মহান আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে নবী (সাঃ) এর শিক্ষার ব্যবস্থা

মহান আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে বিশ্বনবীর (সাঃ) শিক্ষার ব্যবস্থা

বিশ্বনবী (সাঃ) এর শিক্ষার আল্লাহর ব্যবস্থাপনা

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাঁকে গোটা পৃথিবীর জন্য করুণার মূর্ত প্রতীক হিসাবে প্রেরণ করবেন, মানব এবং জিন জাতির জন্য যাঁকে শেষ নবীই শুধু নয় বিশ্বনবী হিসাবে নির্বাচিত করবেন, তাঁর জ্ঞানের পরিধি সমস্ত সৃষ্টির তুলনায় বৃদ্ধি করার লক্ষ্য মহান আল্লাহ যে কি ধরনের আয়োজন করেছিলেন, তা মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না।

নবুওয়ত দান করার পূর্বে বিশেষ ইলহামের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর এই প্রিয় বান্দাকে এই বিশ্ব প্রকৃতি থেকে নানাভাবে জ্ঞান আহরণের এবং উপলব্ধির মত যোগ্যতা ও মানসিকতা দান করেছিলেন।

সত্য-সন্ধিৎসু মন-মানসিকতা তাঁকে আল্লাহ দান করে মহাসত্য অনুসন্ধানের পথে অগ্রসর করেছিল। এ কারণে আমরা তাঁর জীবন-ইতিহাসে দেখতে পাই, তরুণ বয়সে তিনি প্রচলিত কোন একটি দিকের প্রতি দু’বারের অধিক আকর্ষিত হননি।

বিশ্বনবী (সাঃ) ছোট কাল ছিল আদর্শের মাপকাঠিতে উত্থীর্ণ

কিশোর বা তরুণ বয়সে তিনি তাঁর সমবয়সীদের কাছে তাঁর পশুপাল রেখে মক্কা শহরে কোন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। প্রথম বার আসার সাথে সাথে তাঁর চোখে এমন ঘুম দেয়া হয়েছিল যে, তিনি উক্ত অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোন কিছুই বলতে পারবেন না।

দ্বিতীয় বার আসার পরেও এ একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। গভীর ঘুমের অতলে তাঁকে তলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সমস্ত চেতনাকে এমন ভাবে আচ্ছন্ন করে দেওয়া হয়েছিল, উক্ত অনুষ্ঠানের কোন শব্দও যেমন তাঁর পবিত্র কর্ণে প্রবেশ করেনি, কোন দৃশ্যও তত তাঁর পবিত্র চোখ দর্শন করেনি।

এ সম্পর্কে স্বয়ং বিশ্বনবী (সাঃ) বলেছেন, ‘মূর্খতার যুগে মানুষ যা করতো সেসব কাজ করার ক্ষেত্রে দু’বারের অধিক আমার ভেতরে আগ্রহ জাগে নি। আর সে দু’বারই আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছেন। এরপর থেকে সে কাজের কোন আগ্রহ আমার ভেতরে সৃষ্টি হয়নি।’ (ইবনে জারীর, বায়হাকী)

সে যুগে মানুষ বস্ত্রহীন হতে সামান্যতম দ্বিধা করতো না। লজ্জা নামক অনুভূতি ছিল মৃত। পিতার সামনে সন্তান, সন্তানের সামনে পিতা উলঙ্গ হতে কোন দ্বিধা করতোনা। বিশ্বনবীকে মহান আল্লাহ এই উলঙ্গতা থেকে দু’বার হেফাজত করেছেন তৃতীয় বারের প্রয়োজন হয়নি।

তাকে আরবের সমস্ত পঙ্কিলতা থেকে হেফাজত করা হয়েছিল। তাঁর যে অপূর্ব সুন্দর চেহারা ছিল, বর্ণনাতীত ছিল দেহের গঠন, দৃষ্টির চাহনি, কথার মাধুর্যতা, এ সমস্ত দিকসহ তাঁর পূর্বে কোন মানুষ পৃথিবীতে আসেনি এবং কিয়ামত পর্যন্তও আসবে না।

পাপাচারে লিপ্ত হবার সব ধরণের যোগ্যতা এবং অবাধ সুযোগ থাকার পরেও তাঁকে কোন পাপ স্পর্শ করতে পারেনি।

তদানীন্তন পৃথিবীর অবস্থা, যে দেশে আগমন করেছিলেন সে দেশের অবস্থা, যে পরিবেশ এবং সমাজে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সে পরিবেশ এবং সমাজের অবস্থার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে এবং তাঁর স্বভাব চরিত্র ও জ্ঞান বিবেক বুদ্ধি বিচক্ষণতার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে বিষয়ে বিমুঢ় হতে হয়।

তাঁর চার পাশের পরিবেশ তাঁর সমগ্র সত্তার শতকোটি ভাগের একভাগকেও নিজের প্রভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি। কেন পারেনি-এ প্রশ্নের উত্তর ইউরোপীয় চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষকদের কাছে অনুপস্থিত।

তাঁরা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম। কারণ তাদের দর্শন, কথন, লেখন, চলন ইত্যাদি সবই জড়বাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতার ওপরে ভিত্তিশীল। যা অত্যন্ত ভঙ্গুর। বিশ্বনবী (সাঃ)-এর এ সমস্ত দিক সম্পর্কে জবাব দিতে হলে অতীন্দ্রিয় শক্তিকে অকুণ্ঠ চিত্তে স্বীকৃতি দিতে হয়, আর এ দিকের স্বীকৃতি দিতেই তাদের বিরাট কার্পণ্যতা। যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় তা তাঁরা গ্রহণ করবেন না, যদিও করেন তা খণ্ডিত আকারে।

তাদের দাবী হলো, মানুষের মোট ইন্দ্রিয় হলো চৌদ্দটি। বাক, পানি, পাদ, বায়ু ও উপস্থ। এই পাঁচটি হলো কর্মেন্দ্রিয়। চক্ষু, কর্ণ, নাসা, জিহ্বা ও ত্বক। এই পাঁচটি হলো জ্ঞানেন্দ্রিয়। মন, বুদ্ধি, অহংকার ও চিত্ত। এই চারটি হলো অন্দরিন্দ্রিয়। এ সমস্ত ইন্দ্রিয়ের যা অগ্রাহ্য তাঁরা গবেষণার বিষয় বলে মনে স্থান দেন না।

অতীন্দ্রিয় শক্তিকে তাঁরা স্বীকৃতি দেন না বটে, অথচ তাঁরা নানা ধরণের কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন। পশ্চিমা দেশসমূহ ভ্রমণ করলে দেখা যায় তারা মৃত আত্মার সদগতির জন্য বিদঘুটে অনুষ্ঠান করেন, অদ্ভুত নিয়ম পালন করেন।

বছরের নির্দিষ্ট দিনে ঐ সব দেশে ভূত তাড়ানোর জন্য নানা ধরণের অনুষ্ঠান করেন। সিঙ্গাপুরের মত দেশে দানবের পূজা করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে। তাদের মুদ্রার ওপরে দানবের চিত্র, প্রায় বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের দরোজার জানালার ওপরে দানবের চিত্র, প্রতিটি বাড়িতে দানবের পূজা করা হয়।

কেন করা হয় এ প্রশ্ন করলে কোন উত্তর পাওয়া যায় না। একদিকে কুসংস্কারে অন্ধ হয়ে থাকবে অপরদিকে বিশ্বনবীর বক্ষ-বিদারণের অবস্থাকে এবং ওহী অবতীর্ণের অবস্থাকে তাঁরা বলবে, তা ছিল মৃগীরোগ।

মহাসত্যের প্রতি অন্ধ বিদ্বেষ এবং ইসলামের প্রতি আক্রোশের কারণেই যে এসব কথা বলা হয় তা তাদের জীবনধারা এবং লেখনীর ধরণ, তাদের লেখনীর শব্দ চয়নের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

বিশ্বনবীর শিক্ষার ব্যাপারে আমরা বলতে চাই, তদানীন্তন সমাজ ও সামগ্রিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহ স্বয়ং ছিলেন তাঁর শিক্ষক। ইতিপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি, তাঁর সম্পূর্ণ সত্তাকে আল্লাহ নিষ্কলুষ করেই সৃষ্টি করেছিলেন এবং সমস্ত চেতনার জগতে পাপের প্রতি একটা প্রচণ্ড বিদ্রোহ সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। যাবতীয় অন্যায়ের ওপরে তাঁর একটা অবিমিশ্র ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষ ওহী-জ্ঞানের পূর্বে মহান আল্লাহ অলক্ষ্যে থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় জ্ঞানদান করেছেন এবং শিক্ষা দিয়েছেন। এ কারণেই তিনি ছিলেন নিষ্পাপ, সমস্ত ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে এক বিস্ময়কর জগতে তিনি অবস্থান করেছেন। কলুষহীনতা আর নিষ্পাপের বর্ম দ্বারা বিশ্বনবীর নিজস্ব পৃথিবী ছিল পরিবেষ্টিত।

সে পৃথিবীতে পাপের প্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ অসাধ্য। বিশ্বনবীর ব্যক্তিত্বই ছিল এমন যে, যাবতীয় পাপ এবং অন্যায় তাঁর সামনে মাথানত করতে বাধ্য হত। নবুওয়ত দানের পূর্বে তাঁকে যে প্রক্রিয়ায় শিক্ষা দেওয়া হতো, নবুওয়ত দানের পরে সে প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা হলো।

এখন আর অলক্ষ্যে থেকে নয়, প্রত্যক্ষভাবে পর্দার আড়াল থেকে বা ফেরেশতার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করার ব্যবস্থা করলেন। ইমাম শা’বী বর্ণনা করেছেন, নবুওয়ত দানের পরপরই মহান আল্লাহ হযরত ইসরাফিল (আঃ) -কে বিশ্বনবীর সঙ্গী বানিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে ওহী প্রদান করা তাঁর দায়িত্ব ছিল না।
প্রতিটি রাসুলের কাছে ওহী প্রদানের দায়িত্ব হলো হযরত জিবরাঈল (আঃ) -এর। হযরত ইসরাফিল (আঃ) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মাধ্যম হিসাবে অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করতেন।

কিভাবে তাঁকে শিক্ষা দেওয়া হতো এ সম্পর্কে গবেষকগণ বলেছেন, হতে পারে সেটা ইলকা বা ইলহামের মাধ্যমে বা স্বপ্নের মাধ্যমে অথবা প্রত্যক্ষভাবে। কখন বিশ্বনবী (সাঃ)-কে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, এ ব্যাপারে তাঁর মনের জগতে সঠিক চিন্তা চেতনা জাগ্রত করে দেওয়ার দায়িত্ব হয়তো ছিল হযরত ইসরাফিল (আঃ)-এর। (ইবনে জারীর, কাসতুলানী-মুয়াহেবুল্লাদুন্নিয়াহ, তাবাকাতে ইবনে সাআদ)

আল্ল ওয়াকেন্দী হযরত ইসরাফিল (আঃ)-এর কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হযরত জিবরাঈল (আঃ) ব্যতীত অন্য কোন ফেরেশতাকে বিশ্বনবী (সাঃ)-এর জন্য নিয়োজিত করা হয়নি।’

কিন্তু ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বায়হাকি ও ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আল হাফেজ হযরত ইসরাফিল (আঃ)-এর বিষয় ইমাম শা’বী থেকে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইমাম শা’বী হযরত ইসরাফিল (আঃ)-এর কথা কোন সূত্রে অবগত হয়েছেন সে সূত্রের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।

কারণ তাঁর বর্ণনার সূত্র আসার প্রয়োজন খোদ বিশ্বনবী (সাঃ) থেকে। তবুও ইমাম শা’বী একজন প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদ, তাঁর বর্ণনা সমূহ অত্যন্ত শক্তিশালী। মর্যাদার দিক থেকেও তিনি এতটা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন যে, তাঁর কোন বর্ণনা গ্রহণ করেও গত্যন্তর নেই। কিন্তু হযরত ইসরাফিল (আঃ) -এর বিষয়ী এমন যে, তা অনেকে স্বীকার করেছেন আবার অনেকে অস্বীকার করেছেন।

আমাদের মতে বিষয়টি অস্বীকার করার মত নয় এ কারণে যে, সাধারণ নবীদের কাছেই ফেরেশতা এসেছেন। হযরত আদম (আঃ)-সহ বিভিন্ন নবীদের কাছে ফেরেশতা এসেছেন। হযরত লুত (আঃ)-এর কাছে ফেরেশতা আগমন করেছেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে ফেরেশতা এসেছেন।

সুতরাং হযরত জিবরাঈল (আঃ) ব্যতীত অন্য কোন ফেরেশতা নবীদের কাছে আসবে না এমন হতে পারে না। মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা প্রেরণ করতে পারেন। পক্ষান্তরে হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর বিষয়টা আমরা নিশ্চিত যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ফেরেশতা ওহী আনয়ন করবেন না বা অন্য কাউকে সে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

তারপরেও ইমাম শা’বী এমন এক স্তরের মুহাদ্দিস যে, তাঁর কোন বর্ণনা অগ্রাহ্য করার মত নয়। পক্ষান্তরে বিশ্বনবী (সাঃ)-এর নবুওয়ত লাভের পর থেকে তাঁর জ্ঞানের জগতের যে দৃশ্য পৃথিবী-বাসীর সামনে আছে, তাঁর জ্ঞানের শতভাগের একভাগও আমরা কোন মানুষের ভেতরে দেখি না।

এ থেকে আমাদের কাছে এটাই প্রমাণ হয় যে, তাঁর প্রতি সেই অদৃশ্য জগৎ থেকে অবিরাম জ্ঞানের বৃষ্টি বর্ষণ করা হত, আর এই জ্ঞান বৃষ্টি বর্ষণের দায়িত্ব হয়তো মহান আল্লাহ হযরত ইসরাফিল (আঃ)-কে দিয়েছিলেন।

বিশ্বনবী (সাঃ)-এর কথা, ওঠা-বসা, ঘুম, আহারাদি তথা সমস্ত কিছুর ভেতরে আমরা এমন শিক্ষালাভ করি, জ্ঞানের এমন প্রকাশ ঘটে দেখি, এমন উন্নত রুচির পরিচয় লাভ করি, যা কোন সাধারণ মানুষের ভেতরে দেখা যায় না।

সুতরাং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে মহান আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতা দ্বারা পরিচালিত করবেন এতে অবাক হবার কিছু নেই। পবিত্র কোরআনেও এ কথার সমর্থন পাওয়া যায়। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনবী (সাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, তুমি সহায়, ইয়াতিম, সম্পদহীন, জ্ঞানহীন ছিলে।

কিতাব কি জিনিষ তুমি জানতে না, ঈমান কি তা তুমি জানতে না, আল্লাহ সম্পর্কে তুমি কিছুই জানতে না। তিনিই তোমাকে সমস্ত কিছু শিক্ষাদান করেছেন। তোমাকে সম্পদ দান করেছেন। তোমাকে আশ্রয়দান করেছেন। (আল কোরআন, সুরা দোহা ও সুরা শুরা)

পবিত্র কোরআনের সুরা শুরার ৫২ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘কিতাব কি জিনিষ তুমি কিছুই অবগত ছিলে না, ঈমান কি জিনিষ তুমি জানতে না। কিন্তু সেই রুহকে একটা আলো বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা দ্বারা বান্দাদের ভেতরে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি।’

সুরায়ে জিনের ২৭ নং আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তাঁর রাসুল অদৃশ্য জগতের সংবাদ রাখেন না, কিন্তু যতটুকু প্রয়োজন হয় মহান আল্লাহ তা তাঁর রাসুলকে অবগত করেন। তাঁর সাথে প্রহরী হিসাবে ফেরেশতা নিয়োজিত করেছেন।

সুতরাং কোরআনের এসব বর্ণনা সামনে রাখলে, ফেরেশতা নিয়োজিত করে বিশ্বনবী (সাঃ)-কে শিক্ষাদানের বিষয়টি কিভাবে অস্বীকার করা যায়?