দারসুল কোরআন : সুরা আলাক্ব : ১-৫

দারস-সুরা-আলাক্ব

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
﴿ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ﴾﴿خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ﴾﴿اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ﴾﴿الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ﴾﴿عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ﴾
পড়ো (হে নবী), তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো! এবং তোমার রব বড়ই মেহেরবান। যিনি জ্ঞান শিখিয়েছেন কলমের সাহায্যে। এমন জ্ঞান মানুষকে দিয়েছেন, যা সে জানতো না। (সুরা আলাক্ব ১-৫)
ইক্বরা-পড়ো, বিছমি-নামে, রব্বিকা-তোমার রবের, খালাক্বা-সৃষ্টি করেছেন, ইনছানা-মানুষকে, মিন-হতে, আলাক্বিন-জমাট রক্তপিণ্ড, ওয়ারাব্বুকা- এবং তোমার রব, আকরাম-বড়ই অনুগ্রহশীল, আল্লাজি-যিনি, আল্লামা-শিখিয়েছেন, বিল’ক্বলম-কলম দিয়ে, মা-যেটা, লাম’ইয়ালাম- যা সে জানতো না 

নাম করন:

সূরাটির দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখিত আলাক্ব ‘عَلَقٍ’ শব্দ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। আলাক্ব অর্থ ‘জমাটবাঁধা রক্তপিণ্ড’। দারস-সুরা-আলাক্ব

 

নাজিলের সময়কাল

মক্কার অদূরের একটি খাড়া পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত হেরা-গুহায়। তখন রাসুল (সাঃ) বয়স ৪০ বছর। এটি মক্কী সুরা, ওহীর মাধ্যমে নাজিলকৃত প্রথম সুরা। দারস-সুরা-আলাক্ব

 

পটভূমি

মক্কার চারিদিকে অসভ্যতা ও বর্বরতায় ছেয়ে গিয়েছিল। মানবতা, নিরাপত্তা, ভদ্রতা ও শিষ্টাচার সমাজ থেকে উবে গিয়েছিল। এই মক্কায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন মুহাম্মদ (সাঃ)। তিনি জন্মের পর থেকেই মানুষের এই জিল্লতির জীবনে দেখে আসছিলেন। ফলে তার মনে সদা একটি প্রশ্নের সৃষ্টি হত, এই সমাজ কি পরিবর্তন হবে না কিংবা পরিবর্তনের কি উপায় হতে পারে। মক্কার মানুষদের এমন দুঃখ দুর্দশা দেখে রাসুল (সাঃ) এর মন সদা ভারাক্রান্ত থাকত। তিনি ভাবতেন এর বিহিত ব্যবস্থা কিভাবে হতে পারে! দারস-সুরা-আলাক্ব

 

তিনি যখন ১৭ বছরের তরুণ যুবক, তখন সামাজিক অবক্ষয় দূর করা ও মানবতার পক্ষে কাজ করার জন্যে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যার নাম হিলফুল ফুজুল! এমন একটি ইতিবাচক সংগঠনের কথা শুনে যুবক মুহাম্মদ (সাঃ) স্বশীরের যোগ দেন এবং তাতে আন্তরিক ভাবে একাগ্রতার সাথে কাজে লেগে যান। মক্কার কোরাইশদের কাছে তিনি ইতিমধ্যেই আল-আমীন তথা বিশ্বাসী তথা আমানতের হেফাজত-কারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। হিলফুল ফুজুলে তার উপস্থিতি দেখে, মক্কার সকল মানুষের তাকে সাধুবাদ জানায় এবং তার সাহাযার্থে এগিয়ে আসেন।

 

কিন্তু সবার সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ার পরেও, যুবক মোহাম্মদ (সাঃ) যেমন সামাজিক পরিবর্তনের আশা করেছিলেন, তার কিছুই হয়নি। এটি তার মনকে ব্যতীত ও ভারাক্রান্ত করে তুলত। তবুও তিনি হাল না ছেড়ে, ভাবতে থাকেন, কিভাবে এই পরিস্থিতির উত্তরণ হতে পারে। প্রতিনিয়ত ভাবতে থাকেন এ থেকে উত্তরণের উপায় কি? মানুষের মুক্তি মিলবে কিসে? কিভাবে মিলবে। কারো কাছেই এর কোন উত্তর ছিল না। ফলে তিনি ভাবনার মধ্যেই বিলীন হতে থাকলেন। এসব ভাবনার হেতু, একসময় তাঁর কাছে একাকীত্ব প্রিয় হতে থাকে। তিনি মক্কার অদূরের একটি উঁচু পাহাড়ের চুড়ায় গুহার সন্ধান পান। যে গুহায় বসলে বহু দূরে অবস্থিত কাবা নজরে পড়ে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, শুনশান নীরব, নিস্তব্ধ এই গুহায় বসে ভাবনার জগতে হারিয়ে, একাকীত্বের সময় কাটাতে লাগলেন। এই গুহার নাম হেরা গুহা বা গারে হেরা।

 

দীর্ঘদিনের ভাবনার এক পর্যায়ে রাসুল (সাঃ) দিবা স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন! তিনি স্বপ্নে যা দেখতেন পরদিন তা হুবহু বাস্তবতায় ঘটতে দেখতেন! কোন টি স্বপ্নে দেখছেন আর কোন টি বাস্তবে দেখেছেন, দুটোর মধ্যে তফাতই থাকত না। ফলে তাঁর নির্জনতা প্রিয় স্বভাব আরো বেড়ে গেল। তিনি হেরা গুহায় দিন-রাত এবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দিলেন। আয়েশা (রাঃ) তার এই্ পর্যায়কে ‘তাহান্নুস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। “তাহান্নুস” শব্দের মূল ধাতু হলো ‘হিন্স’ (حنث), যার অর্থ হল পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখা কিংবা সর্বক্ষণ পবিত্র থাকা। তিনি যখন জগত সংসারের যাবতীয় পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হলেন, তখন থেকেই তার দিবাস্বপ্ন বাস্তবে পূর্ণমাত্রা লাভ করল এবং আসমান থেকে আল্লাহর দূত জিবরাইল (আঃ) দুনিয়াতে আসলেন এবং কোরআনের আয়াত নাজিল করলেন। দারস-সুরা-আলাক্ব

 

১-৫ নং আয়াত অবতীর্ণ হবার সম-সাময়িক ঐতিহাসিক কারন (শানে নুযুল):

এর মধ্যেই একরাতে আল্লাহর নির্দেশে স্বয়ং জিবরাইল (আঃ) ওহী নিয়ে হাজির হলেন এবং এই আয়াতগুলো পড়ার আহবান জানালেন।

 

রাসুল (সাঃ) এর নিকট জিবরাঈল (আঃ) যখন প্রথমবার উপস্থিত হন, তখন তিনি তাঁকে “ইকরা” বা পড়ুন বলেছিলেন। যেহেতু রাসুল (সাঃ) নিরক্ষর ছিলেন, তাই তিনি বললেন, “আমি পড়তে জানি না”! জিবরাঈল (আঃ) তাকে শক্তভাবে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। দ্বিতীয়, তৃতীয়বারেও একই ঘটনা ঘটল।

 

অতঃপর রাসুল (সাঃ) জিবরাঈলের (আঃ) পড়া শুনলেন, মুখে মুখে পড়লেন এবং আত্মস্থ করলেন। সর্বমোট ৫ টি আয়াত এখানে পড়ানো হয়েছে।

 

এই মক্কী সুরায় সর্বমোট ১৯ টি আয়াত রয়েছে। ১ থেকে ৫ আয়াত আজকের আলোচ্য বিষয়। এই অংশটি রসূলুল্লাহ (সাঃ) ওপর অবতীর্ণ পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম আয়াত ও মানবজাতির কাছে ওহীর সূচনা এই পাঁচটি আয়াতের মাধ্যমেই শুরু হয়।

 

একদা রাসুল (সাঃ) হারাম শরীফে এই পাঁচ আয়াত দিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তার আওয়াজ ও বিষয়বস্তু আবু জেহেলের কানে গেলে সে রাসুল (সাঃ) হুমকি দেয় এবং পরবর্তীতে যাতে এসব কালাম পড়া না হয়, সেটা কঠোরভাবের বারণ করলেন। আবু জেহেলের ধমকের জবাবে এই সুরার পরবর্তী ১৪ টি আয়াত নাজিল হয়। দারস-সুরা-আলাক্ব

 

ব্যাখা:

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَপড়ো (হে নবী), তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।

– পড়ো! এটি মানব জাতির জন্যে প্রথম আহবান। কেননা,

– রাসুল (সাঃ) যে মনকষ্টে ভুগছিলেন তার উত্তর রয়েছে এই পড়ার ভিতরেই 

– পড়ো কথার মাধ্যমে বুঝা যায়, কোরআনের আয়াত লিখিত আকারে এসেছিল

– একমাত্র পড়ার মাধ্যমেই সৃষ্টির গুরু-তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়

– আর সৃষ্টি সম্পর্কে ধারণা পেলেই স্রষ্টার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু

– রাসুল (সাঃ) জানালেন তিনি তো পড়তে পারেন না! অতঃপর

– তিনি পড়তে পারেন না বলে, পরপর তিনবার জানালেন, অতঃপর

– জিবরাইল (আঃ) রাসুল (সাঃ) কে তিনবারই বুকে চেপে ধরলেন।

– যেহেতু তিনি পড়তে পারেন না, তাই তিনি মন দিয়ে শুনলেন এবং আত্মস্থ হলেন

– এর মাধ্যমে বুঝানো হল পড়ার গুরুত্বের পরের অবস্থান হল শোনার গুরুত্ব

– কোন বিষয় তিনবার মনোযোগ সহকারে শুনা হলে, অন্তত একবার পড়ার কাজ হয়

– সেই থেকে পড়া ও শোনা মানুষের জন্যে অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে গেল

 

পড়ার তাগিদ কেন?

– দুনিয়ার জীবনে মানুষের প্রতি প্রথম তাগিদ হল ইকরা তথা পড়া দিয়ে।

– হাশরের মাঠেও প্রথম কথা শুরু হবে ইকরা বলে! বনী ইসরাইল-১৪

 ﴿اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَىٰ بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا﴾ পড়ো, নিজের আমলনামা! আজ নিজের হিসেব করার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট!

 

– নিজেকে জানা, স্রষ্টাকে চেনা, সৃষ্টি সম্পর্কে জানা পড়া ব্যতীত উপায় নেই

– সে কারণে ইকরা বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার তথ্যাবলী কোরআনে আছে

– সে কারণে কোরআন বুঝে পড়া সবার জন্যে বাধ্যতামূলক, নচেৎ শুনা লাগবে

– দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনকে সমন্বয় করার জন্যে একমাত্র মাধ্যম কোরআন

 

পড়ার গুরুত্ব কেন?

– পড়ার মাধ্যমে চিন্তাশক্তির প্রসার ঘটায়: পড়া মানুষের মস্তিষ্কের দিগন্ত প্রসারিত করে। পড়া মানুষকে অন্ধ অনুকরণ থেকে বের করে আনতে সাহায্য করে। পড়া বিচার-বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। পড়ার মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ায়।

– পড়ার মাধ্যমে অজ্ঞতা দূর হয়: মানুষ জন্মগতই অজ্ঞ! বরং প্রাণীদের চেয়েও দুর্বল ও কম দক্ষ। মানুষকে নিজ চেষ্টায় বিজ্ঞ হতে হয়। পড়ার মাধ্যমে মানুষ সে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠতে পারে। পড়ার মাধ্যমে সে সাহসী ও আস্থাশীল হয়। এবং পড়ার মাধ্যমেই মহাবিশ্বের নিয়মাবলী ও স্রষ্টার পরিচয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। পড়ার

– সভ্যতা বিনির্মাণ সাহায্য করে: মানুষের কাছে পড়ার জ্ঞান সৃষ্টি হলেই সে তা লিখে যেতে পারে। কলমের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্থায়ী হয়। এটি মানুষের ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি সমাজ ও সভ্যতার ভিত্তি মজবুত করে। দারস-সুরা-আলাক্ব

 

আল্লাহর নামেই পড়ার গুরুত্ব কি?

– মক্কার সকল মানুষের সার্বিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেও হিলফুল ফুজুল সফল হয়নি। রাসুলের (সাঃ) এর মত ত্যাগী, নির্লোভ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নিরলস চেষ্টাও বিফলে গেছে। এভাবে দুনিয়ার সকল মানুষও যদি কোন একটি কাজে একত্রিত হয়ে কাজে লেগে যায়, তদুপরি তাগের চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যর্থ ও বিফলে যাবে, যদি না সেই কাজে আল্লাহ সহযোগিতা না করেন। হিলফুল ফুজুলে আল্লাহর সহযোগিতা ছিল না, তাই সেটা সফল হয় নাই।

– সেই একই ব্যক্তি যিনি আল আমীন হিসেবে বিবেচিত, তিনি যখন সুরা আলাক্বের পরবর্তী ১৪ আয়াত পড়লেন, মক্কার মানুষদের তুমুল বিরোধিতার মুখে পড়লেন। কেউ তাকে আর সাহায্য করেন নাই। উল্টো বাধা দিয়েছে, বিরোধিতা করেছে। কিন্তু তিনি মহান আল্লাহ এই কাজে মুহাম্মদ (সাঃ) সহযোগিতা করেছে। তিনি একাকী, বন্ধুহীন কিন্তু আল্লাহর সহযোগিতায় ইসলাম বিজয়ী হয়েছে। সে কারণে প্রতিটি কাজ আল্লাহর নামে শুরু করা বাঞ্ছনীয়। দারস-সুরা-আলাক্ব

 

সৃষ্টার গুরুত্ব কি, কি তাঁর পরিচয়?

– মহান রব যিনি যাবতীয় সকল কিছু স্রষ্টা।

﴿ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ ۚ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌۚ﴾ এ তো আল্লাহ তোমাদের রব। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। সবকিছুর তিনিই স্রষ্টা। কাজেই তোমরা তাঁরই বন্দেগী করো। তিনি সবকিছুর তত্বাবধায়ক। আনয়াম-১০২

 

﴿هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۚ﴾ তিনিই আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তারপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। হাদিদ-৩

 

পবিত্র কোরআন মানুষের জন্যে এসেছে। সুতরাং এখানে এমন কোন বানী নেই, যা মানুষের পক্ষে তত্ত্ব-তালাশে নামলে, তারা রহস্য উদ্ধারে অক্ষম হয়ে যাবে। উপরের আয়াতেই আল্লাহ বলেছেন, “তিনি আসমান ও জমিনকে ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন।” এটা একটি বড় জটিল ও কঠিন বিষয় কিন্তু গবেষক মানুষদের জন্যে এর ব্যাখ্যা দেওয়াও একদিন সম্ভব হয়ে যাবে। এখন কেউ যদি এ বিষয়ে তত্ত্ব তালাশে আগ্রহী হয়ে উঠে। তাকে যে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। তার বিবরণ এমন

 

১. প্রথমে জানার জন্যে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া (যা রাসুলের অন্তরে সৃষ্টি হয়েছিল)

২. ইকরা – পড়ুন! কেবল অক্ষর জ্ঞান নয়! পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের প্রবল ইচ্ছা

৩. তাফাক্কুর – চিন্তন! পড়ে যা পেয়েছে সেটাকে ছুলছেরা বিশ্লেষণ ও অনুধাবন করা

৪. তাদাব্বুর – দূরদর্শী ভাবনা! সিস্টেম থিংকিং! কিভাবে কাজ করে, কিভাবে ঘটে, ভৌত কাঠামো কেমন, কোথায় পরিবর্তন প্রতিক্রিয়া হয় প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে (Laws of Nature) অনুধাবন করা

৫. ইজতিহাদ – উদ্ভাবন, আবিষ্কার! সর্বশেষ স্তর বিন্যাস। উপরের ৪টি স্তর যথাযথ পদ্ধতিতে গবেষণার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শেষ হলে, ছয়দিনে কিভাবে আসমান-জমিন সৃষ্টি হল, তার বিস্ময়কর গাণিতিক পদ্ধতি মানুষের জ্ঞানে প্রতিভাত হবে।

৬. আল্লাহু আকবর – আল্লাহ সর্বশক্তিমান! কোন জ্ঞানী ব্যক্তি এতগুলো ধাপ পেরিয়ে মহান আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্যের গুঢ় তথ্য আবিষ্কার করে যদি বলে ‘ছোবহানাল্লাহ’! এই এক ব্যক্তির ছোবহানাল্লাহ আর দুনিয়ার লাখো কোটি আবেদের হাতের তসবিহ দানার ছোবহানাল্লাহ কখনও কোনদিন ওজনে এক হবে না। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার শুরুতে রয়েছে পড়ার গুরুত্ব।

خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ – যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড থেকে।

– খালাকাল ইনছান, তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। ইনছান (إنسان) শব্দটি ‘নিসিয়ান’ (نسيان) ধাতু থেকে সৃষ্ট

– যার অর্থ হল ভুলে যায় এমন সৃষ্ট জীব ‘বিস্মরণশীল প্রাণী’

– আল্লাহর এক স্পেশাল সৃষ্টি, যাকে সাধারণ প্রানীদের চেয়ে আলাদা করে বানানো

– নচেত মহান আল্লাহ ‘খালাকাল বাশার’ خَلَقَ الْبَشَرَ বলতে পারতেন।

– বাশার অর্থ মানুষ, প্রমাণ হিসেবে কোরআনেই বলা হয়েছে

﴿قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّۚ﴾  বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ (বাশার), আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়…। কাহাফ-১১০

– মানুষের সুন্দর দেহ কাঠামোর নাম হল বাশার, এটি যেন একটি প্রাণী দেহ

– যে বাশারের দেহে মানবিক সত্ত্বা লুকায়িত থাকে, সেটাই ইনছান, অন্যভাবে নফস।

– ইনছান, সেই মানুষ (যিনি ভুল করেন বা বিস্মৃতি-প্রবণ হয়) যেহেতু মানুষ ভুল করে

– সেহেতু ভুলে যাওয়া মানুষকে তাগাদা দিতে হয়, অতীত মনে করাতে হয়,

– পুরানো কথা স্মরণ করাতে হয়, ওয়াদার কথা মনে করিয়ে দিতে হয়,

– তাকে শেখাতে হয়, তাকে পড়াতে হয়, তাকে গঠন করতে হয়,

– তার সক্ষমতা পাইয়ে দিতে হয়, তাকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হয়।

– এই কারণে মানুষের জন্যে দুনিয়াতে নবী আসে, কিতাব আসে, বিধান আসে

– বছরে ঈদ আসে, কোরবান আসে, রমজান আসে, প্রতি জুমায় খোতবা আসে

– সব কিছুরই একটা উদ্দেশ্য, ইনছান ভুলে যাবে, তাকে মনে করিয়ে দিতে হবে

 

﴿يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ﴾  হে মানুষ! কোন জিনিষ তোমাকে তোমার মহান রবের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে? ইনফিতর-৬

 

﴿ يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَىٰ رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلَاقِيهِ ﴾  হে মানুষ! তুমি তোমার রবের দিকে কঠোরভাবে অগ্রসর হচ্ছ, অতঃপর তুমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে।? ইনশিকাক-৬

 

– একটি লম্বা হাদিসের অংশ বিশেষ থেকে পাওয়া যায়, আদম (আঃ) আলমে আরওয়াহ তে (রুহের জগতে) মানুষের রূহ দেখানো হয়েছিল। সেখানে তিনি সবার মধ্যে আলোকিত অবস্থায় দাউদ (আঃ) কে দেখতে পায়। জিবরাইল জানালেন তার বয়স হবে ৬০ বছর। আদম (আঃ) নিজের থেকে ৪০ বছর হায়াত দাউদ কে দিয়ে দিলেন। আদম (আঃ) জেনে নিয়েছিলেন তার বয়স হবে ১ হাজার বছর। কিন্তু ৪০ বছর আগেই মৃত্যুর ফেরেশতা হাজির হলে, আদম (আঃ) তাঁর কৃত ওয়াদার কথা এবং বয়স দিয়ে ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ফলে মহান আল্লাহ মানুষের আমলনামা লিপিবদ্ধের জন্যে ফেরেশতা নিয়োজিত করেন। তিরমিজি-৩৩৬৬

 

আলাক্বের সাথে তুলনা কেন?

– আলাক্ব! তথা জমাট-বাধা রক্তপিণ্ড থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

– কাউকে মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে আসতে পারাটাই বিরাট ভাগ্যের বিষয়

– কোটি কোটি নুতফা তথা শুক্রানোর সাথে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েই দুনিয়াতে আসা

– আমরা যারা দুনিয়ায় এসেছি তারা প্রথম ধাক্কাতেই বিজয়ী ও বাছাই হয়েছি। কিভাবে

– নুতফা তথা পিতার ছুঁড়ে দেওয়া শতকোটি শুক্রানু থেকে একটি শুক্রানু বাছাই হয়েছে

– সেটি আবার ৪০ দিন যাবত মায়ের জরায়ুতে ঠুনকো পরিবেশে ভাসমান অবস্থায় থাকে,

– অতঃপর ৪০-৮০ দিন পর্যন্ত আলাক্কা, জোঁক আকৃতির রক্তপিণ্ডের মত ঝুলন্ত থাকে

– অতঃপর ৮০-১২০ দিন পর্যন্ত মুদগাহ তথা দাঁতে চিবানো মাংসপিণ্ডের ন্যায় থাকে

– অতঃপর জিবরাইল (আঃ) এসে রূহ ফুঁকবেন, তকদির ঘোষিত হবে, রেজিস্টার হবে

– জোঁকের মত ঘৃণিত আকৃতির আলাক্বা, প্রতিটি মানুষের শুরু, যেন ভেসে বেড়ানো কিট

– সেখান থেকেই মানুষের মত অবহেলিত এক মহা বিস্ময়কর সৃষ্টির জন্ম দিয়েছেন

 

اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ – অতঃপর পড়ো, এবং তোমার রব বড়ই মেহেরবান।

– মহান আল্লাহ তাঁর ৯৯ নামের মধ্য থেকে এখানে আকরাম নামটি প্রয়োগ করেছেন

– আকরাম হল ‘কারিমের’ সুপারলেটিভ ডিগ্রী, সর্বোচ্চ রূপ দানকারী, করিম অর্থ দাতা

– আকরাম হল সবচেয়ে বড় দাতা ও দয়ালু, যার উপরে কোন অনুদান নেই।

– তুমি ছিলে তুচ্ছ ঘৃণিত আলাক্বা অবস্থায়, তিনি তোমাকে ইনছানের মর্যাদা দিয়েছে

– তিনি সেই ইনছানকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম পজিশনে বসিয়েছেন

– তিনি বাশার নামক দেহাভ্যন্তরে ইনছান নামক সপ্টওয়ার বসিয়ে মূল্য দিয়েছে

আবার,

– তুমি নিজেই স্বীকার করেছ তুমি অক্ষরজ্ঞানহীন, পড়তে জান না, উম্মী

– আর পড়া তো দীর্ঘ বছরের প্রচেষ্টায় অর্জন করতে হয়, সাধনা করতে হয়

– ওস্তাদের কাছে না গেলে কেউ পড়তে পারে না, যার জন্যে একজন শিক্ষক দরকার

– জগতের এসব বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেই, তিনি তোমাকে তুলে এনেছেন

– মহা-জাগতিক বিষয়ের মত কঠিন বিষয়ের জ্ঞান তোমাকে দান করা হয়েছে।

– কোন ওস্তাদের কাছে না পড়েও, তোমাকে জগতের ওস্তাদ বানানো হয়েছে

– এটা কোন সাধারণ বিষয় নয়, মহান রব প্রভু আকরামের অনবদ্য দান,

– সুতরাং তাকে ডাক, তার নামই স্মরণ করুন

– দুনিয়ার সকল সমীকরণ পর্যন্ত এই নামের মালিক উল্টিয়ে দিতে পারেন

– সেটাই তো এই আয়াতে পরবর্তীতে আবারো মনে করিয়ে দেওয়া হল

﴿يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ﴾  হে মানুষ! কোন জিনিষ তোমাকে তোমার মহান রবের ব্যাপারে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে? ইনফিতর-৬

 

الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ – যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিখিয়েছেন।

– মহান আল্লাহ নিজেও কোরআনকে লওহে মাহফুজে লিখে সংরক্ষণ করেছেন

– জিবরাইল পড়ার উপযোগী করে কোরআন এনেছেন এবং রাসুল কে পড়তে বলেছেন

– পবিত্র কোরআনে ক্বলম নামে একটি সুরা আছে

– বলা হয়েছে, বছরে মাস হল ১২ টি তিনি সেটা কিতাবে লিখে রেখেছেন, তাওবাহ-৩৬

– দুই কাঁধের ফেরেশতারা প্রতি সেকেন্ডে মানুষের আমলনামা লিখে চলেছেন

– আরশে আজমের মালিক নিজেও কলম দ্বারা দলীল সংরক্ষণ করেছেন এবং

– মানুষের জন্যে কলমের সাহায্যে শিখন পদ্ধতিকে সঠিক পন্থা হিসেবে বলে দিয়েছেন

– মানুষকে ইনছান তথা বিস্মৃতি-প্রবণ বলা হয়েছে, তার জ্ঞান টিকে থাকবে কলমের দ্বারা

– কলম হল জ্ঞানের স্থায়িত্ব ধরে রাখা ও ক্রমবিকাশের প্রতীক,

– ইনছানের পরবর্তী প্রজন্ম, অতি দূরবর্তী প্রজন্ম কলমের লিখনি থেকেই জানবে

– কলমের লিখনি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মেধা ও ইতিহাসকে রেখে যাবে

– কলমের লিখনি যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, নবী-রাসুল আসার সিল-সিলা ফুরিয়ে যাবে

– আগের আসমানি কিতাব যথাযথ লিখনির অভাবে, হারিয়ে গেছে

– কোরআন কলমের মাধ্যমেই কেয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে

– আল্লাহর কালাম কলমে লিখার মাধ্যমেই প্রচার, প্রসার ও বিস্তার লাভ করবে

– আসমাউল রিজাল গ্রন্থে ৫ লাখের বেশী মানুষের তথ্য ইতিহাসের ফ্রেমে আবদ্ধ হয়েছে

– মুসলমানদের কলমে লিখিত হয়েছে দুনিয়ার বহু গ্রন্থ ইতিহাস, গণিত-বীজগণিত

– চিকিৎসা বিজ্ঞান, আলোক বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, ধাতুবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা

– মুসলমান কিংবা মানুষের হাতে সংরক্ষিত হয়েছে হাজারো বছরের ইতিহাস ও ঘটনা

– এটা মহান আল্লাহর দেখিয়ে দেওয়া পথ ও কলমের কারণ

– সে কারণে দুনিয়াতে পড়ার আগে লেখার গুরুত্ব আগে আলোচিত হয়।

– যার ফলে মানুষ কথা বলতে গিয়ে বলে ফেলে ‘লেখা-পড়া’ করে যে দারস-সুরা-আলাক্ব

 

عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ – যিনি মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানতো না।

– রাসুল (সাঃ) চেয়েছিলেন মক্কার মানুষের মুক্তি, ঐক্য ও শান্তি

– অতঃপর আল্লাহ তাঁকে পথ দেখিয়েছেন, কিভাবে তা আমরা এই সুরায় জেনেছি

– কিন্তু আল্লাহ তাঁকে জানালেন যে, আলাক্বা থেকেই মানুষের সৃষ্টির শুরু হয়েছে

– এটা রাসুল (সাঃ) জানতে চান নাই, হয়ত কোনদিনই প্রশ্ন করতেন না

– কিন্তু মহান আল্লাহ সেই খরব নিজ থেকে জানালেন, যা মানুষের জানা নেই

– যখন জানিয়েছেন রাসুল ঈমান এনেছেন, বিশ্বাস করেছেন এবং মেনে নিয়েছেন

– তারও বহুশত বছর পরে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করল নুতফা, আলাকা, মুদগাহ সত্য

– মূলত মানুষের কোন জন্মগত জ্ঞান নেই, তাকে বানানো হয়েছে জ্ঞানশূন্য ভাবে

– একটি শিশু মুরগী, খেতে পারে, আত্মরক্ষা করতে পারে, অলসতা ঝাড়তে পারে

– একটি শিশু হরিণ মায়ের স্তন সন্ধান করে খেয়ে, সহসা দাঁড়াতে, দৌড়াতে পারে

– একটি শিশু হাঁস সহসা পানিতে ভাসতে পারে, ডুব দিতে পারে… কিন্তু

– একটি মানুষের বাচ্চা ওভাবে পারে না, প্রাণীদের মত জন্মগত জ্ঞান মানুষের থাকে না

– মানুষকে জীবনের একটি বিরাট অংশ ব্যয় করতে হয় জ্ঞান অন্বেষণ এবং জানার জন্য

– এত চেষ্টার পরও মানুষের জানার চাহিদা শেষ হয়না এবং জানারও ইতি ঘটে না

– এত কিছুর পরও মানুষের কাছে সকল জ্ঞান ধরা দেয় না, যদিও তাদের আগ্রহ থাকে

– সে জ্ঞান রাসুল (সাঃ) হিলফুল ফুজুলে পায় নাই, যদিও সকল জ্ঞানী তাঁর সাথী ছিল

– সে জ্ঞান পেয়েছেন মহান আল্লাহর মাধ্যমে, বিশেষ দয়া এবং বিবেচনায়

– এটা এমন জ্ঞান আল্লাহ যদি না দেয়, দুনিয়ার সকল মানুষ একত্রিত হয়েও পাবে না

– যে জ্ঞান মানুষের ভবিষ্যতকে পথ দেখাবে, অতীতের অন্ধকারের স্বরূপ উৎঘাটন করবে

– সেই জ্ঞানের মূল উপাত্ত হল পবিত্র কোরআন, এটাই একমাত্র মাধ্যম

– কুরআন (القرآن) মানুষের কাছে পাঠানো হয়েছে বারংবারে পড়ার জন্যে

– বারে বারে পড়া হবে বলেই, আল্লাহর সৃষ্টির সূচনাতেই এই গ্রন্থের নাম কোরআন রেখেছেন। দারস-সুরা-আলাক্ব

 

শিক্ষা

– সকল কাজ আল্লাহর নামে শুরু করতে হবে, তার সাহায্য পাওয়ার মধ্যেই সফলতা

– কোরআন পড়া, কোরআনের মাধ্যমেই জ্ঞান অন্বেষণ মানুষের মুক্তির উপায়

– মানুষের জন্যে শিক্ষা অপরিহার্য, শিক্ষা অর্জনের অন্যতম পন্থা হল অধিক পড়াশোনা

– পড়াশোনা ব্যতীত ইনছান শুধুমাত্রই বাশার, যার গুরুত্ব একটি প্রাণীর মতই

– মহান আল্লাহর দয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা মানুষের জন্যে অপরিহার্য

– মহান আল্লাহ সম্পর্কে সর্বদা সু-ধারণা পোষণ করা মানুষের অন্যতম কর্তব্য

– জ্ঞান অর্জনই শেষ নয়, আহরিত জ্ঞানকে প্রচার করতে হবে

– পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে লিখে যেতে হবে

– যেহেতু, দুনিয়ার আর নবী-রাসুল আসবে না, আসমানি কিতাব আসবে না

– সেহেতু, নিজেদের আহরিত জ্ঞান সাচ্চা ও পরিশুদ্ধ করে লিপিবদ্ধ করতে হবে

– ফলে পরবর্তী প্রজন্ম অতীতের জ্ঞানকে বিশ্লেষণ করে

– পরবর্তী দুনিয়ার জন্যে নতুন জ্ঞানের প্রসার ঘটাবে

– আল্লাহ চায় মানুষ জ্ঞান নিয়ে ভাবুক, গবেষণা করুক, উদ্ভাবন করুক

– এতে করে দিন দিন নতুন করে, নতুন ভাবে আল্লাহর মহত্ব, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত ও বিকশিত হবে

– মানুষ সৃষ্টির পিছনে এটাই আল্লাহর মূল অভিপ্রায়,

– এই জায়গাতেই ফেরেশতা ও জীন সৃষ্টির চেয়ে মানুষ সৃষ্টি বড় ঘটনা। দারস-সুরা-আলাক্ব