জাতির পরিবর্তনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইবনে খলদুনের অভিমত
বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইবনে খলদুন তার আল মুকাদ্দিমায় বলেছেন, একটি জাতির পুরো জনসমষ্টির পরিবর্তন হতে অন্যূন ৪০ বছর সময় লাগে। অবশ্য কথাটির পিছনে তার সবল যুক্তি রয়েছে। কেননা পবিত্র কোরআনেই এ ব্যাপারে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে,
“ঠিক আছে, তাহলে। ঐ দেশটি চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের জন্য হারাম। তারা পৃথিবীতে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াবে। এসব নাফরমানদের প্রতি কখনো সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করো না।” মায়েদা-৪৭
মুসা (আ) তার জাতিকে খরস্রোতা সাগর উপকুল পেরিয়ে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। নদী পথে রাস্তা হল, পাথর ফেটে পানি বের হল, আকাশ থেকে বাতাসের মাধ্যমে খাদ্য অবতরণ হতে থাকল!
অতঃপর তাদেরকে ন্যায়ের জন্য মুসা (আ) সহযোদ্ধা হয়ে লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হল। এতকিছুর পরেও এসব অনুসারী মুসা (আ) কে প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করতে থাকে।
আল্লাহ নাখোশ হবার কারণে সেই জাতির দুর্ভাগ্যে কি নেমে এসেছিল
আল্লাহ তাদের উপর নাখোশ হলেন, ফলে তিনি পুরো জনগোষ্ঠীকে মরুভূমিতেই পথহারা করে দিলেন। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও নিরাপত্তা হীনতায় আক্রান্ত হয়ে, পুরো জনগোষ্ঠীর বয়োবৃদ্ধ মানুষগুলো বিরান মরু প্রান্তরে, ধুকে ধুকে নিঃশেষ হয়েছে।
পরবর্তীতে মহান আল্লাহ, তাদের মরু-চারী ভাগ্য বিড়ম্বিত সন্তানদের দিয়েই, নূতন সমৃদ্ধশালী জাতির সূচনা করেন। পুরানো অসভ্য, অকৃতজ্ঞ ও হঠকারী জাতির স্থলে অধিকতর একটি সভ্য জাতি গড়তে সময় লেগেছিল চল্লিশ বছর।
জাতির পরিবর্তন নিয়ে প্রয়াত সচিব ড. সাদাত হোসেন একটি কথা বলতেন
প্রয়াত সচিব ড. সাদাত হোসেন, তিন বছর আগে, এক টেলিভিশন শোতে বলেছিলেন, আগামী পনের বছর পরে বাংলাদেশের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে।
এখন আমরা জাতীর যে শীর্ণ ও করুন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি, আগামী পনের বছর পরে সেটা আর থাকবে না। তদস্থলে একটি নতুন জাতির সূচনা হবে। যারা হবে বলীয়ান, গরীয়ান ও নতুনত্বে অগ্রসর-গামী।
মূলত তিনি আওয়ামীলীগের সরকারের প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন যে, চল্লিশ বছরেও স্বাধীনতা অর্জনের সুফল জাতি পায়নি। বরং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যারাই আমাদের দেশ যারা শাসন করছে। তারা কমবেশি সবাই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে তাদের দুর্বলতা চাপা দেবার অস্ত্র বানিয়ে নিয়েছে।
বিশ্বাসঘাতক নেতৃত্ব ও নেতা দিয়ে ৪০০ বছরেও কোন জাতির পরিবর্তন সম্ভব নয়
চরম সুবিধাবাদী, অন্যায়কারীও আমাদের স্বাধীনতার গৌরবকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এমন সব ব্যক্তিদের ক্ষমতার পরিধিও অনেক বেশী। এমন ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থাকলে ৪০ বছর কেন ৪০০ বছরেও পরিবর্তন হবেনা, এতটুকু বলার হিন্মত সম্ভবত হাসিনার আমলে আর কারো বুকে নেই।
হাসিনা দেশটাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের তার দলের কে কোথায় লড়েছেন? এমন প্রশ্ন করার সাহস ও বুকের পাঠা আজো কোন বাঙ্গালীর জন্মেনি!
মানুষ মরণশীল! হাজার বছর কেউ বাঁচেনা। আমাদের দেশেও আশি বছর বাঁচতে পারাই হল চরম সৌভাগ্যের বিষয়। সে হিসেবে বলতে গেলে, আগামী বারো বছর পরে আমাদের দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারকদের অনেকেই আর কেউ জীবিত থাকবে না।
জাতির নতুন প্রেরণা সৃষ্টি হবেই বাধা কাউকে রুখতে পারে না
যে দলেরই হউক, তখন এক নতুন জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হবে। তারাই মূলত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সেখানে স্বাধীনতাকে পুঁজি বানিয়ে অন্যকে দাবিয়ে রাখার সেই মলম আর কাজ দিবে না।
যারা দেশটাকে গড়তে চায়, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করাতে চায়; তাদের জন্য এটিই মোক্ষম সময়। করোনার তাণ্ডবে আজ সারা জাতি বিপর্যস্ত। অনেক জন-নন্দিত নেতারা সাহায্য করতে না পারার ব্যর্থতায় নিজেদের মুখ লুকাতে ব্যস্ত।
সমগ্র জাতি বুঝে ফেলেছে, রাজনীতিতে কোন সাধুতা নেই। জাতির পতনোন্মুখ ঠিক এই সময়ে, যারাই দেশ মাতিয়ে রাখবে, তারাই সফল হবে। তাদের কথাই মানুষ মনে রাখবে। কেননা করোনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম আরেকটি জাতীয় সংগ্রামে পরিণত হয়ে উঠবে।
এই সংগ্রামে জন-প্রেমিক, দেশপ্রেমিক আর কে ঠগ-বাজ সবার চেহারা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই হতাশা ফেলে দেশের মঙ্গলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন। চলুন সবাইকে এক করার জন্য চেষ্টিত হই।