ভাস্কর্য বনাম মূর্তি

টিপুভাই ডট কম ব্লগের ছবি, নজরুল ইসলা টিপু - tipuvai.com

ভাস্কর্য কে ইংরেজিতে বলা হয় Sculpture. দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতার সমন্বয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট আকৃতির নামই ভাস্কর্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ভাস্কর্য বিদ্যা’ বিষয়ে ডিগ্রী অর্জন করা যায়। ইংরেজিতে এই বিষয়টিকে The art of carving বা খোদাই বিদ্যা বলা হয়। কাদামাটি, কাঠ, ধাতব বস্তুকে খোদাই করে যিনি একটি সুনির্দিষ্ট আকৃতি দিতে পারেন তাকে ‘ভাস্কর’ বলে।

মূর্তি অর্থ হল ছায়া, আকার, ছবি। ইংরেজিতে Shape, Figure, Image হিসেবে বলা হয়। কারো ছবিকে হুবহু আকার দেওয়ার নামই মূর্তি। দৃশ্যত দেখতে কোনকিছুর আকার কিন্তু আকারের যথাযথ একক চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়না বলেই, হিন্দুরা তাদের দেবতার মূর্তিকে ‘প্রতিমা’ বলে। অর্থাৎ যার বানানো মূর্তি যে ধরনের হোক না কেন, মূল চরিত্র দেবতা স্বরূপ প্রতিমারই হবে।

যিনি মূর্তি বানায় তিনি অনেকাংশে অবিকল আকার তৈরি করতে পারেন না কিন্তু যিনি ভাস্কর তিনি হুবহু প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করতে পারেন। এটাই তার বিদ্যা, এটার পিছনে অনেকের গবেষণা কাজ করে। সে কারণেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রাপ্ত হন!

সুতরাং সৃষ্টিশীল ভাস্কর, কোন প্রাণীর ত্রিমাত্রিক প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করলেই তাকে মূর্তি বলা যাবে। যখন এটাকে পূজা করা হবে তখন সেটাকে প্রতিমা বলা হবে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে যে নারী ভাস্কর বসানো হয়েছে সেটা একটা মূর্তিই।

সে হিসেবে আমাদের জাতীয় স্মৃতি সৌধ, শহীদ মিনার সহ বহু নিদর্শনকে ও আমরা ভাস্কর্য বলতে পারি। ভাস্কর্য কি হবে সেটা ভাস্করের চিন্তা চেতনার উপর নির্ভর করেই হয়। ঢাকা শহরের ‘শাপলা’, রাজশাহী শহরের ‘আম’ যেভাবে ভাস্কর্য হিসেবে বানানো হয়েছে। সেভাবে শিবের লিঙ্গও একটি ভাস্কর্য। ভাস্কর্যে যখন কারো ছবি ফুটে উঠে সেটা তখন মূর্তিই হয়ে যায়। বেশকম হল, সকল মূর্তি কিন্তু ভাস্কর্য নয় কিন্তু প্রাণীর আকৃতির সকল ভাস্কর্যই মূর্তি।

ইসলাম মূর্তি বানানো, সেটাকে পরিচর্যা করাকে হারাম ঘোষণা করেছে। এটাকে ভেঙ্গে ফেলাকে মুসলমানদের দায়িত্ব করা হয়েছে। রাষ্ট্র কখনও মূর্তির পক্ষে থাকতে পারেনা। স্বয়ং রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘আমাকে মূর্তি ধ্বংস করার জন্য পাঠানো হয়েছে’। নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি বসালে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে, সেটা অনেকে জেনে বুঝেই এই কাজে হাত দিয়েছে। আর এটাতে সরকারের প্রচ্ছন্ন হাত ছিলই বলা বাহুল্য।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মূর্তি স্থাপন করা স্বাধীনতা সংগ্রামের কোন পর্যায়ে এসে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রূপ নিল! সেটা কেউ না জানলেও; ছাত্রদল নেতা সরকারী দলের নেতাদের ফ্রি মূর্তি সাপ্লাই দিয়ে একটি জাতীয় চেতনা সৃষ্টি করতে পেরেছেন সেটাই বা কম কিসে!

ছাত্রদল নেতার পেশাদারী মূর্তি ব্যবসার পক্ষে একটা শক্ত অবস্থান সৃষ্ট হওয়া এবং এ ব্যাপারে শুনানি করাতে আদালতের বিব্রত হওয়ায় মাধ্যমে বুঝা যায় যে, জাতি বিভক্ত হতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনার চেয়েও, একটি মামুলী ঠুনকো জিনিষও কত বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দেখা যাক, সামনের দিনগুলোই বলে দিবে কেমন চলবে আগামী দিনের জাতীয় চেতনার মূর্তি ব্যবসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *