ব্রিটিশদের অতীত জীবন আমাদের চেয়ে ভাল ছিল না

ব্রিটিশদের অতীত জীবন

শুরুতে বৃিটিশদের অতীতের কিছু খন্ড চিত্র তুলে যাক

বর্তমানের ছেলেমেয়েরা ব্রিটিশে যেতে পারা, থাকতে পারকে গর্বের মনে করে কিন্তু অতীত ব্রিটিশদের জীবন মান কোন কালেই আমাদের চেয়ে উত্তম ছিলনা। আর উত্তম ছিলনা বলেই তারা ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে, আমাদের দেশে মীরজাফর সৃষ্টি করে দেশ দখল করে নেয় এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাসনের অবসান ঘটায়।

যদিও বর্তমান পরিস্থিতি বদলিয়েছে, সবাই কাজের তাগিয়ে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরাও সেখানে বসতি গড়ছে। সেটা ভিন্ন বিষয়।

মূলত একটি দেশ কিংবা জাতি অতীতে কত কষ্টের মধ্য দিয়ে উন্নতির চরম সোপানে পৌচেছে সেটা মনে রাখা এবং আমরা যে বর্তমানে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি, সেটারও পরিবর্তন সম্ভব, এ সব বিষয়কে বিবেকের কাছে জাগিয়ে তোলাই মুল উদ্দেশ্য।

ব্রিটিশদের দুর্ভোগ দুর্গতির বহু কথা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে! তার মধ্য থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষদের রাত কাটানোর কঠিন বাস্তবতার আলোকে, সে সময়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ইংল্যান্ডে রাতে ঠাণ্ডা ঠেকাতে মানুষজন হাটতে থাকত। রাস্তার পাশে বসা তো দূরের কথা, দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাত কাটানোও কঠিন ছিল। তাদেরকে মোকাবেলা করতে হত, মাতাল, পকেটমার, শ্লীলতা হানি, ছিনতাই, বখাটে, অনর্থক উপদ্রবকারী উৎপাত থেকে। ফলে মানুষ বাধ্য হত, হোস্টেলে থাকত। সেই সব রেস্ট হাউজের সুযোগ সুবিধার কয়েকটির উদাহরণ টানা হল।

ব্রিটিশের শহরে এক পেনির আশ্রয়!

এটি ছিল শহরের সবচেয়ে সস্তা থাকার মাধ্যম। এক পেনির বিনিময়ে একজন মানুষ সারা রাত একটি হলঘরের টুলে বসে থাকার সুযোগ পেত। ঘরটি অপেক্ষাকৃত উষ্ণ হলেও, এখানে শোয়া বা টুলের উপরে ওপর আড়াআড়িভাবে শুয়ে পড়া নিষিদ্ধ ছিল। শর্তগুলো টিকেটে উল্লেখ থাকত।

কেউ নিদ্রা বা তন্দ্রায় পড়ে গেলেও, উঠে আবার বসে পড়ত। এসব নিয়ে কেউ হাসাহাসি কিংবা তামাশা করত না। তবে কেউ ফাঁকতালে এলিয়ে পড়ে ঘুমানোর সুবিধা নিচ্ছে কিনা, সেটা দেখার জন্যে একজন পাহারাদার থাকত। ফলে মানুষদের বাধ্য হয়ে তাদের সিটে বসেই রাত কাটাতে হতো।  অতীত ব্রিটিশদের জীবন মান

বৃিটিশের শহরে দুই পেনির আশ্রয়!

২ পেনির সাহায্যে পাওয়া যেত দড়িতে লটকে ঘুমানোর বিকল্প সুবিধা! যেটা মানুষদের নিদ্রার কারণে পড়ে যাওয়া ঠেকাত। যাকে ইংরেজিতে হ্যাঙ ওভার ফ্যাসিলিটি বলা হত। এক পেনির যে টুলের সুবিধার কথা উপরে উল্লেখ আছে, তার সাথে মিলত এই দড়ির সুবিধা। টুলের সামনে বসা মানুষের বুক বরাবর একটি মোটা দড়ি লটকানো থাকত।

ঘুমন্ত অবস্থায় শরীর সামনের দিকে গড়িয়ে পড়া বা পড়ে যাওয়া ঠেকাতে মানুষ ওই দড়ির ওপর ঝুঁকে থাকত। এই সুযোগ দাঁড়িয়ে কিংবা বসার ভঙ্গিতে নেওয়া যেত। সে কারণেই এর নাম হয় ‘হ্যাঙওভার’ তথা লটকানো পদ্ধতি। ভোর ৫টার দিকে একজন পাহারাদার সেই লটকানো দড়ি খুলে দিতেন, ফলে সকলে হুমড়ি-খেয়ে নিচে পড়ে যেত এবং একটি সুন্দর সকালের শুরু হতো।

বিখ্যাত লেখক জর্জ অরওয়েল তাঁর ‘ডাউন অ্যান্ড আউট ইন লন্ডন অ্যান্ড প্যারিস’ গ্রন্থে তার এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন।

ব্রিটিশ শহরে চার পেনির আশ্রয়!

৪ পেনির সাহায্যে পাওয়া যেত কফিন সুবিধা। এটি ছিলে সেই সময়ের জন্যে ব্যয়বহুল এবং আরামদায়ক বিকল্প। মানুষের আয়তনের একটি কাঠের সরু বাক্সে শুয়ে থাকার সুযোগ পেত। সাথে দেওয়া হত একটি তেল চটচটে কাপড় কিংবা কম্বল। এই সরু বাক্সে নিজের দেহখানি কোনমতে আবদ্ধ করে ঘুমাতে পারাটাই ছিল তদানীন্তন সময়ের একজন নিম্নবিত্ত মানুষের সেরা আশ্রয়।

ঘুমন্ত মানুষের ঘরগুলো দেখতে মনে হবে, ওটি যেন একটি লাশের ঘর। এগুলো মূলত স্বল্পমূল্যের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হত এবং এগুলোকে বলা হত, ডজ হাউস (Doss House) এবং এসব আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালিত হতো সালভেশন আর্মি (The Salvation Army) অধীনে।

একটু চিন্তা করুন, সেই জমানায় একজন ব্রিটিশ নাগরিকের জীবন কেমন ছিল পক্ষান্তরে একজন বাঙ্গালী গৃহস্থ কিংবা কৃষকের জীবন অনেক শ্রেয়তর ছিল। ফলে বহু ব্রিটিশ তাদের জীবন ধারণের জন্যে আমাদের দেশে কলোনি সৃষ্টি করে জীবন ধারণ করেছে। অতীত ব্রিটিশদের জীবন মান