ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – বই নোট

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন - বই নোট

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন বইটিতে সর্বমোট সাতটি অধ্যায় রয়েছে

  • ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন
  • ইসলামী আন্দোলনের শরয়ী মর্যাদা
  • ইসলামী আন্দোলনের সাফল্য
  • ইসলামী সংগঠন
  • আনুগত্য
  • পরামর্শ এবং
  • সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – প্রথম অধ্যায়

১. আন্দোলনের অর্থ ও সংজ্ঞা

  • আন্দোলন অর্থ: বাংলায় আন্দোলন, ইংরেজিতে Movement, আরবীতে حركة (হারাকাতুন)
  • সাধারণ অর্থ: কোনো দাবি আদায় বা কিছু রদ করার জন্য মানুষের সংঘবদ্ধ উদ্যোগ বা নড়াচড়া।
  • ব্যাপক রূপ: প্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যবস্থা অপসারণ করে নতুন ব্যবস্থা কায়েমের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা।
  • আদর্শিক দৃষ্টিকোণ: সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুসংগঠিত সংগ্রাম।
  • সারকথা: সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিলের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাই হলো আন্দোলন।

২. ইসলামের অর্থ ও সংজ্ঞা

  • শব্দার্থ: আনুগত্য করা, মাথা পেতে নেওয়া। মূল ধাতু ‘সিলমুন’ (سلم) – এর অর্থ শান্তি ও সন্ধি।
  • পারিভাষিক অর্থ: আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) জীবন-পদ্ধতি অনুসরণ এবং বিপরীত মত পরিহার করা।
  • শান্তির তাৎপর্য: মানুষের দাসত্ব দূর করে আল্লাহর দাসত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে প্রকৃত শান্তি ও পরিবর্তন আনা।
  • ইসলাম ও আন্দোলন: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান এবং মানবসমাজকে মানুষের প্রভুত্ব থেকে মুক্ত করার সর্বাত্মক আন্দোলন।

৩. ইসলাম ও আন্দোলন

  • মূল প্রাণসত্তা: ইসলাম কেবল দ্বীন (পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান) ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সব মতের ওপর বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে (তওবা: ৩৩, ফাতহ: ২৮, সাফ: ৯)।
  • জিহাদের বাধ্যবাধকতা: বিপরীত শক্তির ওপর বিজয়ী হওয়ার স্বাভাবিক দাবি হলো সর্বাত্মক সংগ্রাম। তাই কোরআনে জিহাদকে ইমানের অনিবার্য দাবি এবং কেয়ামত পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. ইসলামী আন্দোলনের পরিধি (জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ)

  • আরবি প্রতিশব্দ: আধুনিক আরবিতে ইসলামী আন্দোলনকে ‘আল হারাকাতুল ইসলামিয়্যা’ বলা হলেও কোরআনের পরিভাষা হলো ‘জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ’ (আল্লাহর পথে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা)।
  • জিহাদের সঠিক রূপ: যুদ্ধ বা কিতাল জিহাদের একটি অংশ মাত্র, সম্পূর্ণ জিহাদ নয়।
  • পাঁচটি মূল কার্যক্রম: ইসলামী আন্দোলন বা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ মূলত পাঁচটি কাজের সমষ্টি:

১. দাওয়াত ইলাল্লাহ

২. শাহাদাত আলান্নাস

৩. কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ

৪. ইকামাতে দ্বীন

৫. আমর বিল মা’রূফ ও নেহি আনিল মুনকার

৫. দাওয়াত ইলাল্লাহ (আল্লাহর দিকে আহ্বান)

  • পদ্ধতি: সব নবীর আন্দোলনের সূচনা হয়েছে আল্লাহর দাসত্ব কবুত এবং গায়রুল্লাহর দাসত্ব বর্জনের আহ্বানের মাধ্যমে।
  • কোরআনি নির্দেশনা: হিকমতের সাথে উত্তম উপায়ে আল্লাহর পথের দিকে ডাকতে বলা হয়েছে (আন-নাহল: ১২৫, ইউসুফ-১০৮)
  • কোরআনের রেফারেন্স: (আল আ’রাফ: ৫৯, ৬৫, ৭৩, ৮৫),
  • বিপ্লবী স্বরূপ: এই দাওয়াত ছিল তখনকার সমাজ ব্যবস্থার একটি আপসহীন বিপ্লবী ঘোষণা, যা স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে সংঘাত অনিবার্য করে তুলেছিল। (আল ইমরান: ১০৪)

৬. শাহাদাত আলান্নাস (সত্যের বাস্তব সাক্ষ্যদান)

  • ভূমিকা: রাসূল (সা.) ও তাঁর অনুসারীরা শুধু মুখে দাওয়াত দেননি, বরং নিজেদের চরিত্র ও আমলের মাধ্যমে ইসলামের বাস্তব নমুনা বা সাক্ষী পেশ করেছেন।
  • গুরুত্ব: এই জীবন্ত নমুনা বা সাক্ষ্যদানকারী দল তৈরি হওয়ার ওপরই ইসলামী আন্দোলনের সাফল্য নির্ভরশীল।
  • সাক্ষ্য দুই প্রকার: ১. মৌখিক সাক্ষ্য ২. বাস্তব সাক্ষ্য
  • কোরআনের রেফারেন্স: (মুযযাম্মিল: ১৫, আহযাব: ৪৫, বাকারা-১৪৩, আল মায়েদা: ৮, বাকারা: ১৪০)

৭. কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে সশস্ত্র সংগ্রাম)

  • কারণ: দাওয়াতের প্রভাবে নৈতিক প্রভাব বাড়লে কায়েমি স্বার্থবাদীরা যখন দাঈদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তখন আত্মরক্ষা ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সংঘাত বা যুদ্ধের প্রয়োজন হয়। (আন নিসা: ৭৬)
  • লক্ষ্য: ফেতনা দূর করে দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্যই কিতালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (আল-বাকারা: ১৯৩, আল-আনফাল: ৩৯, তাওবা: ২৯, তাওবা: ১১১)

৮. ইকামাতে দ্বীন (দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা)

  • সংজ্ঞা: কোনো জনপদে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলাম পালনে কোনো বাধা না থাকা। (আশ শুরা: ১৩, হাজ্জ: ৪১)
  • বাস্তবায়ন: ব্যক্তিগত উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন পালন সম্ভব নয়; এজন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ইসলামী আদর্শের অধীনে থাকা আবশ্যক। এটিই ইসলামী আন্দোলনের জাগতিক লক্ষ্য।

৯. আমর বিল মা’রূফ ও নেহী আনিল মুনকার (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ)

  • স্তর: দ্বীন কায়েমের পর এই দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়।
  • দায়িত্ব: এটি একদিকে সাধারণ উম্মতের ব্যক্তিপর্যায়ের দায়িত্ব, অন্যদিকে ইসলামী রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান প্রশাসনিক কাজ।

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – দ্বিতীয় অধ্যায়

১. ইসলামী আন্দোলনের শরয়ী মর্যাদা

  • ফরজ হওয়া: কোরআনের আলোকে ইসলামী আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত সব কাজই ফরজ, যা ‘ফরজে কেফায়া’ হলেও নফল বা সুন্নাতের চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
  • সবার দায়িত্ব: দাওয়াত, সত্যের সাক্ষ্য পেশ এবং ইকামাতে দ্বীনের বেশিরভাগ কাজ যেকোনো মানুষ যেকোনো অবস্থায় আঞ্জাম দিতে পারে।
  • সব ফরের বড় ফরজ: নিম্নের ৬টি বিষয়ের আলোকে এটি প্রমাণিত যে এটি কেবল ফরজই নয়, বরং সব ফরজের বড় ফরজ:

১. মানুষ আল্লাহর খলিফা হিসেবে জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মানতে বাধ্য, যার জন্য আন্দোলন জরুরি।

২. যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ (আ.) এই দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনই পরিচালনা করেছেন।

৩. শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ২৩ বছর বিপ্লবী আন্দোলন পরিচালনা করেছেন এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত জারি রাখার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।

৪. উম্মতে মুহাম্মদী হিসেবে পরিচয় দিতে হলে কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক।

৫. কোরআনে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে ইমানের অনিবার্য দাবি বলা হয়েছে (আন-নিসা: ৭৬)।

৬. আখেরাতে নাজাতের একমাত্র উপায় হলো ঈমানের সাথে আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করা।

২. ইসলামী আন্দোলনের কাজ আল্লাহর কাজ

  • আল্লাহর ইচ্ছা: সমাজে আল্লাহর হুকুম ও দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হোক—এটিই আল্লাহর ইচ্ছা।
  • সাহায্যকারী (আনসারুল্লাহ): যারা স্বাধীন ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে একাত্ম করে দ্বীন কায়েমের সিদ্ধান্ত নেয়, তারা আল্লাহর সাহায্যকারী বা অলি হিসেবে গণ্য হয় (আস-সফ: ১৪, মুহাম্মদ: ৭)।
  • পরীক্ষা–নিরীক্ষা: আল্লাহ তাঁর সাহায্যকারীদের ঈমান ও ধৈর্যের পরীক্ষা নেন (যেমনটি নবী-রাসূল ও পূর্ববর্তী মুমিনদের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল), যাতে খাঁটি ঈমানদার ও শহীদদের বাছাই করা যায় এবং কুফরি শক্তির মূলোৎপাটন করা যায় (মুহাম্মদ: ৩১, বাকারা: ২১৪,  আলে ইমরান: ১৪০-১৪১, তাগাবুন: ১১)

৩. এ কাজে শরীক হওয়ার জন্যেও আল্লাহর অনুমোদন প্রয়োজন

  • বিশেষ মেহেরবানি: দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সুযোগ পাওয়া বা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার সৌভাগ্য অর্জন করা আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানির ওপর নির্ভরশীল (আনকাবুত: ৬৯, আল-মায়েদা: ৫৪)
  • যোগ্যতা: যারা আল্লাহকে ভালোবাসে, এই পথে প্রাণান্তকর সংগ্রাম করে এবং কোনো নিন্দুকের পরোয়া করে না, কেবল তাদেরকেই আল্লাহ এই কাজের উপযুক্ত পাত্র হিসেবে কবুল করেন। ফলে এই নেয়ামত অক্ষুন্ন থাকার জন্যে আল্লাহর কাছে চাইতে হয় (আল ইমরান: ৮)

৪. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্যে একটি সতর্কবাণী

  • কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ব: এই কাজের সুযোগ পাওয়া আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ; তাই অহংকার না করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে এবং নিজের যোগ্যতা ও মেধার সবটুকু এই কাজে লাগাতে হবে।
  • বিকল্প শক্তি: আন্দোলনের কর্মীরা যদি দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা বা আদর্শচ্যুতির পরিচয় দেয়, তবে আল্লাহ তাদের বাদ দিয়ে অন্য কোনো জাতিকে এই কাজের সুযোগ করে দেবেন (আত-তওবা: ৩৮-৩৯, মুহাম্মদ: ৩৫-৩৮)।
  • সতর্কতা: নিজেদের অবদান নিয়ে খোটা দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে (আল-হুজুরাত: ১৭) এবং সর্বদাই আল্লাহর সতর্কবাণী সামনে রেখে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – তৃতীয় অধ্যায়

১. ইসলামী আন্দোলনের সাফল্য ও ব্যর্থতার মানদণ্ড

  • আল্লাহর নির্ধারিত মানদণ্ড: ইসলামী আন্দোলন আল্লাহর পথের আন্দোলন হওয়ায় এর সাফল্য-ব্যর্থতা জাগতিক উপায়ে নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া মানদণ্ড অনুযায়ী বিচার করতে হবে।
  • আখেরাতের সাফল্য (প্রধান প্রতিদান):
  • সূরা আস-সফ (আয়াত: ১২)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, গোনাহ মাফ এবং ঝরনাধারাযুক্ত জান্নাত লাভই হলো সবচেয়ে বড় সাফল্য। জাগতিকভাবে আন্দোলন সফল না হলেও আখেরাতের বিচারে নেককার হলে সেই আন্দোলন সফল গণ্য হবে।
  • জাগতিক সাফল্য তথা খেলাফত (দ্বিতীয় প্রতিদান):
  • সূরা আস-সফ (আয়াত: ১৩) ও সূরা আন-নূর (আয়াত: ৫৫)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, আল্লাহর পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য, বিজয় এবং পৃথিবীতে খেলাফত বা নেতৃত্ব লাভের ওয়াদা রয়েছে। তবে এর জন্য শর্ত হলো খাঁটি ইমান ও আমলে সালেহ থাকা।
  • আখেরাতকে মুখ্য করা: আখেরাতের সাফল্যকে চরম ও পরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করলে আল্লাহ উভয় জগতের সাফল্য দান করবেন।

২. নবী-রাসূলদের আন্দোলনের ইতিহাস ও ফলাফল

  • নূহ (আ.): সাড়ে ৯ শত বছর দাওয়াতি কাজ করার পর মুষ্টিমেয় লোক ঈমান আনলেও তিনি ব্যর্থ হননি; জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকাই সফলতা।
  • বনী ইসরাঈল ও নবীগণ: বনী ইসরাঈল নবী-রাসূলদের হত্যা করে নিজেরা দুনিয়া ও আখেরাতে ব্যর্থ ও অভিশপ্ত হয়েছে, অথচ শহীদ নবীগণ আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান হয়েছেন।
  • অন্যান্য নবী: ইব্রাহীম (আ.), ইউসুফ (আ.), দাউদ (আ.), সোলায়মান (আ.) ও মূসা (আ.) নিজ নিজ সময়ে সমাজে শান্তি, ইনসাফ ও ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

৩. জাগতিক সাফল্য অর্জনের আল্লাহর নিয়ম

  • নিয়ম: আল্লাহ ততক্ষণ কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা তা পরিবর্তনের চেষ্টা করে (সূরা আর-রা’দ: ১১)।
  • দুটি পূর্বশর্ত:
  • সমাজ পরিচালনার উপযুক্ত একদল খোদাভীরু লোক তৈরি হতে হবে
  • দেশের জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকতে হবে (যেমনটি মদিনায় ঘটেছিল)

৪. ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতির রূপসমূহ

  • প্রথম রূপ (পূর্ণ বিজয়): যোগ্য লোক তৈরির পাশাপাশি জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থনে ইসলাম বিজয়ী হওয়া। এটি আদর্শিক সাফল্য।
  • দ্বিতীয় রূপ (শাহাদাত বরণ): কাঙ্ক্ষিত সমর্থন না পেয়ে আন্দোলনের কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশ শহীদ হওয়া (যেমন: হযরত হোসাইন রা.)। আপাতদৃষ্টিতে এটি ব্যর্থতা মনে হলেও এটি সবচেয়ে ঝুঁকিমহীন ও পরম সাফল্যের পথ।
  • তৃতীয় রূপ (বহিষ্কার বা কোণঠাসা): দেশ থেকে বহিষ্কৃত বা আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ হওয়ার পরও যারা সবর ও ইস্তেকামাত বজায় রাখে, তাদের পরাজয় নেই; বরং কোণঠাসাকারীরাই পরিণামে ব্যর্থ হয়।
  • হাদিসের নির্দেশনা: “আল্লাহর হুকুম পালনে মৃত্যুবরণ করা, তার নাফরমানীর মধ্যে বেঁচে থাকার চেয়ে উত্তম।”

৫. জাগতিক সাফল্যের কোরআনিক শর্তাবলী

  • হাওয়ারীদের ভূমিকা: সূরা আস-সফ (আয়াত: ১৪)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ঈসা (আ.)-এর হাওয়ারীদের মতো আল্লাহর সাহায্যকারী হতে হবে।
  • অটল থাকার উপদেশ: সূরা আন-নূর (আয়াত: ৫৫-৫৭) অনুযায়ী খেলাফত অর্জনের জন্য নির্ভেজাল তাওহীদ অনুসরণ, শিরক বর্জন, নামাজ কায়েম, জাকাত আদায় এবং রাসূলের (সাঃ) এর এতায়াত বা আনুগত্য জরুরি। কুফরি শক্তির অসারতা বুঝতে হবে। (আহকাফ: ৩২)
  • আল্লাহর বিজয়ের ঘোষণা: সূরা আল-মুজাদালা (আয়াত: ২১-২২)-এর ঘোষণা অনুযায়ী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বদা বিজয়ী হবেন।

৬. আল্লাহর দল (হিযবুল্লাহ) হওয়ার ৬টি শর্ত

আল্লাহর সাহায্য ও চূড়ান্ত বিজয় লাভের জন্য কোরআনিক নির্দেশ অনুযায়ী নিচের ৬টি শর্ত পূরণ করতে হবে:

১. দৃঢ় বিশ্বাস: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বিজয়ী হবেন—এই ঘোষণার প্রতি পাকাপোক্ত একীন পোষণ করা।

২. সম্পর্কচ্ছেদ: আল্লাহ ও রাসূলের শত্রুরা নিকটাত্মীয় হলেও তাদের সাথে কোনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক না রাখা।

৩. খাঁটি ইমান: আল্লাহর বিশেষ তৌফিকে প্রাপ্ত সুদৃঢ় ইমানের অধিকারী হওয়া।

৪. রূহানি শক্তি: আল্লাহ প্রদত্ত রূহানি শক্তির বলে বলীয়ান হওয়া।

৫. রেজামন্দী: আল্লাহর সন্তুষ্টি বা রেজামন্দী লাভে সক্ষম হওয়া।

৬. সন্তুষ্ট চিত্ত: আল্লাহর যাবতীয় ফয়সালা হাসিমুখে ও দ্বিধাহীন চিত্তে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখা।

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – চতুর্থ অধ্যায়

ইসলামী সংগঠন

১. সংগঠনের অর্থ ও সংজ্ঞা

  • শাব্দিক অর্থ: সংগঠন (Organisation)- এর অর্থ বিভিন্ন (Organ)-কে একত্রিতকরণ, গ্রন্থায়ন ও একীভূতকরণ। মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুশৃঙ্খল ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রিত রূপের অনুকরণে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মানুষের সংঘবদ্ধ কাঠামোই হলো সংগঠন।
  • মুমিনদের দেহ সদৃশ: হাদিসে মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসাকে মানবদেহের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যার এক অংশ রোগাক্রান্ত হলে পুরো দেহ তা অনুভব করে (বুখারি ও মুসলিম)
  • ইসলামী সমাজ: ইসলামে জামায়াতবদ্ধ জীবন ছাড়া কোনো উপায় নেই। উমর ফারুক (রা.) বলেছেন, “জামায়াত ছাড়া ইসলাম নেই, নেতৃত্ব ছাড়া জামায়াত নেই এবং আনুগত্য ছাড়া নেতৃত্ব নেই।”
  • গুরুত্বপূর্ণ আয়াত:
  • মানবজাতির সৃষ্টি ও রবের ইবাদত (আল-বাকারা: ২১, আন-নিসা: ১, আল-হুজুরাত: ১৩)
  • সুদ বর্জন ও পারস্পরিক ব্যবসার নির্দেশনা (আল-বাকারা: ২৭৮, আলে ইমরান: ১৩০, আন-নিসা: ২৯)
  • জিহাদ ও আল্লাহর সাহায্যকারী হওয়া (আস-সফ: ১০-১১, ১৪)
  • সংঘবদ্ধ হওয়া ও সৎ কাজের আদেশ (আলে ইমরান: ১০৩, ১০৪, আত-তওবা: ৭১, আন-নিসা: ৫৯, আন-নূর: ৫৫)
  • হাদিসের নির্দেশ: হারেস আল-আশয়ারী (রা.) বর্ণিত হাদিসে জামায়াতবদ্ধ হওয়া, নেতার নির্দেশ শোনা ও মানা, অপছন্দনীয় কাজ বর্জন এবং জিহাদ করার নির্দেশ রয়েছে (আহমদ ও তিরমিজি)। জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন মৃত্যুকে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বলা হয়েছে (মুসলিম, তিরমিজি)।

২. সংগঠনের উপাদান

একটি ইসলামী সংগঠনের প্রধান উপাদানসমূহ হলো:

১. কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতি।

২. কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আনুগত্য।

৩. কোরআন ও সুন্নাহর বাঞ্ছিত মানের আনুগত্য।

৪. কর্মক্ষেত্র (প্রাথমিকভাবে নিজ দেশ ও জনগণ এবং সামগ্রিকভাবে পুরো দুনিয়া)।

৫. প্রাণশক্তি: পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যে সমালোচনার ব্যবস্থা।

৩. ইসলামী সংগঠনের প্রকৃত মডেল

  • মডেল: নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত সমাজ ও খোলাফায়ে রাশেদীনের পরিচালিত সমাজই ‘আল-জামায়াত’-এর একমাত্র মডেল (তোমাদেরকে আমার ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অবশ্য অনুসরণ করতে হবে) আবু দাউদ/তিরমিজি
  • অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা: বর্তমান ইসলামী রাষ্ট্র না থাকায় খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একমত হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে জামায়াত কায়েম করা জাহেলিয়তের মৃত্যু থেকে বাঁচার অন্তর্বর্তীকালীন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করাই উত্তম।

৪. ইসলামী সংগঠনের কার্যক্রম ও শরয়ী মর্যাদা

  • কার্যক্রম: দাওয়াত, শাহাদাত, কিতাল, ইকামাতে দ্বীন এবং আমর বিল মা’রূফ ও নেহী আনিল মুনকার।
  • শরয়ী মর্যাদা: জাহেলিয়াতের মৃত্যু থেকে বাঁচতে এবং ইসলামী রাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে এই সংগঠনের নেতৃত্ব নায়েবে রাসূলের মর্যাদা রাখে। এর সিদ্ধান্তসমূহ (কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী না হলে) সরাসরি আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের মর্যাদা রাখে “যে আমীরের আনুগত্য করল, সে প্রকৃত পক্ষে আমারই আনুগত্য করল”  – হাদিস

৫. আদর্শভিত্তিক ও গণমুখী নেতৃত্বের গুরুত্ব

  • আদর্শ ও গণমুখী: ইসলামী সংগঠন আদর্শভিত্তিক হলেও তা জনবিচ্ছিন্ন নয়; এটি মজলুম মানুষের সুপ্ত বেদনার অভিব্যক্তি।
  • সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান: অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে আন্দোলন সফল হতে পারে (কত ছোট ছোট দল বিরাট বিরাট দলকে আল্লাহর সাহায্যে পরাভূত করেছে – আল-বাকারা: ২৪৯। রাসূল (সা.) প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র চার-পাঁচজন সাথী নিয়ে এর আদর্শিক মডেল স্থাপন করেছিলেন।

৬. নেতৃত্বের গুরুত্ব

  • নেতার ভূমিকা: ইমাম বা নেতা হলো ঢালস্বরূপ, যাকে সামনে রেখে লড়াই ও আত্মরক্ষা করা যায় (আন নিসা: ৫৯)
  • ফরজ দায়িত্ব: উম্মতের জন্য ইমাম বা আমীর নিয়োগ করা ওয়াজিব বা ফরজ। বাইয়াত ছাড়া মৃত্যুকে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বলা হয়েছে (মুসলিম)।

৭. ইসলামী নেতৃত্বের সংজ্ঞা

ইসলামী নেতৃত্ব তিনটি শব্দের মর্মার্থ ধারণ করে:

১. খলীফা:

আল্লাহর খলিফা হিসেবে দ্বীন জারি করা, রাসূলের প্রতিনিধি হিসেবে দ্বীন পরিচালনা করা এবং মুসলমানদের (ইজতেমায়ী ভাবে) প্রতিনিধিত্ব করা, তদারক ও নিয়ন্ত্রন করা।

২. ইমাম:

যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং নিজে আমল করে অন্যদের অনুসরণীয় হন তিনি ইমাম। এখানে ইমাম অর্থ নেতা, যাকে ক্ষেত্র বিশেষে, শর্ত সাপেক্ষে অনুসরন, অনুকরন করা যাবে। (ইব্রাহীম আঃ কে ইমাম বানানোর ঘোষণা, আল-বাকারা: ১২৪)।

৩. আমীর:

যিনি আল্লাহর নির্দেশ ও বিধান বাস্তবায়নের জন্য আদেশদাতা ও পরিচলক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (সূরা আল-হাজ্জ: ৪১-এর আলোকে নামাজ, জাকাত, সৎ কাজ ও অসৎ কাজের বিধি প্রয়োগ) করতে পারেন।

নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া

১. ইসলামী নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া

  • নির্বাচনের মানদণ্ড: ঈমান, তাকওয়া, ত্যাগ-কোরবানি এবং মাঠে ময়দানে অগ্রণী ভূমিকার ভিত্তিতে উম্মতের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
  • পরামর্শ সভা (মজুলিসে শূরা): ক্যাডারদের প্রতিনিধি ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত শূরা নেতৃত্বকে নীতি নির্ধারণে ও কোরআন-সুন্নাহর স্পিরিট অনুসরণে সহযোগিতা করবে। এখানে আধুনিক প্রেসিডেন্সিয়াল ও পার্লামেন্টারি সিস্টেমের ভালো দিকগুলো বিদ্যমান থাকে।
  • উসওয়ায়ে হাসানা: নেতার কোনো বিশেষ বংশ বা গোত্র নয়, বরং নবীজির উসওয়ায়ে হাসানা (উত্তম আদর্শ) অনুসরণের মাধ্যমেই নেতার মান বৃদ্ধি পায়।

২. ইসলামী নেতৃত্বের ঐতিহাসিক মডেলের বৈশিষ্ট্য

আল-কোরআনের আলোকে তিন জন নবীর আদর্শ থেকে নেতৃত্বের গুণাবলি:

ক.  হযরত ইব্রাহীম (আ.):

  • তওহীদের পক্ষে আপসহীন ও সর্বস্ব ত্যাগে প্রস্তুত। পিতা মাতা আত্মীয় স্বজন পরিত্যাগ করতেও দ্বিধাহীন
  • আল্লাহর প্রতি নিবেদিত প্রান, তার হুকুমের কাছে বিনা দ্বিধায় আত্মসমর্পনকারী (আসলামতু লিরাব্বিল আলামীন)
  • ইমানের সকল অগ্নিপরীক্ষায় সফল। ফলে তাকে মানুষের নেতা হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। (আল-বাকারা: ১২৪)।

খ. হযরত মূসা (আ.):

  • শক্তিশালী (قوي) ও বিশ্বস্ত (امين) আমানতদার। তিনি নির্দেশ পেয়েই আল্লাহর সাহায্য চাইলেন ও ফেরআউনের দরবারে গেলেন
  • ত্ব-হা (২৫-৩৫) আয়াতের দোয়া অনুযায়ী নেতৃত্বের পাঁচ পাথেয়: শরহে ছদর (বক্ষ প্রশস্ততা), তাইছিরে আমর (সহজীকরণ), হল্লে আকদ (স্পষ্ট ভাষা), বিশ্বস্ত সহকর্মী কামনা এবং জিকির ও তাসবিহ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হওয়া। (বাকারা: ২৮৬)

গ. শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.):

  • শাহীদ (সাক্ষ্যদাতা), মুবাশশির (সুসংবাদদাতা), নাজির (সতর্ককারী) ও দাঈ ইলাল্লাহ (আহ্বানকারী)। (আহযাব: ৪৫-৪৮)
  • রাসূলের অনুপম গুণ: দয়ালু মন, ক্ষমার মানসিকতা, পরামর্শ করা এবং আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা ভরসা। (আল-ফাতহ: ২৮-২৯, আলে ইমরান: ১৫৯, আত-তওবা: ১২৮-১২৯)।

৩. হাদিসের আলোকে নেতৃত্বের গুণাবলী

  • উত্তম ও নিকৃষ্ট নেতা: আওফ ইবনে মালেক (রা.) বর্ণিত হাদিসে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দোয়াকারী নেতার প্রশংসা এবং নামাজ কায়েম করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক পদক্ষেপ নিষেধ করা হয়েছে।
  • সহনশীলতা ও নরম ব্যবহার: আল্লাহ নরম আচরণ পছন্দ করেন এবং কঠোরতা বা বদমেজাজী (হুতামা) নেতৃত্বকে অপছন্দ করেন (বুখারি, মুসলিম, দাইলামী)।
  • সহজীকরণ: কাজকে কঠিন না করে সহজ করা এবং সুসংবাদ দেওয়া রাসূলের শিক্ষা।

৪. বাঞ্ছিত গুণাবলী অর্জনের উপায়

  • সূরা মুদ্দাসসির (১-৭) ও সূরা মুযাম্মিল-এর প্রথম রুকুর নির্দেশনা অনুযায়ী:
  • অলসতা কাটিয়ে মাঠে ময়দানে দায়িত্ব পালন।
  • বাহ্যিক ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জন।
  • রাতের শেষভাগে ইবাদত ও বুঝে বুঝে কোরআন তেলাওয়াত করা।
  • একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণ করা।

৫. নেতৃত্বের মৌলিক দায়িত্ব

  • কোরআনের বিভিন্ন স্থানে (যেমন: আল-বাকারা: ১২৯, আল-জুমুআ: ২) বর্ণিত রাসূলের ৪টি মৌলিক দায়িত্ব নেতার পালন করতে হবে:

১. আয়াত তেলাওয়াত করে শোনানো।

২. কিতাবের তালিম বা শিক্ষা দেওয়া।

৩. হিকমতের তালিম দেওয়া।

৪. তাজকিয়ায়ে নফস বা আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠন।

৬. নেতা ও কর্মীর সম্পর্ক (বস্ বনাম নেতা)

নেতা ও কর্মীর সম্পর্ক অফিসিয়াল বা বসের মতো নয়, বরং ভ্রাতৃত্বের। এদের মূল পার্থক্যগুলো হলো:

  • বস্ মেজাজ দেখিয়ে দূরে রাখে; নেতা নম্রতায় কাছে টানে।
  • বস্ আইন ও কর্তৃত্বের ওপর নির্ভর করে; নেতা সহকর্মীদের শুভধারণার ওপর নির্ভর করে।
  • বস্ ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে; নেতা উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগায়।
  • বস্ আত্মকেন্দ্রিক (‘আমি’ বলে); নেতা সবাইকে নিয়ে চলে (‘আমরা’ বলে)।
  • বস্ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দেশ দিয়ে শেষ করে; নেতা নিজে আগে উপস্থিত হন ও কাজ করে দেখান।
  • বস্ অভিযোগ তুলে অচলাবস্থা তৈরি করে; নেতা নিজেই তা নিরসনের উদ্যোগ নেন।
  • বস্ বিদায়ের মুহূর্তে বলেন—“তোমরা যাও”, আর নেতা বলেন—“চলুন আমরা যাই”।

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – পঞ্চম অধ্যায়

আনুগত্য

১. আনুগত্য কাকে বলে?

  • শাব্দিক অর্থ: মান্য করা, মেনে চলা, আদেশ-নিষেধ পালন করা এবং কর্তৃপক্ষের ফরমান অনুযায়ী কাজ করা। কোরআন-হাদিসে এর প্রতিশব্দ ‘এতায়াত’ এবং এর বিপরীত হলো ‘মাছিয়াত’ বা ‘এছইয়ান’ (নাফরমানি)।
  • প্রকৃত এতায়াত: একমাত্র আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলাই হলো প্রকৃত আনুগত্য বা ইবাদত।
  • আনুগত্যের ধারা:
  • আল-কোরআনের নির্দেশ: “আল্লাহর এতায়াত কর, রাসূলের এতায়াত কর এবং উলিল আমরের এতায়াত কর।” (আন-নিসা: ৫৯)
  • হাদিসের ঘোষণা: “যে আমীরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল; আর যে আমীরের আদেশ অমান্য করল, সে আমারই আদেশ অমান্য করল।” (বুখারি ও মুসলিম)

আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য শর্তহীন এবং নিরঙ্কুশ, আর উলিল আমরের আনুগত্য শর্তসাপেক্ষ ও সীমার মধ্যে সীমিত।

২. ইসলামের সাথে আনুগত্যের সম্পর্ক

  • প্রাণসত্তা: দ্বীন ও ইসলামের আভিধানিক অর্থও আনুগত্য বা আত্মসমর্পণ করা। আনুগত্যই দ্বীন ও ইসলামের প্রাণসত্তা; যেখানে আনুগত্য নেই, সেখানে দ্বীন বা ইসলামও নেই।

৩. আনুগত্যের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা

  • কোরআনি নির্দেশ:
  • “আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।” (আশ-শূয়ারা: ১৫০)
  • “ঈমানদার লোকদের কাজ তো এই যে… তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম।” (আন নিসা: ৫৯, আন-নূর: ৫১)
  • আল্লাহ ও রাসূল কোনো ফয়সালা দিলে মুমিনের নিজস্ব কোনো ইখতিয়ার থাকে না (আল-আহযাব: ৩৬)।
  • হাদিসের নির্দেশনা:
  • পছন্দের হোক বা অপছন্দের, নেতার কথা শোনা ও মানা ওয়াজিব; তবে আল্লাহর নাফরমানির নির্দেশে কোনো আনুগত্য নেই (বুখারি ও মুসলিম)।

ওবাদা ইবনে ছামেত (রা.) বর্ণিত বাইআতের শর্তে দুঃসময়েও নেতার আদেশ শোনা এবং প্রকাশ্য কুফরি প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত নেতার সাথে দ্বন্দ্বে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে (বুখারি ও মুসলিম)।

৪. আনুগত্যহীনতার পরিণাম

  • নেক আমল বরবাদ: “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের অনুসরণ কর আর নিজেদের আমল বিনষ্ট করো না।” (মুহাম্মদ: ৩৩) আনুগত্যহীনতা সমস্ত নেক আমল ধূলায় মিশিয়ে দেয়।
  • জাহেলিয়তের মৃত্যু: “যে আনুগত্যের গন্ডি থেকে বের হয়ে যায় এবং জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তার মৃত্যু হয় জাহেলিয়াতের মৃত্যু।” (মুসলিম)
  • অন্যান্য পরিণতি: আল্লাহর রেজামন্দি থেকে বঞ্চিত হওয়া, হেদায়াতের তৌফিক হারাতে এবং কিয়ামতের দিন আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যর্থ হওয়া।

৫. আনুগত্যের দাবী

  • ষোলো আনা ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার সাথে নির্দেশের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বুঝে সর্বোত্তম উপায়ে তা বাস্তবায়ন করা।
  • কোরআনের ঘোষণা: “আপনার রবের কসম! তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না… আপনার দেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের মনে দ্বিধা–সংশয় থাকবে না এবং তা সর্বোত্তম উপায়ে মাথা পেতে নেবে।” (আন-নিসা: ৬৫)

৬. আনুগত্যের পূর্বশর্ত

  • জানা ও বোঝা (সামায়াত): যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে তা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বোঝা এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা জরুরি। রাসূলের শেখানো দোয়ার মাধ্যমে হক ও বাতিল চেনার তৌফিক চাইতে হয়।

৭. ওজর পেশ করা গুনাহ

  • অভাব, অভিযোগ বা ব্যক্তিগত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে দ্বীনি দায়িত্ব বা আন্দোলন থেকে দূরে থাকা মুনাফিক সুলভ মন-মানসিকতা ও ঈমানের পরিপন্থী।
  • কোরআনের ঘোষণা: “যারা আল্লাহ এবং আখেরাতের প্রতি ঈমান পোষণ করে, তারা কখনো আল্লাহর পথে জানমাল দিয়ে জিহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি চাইবে না।” (আত-তওবা: ৪৪)
  • সঠিক পদ্ধতি হলো নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে সমস্যাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো।

৮. আনুগত্যের পথে অন্তরায়সমূহ

আনুগত্যে ব্যর্থতার পেছনে প্রধানত তিনটি মারাত্মক কারণ রয়েছে:

১. গর্ব, অহঙ্কার ও আত্মপূজা: ইবলিস চরিত্র (যেমন: “সে হুকুম পালনে অস্বীকার করল এবং অহঙ্কার প্রদর্শন করল” – আল-বাকারা: ৩৪)। শায়তানি উসকানিতে আল্লাহর শরণাপন্ন হতে হয় (হা-মীম আস-সাজদা: ৩৬)।

২. হৃদয়ের বক্রতা: দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল হিসেবে জটিল কুটিল প্রশ্ন তোলা (যেমন: বনি ইসরাইল বা মূসা আ.-এর কওমের আচরণ, আস-সফ: ৫)।

৩. দ্বিধা–দ্বন্দ্ব ও বস্তুবাদী হিসাব–নিকাশ: জাগতিক লাভ-ক্ষতির চিন্তা ও সুযোগসন্ধানী মনমানসিকতা (আল-হাদিদ: ১৩-১৪)।

৯. আনুগত্যের পরিবেশ সৃষ্টির রূহানী উপকরণ

১. দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যে অগ্রগামী হওয়া এবং আত্মসমালোচনা করা।

২. কেন্দ্রীয় ও অধস্তন নেতৃত্বের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখা।

৩. সহকর্মীদের জন্য আল্লাহর দরবারে নিয়মিত দোয়া করা।

৪. ঈমানী শক্তি, আমল-আখলাক ও তাকওয়া, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠে ময়দানে ত্যাগ ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতাদের অগ্রগামী হওয়া।

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – ষষ্ঠ অধ্যায়

পরামর্শ

১. পরামর্শের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

  • শূরায়ী নেজাম: পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠনমূলক সমালোচনা ইসলামী সংগঠনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ও প্রাণশক্তি।
  • কোরআনের নির্দেশ:
  • আল্লাহ তায়ালা রাসূলকে (সা.) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: “বিভিন্ন কার্যক্রমে তাদের পরামর্শ নাও, তাদের সাথে মতামত বিনিময় কর।” (আলে ইমরান: ১৫৯)
  • সাহাবায়ে কেরামের গুণের প্রশংসা করে কোরআনে বলা হয়েছে: “নিজেদের যাবতীয় সামগ্রিক ব্যাপার নিজেদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করে।” (আশ-শূরা: ৩৮)
  • খলাফায়ে রাশেদীন: খলিফাগণ ইসলামী খেলাফত পরিচালনা করতে গিয়ে শূরায়ী নেজাম বা পরামর্শের পদ্ধতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন।

২. পরামর্শ সম্পর্কিত হাদিস ও উপকারিতা

  • হাদিসের বাণী:
  • রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন তোমাদের নেতারা ভালো হবেন, ধনীরা দানশীল হবেন এবং কাজকর্ম পরামর্শের ভিত্তিতে চলবে, তখন মাটির নিচের ভাগ (মৃত্যু) অপেক্ষা ওপরের ভাগ উত্তম হবে (তিরমিজি)।
  • রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি পরামর্শ নিয়ে কাজ করে তাকে কখনো লজ্জিত হতে হয় না।” (মু’জামুস সগীর) এবং “যে পরামর্শ করে সে নিরাপদ থাকে।” (আবু দাউদ)
  • প্রধান দুটি উপকারিতা:

১. সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠের কর্মীদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থাকলে স্বতঃস্ফূর্ত আনুগত্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অবাঞ্ছিত সমালোচনার সুযোগ থাকে না।

২. কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়, যার ফলে কাজে আল্লাহর বরকত যুক্ত হয়।

৩. পরামর্শ কারা দেবে ও এর ক্ষেত্র

  • পরামর্শের ক্ষেত্র প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত:

১. সর্বসাধারণের পরামর্শ: রাষ্ট্রীয় বা বড় বড় বিষয়ে যেখানে জনগণের অধিকার ও স্বার্থ জড়িত, সেখানে মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. দায়িত্বশীলদের পরামর্শ: আন্দোলনের ভেতরের দায়িত্বশীলদের মাঝে খোলামেলা পরামর্শের পরিবেশ না থাকলে চিন্তা ও ভাবের ঐক্য গড়া সম্ভব নয়। (হাদিস: আল্লাহ আমীরের ভালো চাইলে সত্যবাদী উজির বা পরামর্শদাতা দান করেন – আবু দাউদ)।

৩. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: কোনো নির্দিষ্ট জটিল বা কারিগরি প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে।

৪. পরামর্শ দেওয়ার শিষ্টাচার ও দ্বীনি মর্যাদা

  • পবিত্র আমানত: ইসলামী সংগঠনে পরামর্শ দেওয়া নিছক কোনো অধিকার নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আমানত ও দ্বীনি দায়িত্ব। সংগঠনের ক্ষতি রোধে সঠিক পরামর্শ না দেওয়া আল্লাহর দরবারে খেয়ানতের শামিল।
  • সঠিক ফোরাম: নিজের চিন্তা ও পরামর্শ প্রথমে নিকটস্থ দায়িত্বশীল বা সংগঠনের নির্দিষ্ট ফোরামে লিখিত বা মৌখিকভাবে পেশ করতে হবে। যত্রতত্র তা প্রচার করা বা জনমত সৃষ্টির অপচেষ্টা করা যাবে না।

৫. মত কোরবানি ও জামায়াতী শৃঙ্খলা

  • মতের ত্যাগ: শত শত বা হাজার হাজার কর্মী নিজের মতের ওপর জিদ করলে সংগঠন টিকতে পারে না। পরামর্শদাতা তার নিজস্ব মতের বিপরীত সিদ্ধান্ত হলেও তা দ্বিধাহীনচিত্ত্ব মেনে নেবে।
  • সবচেয়ে বড় কোরবানি: অনেক বড় ত্যাগের নজির স্থাপন করা গেলেও মত কোরবানি’ বা সামষ্টিক ফয়সালার কাছে নিজের মতামত বিসর্জন দেওয়া সবচেয়ে কঠিন ও জরুরি কাজ। সামষ্টিক রায়ের কাছে নিজের রায় প্রত্যাহার করে নেওয়াতেই সংগঠনের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিহিত।

 ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – সপ্তম অধ্যায়

১. সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনার গুরুত্ব

  • পরিভাষা: ইসলামী পরিভাষায় এটি ‘ইহতেসাব’ (হিসাব নেওয়া) এবং ‘মুহাসাবা’ (পরস্পরে হিসাব নেওয়া) নামে পরিচিত, যা আখেরাতের হিসাবের প্রস্তুতি স্বরূপ।
  • তিনটি পর্যায়:

১. ব্যক্তিগত ইহতেসাব বা আত্ম-সমালোচনা।

২. সাথী ও বন্ধুদের পারস্পরিক মুহাসাবা।

৩. সামষ্টিক কার্যক্রমের মুহাসাবা বা পর্যালোচনা।

  • কোরআন ও হাদিসের ঘোষণা:
  • মানুষের হিসাব অতি নিকটে (আল-আম্বিয়া: ১)
  • আখেরাতে প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে (আল-আরাফ: ৬, আন-নহল: ৯৩, আয-যুখরুফ: ৪৪)।

হাদিসের ঘোষণা: “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই যার যার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)

২. ব্যক্তিগত ইহতেসাব বা আত্ম-সমালোচনা

  • সুফল: নিজের ভুল বড় করে দেখা এবং অন্যের ভুল ছোট করে দেখার মাধ্যমে ইনসাফপূর্ণ মানসিকতা তৈরি হয়।
  • পদ্ধতি তিনটি:

১. ফরমাল রিপোর্ট: দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আজকের কাজের হিসাব নিয়ে অকৃতকার্যতার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে তওবা করা।

২. কোরআন–হাদিস পাঠকালে আত্ম–জিজ্ঞাসা: কুরআন (যেমন: আল-মুমিনুন: ১-৯, আল-হুজুরাত: ১২) ও হাদিস পড়ার সময় নিজের আমল তার সাথে মিলিয়ে খতিয়ান নেওয়া।

৩. কর্মে ভুল হলে সাথে সাথে সংশোধন: কাজে বা সহকর্মীর সাথে ভুল হলে তক্ষণাৎ নিজে থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

৩. পারস্পরিক মুহাসাবা (সংশোধনমূলক সমালোচনা)

  • মূল লক্ষ্য: দ্বীনি ভাইয়ের কল্যাণ কামনা, দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা।
  • পরিবেশ ও শিষ্টাচার:
  • অন্তরঙ্গ ও গোপনীয় পরিবেশ তৈরি করা।
  • দোষ সরাসরি নিজের মধ্যে আছে না বলে নমনীয় ভাষায় নিবেদন করা (“হতে পারে আমি ভুল বুঝেছি…”)
  • যার মুহাসাবা করা হচ্ছে, সে ভাইয়ের দরদপূর্ণ উদ্যোগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রদ্ধা জানানো।
  • নেতৃত্বের জন্য শিক্ষা: দায়িত্বশীলদের সমালোচনা হজম করার সৎসাহস থাকতে হবে।
  • মুমিনের উপমা: হাদিসে এক মুমিনকে অপর মুমিনের আয়না বলা হয়েছে, যা গোপনে ও বাড়াবাড়ি ছাড়া শুধু ত্রুটি ধরিয়ে দেয়।

৪. সাংগঠনিক কাজের মুহাসাবা

  • পদ্ধতি: স্থানীয় সংগঠনের কাজ ঊর্ধ্বতন সংগঠন অথবা সংশ্লিষ্ট জনশক্তি পর্যালোচনা করে।
  • ফোরাম: ঊর্ধ্বতন সংগঠনের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং সদস্য সম্মেলন হলো উপযুক্ত ফোরাম।
  • সতর্কতা: যত্রতত্র বা লাগামছাড়া সমালোচনা সংগঠনের জন্য আত্মঘাতী; তাই সামষ্টিক পর্যালোচনা ও ফোরামের সিদ্ধান্তকে দ্বিধাহীন চিত্তে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – বইয়ের লেখক পরিচিতি:

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী

সাবেক কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী (উভয় মন্ত্রনালয়ের ইতিহাস খ্যাত স্বনামধন্য মন্ত্রী)

জন্ম: ৩১ মার্চ ১৯৪৩ পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রাম

শাহাদাত: ১১ মে ২০১৬ ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারের ফাঁসির সেলে

ছাত্রজীবন থেকে ছাত্ররাজনীতিকে সম্পৃক্ত

১৯৬১ পাবনার শিবপুর ত্বহা সিনিয়র মাদ্রাসা, ফাজিল প্রথম শ্রেনীতে উত্থীর্ণ

১৯৬৩ ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা ফাজিল প্রথম শ্রেণীতে উত্থীর্ণ

১৯৬৩ ঢাকা আলীয় ফেকাহশাস্ত্রে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্থীর্ণ

১৯৬৭ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম ডিগ্রি

১৯৬২ – ৬৬ পর্যন্ত ইসলামী ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় অফিস সেক্রেটারী

১৯৬৬ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সংঘ সভাপতি

১৯৭১ ছাত্র সংঘের দায়িত্ব থেকে বিদায় গ্রহণ করেন

১৯৯১ – ২০০১ সালের সংসদ সদস্য

১৯৯২ – ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সাথে যুতপত আন্দোলনের নেতা

২০০১ – ২০০৬ সালের সংসদ সদস্য।

[এই নোটখানা মোবাইলে পড়ার উপযোগী। সাইজ A5 তথা A4 কাগজকে অর্ধেক করে দুটো প্রিন্ট করার জন্যে সেট করা। কেউ প্রিন্ট করতে চাইলে এক পৃষ্টায় দুটো প্রিন্ট করবেন]

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন বইটির নোট তৈরি করেছেন, বিশিষ্ট লেখক, ব্লগার, কলামিষ্ট নজরুল ইসলাম টিপু। কোন প্রকার পরিবর্তন, পরিমার্জন করার দরকার হেতু পরামর্শের জন্যে নিচের লিঙ্ক বক্সে মন্তব্য করে জানানোর অনুরোধ রইল। ফি আমানিল্লাহ!

ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন – বই নোটের পিডিএফ পেতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *