মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দোষ একটি তিনি উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু অন্যরা কি করেছেন
| মহান নেতাদের নাম | ইতিবাচক গুনাবলী | নেতিবাচক গুনাবলী | মন্তব্য |
| প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান | স্বাধীনতার মহান স্থপতি। যার হাত ধরে স্বাধীনতা পেয়েছি | ক্ষমতাকালে অগণিত বিরোধী মতের মানুষ হত্যা হয়েছে | দোষে গুনে মিশ্রিত নেতৃত্ব, দোষ গুন সমালোচনা সবই আছে |
| প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান | স্বাধীনতার ঘোষক ও সেক্টর কমান্ডার। যার নেতৃত্বে স্বাধীনতা এসেছে | ক্ষমতাকালে বিদ্রোহী দমন করতে গিয়ে মানুষ হত্যা হয়েছে | দোষে গুনে মিশ্রিত নেতৃত্ব, দোষ গুন সমালোচনা সবই আছে |
| প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ | নারী প্রেমিক কবি। যুদ্ধকালে ভারতে প্রশিক্ষনে ব্যস্ত দেশপ্রেমিক স্বাধীনতাকামী | ক্ষমতাকালে অগনিত ছাত্র হত্যা হয়েছে। দুর্নিতীর মহোৎসব আর ভারতের দালালী হয়েছে | সে একজন পুরুষ এটাই তার গুন! আর নারী হয়ে জন্মায়নি এটাই তার দোষ |
| প্রেসিডেন্ট উকিল আবদুল হামিদ | বঙ্গভবনে বসে রঙ্গরসে মত্ত বেতনের শ্রাদ্ধ করা অন্ধ বিবেক বন্ধক ব্যক্তি | অকাতরের বিরোধী দল দলন, দমন আর হত্যার মহোৎসব চলেছে | গুনাবলী শুন্য ব্যক্তি জাতির জন্যে পরীক্ষা ও মুসিবতের আলামত |
| প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দীন চুপ্পূ | চুপচাপ বঙ্গভবনে বসা বেতনের শ্রাদ্ধ ও অধিনস্তের অনুগত থাকা দলবাজ ব্যক্তি | পাখির মত গুলি করে বিরোধীমত ও বিপ্লবী দের হত্যা করা হয়েছে | আল্লাহ কিছু ব্যক্তিকে জাতির জন্যে গজব হিসেবে পাঠান |
| কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ | দুটো স্বাধীন মুসলিম দেশের শ্রষ্টা। গোলামী থেকে মুক্তি, মুসলমানদের জন্যে নতুন ভুখন্ড দানকারী নেতা | তার হাতে নিজের দেশের মানুষ হত্যা, ভাগ্যের ক্ষতি হয়নি, এমন কোন দাগ তার গায়ে নাই! | তিনি না হলে পাকিস্তান বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না। ভারতের অঙ্গ রাজ্য হয়েই থাকতাম |
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুর পরেই ভাষা আন্দোলনের ঘটনা ঘটে
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মারা যায় ১৯৪৮ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর
- ভাষা আন্দোলনের শহীদেরা নিহত হন ১৯৫২ সালের ২১ ফ্রেব্রয়ারী
- সে সময় বাংলাদেশের মুখ্যমন্ত্রী (বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী মর্যাদা) নুরুল আমিন, তিনি নিজেও বাংলার সন্তান
- তার আগের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন, তিনি বাংলার সন্তান, ঢাবি প্রতিষ্ঠা পরিবারেরই ছেলে
- তাদের কারো গায়ে তেমন কোন কলঙ্কের দাগ নাই, তাহলে কেন শুধুমাত্র মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ!
- জিন্নাহ আমার-আপনার কারো আত্মীয় না কিন্তু তিনি ভারতকে ভেঙ্গে দুটো টুকরো করেছেন
- অধিকন্তু দুটো মুসলিম দেশের জন্ম দিয়েছেন, যেগুলো ভারতের জন্যে বিষ-ফোঁড়ার মত ব্যথা দেয়
- এটাই জিন্নাহর অন্যতম অপরাধ! তাহলেও কি কোন বাংলাদেশী জিন্নাহ কে গালি দিতে পারে?
- কেউ যদি দেবার গরজ বোধ করে, তাহলে সে নিশ্চিত জারজ, ভারতীয় দালাল, কোন সন্দেহ রাখেন কি
আবারো হয়ত বলবেন, জিন্নাহ আমাদের মায়ের ভাষা বন্ধ করে উর্দু চাপিয়ে দিলে গেছিলেন
- জিন্নাহ বলেছিল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা, এদেশীয় ভারতীয় দালালদের প্রতিবাদ আসল, ধরুন
- জিন্নাহ যদি বলত ইংরেজীই হবে রাষ্ট্রভাষা! তাহলে তো বা, বা, বাহা বলে ধন্যবাদ ধন্যবাদ দিত বাঙ্গালীরাই
- এমনটি হলে ভারতের পক্ষ থেকেও বাধা আসত না, কেননা ভারতের রাষ্ট্রভাষা আজো ইংরেজীতে
- ঠিক আছে, আমরা উর্দু ঠেকিয়েছি তার পরেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা কিন্তু আজো ইংরেজীতেই প্রাধান্য পায়
- দেশ স্বাধীন হবার ৫৫ বছর পরে এখনও দেশের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হয়নি, ইংরেজীকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে
- আদালত, কোট কাচারী, সচিবালয়ের ভাষা এখনও ইংরেজীতে, তাহলে সেই মায়ের ভাষার বাংলার জায়গা হল কোথায়
- কোথায় গেল সেই আহা মরি বাংলা, উহু মারি বাংলা, এক নদী রক্ষের বন্যার সেই অকৃত্রিম দরদ;
- মায়ের ভাষার বাংলাকে উষ্টা মেরে, বাংলায় গালি দেওয়া ছাড়া এই মাতৃভাষার আর এমন কি উন্নতি হয়েছে
জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার বক্তব্যটি হয়েছিল ইংরেজীতে আবার সেটার প্রতিবাদের ভাষাও ইংরেজীতে
- উর্দু প্রতিবাদ সংক্রান্ত জিন্নার ভাসনটাই ছিল ইংরেজীতে আবার সেটার প্রতিবাদ লিপিও দিয়েছে ইংরেজীতে
- ভারত দেখল শালার মাঝপথে উর্দু এসে, তাদের গোদের উপরে মরার ফোড়া হয়ে জ্বলতে চাইছে
- ভারত ভেঙ্গে দুটো নতুন দেশ হল, তার উপরে ভাষার মাধ্যেমে ঐক্য শক্তিশালী, সেটা ওদের জন্যে বাড়তি হুমকি
- তাই লক্ষ্য ছিল একটাই, উর্দুকে ঠেকানো; কারণ উর্দুর মাধ্যমে পাঁচটি প্রদেশ এক হলে ওটা শক্তিশালী হবে
- মন দিয়ে ভাবুন বাংলা, সিন্ধু, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান, সীমান্ত প্রদেশ কারো ভাষা উর্দু নয়
- তাদেরকে সম্মীলীতভাবে স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেও এক রাখার অভিন্ন উপায় ছিল ভাষার বন্ধনে আবদ্ধ করা
- যেমনটি হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার ক্ষেত্রে, যেমনটি হয়েছে আরবী ভাষার ক্ষেত্রে ওরা ভাষার মাধ্যমে এক আছে
তাহলে জিন্নাহ কেন বোকামি করেছিলেন? তিনি কি রাজনীতি বুঝেন নাই
- এটির গুরুত্ব জিন্নাহ বুঝেছিল ঠিকই,, তিনি যে রাষ্ট্রটি গড়ে দিয়েছেন তার অখন্ডতা টিকবে শুধুমাত্র ভাষার বন্ধনে
- পাকিস্তানের চেয়েও বর্তমান ভারতেই উর্দু ভাষা ও সাহিত্যের ব্যবহার অনেক বেশী, বিহার, হায়দ্রাবাসে উর্দু চলে
- ভারতের উর্দু কবি আল্লামা ইকবাল, জাগরনী সংগীত লিখেছেন উর্দুতে, বোম্বের গানগুলো উর্দুতে, সিনেমা উর্দুতে
- ভারতের বহু প্রদেশের মানুষ উর্দুতে কথা বলে, অনেক স্কুল-কলেজ উর্দু সিলেবাসে চলে
- এমনকি বাংলাদেশের তদানীন্তন সকল রাষ্ট্রনেতারাই অনর্গল বাংলা ও উর্দুতে কথা বলতেন
- নবাব সলিমুল্লাহ, খাজা নাজিমুদ্দীন, পন্নি পরিবার সহ দেশের সেরা পরিবারগুলোর আভ্যন্তরিন ভাষা ছিল উর্দু
- এটা দেখেই জিন্নাহ বলেছিলেন হয়ত উর্দু নিয়ে কোন বাদানুবাদ হবেনা, তাই উর্দুর কথাই তুলেছিলেন
- এই কথা বলেই তিনিই যেন, মহাপাপ করেছিলেন; অথচ যে বছর বলেছেন সে বছরেই তিনি মারা যান
- পূর্ব বঙ্গের ক্ষমতায় আসেন বাঙ্গাল মুল্লুকের বরকন্দাজ পুত্ররা, আহা তারাও ইংরেজীতে গাইতে থাকেন
উর্দুর বিপক্ষে দাঁড় করানো, মায়ের ভাষা তথা আহা-মরি বাংলার কি হাল হল
- আহা মরি বাংলা তথা মায়ের ভাষা রক্ষা করিয়া আমরা কিছু গালির বাক্য যোগ করা ছাড়া আর কিছুই করিতে পারি নাই
যাই হোক, জিন্নাহ দুই পাকিস্তানের অস্তিত্বের সৃষ্টিকারক। তাকে ঘৃনা করে ভারতীয়রা, তাদের জন্যে সেটা মানানসই। কেননা তিনি ভারতকে ভাগ করেছেন। ক্ষতি যদি কিছু করেই থাকেন, সেটা ভারতেরই হয়েছে। পক্ষান্তরে মুসলমানদের তো লাভ হয়েছে। মূলত যে সব মুসলমান নামধারী ব্যক্তি জিন্নাহ কে ঘৃণা করে গালি দেয়। বুঝবেন সে হয়ত নাবালক, অন্যের দেওয়া শুকনো গুয়ের দলাকে পিয়াজি মনে করে চিবোচ্ছে! নয়ত সে ডান্টিপটাশ! কৌশলে ডান্ডিয়ার দালালি করছে।
আরো পড়তে পারেন, উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা – মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ! কেন কি প্রয়োজন
জিন্নাহকে যে মুসলমান গালি দেয় বুঝবেন, তার বীর্য ফাইনালী হরিদাশ পালের গোত্রের সাথে মিলে গেছে
আমাকে আপনাকে গালি দেওয়া সম্ভব নয়, তাই মৃত জিন্নাকে গালি দিয়ে চৌদ্দগোষ্টির দায় শোধ করছে। তাকে থামাবেন, তার পিতা-দাদার ইতিহাস চাইবেন। আলবৎ বুঝবেন সে বা তাদের বীর্য ফাইনালী গিয়ে ওপাড়ের হরিদাশ পালের গোত্রের সাথে মিলে যাচ্ছে। সে কারণে তার অন্তরে এত ঘৃণা, এমন অকৃতজ্ঞতা, এমন শঠতা ও বিশ্বাসঘাতকতা। তাদের গোস্বার এটাই কারণ। জিন্নার উপরে গোস্বা মানে ইসলামী রাষ্ট্র, সংস্কৃতি কৃষ্টির উপরে গোস্বা। মুসলমানদের অস্তিত্ব সৃষ্টির বিরুদ্ধে গোস্বা।
ফাইনালী, জিন্নাহ কোন পীর বুজুর্গ ব্যক্তি ছিল না। তিনি কোন ইসলামের বানী প্রচার করেন নাই। ইসলাম মতে জীবন চালানোর জন্যে কোথাও ওয়াজ নসিহতও করেন নাই। উপরে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টদের একটি তালিকা ও তাদের কর্মকান্ড দেখিয়েছি। তারাও কোন পীর বুজুর্গ ব্যক্তি ছিল না।
তবে তাদেরকে ইদের মাঠে নামাজ পড়তে দেখেছি। সে হিসেবে ওরা মুসলমান কিন্তু মানুষ তাদের নিষ্পাপ, নিষ্কুলস মনে করে না। জিন্নাহ ও তেমন। ওরাও মানুষ ছিল, সম্মান পেয়েছে, আমরাও সম্মান করি।
সুতরাং অন্তত তাদের কাজের সাথে জিন্নার কাজের সাথে মিলিয়ে দেখুন, জিন্নাহর অবদান মুসলমানের জন্যে সেরা ছিল কিনা। আমার মত অনেকেই এমনই দেখবেন। তবে নিজের চক্ষু কোঠরে যদি জানোয়ার কিংবা শিবের মুত্র মাখা একজোড়া চোখ বসানো থাকে, তাহলে অবশ্যই ভিন্ন কিছু দেখবেন।