টেসলা তথা ব্যাটারী চালিত গাড়িতে সয়লাভ সারা দেশ
টেসলা তথা ব্যাটারী চালিত গাড়ির অন্ধ ধাক্কায় নিয়ম শৃঙ্খলা প্রায় লণ্ডভণ্ড : সরকারের কাজ কারো প্রতি দয়া-দখিনা দেখানো নয় বরং সরকারের দায়িত্ব হল নীতির বাস্তবায়ন করা। সেই নীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে যদিও কারো পেটে-পিটে আঘাত লাগে।
একজন বিচারক যদি আসামীর প্রতি অতি দয়ালু হয়, বিচারকার্যে অবিচার হবে। তিনি খুনি ও দুর্নীতি বাজদের প্রতি সদয় হয়ে লঘুদণ্ড দিবেন, মাফ করে দিবেন বিপরীত দিকের ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ অবিচারের মুখে পড়বে। বিচারক মানুষ, তার মন নরম হলেও কঠিন শাস্তি কাউকে দিতে হয় ন্যায়ের কারণেই।
সরকার ব্যবস্থাও তেমন। তারা সংবিধান, আইনের আলোকে জনগণকে তার বৈধ নিরাপত্তার গ্যারান্টির দিবেন। টাকশালের টাকা ভেঙ্গে জনগণের মাঝে হাতের তাইয়ের মত বিতরণ করা কিংবা কারো জমিতে মই দিয়ে, গরীবের মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করানো সরকারের দায় নয়।
গরীবের উপকার করা নৈতিক, ভাল এবং দলের সুনাম আনে। কিন্তু ক্ষমতায় বসলে মহত কাজকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হয় কেননা ওগুলোর ভুল ধরা, বাধা দেওয়ার কোন মানুষ থাকেনা। ফলে নেতারা ভাল-মন্দ এবং তার দায়ের জায়গার কথা ভুলে যায়। সে কারণে হাসিনা বলত তিনি ১৮ কোটি মানুষকে খাওয়ায়। অথচ তিনি ভুলে গেছেন যে, ওটা তার মেহেরবানী নয় বরং দায়িত্ব। বর্তমান সরকারের চরিত্রও এসব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
হয়ত বলবেন টেসলায় ক্ষতির চেয়ে ভাল হচ্ছে বেশী। আমাদের পোড়ানি কেন? সেই কথার উত্তর পাবার আগে নীচের কথাগুলো মন দিয়ে পড়ুন
গাড়ির বৈধ অনুমতি নিতে হাজারো ঝামেলা মোকাবেলা করতে হয়
১. একজন চালককে শারীরিক সক্ষমতায় উত্তীর্ণ হতে হয়
২. চোখ পরীক্ষার টেস্টে পাশ করে আসতে হয়
৩. ড্রাইভিং এর জন্যে দীর্ঘ-বছর প্রশিক্ষণ নিতে হয়
৪. তারপর মন্ত্রণালয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্যে দরখাস্ত করতে হয়
৫. সেখানেও পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স পেতে হয়
কথা আরো আছে, এবার আসি গাড়ী নিয়ে
৬. গাড়ী যিনি কিনবেন তিনি সরকারকে ট্যাক্স দেন কিনা
৭. তিনি অবৈধ আয় কিংবা দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি কিনা
৮. তারপর তিনি গাড়ি কিনতে ইনভেস্ট করতে পারবেন
৮. সেই গাড়ী যারা বিক্রি করে তারা বৈধ কোম্পানি কিনা
৯. গাড়িটি চোরাই কিংবা অবৈধ কিনা সেচিসের প্রমাণ দিতে হয়
৭. গাড়ির ফিটনেস আছে কিনা প্রমাণ করতে হয়
৮. গাড়ির ইনস্যুরেন্স আছে কিনা (বাধ্যতামূলক) যাতে গাড়ী এক্সিডেন্ট করলে ক্ষতিপূরণ পায়
(সেই গাড়ীটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি শর্তের আওতাধীনে বহন করবে)
৯. সেই গাড়ীর যাত্রীর ইনস্যুরেন্স আছে কিনা (বাধ্যতামূলক) যাতে যাত্রীরাও চিকিৎসা ক্ষতিপূরণ পায়
(উল্লেখ্য যাত্রীর ক্ষতিপূরণ দিবে সেই গাড়ী দিবে, যেটা আঘাত করেছে, পয়েন্ট মনে রাখুন)
১০. সড়ক জনপদ তথা রাস্তার ট্যাক্স দিয়েছে কিনা
১১. সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স দিয়েছে কিনা
১২. লাইসেন্স নবায়ন আছে কিনা
১৩. অতীতে এই গাড়ী কোন অবৈধ কাজে জড়িত কিংবা সন্ত্রাসী বহন করেছে কিনা
১৪. এই গাড়ী অতীতে দুর্ঘটনা করেছে কিনা, করলে দুর্ঘটনার ধরন কি
১৫. গাড়ী রং বিহীন, টেপ পড়া টিনের মত কিনা
১৬. বসার সিট উপযোগী কিনা
১৭. অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কিনা
১৮. গাড়ীর ইঞ্জিন ঠিক মত কাজ করে কিনা
১৯. গাড়ীর সিট বেল্ট আছে কিনা
২০. গাড়ীর ধুঁয়া পরিবেশ বরবাদ করে কিনা?
উপরের ২০ টি বিষয় হ্যাঁ হলেই কেউ একজন রাস্তায় গাড়ী নামাতে পারে। রাস্তায় যে নিরাপত্তা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, সড়ক পুলিশ, মেজিষ্ট্রেট রাখা হয়, তাদের কাজ হল এই গাড়ী এবং জনগণ দুটোই রক্ষা করা।
কখনও ভাবছিলেন কি একটি গাড়ী রাস্তায় নামাকে কথ ঝক্কি ঝামেলা আছে। বাংলাদেশের মত দুর্নীতি গ্রস্ত দেশে এমন ২০ জায়গায় প্রতিবছর ঘুরতে হলে কত টাকা ঘুষ দিতে হয় ধারণা করছেন কি।
সরকারের কাজ হল, যারা ট্যাক্স কিংবা আয়কর দেয় তাদের স্বার্থ নিরাপত্তা আগে দেখা। কেননা তারা জনগণের জন্যে টাকার ব্যবস্থা করেন, তাদের আয়করে রাষ্ট্রের মানুষের বেতন চলে, সরকার খায়, মন্ত্রীরা ফুটায়, এমপিরা দৌড়ায় আর কর্মীরা উড়ায়।
এখানে তাদের ট্যাক্সের জায়গায় টেসলা, হরহরি, হরিতন, রহিমন, ভটভটি যেই নামই বলুন না কেন, তারা কোনটাই করেনা। তাদের কোন অধিকারই নাই, এভাবে রাস্তায় নামার।
টেসলা তথা ব্যাটারী চালিত গাড়ি রাস্তায় নামা মানেই অন্যায়কে প্রশয়
ওদের নামতে দেওয়া মানেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। মানুষের নিরাপত্তার প্রতি অবজ্ঞা দেখানো। এমন চিত্র দুনিয়াবাসীকে বুঝিয়ে দেয় এই দেশে আইন নাই, আইনের কোন মা-বাপ নাই।
উদাহরণ হিসেবে দেখুন, যদি আইন থাকত তাহলে যে লোহা-বোঝাই টেসলা গাড়িটি প্রাইভেট কারের পাছা ছিদ্র করে দিল। সেই গাড়ীটি এর ক্ষতিপূরণ দিবে। ড্রাইভার ও গাড়ির লাইসেন্স বাতিল, জেল ও তাদের রাস্তায় না নামার শাস্তি হত।
কথা হল এখানে টেসলার চালকেরও লাইসেন্স নাই, গাড়ীরও লাইসেন্স নাই, সেই ব্যক্তিরও আইডি কার্ড নাই। কি দিয়ে শাস্তি কিংবা জরিমানা দেওয়া হবে।
ধরুন দেশটি আরবের কোন দেশ। এমন মামলার জন্যে আদালত যে শাস্তি দিবে তা হল। দায়ী পুলিশ অফিসার, যার অবহেলার কারণে এই টেসলা রাস্তায় নেমেছে।
যদি পুলিশ অফিসারের দোষ প্রমাণ না হয়, তাহলে দায়ী রাষ্ট্র, এই গাড়ীর সকল ক্ষতিপূরণ, যেমন গাড়ীটি যতদিন ঠিক না হয়, ততদিন একই মানের আরেকটি গাড়ীর প্রতিদিনের ভাড়া, তার ড্রাইভারের বেতন ইত্যাদি দিতে হবে। সাথে সাথে টেসলার ড্রাইভারের জেল, জরিমানা তো আছেই। আমাদের দেশে এটা কি হয়।
যদি অবৈধ টেসলার বিনা লাইসেন্সের আঘাতে কোন মানুষ বা পথিক মারা যায়, তাহলে সেই ড্রাইভারের ফাঁসি হবে। যদি সব কিছু বৈধ ডকুমেন্ট থাকে এবং আক্রমণের কোন অভিপ্রায় পাওয়া না যায়, তাহলে সেই ড্রাইভারকে ততদিন জেলে থাকতে হবে, যতদিন না, সে নিহত ব্যক্তির পক্ষে রক্ত-মূল্য পরিশোধ না করে।
বিষয়টি একটু ভাবুন তো। এভাবে আইনকে অবজ্ঞা করে আমরা কত অন্যায়, অপকর্ম রাষ্ট্রীয় পদে বসে করে যাচ্ছি।
তাহলে টেসলা তথা ব্যাটারী চালিত গাড়ির ওরা কি করবে
বলতে পারেন, তাহলে টেসলার ওরা কি করে খাবে?
সেটা ভাবার দায়িত্ব জন প্রতিনিধির, সরকারের, মন্ত্রীদের। দেশের থিংক ট্যাংকার ও গবেষক দের। তারা বেকার মানুষদের জন্যে কাজের সৃষ্টি করবে। কর্মীর হাত বানাবে। যদি টেসলার মত গাড়ীর দরকার হয়, তাহলে সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি গুলোকে বলবে, পরিবেশ ও জন-বান্ধব গাড়ী বানাতে, যে সব গাড়ী উপরে বর্ণিত ২০ টি শর্ত পূরণ করতে পারে। তবে সেগুলো রাস্তায় নামতে পারবে। কারো কোন সমস্যা নাই। বরং দেশ ও জাতির উপকার। সরকার পাবে টাকা জনগণ পাবে সেবা।
সুতরাং অচিরেই এবং আজই এসব গাড়ী বন্ধ করা হউক এবং আইনের কঠোর শাসন বাস্তবায়ন হউক।