উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে, তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে!

ধারনা করা হয় সকল পরীক্ষার্থী এই বাগধারা পড়েই মেট্রিক পাশ করেছেন। ছাত্র জীবনে মানুষ ছাত্ররা বাস্তবতার মুখোমুখি তেমন একটা হয়না। তাই পরিণত বয়সে অনেক কথা বুঝা গেলেও ছাত্রাবস্থায় অনেক কিছু না বুঝেই মুখস্থ করা হয়।

পৃথিবীতে বিত্তশালী মানুষেরা প্রশংসা পাবার জন্যই গরীব-অভাবী মানুষদের বেশী সান্নিধ্যে আসেন। বিত্তশালীরা তোষামোদ, প্রশংসা, স্তুতি খুবই পছন্দ করেন। এই কাজের জন্য মোটামুটি অবহেলিত শ্রেণীর মানুষেরা খুবই পারঙ্গম। তাদের দরকার পেট চালানো। দুই জনের সমস্যা এভাবে এক চিন্তায় মিটে যায় বলে একে অপরের উপর নির্ভর শীল থাকে। এক্ষেত্রে মধ্যম শ্রেণীর মানুষ একেবারেই অকেজো। তারা না উপরে যেতে পারে না নীচে নামতে পারে।

সরকারী উচ্চ চাকুরীজীবী, পদস্থ কর্মকর্তার সাক্ষাত পাওয়া বড়ই কঠিন। এমনকি তাঁদের বাসায় গিয়ে বড় উপঢৌকন দিয়েও মন গলানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে অফিসের পিয়ন, টি-বয় অনেক ক্ষমতাধর! তাদেরকে রাজি করতে পারলে বসকে বশে আনা খুবই সহজ। যদিও বস ও টি-বয়ের দায়িত্বে বিস্তর ব্যবধান। কিন্তু তারা পরস্পর স্বার্থের কারণে আন্তরিক বন্ধুতে পরিণত হন। আর মধ্যম! তারাই তো ঘুষ দিয়ে এই দুই পদের মানুষদের চালায়।

সামুদ্রিক তিমি-হাঙ্গরের সাথে কয়েকটি ছোট মাছের প্রজাতি ঘোরাফেরা করে। এসব ছোট মাছকে বড়রা খায় না। এদের নাম ‘আঁতেল মাছ’ অনেকে ‘চামচা মাছ’, ‘নাপিত মাছ’ বলে থাকেন। কেননা এই মাছগুলো বড় মাছের দাঁত, কান, চোখ সহ দেহের দূরহ জায়গা চুলকিয়ে ময়লা খসিয়ে দেন। তাই বড়দের অস্তিত্ব টিকে থাকার জন্য ছোটদের বড় প্রয়োজন। উত্তম-অধমের খেলা সমুদ্রের তলদেশেও বিদ্যমান।

ধনীরা কখনও চায়না, দেশ ও সমাজ থেকে দরিদ্রতা দুর হোক। তাদের চিন্তা ধারা এমন, সমাজে গরীব আছে বলেই তো, তাদেরকে ধনীর মত লাগে! সবাই যদি স্বচ্ছল হয়ে যায়, তাহলে ধনীর অবস্থান আলাদা করা যাবে কিভাবে? তাই তারা অহর্নিশি কাজ করতে থাকে যেন দরিদ্রতা লেগেই থাকে। এসব ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন তলায় যাক নিজেই নিজের জয়গান গাইতে থাকে আর লুট করতে থাকে দেশের সম্পদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *