কিছু মানুষ আছে যারা খানা খাওয়ার পরে ইচ্ছাকৃতভাবে থালায় কিছু খাদ্য রেখে দেয়! তাদের অনেকেই এটাকে এক ধরনের ফ্যাশন মনে করেন। কেউ নিজেকে হামবড়া ভাবে। কেউ চোখের খিদের কারনে এটা করে। যে কারণেই এটা করা হউক না কেন, তারা জানেনা নিজের অজান্তে কত বড় সর্বনাশ টাই না করে চলছেন! অপচয়মূলত এই খাসিয়তের কাছাকাছি যতগুলো উপকরণ রয়েছে, সব গুলোর উপসংহারে অহংকারের প্রকাশ ঘটে! তাদের মধ্যে কিছু মানুষ আছে, যারা থালা ভরে খানা নেয় আর আধা থালা উচ্ছিষ্ট করে। এটা চরম অসুখী মানুষের বাহ্যিক পরিচয়। এদের হাতে সম্পদ শুধু ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নিঃসন্দেহে এবং নির্ঘাত এসব মানুষ অর্থ কষ্টে পড়ে। সারা জীবন এদের অভাবের সাথে লড়ত হয়। মানুষ তাদের বঞ্চনা দেখেও সহানুভূতি দেখায় না। এসব লোক আপন আত্মীয় থেকেও সহানুভূতি পায় না।
খাদ্য তথা রিজিকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল বরকত। খাদ্য দেহকে খুশী করে আর বরকত খুশী করে ‘রূহ’ তথা প্রাণকে। একটি শুকনো খেজুর খেয়ে রূহ পরিতৃপ্ত হতে পারে কিন্তু একটি মহিষ খেয়েও দেহ কদাচিৎ পরিতৃপ্ত হয় না। দেহের যাবতীয় ইচ্ছা মনকে প্রভাবিত করে। সে কারণে খাদ্য দেখলে, ক্ষুধার্ত চোখ তার প্রয়োজনকে বড় করে উপস্থাপন করে এবং তার হজম করার সামর্থ্যের চেয়েও বেশী খাদ্য থালায় নেয়।
অতৃপ্ত মান থালা ভরে খেতে থাকে, পেট ফুলে আঠালির মত হলেও, সে তৃপ্ত হয়না। পেটের পরতে পরতে কোল্ড ড্রিংক্স ঢুকিয়ে গ্যাপ গুলো পরিপূর্ণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। তারপরও থালাতে অতিরিক্ত খাদ্য অবশিষ্ট থাকে। যার শেষ আশ্রয়স্থল হয় ডাস্টবিন। অর্থকষ্ট
এ ধরনের মানুষের সন্ধানে থাকে শয়তান। সে এসব খাদ্যেই ভাগ বসায় এবং বেঁচে থাকে। এই খাসিয়তের কারণেই মানুষ গরীব হয়। অভাব তার দরজায় হানা দেয়, শত চেষ্টাতেও সে তার নিজের উপার্জন দিয়ে অভাব পূরণ করতে পারেনা। ফলে ধার-কর্জ করতে বাধ্য হয়। সামর্থ্য ও চাহিদার বাহিরে খরচ করতে থাকে। এর মাধ্যমে অপচয়ের যাত্রা শুরু হয়। যখনই মানুষ অপচয় শুরু করে, তখনই আল্লাহ তার রিজিক থেকে বরকত তুলে নেয়।
বরকত একবার উঠা শুরু হলে সেটা আর থামানো যায়না। মহামূল্যবান এই গুন পূনরায় হাসিল করা কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা এর সাথে চরিত্রের কঠিন অভ্যাস বদলানোর দরকার পড়ে। কিন্তু কপর্দকশূন্য না হওয়া অবধি এ অভ্যাস রপ্ত করতে পারেনা ফলে দিনে দিনে তার অভাব বাড়বে থাকবে এবং তার অবস্থান অতলে হারিয়ে যায়।
রাসূল (সা) বলেছেন, তোমরা তোমাদের আঙ্গুলগুলো চুষে খাও। যদি তা করতে ইচ্ছা না হয় তাহলে অন্য কাউকে দিয়ে চুষে নাও। কেননা খানার বরকত খাদ্যের কোথায় থাকে তা কেউ জানেনা। এই হাদিসে রাসুল (সা) মানুষকে অপচয় মুক্ত জীবন গ্রহণ করারই তাকিদ গিয়েছেন।
যে ব্যক্তি জীবনে তার হাতের আঙ্গুলে পেঁচানো খাদ্যকেও মূল্য দিতে শিখবে, সে ব্যক্তি সব নেয়ামতকে মূল্য দিতে জানবে। তার সারা জীবনের চরিত্র এই চক্রে বেড়ে উঠবে। ফলে সে কখনও অপচয়-কারী হবেনা। যে খাদ্য শুরু করতে আল্লাহর নাম নেয়া হয় এবং শেষদিকে উপরে বর্ণিত আমল দ্বারা শেষ করে। আল্লাহর ওয়াদা সে বরকত প্রাপ্ত হবে। এতে তার সঞ্চয় বাড়বে, সন্তানেরা অল্পে তুষ্ট হবে। স্ত্রীর হাতে ভাগ্য বাড়তে থাকবে।
ঘরের উচ্ছিষ্ট খাদ্য কণা যাতে অপচয় না হয়, সে জন্য আগেকার জমানায় মানুষ ঘরে হাস-মুরগী, গরু ছাগল পালন করত। ফলে তাদের ঘরের ডেকচির বাসী পানি পর্যন্ত কাজে লাগত। চাষা-মজুর-কৃষক-শ্রমিকের সন্তানেরাও পিতা-মাতার চোখ জুড়াতে পারত। বর্তমানে হাজার ডলার কামিয়েও মানুষ ঘরে শান্তি ফিরাতে পারছে না, স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ব্যর্থ হচ্ছে।
গাড়ী ভর্তি উপহার দিলেও স্ত্রী-সন্তান খুশী হচ্ছেনা। আগের দিনে মুরগীর একটি টুকরা খেয়ে তৃপ্ত হত, বর্তমানে পুরো মুরগীকে ফ্রাই করে পেটে চালান করে দেবার পরও আলহামদুলিল্লাহ বলতে পারছেনা! এটার মূল অন্ত-নিহিত কারণ হল অপচয় আর কৃতজ্ঞতার অভাব। তাই আসুন আমরা অপচয় বন্ধ করি। নিজের হাতে কোন অবস্থাতেই একটি খাদ্য কণাও যাতে নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকি।