ক্যামরায় শিক্ষিত ঝাড়ুদার, অপরিষ্কার নগরী ও আমাদের জাতীয় দৈন্যতা

টিপুভাই ডট কম ব্লগের ছবি, নজরুল ইসলা টিপু - tipuvai.com
শুধু স্কুল-কলেজে লিখা-পড়া করলেই তাকে শিক্ষিত বলে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশ করার পরও যদি ব্যক্তির চরিত্রে বিদ্যার বিকিরণ না থাকে, তাহলে সেও এক প্রকার মূর্খ। কে শিক্ষিত আর কে অশিক্ষিত, তা সনদ দিয়ে নির্ণয় করার বিষয় নয়। তা সঠিক ভাবে নির্ণীত হয় ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ বা শিষ্টাচার দিয়ে। 
 
শিক্ষিত ব্যক্তি যদি আকলদার না হয়, তথা Common sense এর অভাব হয়, তার দ্বারা সর্বনাশ মূর্খের চেয়েও বেশী হয়। বর্তমানে চিত্রজগতে, এ্যাড ফার্ম, নাটকে, গানে ও শিক্ষা কেন্দ্রে লেখাপড়া জানা বে-আকল মানুষ গুলোরই সমৃদ্ধি ঘটছে; তাই সমাজে তার খারাপ প্রভাব পড়ছে। 
 
মানব জীবনের শুরুতেই প্রয়োজন, ভাল শিষ্টাচার, সুন্দর আচরণ, ভদ্র ব্যবহার, মার্জিত খাসিয়ত শিক্ষা দেওয়া। এটা সমাজ ও পরিবার থেকে শিখতে হয়। বিদ্যালয়ে এটা শিখার সুযোগ তেমন নেই তবে এসব চরিত্র পরিচর্যা করার উত্তম স্থান হল বিদ্যালয়। শিষ্টাচার অর্জন ব্যতীত কোন ব্যক্তি উচ্চ শিক্ষিত হলেও, সে বিদ্যা কোন কাজে আসে না। 
 
শিষ্টাচার হল দালানের আস্তর স্বরূপ। কোটি টাকা দামের ফ্লাট-বাড়ীতে কেউ ভাড়ায় উঠে না। যতক্ষণ না, হাজার টাকার আস্তরের কাজ না করানো হয়, রঙ না লাগানো হয়। তাই শিষ্টাচার বিহীন চরিত্রে, কোটি টাকা দামের ডিগ্রী, বহু বছরের অর্জিত বিদ্যাও মূল্যহীন হয়ে যায়। এভাবে সমগ্র জাতি শিক্ষিত হলেও; সামগ্রিক ভাবে জাতি কোনভাবেই উপকৃত হয়না।
 
বিদ্যা নাই, ডিগ্রী নাই এমন ব্যক্তিও যথেষ্ট খ্যাতিমান হতে উঠতে পারে, যদি তার কাছে উত্তম খাসিয়ত ও আকর্ষণীয় শিষ্টাচার থাকে! আবার কিছু ব্যক্তিদের কাছে কোনটাই থাকেনা। তারা এটা অর্জন করার প্রয়োজনও মনে করেনা। ওদের জীবনটাই মেকি; এরাই হল প্রকৃত মূর্খ, নির্বোধ। এদের পিছনে শ্রম-সময় দেওয়া নিরর্থক কাজ বলে বিবেচিত হয়। শেখ শাদী (রঃ) বলেছেন, “অযোগ্য লোককে প্রতিপালন করলেও, সে কখনও যোগ্য হয়ে উঠতে পারেনা”। 
 
দুনিয়াতে শিষ্টাচার তথা চরিত্রের গুরুত্ব অনেক। যে জাতি যত-বেশী শিষ্টাচারী সে জাতি তত বেশী উন্নত। তাকে মানুষ অনুসরণ করতে চায়। পর্যটক এক জাপানী নারী ঢাকা শহরের রাস্তা থেকে নোংরা-ময়লা তুলে পরিষ্কার করে তাদের জাতীয় শিষ্টাচারের পরিচয় তুলে ধরে। আর আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষিত মানুষেরা পরিষ্কার রাস্তা নোংরা করে, তারপর সেটাকে ঝাড়ু পিটা করে জাতীয় দৈন্য চরিত্রের উদাহরণ টানে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও শিষ্টাচার অর্জনের সুযোগ অপ্রতুল। তাই আমরা নিজ হাতেই শহর ও নগরকে আবর্জনা দিয়ে ভরিয়ে তুলি।
 
ইসলাম ধর্মে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের একটা অঙ্গ বলা হয়েছে। এদেশের সিংহ ভাগই মুসলিম। অথচ সবাই নিজেদেরকে ইমানদার ভাবতে উৎসাহ বোধ করি। অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজটিকে ধর্মীয়ভাবেও মূল্যায়ন করা হয়না আবার ছোটলোকের কাজ মনে করে অনেক শিক্ষিত মানুষেরাও শুধু ফটো-সেশন দিয়ে কেটে পড়ে। এই যখন জাতীয় চরিত্র, তখন সামগ্রিক ভাবে নোংরা-আবর্জনার বিরুদ্ধে মানুষকে খুব কমই সচেতন করা যায়। তাই ঘরে ঘরে সচেতনতা আনা উচিত। ওয়াজ, নসিহত ও মসজিদ গুলোতে ইমাম-গন বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। সর্বোপরি ব্যক্তিজীবনে নিজ দায়িত্বে সচেতন হবার কোন বিকল্প নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *