কৃতজ্ঞতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ

টিপুভাই ডট কম ব্লগের ছবি, নজরুল ইসলা টিপু - tipuvai.com
প্রসিদ্ধ সাহাবী উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাঃ) একবার বাদশাহ আবদুল মালেকের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। তাঁর সাথে ছেলেও এসেছিল। পুত্রের আবদারে পিতা বাদশাহর ঘোড়ার আস্তাবল দেখতে গেলে, পুত্র একটি ঘোড়ায় উঠার ইচ্ছা করে। পুত্র ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হলে, ঘোড়া তাকে বেকায়দা ভাবে ফেলে দেয়। ফলে ঘটনাস্থলে সাহাবী পুত্র মারা যায়। সন্তান হারা পিতা মনোকষ্ট নিয়ে বাড়ী ফিরে আসে।
বাড়ীতে আসার পর তাঁর পায়ে ফোঁড়া অথবা পচন-কারক ক্ষতস্থান তৈরি হয়। ডাক্তার পা কেটে ফেলার জন্য পরামর্শ দেন। রাসুলের (সাঃ) এই সাহাবী পা খানা কাটার জন্য বাড়িয়ে দেন। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন একটু মদ খেয়ে নিলে অস্ত্রোপচারে ব্যথার কষ্ট কম অনুভব হবে।
উরওয়া (রাঃ) বললেন, ‘আমি কোন অবস্থাতেই হারাম জিনিষের সহযোগিতা নেব না। আপনি আমার পা কাটতে শুরু করুন আমি ধৈর্য ধারণ করব’।
পা কাটার পর, ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বন্ধ করার জন্য লোহা পুড়িয়ে লাল দাগ লাগানো হচ্ছিল। পোড়া আর কাটার তীব্র ব্যথার যন্ত্রণায় তিনি বার বার বেহুশ হচ্ছিলেন। তিনি কাটা পায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হে আমার প্রিয় পা, যে আল্লাহ তোমাকে আমার জন্য সৃষ্টি করেছেন, তিনি ভাল করেই জানেন যে, আমি তোমার সাহায্যে হেঁটে কোন হারাম কাজে যাইনি, তাই তোমাকে হারিয়েও আমি ধৈর্য ধারণ করব‘।
তিনি কিছুটা সুস্থ হলে পর আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করতেন:
“হে আল্লাহ, তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে, আমার চারখানা হাত পা থেকে একটি নিয়ে নিয়েছ, বাকী তিনটি তো অক্ষত রেখেছ! আমার চার জন ছেলের মধ্য থেকে একজনকে নিয়ে গিয়েছ, বাকি তিন জনকে তো জীবিত রেখেছ। কিছুদিন যদিও কষ্ট দিয়ে থাক কিন্তু জীবন সংগ্রামে অনেক দিন তো সুখ-শান্তি দিয়েছ”।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তুমি যদি সুখী হতে চাও, তাহলে তোমার নিচের মানুষদের প্রতি তাকাও। তাহলে মনে প্রশান্তি আসবে’।
তাই আমাদের যাদের চার খানা হাত-পা আছে, তারা যাতে প্রতিনিয়ত ভাবতে থাকি আমি একজন পঙ্গুর চেয়ে ভাল আছি। আমিও যদি পঙ্গু হতাম তাহলে আমাকেও অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হত। যদি বোবা হতাম, মনের দুঃখের কথা বলতে-বুঝাতে পারতাম না। যদি বধির হতাম তাহলে পৃথিবীর কত সুন্দর আওয়াজ, মায়ের ডাকা শুনতে পেতাম না! যদি চর্মরোগী হতাম তাহলে পৃথিবীর বেশীর মানুষের কাছে অবহেলার পাত্র হতাম। যদি পাগল হতাম তাহলে রাস্তার শিশুদের আনন্দের খোরাক হতাম। আমি বর্তমানে কি হয়েছি, সেটাতে আমার কোন যোগ্যতা-দক্ষতা নাই, সেভাবে আমি যদি ওদের মত হতাম তাহলে সেখানেও আমার কোন ইচ্ছা-অভিলাষ কাজ করত না। তাই আল্লাহর ইচ্ছার উপর নিজেকে সঁপে দেই এবং যে অবস্থায় আছি সে অবস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে থাকি।

 

আল্লাহ বলেছেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও তাহলে তোমাদের জন্য ব্যাপক পরিমাণে বাড়ানো হবে, যদি অকৃতজ্ঞ হও তাহলে কেড়ে নেওয়া হবে‘।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *