চাকরিস্থল ও সালাতের সুযোগ ব্যবহার
বহু কোম্পানিতে সালাতের বেলায় কিছু বাধ্যবাধকতা দিতে দেখা যায়। কেউ সালাত পড়ার সুবিধাটাই বন্ধ করে দেয়। বাহিরের মানুষ এসব দেখলে চরম প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর পিছনে একটি সূক্ষ্ম অনিয়ম কাজ করে। যা কর্মচারী ও মালিক উভয়কেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়।
সালাতের উছিলায় কোম্পানীর সময় নষ্ট করা অনুচিত
কিছু মানুষ এমন আছে যারা সালাতের উছিলায় কোম্পানির সময় নষ্ট করে। তারা সালাতের সময়টাকে ফাঁকি দেবার উপলক্ষ বানায়। লম্বা সময় নিয়ে ওজু করা, টয়লেটে দেরী করা।
অন্য ওয়াক্তে সুন্নাতে মোয়াক্কাদা, তসবিহ, তাহলীল না পড়লেও; চাকুরীর সময়ের সালাতের ওয়াক্ত গুলোতে সুন্নাতে জায়েদা ও বাকী নফল আমল গুলো পদে পদে পালন করার পিছনে সময় দেয়।
এতে করে মানুষটি ফাঁকিবাজ হিসেবে চিত্রিত হয়ে পড়ে। বাহিরের কেউ, মন্তব্য করার সময় এমনটি বলে না যে, মানুষটি সালাতের নামে ফাঁকি দেয়। বরং বলা হয়, সালাত যারা পড়ে তারা ফাঁকিবাজ।
এমন মন্তব্যে সকল সালাত পড়ুয়া আক্রান্ত হয়। যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। প্রবাস জীবনে এমন দৃষ্টান্ত অহরহ হতে দেখেছি। বাংলাদেশেও কদাচিৎ এমনটি দেখা যায়।
একজন সালাত পড়া মানুষকে বুঝতে হবে, কোম্পানি যখন সালাতের সুযোগ দিয়েছে, তার দায়িত্ব হল, সেটার যথাযথ হক আদায় করা।
কোম্পানির সাথে ৮ ঘণ্টা কাজ করার ওয়াদা হলে। সেটা পালন করা ওয়াজিব। সুতরাং কোম্পানির সময় ব্যয় করে, সালাতের উছিলায় নফল-মোস্তাহাব এবাদত করা একজন মুমিনের জন্য মোটেও শোভনীয় নয়।
ওয়াজিব বাদ দিয়ে, মোস্তাহাব আমল পরিত্যাজ্য। এমনকি তা যদি নফলও হয়। এমন আমলদার ব্যক্তিদের সামনা সামনি কেউ কিছু না বললেও, অফিসে তাদের হেয় চোখে দেখা হয়।
সালাত ফরজ এবাদত এবং চাকুরী আদায় করা ওয়াজিব সমতুল্য
মূলত প্রকৃত সালাত পড়া ব্যক্তি নিজের ফরজ এবাদতের ক্ষেত্রে যেমনি সতর্ক, অন্যের অধিকারের প্রতিও যত্নশীল হতে হয়।
বিষয়টি এমন স্পর্শকাতর যে, এধরনের ব্যক্তির সালাতের বিরুদ্ধে আপত্তি তুললে, অন্যরা বুঝবে যে, মুসল্লিদের সালাতে বাধা দিচ্ছে। আর সালাত পড়তে দিলে, কোম্পানি কর্মঘন্টা ফাঁকির মুখে পড়ে।
এমন পরিস্থিতি কোম্পানির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের চরম ভাবনায় ফেলে দেয়। একজন সালাত পড়া মানুষ মানে, দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ সতর্ক ব্যক্তিকে বুঝানো হয়।
যিনি নিয়মানুবর্তিতায় জীবন চালায়। হারাম-হালালের বিষয় মাথায় রেখে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।