
বাম পন্থিদের কারণে রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত শেখ জায়েদ আল নাহিয়ানের রাজকীয় প্রজেক্ট আর চালু হয়নি। ১৯৮৪ আমিরাতের শাসক শেখ জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশ সফরে আসেন। প্রেসিডেন্ট এরশাদের সাথে তার ছিল খুব ভাল সম্পর্ক। তিনি মূলত বিদেশী অর্থায়ন ও সহযোগিতা আনয়নের তাগিদে, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের পাশে ১২০ একর জায়গা শেখ জায়েদকে উপহার দেন।
প্রেসিডেন্ট এরশাদ বাংলাদেশের জলবায়ু, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখানোর জন্যে শেখ জায়েদকে রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই, চন্দ্রঘোনার উপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যান। শেখ জায়েদ এই সৌন্দর্য দেখে এখানে একটি স্থাপনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরশাদ মনে মনে এটাই চেয়েছিলেন, তিনি সাথে সাথেই রাজী হয়ে যান এবং শেখকে উপহার হিসেবে এই জায়গাটি ১৯৮৫ সালে দলীল করে লিখে দেন।
শেখ জায়েদ আর কেউ নন, তিনি আধুনিক দুবাই-আবুধাবির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং ছোট্ট দেশটিকে দুনিয়ার বুকে বেশী আলোচিত করে গেছেন। আমিরাত আর বাংলাদেশ একই বছরে স্বাধীন হয়। আমরা এখনও গরীব এবং আমীরাত ধনী রাষ্ট্র! আমিরাতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ মুহাম্মদ তাঁরই সন্তান। আর বাংলাদেশর মানুষ তো বটেই, দুনিয়ার সকল পর্যটকদের কাছে দুবাই এখন স্বপ্নের শহর। বহুদিন ধরে বাঙ্গালীদের ভিসা সেখানে বন্ধ, ফলে বিদেশী রেমিটেন্সও বন্ধ। যদি শেখ জায়েদের একটি বাড়ী আমাদের রাঙ্গুনিয়াতে হতো, তাহলে আমাদের জন্যে এটি গর্বের বিষয় হত।
কিন্তু হয়নি বাংলাদেশের বামপন্থি কিছু বদমাশের কারণে, যারা ভারতের পরামর্শে বাংলাদেশের পত্রিকায় শেখ জায়েদের নামে বাংলাদেশী নারীদের নিয়ে মাগী-বাজি করার আজে-বাজে কাল্পনিক কলম লিখত। সেটা আবার বাংলাদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে ওপাড়ের ইংরেজী পত্রিকার ছাপা হতো। ওপারের সেই ইংরেজী পত্রিকার উদৃতি দিয়ে, সেটা আবার দুবাইয়ের আরবী পত্রিকায় তুলে ধরা হত। কি মহাপরিকল্পনার ঘোড়ে এই জাতি আটকা অনুমান করতে পারছেন! আরবী পত্রিকার প্রকাশিত কাটিং ভারতীয়দের নিয়োগ করা মাধ্যম ব্যবহার করে শেখ জায়েদের কানে পৌঁছাত, এমব্যাসিতে দিয়ে আসত! এরশাদের জন-ভিত্তি মজবুত ছিল না। এমন অসম্মান জনক লিখনিকে তিনি আমলে নেন নাই, ভেবেছেন কে আর দেখে! কিন্তু যার দেখা তিনি ঠিকই দেখেছেন। আবার এসব বাজে লিখনির বিরুদ্ধে তিনি কোন একশনে যেতে পারেন নাই! ফলে এমন বাজে মনোবৃত্তির দেশে, শেখ জায়েদের বাড়ী করার খায়েশ মিঠে যায়! তিনি আর এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেন নাই! সেই জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় সেভাবেই পড়ে আছে, শুধু চারিদিকে উঁচু পাঁচিল দ্বার আবদ্ধ রয়েছে। এটা হল এই জায়গার সংক্ষিপ্ত কাহিনী।
এরশাদ কি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? না মোটেও না! পৃথিবীর বহু ধনী দেশেই শেখ জায়েদের বাড়ী ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল পাকিস্তানের পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান শহরে! এই একটি বাড়ি দেওয়ার উসিলায় পাকিস্তান তার দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে বহু উপকার করিয়ে নিয়েছে। রহিম ইয়ার খান শহরের অদূরে চোলিস্তান মরুভূমির প্রান্তেই একটি প্রাসাদ ও রিসোর্ট করার জন্যে শেখ জায়েদকে স্থান দিয়েছিল! সেখানে শিকার করার ব্যবস্থা আছে এবং বানানো হয়েছে প্রাসাদ। যেটা Abu Dhabi Palace বা Desrt Palace হিসেবে পরিচিত। এটি শেখ জায়েদের খুব প্রিয় স্থান ছিল। এখানে যতবারই শেখ জায়েদ আসতেন, পাকিস্তানের জন্যে কোন একটি রাষ্ট্রীয় উপকার করে ফিরেছেন! তিনি যেসব জিনিষ নিয়ে যেতেন, সেটা আর ফিরিয়ে আনতেন না। রাস্তাঘাট, এয়ারপোর্ট, মেডিক্যাল, টেলিফোন-মোবাইল ব্যবস্থা, পর্যটন কেন্দ্র সহ বহু প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে দিয়েছেন। আবার সেসব প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের ছেলেরা চাকরি করছেন। ওদিকে আবুধাবিতেও সবাই চাকরীর সুযোগ পেত। প্রেসিডেন্ট এরশাদের মাথায়ও এই চিন্তাটাই ছিল। এতে করে চট্টগ্রাম শহরের ব্যাপক উন্নয়নে আবুধাবীর অর্থলগ্নি হত।
কিন্তু এটি ভারতের জন্যে পীড়া-দাঁড়ার কারণ হয়। তাই বামপন্থি কিছু লেখক নামক দালাল দিয়ে খুব কৌশলে এমন বাজে কাহিনী ফাঁদিয়ে প্রজেক্টটি স্থগিত করাতে সক্ষম হয়। মূলত আমাদের দেশের সকল বামপন্থি গুলো বাংলাদেশ ও ইসলামের দোষমন এবং চরিত্রে বদমাশ প্রকৃতির। ওদের দ্বারা এই জাতির অপকার ছাড়া কোন উপকার হয়নি। এদের গতি রুখতে না পারলেও ভবিষ্যতেও ওরা ভারতের স্বার্থই দেখবে।
বর্তমানে প্রজেক্টটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন সংস্থা সেটাকে অধিগ্রহণ করে, নানা প্রতিষ্ঠান করার মতামত দিচ্ছেন। কিন্তু ওটা হবে আরেক ভুল সিদ্ধান্ত, হিতে বিপরীত হতে পারে। এমনিতেই এখন আমাদের জন্যে সেদেশের ভিসা বন্ধ, তার উপরে শেখ জায়েদের জায়গা প্রত্যাহার করে নিলে খারাপ নজির হবে। কেননা জায়গাটি আবুধারী সরকারের এবং এর মালিক আমীরাতের সুলতান। বরং সরকার পক্ষ আবুধাবিকে অনুরোধ করে, সেখানে কিছু ইনভেষ্ট করানোর চেষ্টা করতে পারে এবং সেটা করার জন্যে, দেশে একজন পুরুষ রাষ্ট্র প্রধান দরকার। এরশাদের পতনের পর দীর্ঘ ৩৪ বছর পর্যন্ত সকল সরকারেই প্রধান ছিল মহিলা। এরশাদ পুরুষ ব্যক্তি হিসেব, প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে যেভাবে সরাসরি ওদের সাথে কথা বলতে পারতেন; হাসিনা-খালেদার পক্ষে সেভাবে সরাসরি ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়নি! অন্য কাউকে দিয়ে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানাতে হত। বাংলাদেশের ভাগ্য বিড়ম্বনার জন্যে বিগত ৩৫ বছর ধরে এটাও আরেকটি সমস্যা মুল কারণ ছিল!