আজমির এর মাটিতে শুয়ে আছেন খাজা মইনউদ্দীন চিশতি (রঃ)। এটি ভারতের রাজস্থানের আজমীর রাজ্যে অবস্থিত। খাজা মইনউদ্দীন চিশতির প্রতি ভালবাসায় তার মাজার বা দরগাহ এলাকাটিকে আজমির শরীফ বলে থাকে। বাংলাদেশী অনেক মানুষের বিশ্বাস আজমিরে গেলে কেউ খালি হাতে ফিরে না। যে নিয়ত বা মান্নত করে সেখানে যাবে, তার ভাগ্য উৎকৃষ্ট হবেই। তার যত দুঃখ দুর্দশা বিপদ মুছিবত থাকুক না কেন, খাজা মইন উদ্দীন চিশতি (রঃ) এর প্রভাব কিংবা দোয়া কিংবা বরকতে মুক্তি মিলবেই। সে কারণে সারা বছর মানুষ দলে দলে সেখানে জেয়ারত করতে যায়। এগুলো হল লোকমুখে চালু থাকা কিছু কথা, যার কোন ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দলীল কিংবা প্রমাণ নেই। অথচ অগনিত হাদিসে উল্লেখ আছে, উপরোক্ত সমস্যাগুলো তো বটেই, আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া যায় মক্কায় গেলে। মসজিদুল হারাম তথা সম্মানিত মসজিদের মেহমানদের যে কোন দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। তেমনি একটি ঘটনার কথা বলব, ঢাকার আশাহত যুবক নিয়ত করেছিলেন আজমির যাবেন, তিনি লোকাল এজেন্সিকে টাকাও দিয়েছিলেন, তার জন্যে আজমির যাবার যাবতীয় বন্দোবস্ত করে দেন কিন্তু এজেন্সির এক মহাভুলে তিনি আর আজমিরে যেতে পারেন নাই। সেই কাহিনীর আলোকে আজকের প্রবন্ধ
যাচ্ছিলেন আজমিরে পৌঁছলেন মক্কায়
পিছন থেকে গায়ের চাদরে জোড়ে টান দিয়ে বললেন, ভাই আমরা দলছুট হয়েছি। আমরা আপনার সাথে থাকব। মক্কায় এসেছি কিন্তু নিয়ম নীতির তো কিছুই জানিনা। একই গাড়ীতে এসেছি। ষাট জনের দলে এই দুজনকে নিয়ে গাড়ীতে বেজায় কথা বার্তা হয়েছিল। দীর্ঘসময় বসে থাকায় আমার পায়ে পানি জমে ফুলে উঠেছিল। প্রচণ্ড ব্যথার জ্বালা সইতে পারছিলাম না। ফলে খুঁড়িয়ে চলতে গিয়ে, সবার পিছনে পড়ে যাই এবং দলছুট হয়ে পড়ি। মনে প্রশ্ন জাগল আমি না হয় পায়ের সমস্যার কারণে দলছুট হলাম কিন্তু ওরা কেন দলছুট হল! হৃদয়ের সমস্ত অভিব্যক্তিকে জড়ো করে, মসজিদের হারাম তথা কাবার পার্শ্বে দাঁড়িয়ে চরম আবেগের মুহুর্তে সে প্রশ্ন করার সময় এটা নয়।
– অন্তরে রাজ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মক্কায় হাজির হয়েছি কিছুক্ষণ আগেই। ছোট ফাঁক দিয়ে কাবা নজরে এসেছিল। হৃদয়ে তুমুল ঝড়, এখুনি হাজির হব তাওয়াফে। ঠিক সেই মুহূর্তে এই দুই ব্যক্তি আমাকে বানাইল ঈমাম! বললাম, দেখুন আমার পায়ের দশা কি, আমি হাটতে পারছিনা, তাই আমার সাথেই আপনাদের তাল মিলাতে হবে।
– তারা বলল, ঠিক আছে ভাই, আপনার আমরা সাথেই থাকব। যেভাবেই হোক মক্কায় পৌঁছে গেছি। কিন্তু দোয়া কালাম কিছুই জানিনা। আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করবেন।
– নির্ঘাৎ এটা তো একজন প্রকৃত মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মনে মনে ভাবলাম আল্লাহ হয়ত তাদের উছিলায় আমার কোন দোয়া কবুল কিংবা কল্যানকর কিছুই হবে। তাই উত্তর দিলাম অবশ্যই সহযোগিতা দিব, এটা আমার কর্তব্যের মধ্যেও পড়ে।
কাবা ঘরকে চোখে দেখলাম, মাত্তাফে দাঁড়ালাম (কাবার চারিদিকে ঘুরার চক্ষর) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানালাম। তিনি আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে এখানে পৌঁছিয়েছেন। পথিমধ্যে আমি মরার অবস্থা থেকে বেঁচে এসেছি। আমার তো এতটুকুই চাহিদা ছিল যে, যেন মক্কায় এসেই মরতে পারি। সেটা তো হয়েছে, আসার পথে কান্না করে আল্লাহর কাছে এটাই তো বলেছিলাম।
তখনই সাথে থাকা দু’জনের একজন বলল: ভাই, বিটিভিতে বহুবার মানুষকে এভাবে চারিদিকে ঘুরতে দেখেছি! কি তাজ্জব ব্যাপার! আজকে আমিও সেই জায়গায় হাজির হয়েছি। আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছেনা যে, আমি এখানে। আচ্ছা ভাই মানুষেরা সবাই একদিকে ঘুরছে, উল্টো দিকে ঘুরলে কি কোন সমস্যা হবে?
ওমরার তাওয়াফ শুরুই করতে পারিনি। নিজে অসুস্থ। তার উপরে এই বিদঘুটে প্রশ্ন শুনে থমকে দাঁড়ালাম কিন্তু সুযোগ কম। দোয়া পড়া বন্ধ করে ভাবছি কি উত্তর দেওয়া যায়। দু’জনেরই ঝড়ের মত প্রশ্ন শুরু হয়েছে। এত সামান্য প্রশ্নের উত্তর সাধারণেরা এমনিতেই জানে কিন্তু এই দুই জনের একজনের কাছেও এসবের কোন উত্তর নেই। মনে হচ্ছে তাদের কেউ জোড় করে কোন অজানা জনপদ থেকে তুলে এনে মক্কার চারিদিকে তাওয়াফে লাগিয়ে দিয়েছে। তাই তারা এসব দেখে চরম হতভম্ব। পুরো চিত্রটাই এমন। তাদের দুজনের মধ্য থেকে আপাতত একজনের প্রশ্নোত্তরই লিখি।
বললাম, উল্টো ঘুরতে যাবেন কেন? সবাই যেভাবে ঘুরছে আমাদেরও সেভাবে ঘুরতে হবে। চলুন।
চলার সময় দোয়াগুলো আস্তে করে পড়ছি, যাতে তারা শুনে আমার সাথে মুখে মুখে উচ্চারণ করতে পারে। একশত পদক্ষেপও আগাতে পারিনি, আবার প্রশ্ন,
ভাই, কাবা ঘরের ভিতরে কার কারো কবর আছে?
জনাব ওখানে কারো কবর নেই। আপনি বরং কথা না বলে আমার সাথে দোয়া পড়তে থাকুন।
ওরা দোয়া পড়ে চলতে থাকল আর চারিদিকে বিস্ময়ভরা নেত্রে তাকাচ্ছিল। উল্লেখ্য নতুন হাজিদের জন্য মক্কা শরীফের নির্মিত ভবনের প্রতিটি স্তম্ভই একটি দৃশ্যনীয় বস্তু হয়ে উঠে। তাদের
কাছে আরো বেশী হয়ে ধরা দিয়েছে। কয়েক কদম যাবার পরে আবারো জানতে চাইল,
ভাই, তাহলে আমাদের রাসুলের (সাঃ) কবর কোন স্থানে? মানে কাবার কোন কর্নারে সেটা একটু জানান ভাই!
মনে চরম খটকা লাগল এগুলো কি আসলেই মুসলমানের সন্তান নাকি ভিন্নধর্মী কেউ মুসলিম সেজে হজ্জে এসেছে। কেননা স্কুলের একজন সাধারণ ছাত্র জানে রাসুল (সাঃ) কবর মক্কায় নয়
বরং মদিনায়। তবুও নিজেকে ধৈর্যের মধ্যে রেখে শান্ত গলায় উত্তর দিলাম।
না ভাই, রাসুল (সা) এর কবর মক্কায় নয় ওটা মদিনায়!
মদিনা কত দূরে? আবারো প্রশ্ন!
জনাব মদিনার দূরত্ব কয়েকশত মাইল। বললাম ভাই, বহু কষ্টে হজ্জে এসেছেন, এটা বড় সৌভাগ্যের বিষয়। অন্তত মন দিয়ে দোয়া পড়ুন। আল্লাহর কাছে আপনাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা
বলুন। পরে আপনাদের সকল প্রশ্নর উত্তর দেওয়া হবে। এখন শুধু দোয়া পড়ুন।
তারা দু’জন আমার এহরামের কোনা ধরে তারা এগিয়ে চলছে। কিন্তু দোয়া পড়ছেন পাশে চলতে থাকা ইন্দোনেশিয়ান গ্রুপের মুখে মুখে। অর্থাৎ তারা বেজায় অন্য মনস্ক! এবার এক প্রকার
আমাকে দাঁড় করানোর মত করে প্রশ্ন করল, “ভাই, রাসুলের (সা) কবর মদিনায়, কথাটা এখন মনে পড়ছে। তাহলে আমরা এখানে ঘুরছি কেন?”
আজীবন মাথা ঠাণ্ডা রেখে চলার উপদেশ পেয়েছি। হজ্জে আসার সময় মোয়াল্লেম বারবার যে কথাগুলোর তাগিদ দিয়েছেন। সেটা হল রাগ-গোস্বাকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে। কিন্তু এই ধরনের একটি সেনসিটিভ জায়গাতে এভাবে একত্রে দুই পাগলের পাল্লায় পড়ব। কল্পনাও করিনি। তাই যথাসম্ভব মেজাজ ঠাণ্ডা রেখে বললাম।
ভাই, আল্লাহর ওয়াস্তে মুখ বন্ধ রেখে হয় আপনারা আমাকে অনুসরণ করুন, নতুবা এই মুহূর্তে আমাকে ত্যাগ করুন। নিশ্চয়ই আমি আপনাদের দায়িত্বে নই। আপনারা নিজেদের মোয়াল্লেম কে খোঁজ করে তাঁদের সাথে ঢুকে পড়ুন।
কাবার চারিদিকে এভাবে চক্কর দেবার নাম তাওয়াফ। এটা আগমনকারী হাজিদের প্রথম কাজ। আমরা যেহেতু মাত্রই এসেছি, তাই আমরাও আল্লাহর নির্দেশ মত এর চারিদিকে ঘুরছি। আপনার দেখুন একইভাবে সবাই ঘুরছে।
তারা দুজন বললেন, ভাই, আমরা মোয়াল্লেম কে হারিয়ে ফেলেছি বলেই তো, আপনার সাথে এসেছি। তাছাড়া মোয়াল্লেম সাহেব তো গাড়িতেই বলে দিয়েছেন যে, কোন প্রশ্ন থাকলে ওনার অবর্তমানে আপনার নিকট থেকে জেনে নিতে। উল্লেখ্য নানাবিধ মাসয়ালা মাসায়েল জানতে চাইলে ওনার অবর্তমানে আগ্রহী কেউ আমাকেও জিজ্ঞাসা করতে পারেন। সেই কথার দৃষ্টান্ত দিয়ে বললেন,
আর আপনি বলছেন আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে! এটা কেমন কথা? আমরা না জানলে তো প্রশ্ন করবই। আমাদের হজ্জ না হলে কিন্তু ভাই আপনিই দায়ী থাকবেন!
উফ! শিশুকাল থেকেই হজের স্বপ্ন দেখতাম। মায়ের কাছে দোয়া চাইতাম। স্কুল জীবনেই মক্কা-মদিনা ও হজের ইতিহাস পড়েছিলাম। সারা জীবন ভর এই স্বপ্ন বুকে লালিত করেছি। বহু ঝড়-ঝঞ্ঝাট মোকাবেলা করে কিছুক্ষণ আগেই কাবার চত্বরে প্রবেশ করেছি। বহু মানুষ এই খুশীতে চোখের জ্বলে নিজের বুক ভাসিয়ে দিচ্ছে। আর আমি অসুস্থ অবস্থায় এমন দু’জন হাজির খপ্পরে পড়েছি। যারা সাবধান বানী শোনাচ্ছেন, তাদের হজ কবুল না হলে নাকি আমি দায়ী থাকব।
এদের কাছে হজ্জ, মক্কা-মদিনা সম্পর্কেও ন্যুনতম কোন জ্ঞান নেই। বিন্দু বিসর্গ কিছুই না জেনে এরা হজে চলে এসেছে। এরা কেমন মানুষ! আবার সেই কথা মাথায় আসল, এরা কোন বিধর্মী কিনা! আবার তওবা করলাম, আমি এমন করে কেন ভাবছি।
আবার অগ্রসর হলাম, দোয়া করতে থাকলাম। লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে আগানো যাচ্ছেনা। গাড়িতে ষাট ঘণ্টার উপরে একাধিক্রমে বসে থাকার কারণে, পায়ের জমা পানি আরো ভারী হয়ে উঠছে। যার কারণে চলার গতি আরো মন্থর হল।
এক চক্কর শেষ করতে পারিনি। আবারো প্রশ্ন, ভাই তাহলে একবারের জন্য হলেও বলুন, তাহলে কাবা ঘরের ভিতরে আছেটা কি?
মহা মুসিবত! একটা প্রশ্নের উত্তর দিলে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। রাগ-গোস্বা কিছুই দেখানো যাচ্ছেনা আবার পরিত্যাগ ও করতে পারছিনা। একপাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।
বললাম কি কি প্রশ্ন আছে বলুন? তার সম্যক সকল প্রশ্নের ছোট্ট উত্তর দিয়ে তাওয়াফে নামলাম। বললাম, আল্লাহর ওয়াস্তে আর কোন প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন সব মাথায় ঢুকিয়ে রাখুন, পরে সকল প্রশ্নের উত্তর দিব। চেহারা দেখে মনে হল, আমার ছোট্ট উত্তরে তার মন গলেনি। এভাবে কোন মতে সেদিনের মত তাওয়াফ, সাঈ শেষ হল এবং ঘরে ফিরা হল। কিন্তু
এবার আমার মনে প্রশ্নের ঝড় সৃষ্টি হল, তারা কিছুই না জেনে কেন কিভাবে কার প্ররোচনায় হজে এলেন!
সে এক চমৎকার ঘটনা, সেই ঘটনাটাই আজকের প্রবন্ধের মূল টাইটেল, ভাই আমরা যাচ্ছিলাম আজমিরে আর পৌছে গেলাম মক্কায়! কেন কিভাবে?
তার ইচ্ছা ছিল আজমির যাবে। যেখানে গেলে মানুষের মনের আশা, নিয়ত পূরণ হয়। এক বিল্ডিংয়ের নীচে এমন এক ব্যক্তির দোকান আছে, যিনি মানুষদের জেয়ারতের লক্ষ্যে আজমির, দিল্লি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ব্যবসায়ের পাশাপাশি তিনি পীর, মাজার, রওযা, ওরস এসবের নানা দায়িত্ব পালন করে। একই ভবনের অপরদিকে ছিল আরেকজন আলেমের দোকান। তিনি হজ ও ওমরায় মানুষ পাঠান। আমাদের এই বন্ধুটি, তথ্য জানার জন্য ভুল করে উল্টো সেই আলেমের দোকানে ঢুকেছিল। তিনি তাকে এই কথা বুঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে, আজমিরে গিয়ে যা পাবে না, মক্কায় পৌঁছে তার চেয়েও অনেক বেশী পাবে। যা চাইবে, তাই পাবে। তখন হজে মৌসুম চলমান থাকায় আগন্তু ব্যক্তিটির নাম হজ্জে গমনেচ্ছুদের তালিকায় ঢুকিয়ে দেন।
এটা হল সকল ঘটনার মূল
ভাবলাম, কত মানুষ হজ্জ করার জন্যে মুখিয়ে আছে। তাদের ভাগ্যে জুটছে না। আল্লাহ কাকে, কিভাবে, কার কল্যাণ সাধন করে থাকে। মানুষ কোনদিন তার হিসেব করতে পারে না। পরবর্তী আট দিনে এই বন্ধুটিকে ইসলামের মৌলিক বিধান বুঝালাম এবং নিশ্চিত করলাম যে, সকল দোয়া এখানেই কবুল হয়। যেহেতু তোমাকে কোন ভাবে আল্লাহ এই জায়গায় হাজির করেছে, তাহলে এখনই তুমি পরিবর্তন হও। নিশ্চয়ই তোমার জন্য বিরাট কল্যাণ লুকিয়ে আছে। এতদিন এই ব্যক্তি শুধু অর্থের পিছনে ঘুরেছিল অথচ সে মক্কায় বসেই বহু বই জোগাড় করে পড়তে শুরু করেছিল।
অন্যের টাকায় বদলি হজ করতে এসে মসজিদে হারামেই নামাজ পড়েনা এমন বহু ব্যক্তিকে দেখেছি। আমাদের সাথে হজ করতে এসে, প্রথমে কাবার তাওয়াফে না গিয়ে, দেশ থেকে আগেই এসে পড়া পীর সাহেবের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। তাকে প্রশ্ন করেছে কখন তাওয়াফ করবে এবং অনুমতি চেয়েছে তাওয়াফের? হারামের বিশাল সালাতের জামাত চলছে, মাইকে তেলাওয়াত শোনা গুনাহ ভেবে অনেকেই জামায়াতে শরীক হয়নি। কোটি টাকার মালিক হলেও কখন নিজের পকেটের টাকায় হজ করত কিনা প্রশ্ন থাকে, এমন ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের ফ্রি টাকার শ্রাদ্ধ করতে হজে গিয়ে হাজির হতেও দেখেছি।
মূলত সকল কল্যাণ আল্লাহর হাতেই নিহিত। কেউ অন্তর্দৃষ্টি-দূরদৃষ্টি দিয়ে তা দেখতে পায় আর কেউ দেখে মৃত্যুর বিছানায় ছটফট করা অবস্থায়।
হাদিস শরীফে উল্লেক আছে, দুনিয়াতে প্রতিদিন আল্লাহর পক্ষ হতে একশত টি রহম নাজিল হয়। যার নিরানব্বইটি মক্কায় নাজিল হয়। বাকি একটিকে সারা বিশ্বে বণ্টন করা হয়। এই হল মসজিদুল হারাম তথা মক্কার গুরুত্ব। সেখানে তওবাকারী, পরিষ্কার অন্তর নিয়ে যে পৌছে, সেই কল্যানের অধিকারী হয়। তাকে কখনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।