শেয়ার করুন

পাকিস্তান আমলে তথা ১৯৬৭ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকেই থাকার কারণে, ঢাকার পুরানো নাম জাহাঙ্গীর নগর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় জাহাঙ্গীর নগর। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল শুধুমাত্র মুসলমানদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, তমদ্দুন, ধর্ম ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্যে। সেই কারণে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল নাম গ্রহণ করার হয়, “জাহাঙ্গীর নগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে।

সেই কারণে জাহাঙ্গীর নগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের লগোতে বাংলাদেশী মুসলমানদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও ধর্ম ইসলামকে সামনে রেখে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সাজানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লগোতে নজর দিলেই বুঝা যায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের মূল্য উদ্দেশ্য কি ছিল?

১. কোরআন – মুসলমানদের একমাত্র ধর্মীয় প্রতীক

২. মোমবাতি – মোমের আলোতে কোরানের বানী ছড়াবে সারা দেশে।

৩. চাঁদতারা – মুসলমানদের সংস্কৃতির প্রতীক

৪. সবুজ ক্ষেত – গ্রাম বাংলার চাষা-মজুর-কৃষকের জীবন ধারণের মাধ্যম

৫. নৌকা – সারা বাংলার ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম

৬. নদী – আবহমান বাংলার মানুষের খাদ্য ও জীবিকার অন্যতম উৎস

লগোর এসব ছবি দেখলে, একজন বেকুব, বেজন্মার পক্ষেও বুঝাও সম্ভব জাহাঙ্গীর নগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পিছনে কারণ কি ছিল। ব্রিটিশ আমলে ঢাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাঙ্গালী মুসলমানদের শিক্ষিত করতে। তাই পশ্চিমের কাকা বাবুরা খুনোখুনির মাধ্যমে তার বিরোধিতা করেছিল। ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পরে জাহাঙ্গীর নগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, মুসলমানদের ঘরে ঘরে ইসলাম আলো প্রসার ও স্বনির্ভর জাতি গঠনের প্রত্যয়ে।

ভারত বসে থাকেনি, তারা শুরু থেকেই লেগে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় তো আর ভাঙ্গা যাবেনা সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও আকিদা পরিবর্তন করে দিতে পারলেই কর্ম সাবাড়। এতে মুসলমান নামধারী ছাত্র বের হবে বটে কিন্তু তারা চরিত্রে হবে মোনাফেক, কর্মে হবে কাফের, সংস্কৃতিতে পৌত্তলিক, আর জাতে হবে মীরজাফর। আর এর পরিচালকেরা হবে এক একজন সাক্ষাৎ খোদা-দ্রোহী ফেরাউন।

ভারত তার প্রথম সুযোগেই এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি জয় বাংলা করতে সক্ষম হয়। ১৯৭৩ সালে তদানীন্তন একনায়ক, গন-বিচ্ছিন্ন শেখ মুজিব সরকারকে দিয়ে জাহাঙ্গীর নগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলিম শব্দটি বিতারন করে! নতুন নাম করা হয় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়। সেই থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড থেকে ইসলাম ও মুসলিম সংস্কৃতি চিরতের ঝেঁটায়ে বিদায় করার কার্যক্রম শুরু হয়।

এটাই শেষ নয়, আরো মারাত্মক কিছু করেছে শেখ মুজিবুর রহমানের চরম ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী সরকার। তারা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করেই ক্ষান্ত হয়নি। মুসলমান সংস্কৃতি প্রভাবিত লগোর প্রতিটি বিশ্বাসকে উৎখাত করে, তদস্থলে হিন্দু সংস্কৃতির লগোর রূপায়ন করে।

১. লগোর চারিদিকে আলপনা বসানো হয়েছে। বর্তমানে আলপনা সর্বত্র ব্যবহার হলেও, তদানীন্তন সময়ে এটা শুধুমাত্র হিন্দু সংস্কৃতি, পূজা-পার্বণের অঙ্কনের মাধ্যম ছিল। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যুক্তিক লগোতে আলপনা মোটেও মানাননই নয়।

২. লগোতে রয়েছে তিনটি পাঁপড়ির একটি পদ্মের ছবি। আর পদ্ম হল “ব্রহ্মা, লক্ষ্মী ও সরস্বতী’র আসন এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে পদ্ম হল জ্ঞান, আত্ম-সচেতনতা এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রতীক।”

বর্তমান বাংলাদেশী বয়ানে এটাকে বলা হচ্ছে, এটা নাকি শাপলার তিন পাঁপড়ি বিশিষ্ট ছবি। বাংলাদেশের প্রজন্ম কি শাপলা ফুলকে বিদঘুটে লগোর মাধ্যমে চিনতে হবে? যাক যার  ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, “জাতীয় ফুল শাপলার তিনটি ঊর্ধ্বমুখী পাঁপড়ি! যার অর্থ জাতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ঊর্ধ্বগামী জীবন-চেতনার বহিঃপ্রকাশ।”

আর আলপনার ব্যাখ্যা দিয়েছে এভাবে, “জাতীয় জীবনের অহংকার ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ঐক্যের চেতনা বহন করে।”

কি হাবিজাবি গোঁজামিল সর্বস্ব বর্ণনা! কথা, কাজ ও ছবির সাথে কিছুর মিল নেই। মূলত পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন হবার কারণে এমন গোঁজামিল মার্কা উত্তর বানানো হয়েছে!

ফাইনাল কথা হল, ১৯৭১ সালের ঘটনাকে ভারতীয় থিম-ট্যাঙ্ক যথাতথা সর্বত্র হাইলাইট করে। কখনও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে এখানে ঢুকিয়ে পেঁচানো হয়। কিন্তু ভুলেও ১৯৪৭ আনে না। এটার পিছনে মূল কারণ হল, ইসলামকে ঘায়েল করা। ১৯৪৭ প্রতিষ্ঠিত হলে, ভারতের পক্ষে আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলতে পারবে না। পাকিস্তান মুসলমানেরা সৃষ্টি করেনি। বরং ভারতীয় নেতাদের হিংসা-ঘৃণার ছোবলে আক্রান্ত করে মুসলমানদের বাধ্য করেছে আলাদা একটি দেশ করে বিদায় হতে। সে কারণে ১৯৪৭ পাকিস্তান সৃষ্টি, এটা একমাত্র মুসলমানদের দেশ এবং হিন্দুদের ওপারে তথা হিন্দুস্থানে চলে যাবার ঘোষণা, বিষয়গুলো ভারত ও তার দোসরেরা আলোচিত করতে চায়না। এগুলো নতুন প্রজন্ম জানলে তাদের এমনিতেই বিদায় করবে।

ভারত ও তাদের বংশবদ দালালদের একটি অপকৌশল আছে, সেটা বুঝার জন্যে কলেজের সেকুলার বড়ভাই ‘বদ-নসিব’ এর সেই বাজে উদাহরণই টাই প্রযোজ্য।

“বদ-নসিব তার বন্ধুদের পরামর্শ দিচ্ছিল, রাস্তার পাগলিকে ধর্ষণ করেই, সোজা পানিতে ফেলে দিবি! তাহলে পাগলী ধর্ষণের কথা না বলে, মানুষকে বলে বেড়াবে ঐ ব্যাটা তাকে পানিতে ফেলে দিয়েছে!” পাগলীর মেমোরিতে অতীতের কথা জমা থাকেনা! নতুনটাই থাকে, তাই সে পানির ঘটনা বলতে থাকবে। বাঙ্গালী জাতিটাকেও ভারত ধর্ষণ করে ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ, রাজাকার, আলবদর গাইতে ব্যস্ত রেখেছে। মাঝপথে ১৯৪৭ এর দগদগে ব্যাথার ঘটনা চিচিং ফাঁ হয়ে গিয়েছে।

এই জাতি যত দ্রুত নিজেদের ধর্মীয় স্বাধিকার, ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে না আসবে, তত দ্রুত ভারতের চিন্তার গোলামে পরিণত হবে। ভারত চারিদিক থেকেই আমাদের চিন্তা, চেতনা, সংস্কৃতি, কৃষ্টিতে ছোবল মেরে রেখেছে। এটা এমন এক বিষাক্ত ছোবল, সাপ মরে গেলেও দাঁত গুলো মাংস বিধিয়ে রেখেছে, সেটা থেকে অবিরতই বিষ নির্গমন হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *