প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের নামের তালিকা

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের নামের তালিকা

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের বিষয়টি ইসলামের ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। যাদের হাত ধরে ইসলাম দুনিয়ার বুকে ভিত্তি পেয়েছিল তাদের অবদান, ত্যাগ সবকিছুই ইতিহাসের বিরাট সাক্ষির অন্তভূ্ক্ত

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর আদেশ অনুসারে গোপনে যে তিন বছর দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত করেছিলেন, এই তিন বছরে সর্ব স্তরের কতজন নারী পুরুষ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুগামী হয়েছিলেন এ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে ব্যাপক মত পার্থক্য বিরাজমান।

কোন কোন বর্ণনায় বলা হয়েছে, এই তিন বছরে মোট-একশত চল্লিশ জন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কোন বর্ণনায় বলা হয়েছে একশত পঁয়ত্রিশ জন। ‘সীরাতে সরওয়ারে আলম’ নামক গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

কোন গোত্রের কতজন লোক ইসলাম কবুল করেছিল, তাদের মধ্যে কতজন নারী পুরুষ এবং কোন শ্রেণীর লোক ছিল তাঁরা, মক্কার বাইরের কতজন, তাদের নামের তালিকা পেশ করতে গিয়ে উক্ত গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সীমাহীন সাধনা করে এ সমস্ত নামের তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। কেননা, একত্রে এ সমস্ত নাম কোন গ্রন্থেই পাওয়া যায় না।’  

সীরাতে সরওয়ারে আলম নামক গ্রন্থের লেখকের এ উক্তি অনস্বীকার্য। প্রথম তিন বছরে যে সমস্ত সৌভাগ্যবান ব্যক্তি রাসুলের দলে শামিল হয়ে ছিলেন, তাঁরা কে কোন গোত্রের ব্যক্তি ছিলেন এবং কে কোন শ্রেণীর ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কোন গোত্রের সাথে কার কি সম্পর্ক ছিল, এ সমস্ত ব্যক্তিত্বদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক কি ছিল এ সম্পর্কে একত্রে স্পষ্ট বিবরণ পাওয়া প্রায় অসাধ্য।

উক্ত গ্রন্থের লেখক এই অসাধ্য সাধন করেছেন। আমরা এখানে উক্ত গ্রন্থ থেকে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তিন বছরের কার্যক্রমে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তাদের নামের ও গোত্রের তালিকা পেশ করলাম।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের তালিকা এখানে সবিস্তারে প্রকাশ করা হল। তালিকাটি একমাত্র আল্লামা মওদূদী (রঃ) কর্তৃক রচিত সিরাতে সরওয়ারে আলমেই আছে। তিনিই ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ন কাজের আঞ্জাম দিয়ে গেছেন

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে বনী হাশিম গোত্র থেকে মোট চার জন

হযরত জাফর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আবি তালিব – হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুর ভাই, তাঁর স্ত্রী

হযরত আসমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনুতে উমাইস খাশআমিয়া

তিনি কুরাইশ গোত্রের মানুষ ছিলেন না  

সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা ইবনে আবদুল মুত্তালিব

তিনি ছিলেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু এবং

হযরত যুবাইর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর গর্ভধারিণী মা। 

বনী আব্দুল মুত্তালিব গোত্রের একজন।

হযরত উবায়দাহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আল্ হারেস ইবনে মুত্তালিব।

বনী আব্দে শামস্ ইবনে আব্দে মানাফ গোত্রের দুইজন।

হযরত আবু হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে উতবা ইবনে রাবিয়া ও তাঁর স্ত্রী

হযরত সাহুলা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে সুহাইইল ইবনে আমর।

বনী উমাইয়া গোত্রের মোট পাঁচজন।

হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আফফান, তাঁর মাতা

হযরত আরওয়া রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে কুরাইয়,

হযরত খালিদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে সাঈদ ইবনে আলতাস ইবনে উমাইয়া, তাঁর স্ত্রী

হযরত উমায়মা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে খালাফ আল খুযাইয়া ও

হযরত উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে আবি সুফিয়ান।

এই সৌভাগ্যবান নারীর প্রথমে বিয়ে হয়েছিল উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশের সাথে, তার ইন্তেকালের পর তাঁর বিয়ে হয়েছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে।  

বনী উমাইয়া গোত্রের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল হুলাফায়ে বনী উমাইয়া গোত্র, এই গোত্র থেকে তিনজন।

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে জাহাশ,

হযরত আবু আহমাদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে জাহাশ ও

উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশ।

হযরত উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর প্রথম স্বামী ছিলেন এই উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশ। তাঁরা উভয়ে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন এবং সেখানে উবায়দুল্লাহ খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করার পরে ইন্তেকাল করেন।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে বনী তাইম গোত্রের পাঁচ জন

হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর মেয়ে

হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা,

এই সৌভাগ্যবান নারী ইসলামের ইতিহাসে বিরাট একটা অধ্যায় জুড়ে অবস্থান করছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর ন্যায় ইতিহাস বিখ্যাত সন্তানকে এই নারীই তাঁর পবিত্র গর্ভে ধারণ করেছিলেন। এই নারীকে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘যাতুন নেকাতাইন’ বা দুই ফিতার অধিকারিণী উপাধি দান করেছিলেন।

হযরত উম্মে রুম্মান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা।

এই নারী ছিলেন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর আরেক স্ত্রী এবং উম্মেহাতুল মুমেনিন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর মা ও বিখ্যাত সাহাবা হযরত আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর মা।

হযরত তালহা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে উবায়দুল্লাহ, তাঁর মাতা

হযরত সারা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে আল হাদরামী ও

হযরত হারেস রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে খালেদ।

বনী তাইম গোত্রের সাথে বন্ধুত্ব সূত্রে আবদ্ধ এক গোত্রের

হযরত সুহাইব রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে সিনান রুমী।

তাঁর সম্পর্কে ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, হযরত সুহাইব রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ছিলেন জন্মগত-ভাবে আরব। তিনি শৈশবকালে রোমকদের হাতে বন্দী হন এবং তাদের সাথেই দাসত্বের জীবন-যাপন করতে থাকেন, সেখানেই তিনি পরিণত বয়সে পদার্পণ করেন। এরপর কালব গোত্রের একজন তাকে কিনে এনে মক্কায় আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের কাছে বিক্রি করে দেয়। আবদুল্লাহ তাকে মুক্ত করে দেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, রোমবাসীর মধ্যে হযরত সুহাইব রাদিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুই প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী।  

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে বনী আসাদ ইবনে আবদুল উজ্জা গোত্র থেকে চার জন

হযরত যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আওয়াম।

তাঁর সাথে হযরত আসমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর বিয়ে হয়েছিল। হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তাঁরই সন্তান। তিনি ছিলেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাতো ভাই এবং হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর ভাতিজা। হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর ভাইয়ের সন্তান

হযরত খালিদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে হিযাম,

হযরত আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে নাওফেল ও

হযরত আমর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে উমাইয়া।

বনী আবদুল উজ্জা ইবনে কুসাই গোত্রের ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে যাময়া ইবনে আল আসওয়াদ। 

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে বনী যোহরা গোত্র থেকে নয় জন ইসলাম গ্রহণ করেন

হযরত আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আওফ, তাঁর মাতা

হযরত শিফা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে আওফ,

হযরত সায়াদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আবি ওয়াক্কাস, তাঁর দুই ভাই

হযরত উমায়ের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আবি ওয়াক্কাস,

ইনি বয়সে ছিলেন কৈশোর উত্তীর্ণ, বদরের রণপ্রান্তরে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

হযরত আমের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আবি ওয়াক্কাস।

হযরত আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু-এর চাচাত ভাই

হযরত মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আযহার। তাঁর স্ত্রী

হযরত রামলা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে আবি আওফ সাহুমিয়া।

তুলাইব রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আযহার ও

হযরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে শিহাব।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের দলে বনী যোহরার সাথে বন্ধুত্ব সূত্রে আবদ্ধ গোত্রের মোট সাত জন

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে মাসউদ এবং তাঁর ভাই

হযরত ওতবা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে মাসউদ

হযরত মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আমর আল কিন্দী,

তিনি বদরের যুদ্ধে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইতস্তত ভাব দেখে এমন ধরণের উদ্দীপনা মূলক বক্তব্য রেখেছিলেন, তাঁর বক্তব্য শুনে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত খুশী হয়েছিলেন। বোখারী কিতাবুল মাগাযীতে তাঁর সে বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।

হযরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আল আররাত

বিশ্বনবীর এই সাহাবাকেই কাফেরেরা ধরে ইসলাম গ্রহণের কারণে জ্বলন্ত আগুনের ওপরে শুইয়ে দিয়ে তাঁর বুকের ওপরে পাথর চাপা দিয়ে রাখতো। তাঁর শরীরের গোস্ত এবং চর্বি গলে আগুন নিভে যেত, তবুও তাকে মুক্তি দেওয়া হতো না।

হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে হাসানাত, তিনি ছিলেন বিখ্যাত সামরিক অফিসার

হযরত শুরাহবিল রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর ভাই। তাঁর আরেক ভাই

হযরত জুনাদা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে হাসানাত।  

বনী আদি গোত্রের দশ জন ইসলাম গ্রহণ করেন প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে

খলীফাতুল মুমেনিন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর চাচাত ভাই এবং ভগ্নীপতি

হযরত সাঈদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাঈল।

হযরত ওমরের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর বোন এবং হযরত সাঈদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর স্ত্রী

হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে আল খাত্তাব।

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর বড় ভাই হযরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে খাত্তাব।

ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু পিতার ধর্ম পুত্র হযরত আমের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে রাবিয়া আল আনযি। তাঁর স্ত্রী

হযরত লায়লা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বিনতে আবি হাসমা।

হযরত মা’মার রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নাদলা।

হযরত নুয়াইম রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল্লাখ্খাম।

হযরত আদি রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে নাদলা।

হযরত আমের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আস-এর বৈমাত্রেয় ভাই

হযরত উরওয়াহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আবি উসাসা।

হযরত মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে সুয়াইদ ইবনে হারেসা ইবনে নাদলা।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে বনী আদির এর সাথে বন্ধুত্ব সূত্রে আবদ্ধ গোত্রের পাঁচ জন

হযরত ওয়াকেদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আব্দুল্লাহ।

হযরত খালিদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে বুকাইর ইবনে আবদে ইয়ালিল আললায়লী।

হযরত ইয়াস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে বুকাইর ইবনে আবদে ইয়ালিস আল্লায়সী।

হযরত আমের রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও

হযরত আকিল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে বনী আবুদদার গোত্রের পনের জন ইসলাম গ্রহণ করেন

হযরত মুসয়াব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে উমায়ের এবং তাঁর ভাই

হযরত আবুর রুম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে উমায়ের।

হযরত ফেরাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আন্নান্দর,

হযরত জাহম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে কায়েস,

হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে মাযউন এবং তাঁর ভাই

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে মাযউন।

হযরত সায়েব ইবনে উসমান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে মাযউন,

হযরত মা’মার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আল হারেস ইবনে মা’মার। তাঁর ভাই

হযরত হাতেব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আল হারেস। তাঁর স্ত্রী

হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বিনতে মুজালি্ল আল আমেরীয়া।

হযরত মা’মারের ভাই হযরত হাতাব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে হারেস। তাঁর স্ত্রী

হযরত ফুকাইহা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বিনতে ইযাসার।

হযরত সুফিয়ান ইবনে মা’মার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও

হযরত নুবায়না রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে ওসমান।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে বনী সাহম গোত্রের দশ জন

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে হুযাফা,

হযরত খুনাইস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে হুযাফ,

তিনি ছিলেন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর কন্যা উম্মাহাতুল মুমেনিন হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর প্রথম স্বামী।

হযরত হিশাম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আলআস ইবনে ওয়ায়েল।

হযরত হারেস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে কায়েস। তাঁর সন্তান

হযরত বশীর ইবনে হারেস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু।

হযরত হারেস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর আরেক সন্তান

হযরত মা’মার ইবনে হারেস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু।

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে হুযাফার ভাই

হযরত কায়েস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে হুযাফা।

হযরত কায়েস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আল হারেস।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে কায়েস (রাঃ) পাঁচ ভাই

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু,

হযরত সায়েব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু,

হযরত হাজ্জাজ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু,

হযরত বিশর রাদিয়াল্লাহু আনহু,

হযরত সাইদ (রাঃ) ইবনে আল হারেস।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের তালিকায় বনী মাখযুম গোত্রের এগার জন

উম্মুল মুমেনিন হযরত উম্মে সালামার প্রথম স্বামী এবং বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাতো ও দুধভাই

হযরত আবু সালামা আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আবুল আসাদ। তাঁর স্ত্রী

হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা,

পরে তিনি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হবার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। যে মহান ব্যক্তির বাড়ি ছিল ইসলামী কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, সেই

হযরত আরকাম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আরকাম।

হযরত আইয়াশ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু, তিনি ছিলেন হযরত খালিদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে ওলীদের চাচাত ভাই এবং আবু জেহেলের বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর স্ত্রী

হযরত আসমা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বিনতে সালামা তামিমিয়্যাহ।

হযরত অলীদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে অলীদ ইবনে মুগীরা।

হযরত হিশাম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আবি হুযাইফ।

হযরত সালমা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে হাশিম।

হযরত হাশিম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আবি হুযাইফা।

হযরত হাববার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে সুফিয়ান এবং তাঁর ভাই

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে সুফিয়ান।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের তালিকায় বনী মাখযুমের মিত্র গোত্রের তিন জন

হযরত ইয়াসের রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু, তাঁর সন্তান

হযরত আম্মার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের তালিকায় বনী আমের ইবনে লুহাই গোত্রের দশ জন

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাত ভাই

হযরত আবু বাররা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আবি রুহম। তাঁর স্ত্রী

হযরত উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বিনতে সুহাইল ইবনে আমর।

এই সৌভাগ্যবর্তী নারী হযরত আবু জান্দাল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর বোন।

হযরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে সুহাইল ইবনে আমর।

হযরত হাতেব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আমর, তিনি সুহাইল ইবনে আমরের ভাই।

হযরত সলিত রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আমর। তাঁর স্ত্রী

হযরত ইয়াকায়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বিনতে আলকামা।

হযরত সাকরান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে আমর, তিনি সুহাইল ইবনে আমরের ভাই এবং

উম্মুল মুমেনিন হযরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর প্রথম স্বামী। তাঁর স্ত্রী

হযরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বিনতে জাময়া।

হযরত সাকরান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু (এর ইন্তেকালের পরে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে। উম্মুল মুমেনিন হযরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর ভাই)

হযরত মালেক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইবনে জাময়া।

হযরত উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু।

(বিশ্বনবীর জন্মান্ধ সাহাবী এবং ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মুয়াজ্জিনের একজন)

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের তালিকায় বনী ফিহর ইবনে মালেক গোত্রের ছয় জন

হযরত আবু উবাইদা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু,

তিনি বদরের যুদ্ধে রাসুল (সাঃ) রক্ষা করতে গিয়ে, নিজ হাতে তাঁর কাফের পিতাকে হত্যা করেছিলেন। ইসলামের বিখ্যাত সেনাপতি ছিলেন। রাসুল (সাঃ) এর নির্দ্দেশে তিনিই প্রথম যুদ্ধে তীর নিক্ষেপকারী হিসেবে বিবেচিত।

হযরত সুহাইই রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে বাইদা।

হযরত সাঈদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে কায়েস।

হযরত আমর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আল হারেস ইবনে যুহাইর।

হযরত আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর ফুফাত ভাই

হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আবদে গানম ইবনে যুহাইর।

হযরত হারেস রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে সাঈদ।  

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের দলে বনী আবদে কুসাই গোত্রের উনিশ জন ইসলাম গ্রহণ করেন

হযরত তুশাইব রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে উমায়ের।

তিনি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফাত ভাই এবং কুরাইশদের প্রভাবশালী পরিবারের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁর প্রচেষ্টায় যারা ইসলাম কবুল করেছিলেন তাঁরা হলেন

হযরত উম্মে আয়মান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু, যিনি বিশ্বনবীকে মায়ের মত স্নেহ আদর দিয়ে বড় করেছিলেন।

হযরত যিন্নীরা রুমিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা, তিনি ছিলেন আমর ইবনে আল মুয়াম্মিলের মুক্ত দাসী,

হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে রাবাহ,

হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর মাতা

হযরত হামামা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা,

হযরত আবু ফুকাইহা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা ইবনে ইযাসার আল জুহমী,

তিনি ছিলেন সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার মুক্ত দাসী।

হযরত লাবীবা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা,

তিনি ছিলেন মুয়াম্মেল ইবনে হাবীবের দাসী,

হযরত উম্মে উবাইস রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা,

এই নারী সম্পর্কে যুবাইর ইবনে বাক্কার বলেছেন তিনি ছিলেন বনী তাইম ইবনে মুনরার দাসী, কিন্তু আল্লামা বালাযুরী বলেছেন তিনি ছিলেন বনী যুহরার দাসী।

হযরত আমের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে ফুহাইরা,

তিনি ছিলেন তুফাইল ইবনে আবদুল্লাহর দাস।

হযরত সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু, তিনি তাঁর স্বামী

হযরত ইয়াসের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ও সন্তান

হযরত আম্মার রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু

তাকে সাথে করে ইসলাম কবুল করেছিলেন। তিনি ছিলেন আবু হুযাইফা ইবনে মুগীরা মাখযুমীর দাসী। ইসলাম কবুল করার অপরাধে এই পরিবারের ওপরে নির্যাতনের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। ইসলামের জন্য প্রথম শাহাদাতবরণ করেছিলেন এই সৌভাগ্যবান নারী, আবু জেহেল তাকে হত্যা করেছিল। কুরাইশ গোত্রের বাইরে যারা ইসলাম কবুল করেছিলেন তাঁরা হলেন

হযরত মিহজান রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে আল আদরা আল আসলামী।

বনী আলহুন ইবনে খুযায়মার কারা গোত্রের

হযরত মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইবনে রাবিয়া ইবনে আমর।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে ইসলামের আহবান জানানোর পূর্বে প্রথম তিন বছরের সাহাবীদের মধ্যে এই সমস্ত ভাগ্যবান মানুষগুলো ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এ সমস্ত ব্যক্তি ছিলেন চিন্তাশীল এবং প্রচ্ছন্ন মন-মানসিকতা সম্পন্ন।

প্রথম তিন বছরের সাহাবীরা সব ধরণের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে এক আল্লাহর দাসত্ব করা সম্পর্কে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখেছিলেন। অংশীদারিত্বের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন। তাওহীদ কি এ সম্পর্কে তাঁরা পূর্ণ ধারণা গ্রহণ করেছিলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রেসালাত সম্পর্কেও তাঁরা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করে এর সত্যতা উপলব্ধি করেছিলেন। বিশ্বনবীর ওপরে অবতীর্ণকৃত আল্লাহর বাণীকে তাঁরা একমাত্র সত্য এবং নিজেদের জীবন বিধান হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

ইসলামকে তাঁরা সমস্ত সত্যের একমাত্র মাধ্যম হিসাবে এবং মৃত্যুর পরের জীবনকেই প্রকৃত জীবন হিসাবে কবুল করেছিলেন। এই সমস্ত সঠিক চিন্তা চেতনার মানুষগুলোকে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশিক্ষণ দান করে এক একজনকে জ্ঞানের প্রদীপ্ত সূর্যে পরিণত করেছিলেন।

নবীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কারণে তাঁরা সবাই গোটা পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ সংগঠক, প্রশিক্ষক, রুচিবান, আদর্শবান, নিঃস্বার্থবান, ত্যাগী, দূরদর্শী ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।’ (সীরাতে সরওয়ারে আলম)  

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়ত লাভের পরে তিনি যখন গোপনে ইসলামের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানাতে শুরু করলেন সে সময়ে যারা ইসলাম কবুল করেছিল, তাঁরা নিছক আবেগ উচ্ছাসের ভিত্তিতে ইসলাম গ্রহণ করেন নি।

তাঁরা সবাই ছিলেন মহাসত্যের সন্ধানী। তদানীন্তন আরব সমাজে সৎ হিসাবে তাদের পরিচিতি ছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই সমাজের প্রচলিত পঙ্কিলতা থেকে নিজেদেরকে হিফাজত করতেন।

অনেকেই ইসলাম গ্রহণের পূর্ব থেকেই মদ পান ত্যাগ করেছিলেন। কারো স্বভাব ছিল দুনিয়া ত্যাগী মানুষের মত। কেউ সত্যের সন্ধানে দেশ দেশান্তরে ঘুরেছেন।

প্রথম তিন বছরে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্য অন্যতম একজন হযরত আবু যর গিফারী রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু মহাসত্যের সন্ধানে ব্যাকুল ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্ব থেকেই মহান আল্লাহকে সেজদা করতেন। বিভিন্ন আদর্শের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতেন, সন্ধান করতেন মহাসত্যের।

তিনি যখন শুনলেন মক্কায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামে একজন নিজেকে মহান আল্লাহর প্রেরিত নবী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে এবং মানুষকে ইসলামী আদর্শের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

তিনি তাঁর ভাইকে প্রেরণ করলেন মক্কায় ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য। তাঁর ভাই মক্কায় এসে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করে পবিত্র কোরআন শুনলেন। ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে গিফারী গোত্রে ফিরে গেলেন।

তিনি তাঁর ভাই আবু জরকে জানালেন, ‘আমি এমন একজন লোককে দেখে এসেছি, সেখানকার মানুষ তাকে বাপ-দাদার ধর্মত্যাগী মনে করে। তিনি মানুষকে সৎ থাকার শিক্ষা দেন এবং এক আল্লাহর দাসত্বের দিকে আহ্বান জানান। তিনি যে কোরআন আমাকে শুনিয়েছেন তা কোন কবির কবিতা নয়। তা আমার কাছে অন্য কিছু বলে মনে হয়।

হযরত আবু জর নিজের ভাইয়ের মুখ থেকে এ সমস্ত বিবরণ শুনে আর স্থির থাকতে পারেননি। দ্রুত মক্কায় বিশ্বনবীর কাছে এসে নিজের অন্তরের খাদ্য লাভ করে ইসলাম কবুল করেছিলেন। সুতরাং প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের ভেতরে মহাসত্যকে গ্রহণ করার একটা প্রবল তৃষ্ণা বিদ্যমান ছিল।

👈পূর্বের পোষ্ট: সায়াদ (রাঃ) এর আত্মত্যাগ এবং ইসলামের ইতিহাসের প্রথম রক্তপাত
 পরের পোষ্ট 👉

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *