খাদিজা ও মুহাম্মদ (সাঃ) বিয়ের প্রস্তাব এবং বিয়ে

খাদিজা ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিয়ের প্রস্তাব

খাদিজা ও মুহাম্মদ (সাঃ) বিয়ের প্রস্তাব

খাদিজা (রাঃ) বুঝে ফেলেছিলেন যুবক মুহাম্মদ (সাঃ) এর মত যোগ্য, বিশ্বস্থ, কর্মঠ, আমানদার এবং ব্যবসায়িক কাজে অভিজ্ঞ কাউকে আর পাওয়া যাবে না। তাছাড়া মুহাম্মদ (সাঃ) যেমনি সুদর্শন তেমনি আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

কোন বর্ণনায় দেখা, নানা দিক বিবেচনা করে খাদিজা স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলেন, ‘আপনি আমার অতি কাছের একজন। আপনার সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, আপনাকে আমি স্বামীত্বে বরণ করবো।’

মক্কার সে সমাজে তখন মেয়রের নিজের বিয়ের ব্যাপারে স্বীয় মতামত পেশ করতে পারতো। হযরত খাদিজার চাচার উপস্থিতিতেই বিয়ের সমস্ত কথা ঠিক হয় এবং যথা সময়ে মক্কার গন্য মান্য ব্যক্তিদের সহ আবু তালিব এবং হযরত হামজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন হয়।

খাদিজা ও মুহাম্মদ (সাঃ) বিয়ের মোহরানার পরিমাণ

মুহাম্মদ (সাঃ) এর চাচা স্বয়ং আবু তালিব তাদের বিয়ের বিয়ের খোতবা পাঠ করেন এবং দেন মোহর ধার্য করা হয় ৫০০ শত দেরহাম।

কোন বর্ণনায় দেখা যায়, সে সময়ে হযরত খাদিজার পিতা জীবিত ছিল এবং মেয়ের বিয়ে সে পড়িয়েছিল। আবার কোন বর্ণনায় এভাবে এসেছে যে, খাদিজার পিতা তখন মদ পান করে মাতাল হয়ে পড়েছিল বল উপস্থিত থাকেন নাই।

তারপর নেশা কেটে যাওয়ার পরে সে যখন জানতে পারলো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মত ধন-সম্পদ-হীন একজনের সাথে তাঁর ধনশালিনী কন্যা খাদিজা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। তখন সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিল, এই বিয়েতে কোন সামঞ্জস্যতা নেই।

এ ধরণের বর্ণনার কোন ভিত্তি নেই। গবেষকদের গবেষণা অনুযায়ী যে সত্য প্রকাশ পেয়েছে এবং ইবনে সাআদ এবং ইমাম সুহাইলী উল্লেখ করেছেন, খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর বিয়ের সময় তাঁর পিতা খুয়াইলিদ জীবিতই ছিলেন না।

খাদিজার পক্ষে বিয়ের মুরুব্বী ছিলেন তার চাচা আম্বর ইবনে আসাদ

তিনি প্রায় বিশ বাইশ বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেছিলেন। খাদিজার চাচা আম্বর ইবনে আসাদ তাঁর ভাতিজির বিয়ে পড়িয়ে দেন। তবে দেন মোহরের ব্যাপারে মত পার্থক্য হলো, কেউ বলেছেন ৪০ দিনার আবার কেউ বলেছেন ৫০০ দিনার।

আরেক বর্ণনায় দেখা যায়, ইবনে সা’দ নূফাইসা বলেন, হযরত খাদিজা নিজের স্বামী হিসেবে যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পছন্দ করলেন তখন তিনি আমাকে তাঁর কাছে প্রেরণ করেছিলেন মতামত জানার জন্য।

ইবনে সাদ নুফাইসা বিয়ে বিষয়ে খাদিজা ও মুহাম্মদ (সাঃ) এর মধ্যে কথোপকথন ঘটিয়ে দেন

আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলেছিলাম, ‘আপনি কেন বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন না?’ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমার কাছে এমন কি সম্বল আছে, যে আমি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবো?’

নূফাইসা বলেন, তাঁর কথার উত্তরে আমি তাকে বললাম, ‘সে চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই। এমন এক পাত্রীর কথা আমি বলবো যার রূপ সৌন্দর্য আছে, সম্মান প্রভাব প্রতিপত্তি আছে এবং বিশাল সম্পদ আছে। আপনি কি তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হবেন?’

তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, ‘তুমি কোন পাত্রীর কথা জানাচ্ছো?’ আমি তাকে হযরত খাদিজার কথা জানালাম। তিনি বললেন, ‘তাঁর সাথে আমার বিয়ে হওয়া কি সম্ভব?’
আমি তাকে জানালাম, ‘এ ব্যাপারে আপনাকে ভাবতে হবে না, যা করার আমি করব।’

আমার কথায় তিনি বললেন, ‘এমন হলে আমার অমত নেই।’

এরপর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চাচা হযরত হামজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এবং আবু তালিবকে সাথে করে নিয়ে এলেন। আর খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর পক্ষ থেকে তাঁর চাচা আম্বর ইবনে আসাদ উপস্থিত ছিলেন।

খাদিজা ও মুহাম্মদ (সাঃ) ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু বকর উপস্থিত ছিলেন

বিশ্বনবীর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ও উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের দেন মোহর হিসাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২০টি উট হযরত খাদিজাকে দিয়েছিলেন। (ইসতেদ্করাক-পৃষ্ঠা নং-১২৮)

বিয়ের সময় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এবং খাদিজা (রাঃ)-এর কত বয়স ছিল এ সম্পর্কে বেশ মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। তবে সর্বজন স্বীকৃত মত হলো বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বয়স ছিল ২৫ বছর এবং হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর বয়স ছিল ৪০ বছর।

এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক মন্টগোমারী লিখেছেন, EThe turning-Point in the early part of Muhammad’s career is his marriage with Khadijah bint Khuwaylid b. Asad. The traditional account is that when Khadijah heard of the honesty, trustworthiness and high moral character of Muhammad she invited him to act as her agent on a caravan journey to Syria……she made an offer of marriage to him, which he accepted. She is said to have been forty at this time and Muhammad twenty-five. (Muhmmad At Mecca; W. Montgomery Watt; P-38)

আল্লাহর নবীর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু যে বাড়িতে বাস করতেন সে বাড়ি বর্তমানেও তাঁর নামেই পরিচিত। হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর শাসনামলে তিনি সে বাড়ি ক্রয় করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন।

খাদিজার গর্ভে মুহাম্মদ (সাঃ) এর সন্তানগন

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তানদের মধ্যে একমাত্র হযরত ইবরাহিম রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ব্যতীত অন্য সমস্ত সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন হযরত খাদিজার গর্ভে।

খাদিজার গর্ভে মুহাম্মদ (সাঃ) এর ৪ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তান

হযরত রোকাইয়া (রাঃ), হযরত যয়নব (রাঃ), হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) ও হযরত ফাতেমা (রাঃ) এই চার কন্যা এবং হযরত কাসেম (রাঃ) ও হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) এই দুই পুত্র সন্তান ও কন্যাগণ ছিল বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) এবং হযরত খাদিজা (রাঃ) সংসার জীবনের জান্নাতি ফুল।

খাদিজার বড় সন্তান কাসেমের নাম অনুসারে মুহাম্মদ (সাঃ) কে আবুল কাসেম তথা কাসেমের পিতা বলা হত

হযরত কাসেম রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর কারণে বিশ্বনবীকে আবুল কাসেম বা কাসেমের পিতা বলা হত। আর হযরত আব্দুল্লাহ )রাঃ) এর উপনাম.ছিল তাহের এবং তাইয়েব।

👈পূর্বের পোষ্ট 𝕋 পরের পোষ্ট 👉