‘মুহাম্মদ’ – নবজাতকের নাম রাখলেন দাদা আবদুল মুত্তালিব

আবদুল মুত্তালিব নবজাতকের নাম রাখলেন মুহাম্মদ

শিশু মুহাম্মদ (সাঃ) নাম রাখা, আকিকা ও খতনার ব্যবস্থা করলেন দাদা আবদুল মুত্তালিব

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের সপ্তম দিনে আড়ম্বর অনুষ্ঠান করে আকিকা দিয়ে তাঁর নাম রাখা হলো মুহাম্মদ। আমন্ত্রিত অতিথিগণ তৃপ্তিসহকারে আহার করে আব্দুল মুত্তালিবের কাছে জানতে চাইলো, ‘তোমার নাতির নাম কি রাখলে?’

আব্দুল মুত্তালিব বেশ গর্বভরে জবাব দিল, ‘আমার নাতির নাম রেখেছি মুহাম্মদ।’

এই নাম শুনে অনেকে পুনরায় প্রশ্ন করলো, ‘আমাদের মধ্যে যে ধরণের নাম রাখা হয় তেমন নাম না রেখে ব্যতিক্রম ধর্মী নাম রাখলে যে?’

দাদার ব্যতিক্রমী নাম মুহাম্মদ (সাঃ) নাম রাখার মহাত্ম্য

আব্দুল মুত্তালিব তৃপ্তির হাসি চেহারায় ফুটিয়ে বললো, ‘আমি চাই যে, পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি এবং আকাশে আল্লাহ তাঁর চরম প্রশংসা করে। এই নাতি চিরদিন যেন সর্বত্র প্রশংসিত হয়, এ কামনায় আমি তাঁর নাম রেখেছি মুহাম্মদ।’

মা আমেনা নবজাতক পুত্রের নাম রাখলেন আহমাদ 

মা আমেনা নবজাতকের নাম রাখলেন ‘আহমাদ’। কেননা, তিনি স্বপ্নে এই নাম রাখার জন্য আদেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশে আহমাদ শব্দটি আহম্মদ হিসেবেই বেশী পরিগণিত। দুটোই একই শব্দ, একই অর্থ। 

উল্লেখ্য মুহাম্মদ ও আহমাদ শব্দ দুটোর উৎস এক স্থল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। মূল ধাতু: ح م د (হা-মীম-দাল) বর্ণ থেকে শব্দ দুটোর উৎপত্তি। ফলে মৌলিক অর্থও একই ধাঁচের। “মুহাম্মদ অর্থ : যিনি বারবার প্রশংসিত হন” এবং “আহমাদ অর্থ : যাঁর প্রশংসা বারবার করা হয়”

এই নাম দুটোই বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের হাজার হাজার বছর পূর্বে কিভাবে মনীষীদের মুখে উচ্চারিত হয়েছে এবং তাঁরা তাদের অনুসারীদেরকে সেই আহমাদ বা মুহাম্মদের অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছেন, আমরা তা ইতিপূর্বে উল্লেখ করে এসেছি।

আরবে মুহাম্মদ নামের কোন প্রচলন তেমন একটা ছিল না। হঠাৎ দু’একজনের নাম মুহাম্মদ দেখা যেত। কিন্তু আহমাদ নামে কোন ব্যক্তির নাম আরবে ছিল না। অপ্রলিত ‘আহমাদ’ শব্দ প্রয়োগে কারো নাম ব্যবহার হতে পারে সে ধারনাও ছিল না। তাইতো মা আমেনাও স্বপ্নের মাধ্যমে আহমাদ নামটি রাখার জন্যে আদিষ্ট হয়েছিলেন। আবার দাদা ও মায়ের নামের মধ্যও কোন মৌলিক তফাৎ রইল না।

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনীর আগের পোষ্টটিও পড়তে পারেন….

ইহুদী ও খৃষ্টানদের ধর্মেও মুহাম্মদ (সাঃ) নামের একটি ঘোষনা ছিল

ইহুদী এবং খৃষ্টানদের ধর্মীয় পণ্ডিতগণ সে সময়ে তাদের কিতাব থেকে জানতে পেরেছিল, সর্বশ্রেষ্ঠ একজন নবী আসবে এবং তাঁর নাম হবে মুহাম্মদ এবং তিনি ইসমাইলী বংশে আসবেন।

এ কথা যারা শুনেছিল, তারা তাদের পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাদের নাম রাখতো মুহাম্মদ এই আশায় যে, তাঁর এই সন্তানই হয়তো সেই নবী হবে। বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পূর্বে যাদের নাম মুহাম্মদ ছিল কাজী আয়াজ তাদের সংখ্যা ছয়জন বলে উল্লেখ করেছেন।

সীরাতে ইবনে হিশাম বলেছে, তিনজনের নাম ছিল মুহাম্মদ। ইবনে খালাওয়াই এবং ইমাম সুহাইলী বলেছেন তিন এবং আবুদ্দুনুল মারওয়াজি বলেছেন চারজনের নাম ছিল মুহাম্মদ।

হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী (রাহঃ) তিনি তাঁর ফাতহুল বারিতে বর্ণনা করেছেন, আমি অনেক খোঁজ করে জানতে পেরেছি, সেসময়ে গোটা আরবে মোট পনের জনের নাম ছিল মুহাম্মদ।

তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল ইসাবাতে লিখেছেন, সেসময়ে যে পনের জনের নাম মুহাম্মদ ছিল, তারা কেউ কেউ বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়্যাত লাভ করা পর্যন্ত জীবিত ছিল এবং ইসলামের পতাকালে সামিল হয়েছিল।

মুহাম্মদ ইবনে আদি ইবনে রাবিয়্য সম্পর্কে তিনি বলেন, তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার নাম কিভাবে মুহাম্মদ রাখা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর পিতা শাম দেশে ভ্রমণে খেয়ে খৃষ্টানদের এক গির্জায় গিয়েছিলেন। পাদ্রী তাকে বলেছিল, ‘তোমাদের ভেতরে একজন নবীর আগমন ঘটবে, তিনিই হবেন শেষ নবী।’

পাদ্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘সেই নবীর নাম কি হবে?’ পাদ্রী বলেছিল, ‘তাঁর নাম হবে মুহাম্মদ।’ তখন থেকে আমাদের পরিবারে কোন পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তাঁর নাম মুহাম্মদ রাখা হত।

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর খৎনা

বিশ্বনবী মুহাম্মদ খাৎনা সম্পর্কে দুই ধরণের বর্ণনা পাওয়া যায়। অনেকে বলেছেন, তাঁর খাৎনা মাতৃগর্ভে সুসম্পন্ন হয়েছিল। মাতৃগর্ভ থেকে এ ধরণের পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়।

তবে বিশ্বনবী মুহাম্মদ খাৎনা যে মাতৃগর্ভে থেকে হয়নি, এ সম্পর্কে ঐতিহাসিক প্রমাণ বিদ্যমান। তাঁর আগমনের পরে সাত দিন বয়সে দাদা মুত্তালিব নাতির খাৎনা করিয়েছিলেন এবং সেদিনই আকিকা দিয়েছিলেন।

👈পূর্বের পোষ্ট 𝕋 পরের পোষ্ট 👉

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *