কাবিনের টাকা ও ইজ্জতের সওয়াল – পর্ব ১

২৭ লাখ টাকা দেন-মোহরে খুবই ঘটা করে মাসুম-মিতুলের বিয়েটা হয়ে যায় ১৯৯৭ সালে। দু’জনের পিতা-মাতাই ধনী। দেখতে অপূর্ব সুন্দরী, পুতুলের মত মেয়েটি বেড়ে উঠেছিল আরাম-আয়েশের জীবনে। মাসুমের পরিবারে নববধূকে নিজের হাতে কাজ করার দরকার পড়ে না। তারপরও স্বামীর আবদারে যে কয়বার চায়ের প্লেটে করে চা দিয়েছে, প্রতিবারেই ঘটেছে অঘটন! কখনও কাপ ভেঙ্গেছে, কখনও বা প্লেট; আর সর্বদা গরম চায়ের আঘাতে বরবাদ হয়েছে লেপ-তোষক, পোশাক-পরিচ্ছদ। প্রথমে স্বামী এসবকে আদরে উপেক্ষা করেছে, অতঃপর স্বামীর আনাড়ি বধূ খোটাকে কেন্দ্র করে রাগারাগি-কান্নাকাটি। মেয়ের মায়ের সাফ কথা, আমার মেয়ে চাকরানী নয়। মেয়েকে পছন্দ না হলে আইনানুগ-ভাবে ফেরত দাও। বছর না যেতেই কনে ফেরতের কথা চারিদিকে চাউর।
 

 

ছেলে মাসুম বুঝাতে চায় আরে বাবা, দুনিয়ার সকল স্বামীদের কে কি চাকরানীরা চা খাওয়ায়! কখনও বন্ধু-বান্ধব আসলে তো পরিবেশন করাটা গৃহকর্তীর দায়িত্ব। তিনিই যদি কাজ না বুঝেন তাহলে চাকরানী দিয়ে কাজ আদায় করাবেন কিভাবে? কারো নিকট থেকে কাজ আদায় করাতে গেলে নিজের কাছেও তো কিছু কাজের জ্ঞান লাগবে। পৃথিবীর সকল কিশোর-কিশোরীর চেহারা সুন্দর-চমৎকার হয়, এটা স্থায়ী নয়; ভাটার টান পড়বেই। এটা আল্লাহ দিয়েছেন, বিয়ের কাজটা যথাযথ ও তাড়াতাড়ি হবার জন্যই।
বাড়ীতে অনুষ্ঠান। স্বামী ও কন্যা পক্ষের মানুষেরা এসেছে। নতুন বধূ চা-নাস্তা পরিবেশন করবেন। চাকা-ওয়ালা চলমান ট্রেতে করে চা-নাস্তা আগেই আনিয়ে রাখা হয়েছে। মেহমানদের স্থানে নাস্তা রাখার জন্য, ট্রে-টাকে একটু এদিকে ওদিকে ঠেলার দরকার হয়। ঠেলতে গিয়েই বিপত্তি! ট্রে সরছে না কিংবা সামনের দিকে আগাচ্ছেনা (কার্পেটের কোনায় চাকা আটকে আছে) দেখে এমন জোড়ে ধাক্কা দিলেন যে, পুরো ট্রে উল্টে গিয়ে সমুদয় নাস্তা পানি মেঝে-টেবিল ও মেহমানদের পোষাকে একাকার, পুরো ঘর কর্দমাক্ত। মুখ ফস্কে স্বামীর মুখ থেকে অলৌকিক একটি কথা বের হয়ে গেল, “অকর্মা কোথাকার”! ব্যস আর যায় কোথায়। একেতো উলুলে বুড়ি, তার উপরে ঢোলের বাড়ি।
মেয়েকে সর্বদা শ্বশুর অপমান করা হয়! এই বলে সে বাপের বাড়ীতে চলে গেল! সাথে সাথে তালাকের দাবীতে আদালতে মামলা করা হয়। সাতাশ লক্ষ টাকা! চাট্টিখানি কথা নয়! ছেলে পক্ষও বাঁচতে চায়। তারাও স্বর্ণ চুরির মামলা টুকে দেয়। দুই পক্ষে আসর জমিয়ে বসল একদল উকিল। বর্তমানে তাদের মামলার সংখ্যা পনের টি। আজ বাইশ বছর না মামলার সুরাহা হয়েছে! না এই যুগল নতুন করে কোথাও বিয়ে বসতে পেরেছে। ব্যক্তি জীবনে এদের কেউ ধর্ম মেনে চলেনা কিন্তু নিজেদের গোঁয়ার্তুমি, জেদ আর হঠকারিতাকে জিইয়ে রাখতে ধর্মকে করেছে মাধ্যম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *