেকে মুসলমান, ইমানদার বলে দাবী করে রাসুলের বিরোধীতা করত

ফজরের নামাজ হারিয়ে ফেলা, কেননা ওটা আসলেই কঠিন একটি কাজ

মদিনাতে নামাজ বাধ্যতামূলক, দোকান বন্ধ, তদুপরি পুলিশকে গিয়ে বেত মারতে হয়

সংগঠনের রিপোর্টিংয়ে জামাতে নামাজ বাধ্যতামূলক হওয়া এটা থেকে বাঁচা গেছে

الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ – যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে গাফলতি করে

সালাতের ক্ষেত্রে অলসতা দেখায়, আড়ষ্টতায় আচ্ছন্ন হয়ে ওয়াক্তে দেরী করা

সালাতের উপরে কাজ ও কর্মক্ষেত্রকে গুরুত্ব প্রদান করা

সালাতের জন্যে যথাযত প্রস্তুতি না থাকা ও তাড়াহুড়ো করার প্রবণতা

নামাজ পড়ার সময় নানাদিকে চোখ ফেরানো, মন ঘুরানো, কাপড় ঠিক করা

সালাতের কিয়াম, রুকু, সেজদা যথাযত না করা

সালাত পড়ে কিন্তু জামায়াতের বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়া

সংগঠনের রিপোর্টিংয়ে জামাতে নামাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই কারণে

এবং সংগঠন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নামাজ যেন আল্লাহর পথে হয় সে বিষয়ে কথা বলে

জান্নাতুল ফিরদাউস লাভকারী ব্যক্তিদের গুনাবলী বলতে গিয়ে বলা হয়েছে

﴿الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ﴾ – যারা নিজেদের নামাযে বিনয়াবনত হয় (সুরা মুমিনুন-২) 

﴿الَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ﴾ – যারা নামায আদায়ের ব্যাপারে সব সময় নিষ্ঠাবান (সুরা মাআরিজ-২৩)

﴿وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ﴾ – যারা নামাযের হিফাযত করে (সুরা মাআরিজ-৩৪) [এসব ব্যক্তিরা সম্মানের সাথে জান্নাতের বাগানে থাকবে] 

الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ – যারা লোখ দেখানো কাজ করে

সকল কাজের উদ্দেশ্যে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি, সুতরাং তার দৃষ্টি আকর্ষণ উদ্দেশ্য

এদের কাজের মধ্যে কোন না কোন স্তরে একটি দুনিয়াবী মতলব লুকিয়ে থাকে

সৎ কাজ করবে কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে মানুষ যেন বাহবা দেয়, কৃতিত্ব দেয়

তারা নিজেদের কাজের প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে, কেউ না করলে বকাবকি করে

লোকেরা তাদেরকে সৎ লোক বলে বলে ডংকা বাজাবে

রাষ্ট্রের টাকা, রাষ্ট্রের সময়, রাষ্ট্রের বেতন গাড়ী ব্যহবার করে, কাজটিকে নিজের বলা

তারা এক হাতে দান করে দানবীর সাজবে আবার খোঁটা দিয়ে ভোট চাইবে

তারা জাকাত দিয়ে ইমানদার সাজবে আবার মানব-দরদী হিসেবে প্রচারনা চাইবে

তারা দুর্যোগে টাকা দিয়ে টিভিতে প্রচার করবে, ভোট না দিলোও গালাগালি করবে

তারা ফরজ আদায়ের জন্যে হজ্জ করবে আবার পত্রে হাজী লিখার জন্যে বাধ্য করবে

এগুলো সবই মোনাফেকি এবং আল্লাহর কাছে সর্বৈব শঠতা হিসেবে গন্য হবে

وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ – এবং মামুলি প্রয়োজনীয় বস্তু হাওলাত দিতে বিরত থাকে

যে সব জিনিষ ব্যবহার করলে নিঃশেষ হয়ে যায় য়া সে সব বস্তু হাওলাত দেওয়া

নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, দা, কুড়াল, ছুরি, বটি, খন্তা ইত্যাদি

আবার দাড়িপাল্লা, চালুনি, বালতি, থালা-বাটি ইত্যাদি

মাস্তুল, করাত, স্ক্রুডাইভার, টেষ্টার, প্লাস, রেঞ্চ এগুলো

সকল কাজের উদ্দেশ্যে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি, সুতরাং তার দৃষ্টি আকর্ষণ উদ্দেশ্য

এদের কাজের মধ্যে কোন না কোন স্তরে একটি দুনিয়াবী মতলব লুকিয়ে থাকে

সৎ কাজ করবে কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে মানুষ যেন বাহবা দেয়, কৃতিত্ব দেয়

তারা নিজেদের কাজের প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে, কেউ না করলে বকাবকি করে

মরুভূমির চরম প্রতিকুল জীবনে এসব ছোট্ট জিনিষের অভাবে জীবন থমকে দাড়ায়

ঠুনকো একটি জিনিষ কিন্তু উপস্থিত ক্ষেত্রে মহা মূল্যবান, কাছে না থাকলে মহাবিপদ

ধনী-দরিদ্র যেমনই হউক বিপদে একটি চিরুনি, নেইল কাটার, একটি সূই গুরুত্বপূর্ন

কুড়াল-মই এগুলো সবার ঘরে থাকেনা কিন্তু একদা বড় প্রয়োজন হয়ে দেখা দেয়

টাকা দিলেও এসব ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় না, তাই উপকারে এগিয়ে আসার তাগিদ

আমাদের সাংগাঠনিক জীবনে সামাজিক কাজকে কর্মীদের জন্যে শর্ত করেছেন

সকল প্রকার সামাজিক কাজের কিছু না কিছু একটা মাউন শব্দের সাথে সমার্থক

ফলে এসব কাজ আল্লাহর পছন্দনীয় এবাদতের অর্ন্তভুক্ত, এবং

মুমীন জিন্দেগির জন্যে অপরিহার্য কর্তব্য

সুরা আল মাউনের শিক্ষা

পরকালের ভয়াবহ পরিনতি ও জবাবদিহীতাকে সমুন্নত করা

কোন সামাজিক কাজ উপেক্ষা করলে পরকালে কঠিনভাবে ধরা খাবে সেটা জানানো

ইয়াতিম, মিসকিন তথা সকল প্রকার অভাবীদের প্রতি সচ্চলদের দায় দায়িত্ব বুঝানো

লোক দেখানো কর্মকান্ড থেকে নিজেদের বিরত রাখা

সালাতের প্রতি আন্তরিক, সচেতন ও মনোযোগী হওয়া

পারষ্পরিক সযোগিতা করা উদার মানসিকতা বজায় রাখা

সুরা আল মাউন – দারসুল কোরআন। এই দারসটির পিডিএফ পেতে চাইলে লিঙ্কে ক্লিক করুন

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *