জুলাই সনদ! এত আপত্তির হেতু কি

জুলাই সনদ! এত আপত্তির হেতু কি পয়েন্ট আকারে বুঝুন! জুলাই সনদ ঘোষনা, বাস্তবায়ন ও আলাদা গনভোটে বিএনপির এত আপত্তির কারণ কি?

১. জামায়াতের সুবিধা ও বিএনপির শঙ্কা

জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে, পুরানো সংবিধানের অনেক কিছু পরিবর্তন হবে এবং নতুন ভাবে কিছু গড়ে উঠবে। এটার সফলতা নিয়ে জামায়াত নিজেদের অংশগ্রহণকে তুলে ধরবে। ফলে জামায়াতের ওপর থেকে ৭১ এর ফোকাস বহু দূরে চলে যাবে এবং নতুন ফোকাসের রাজনীতি গড়ে উঠবে। ফলে:

  • জামায়াতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে:

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে জামায়াতের বড় অবদান থাকার কারণে এবং জুলাই সনদের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক পরিসর বাড়লে, তারা আগামী নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

  • বিএনপির বড় ভয়‘:

বিএনপি মনে করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে জামায়াত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে অথবা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এর ফলে বিএনপির এককভাবে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ বাড়বে এবং সুবিধা কমবে।

  • আওয়ামী লীগ ও ভারতের গুরুত্ব হ্রাস:

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ নিজে এবং তার মিত্র ভারতের গুরুত্ব কমতে কিংবা হারাতে পারে। রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হবে। এমন পরিস্থিতি জনগন বহু বছরের জন্যে পছন্দ করে বসতে পারে।

২. বিএনপি’র জাতীয় সমস্যা পূরণের চেয়ে দলীয় স্বার্থের প্রাধান্য

জুলাই সনদকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মূল চিন্তা জনগণের আকাঙ্ক্ষা বা জাতীয় সমস্যা পূরণের চেয়ে নিজেদের দলীয় সুবিধা-অসুবিধাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সংসদের কাজ আইন প্রনয়ন, নির্বাহী বিভাগের তদারকি ও জনগনের প্রতিনিধিত্ব। তাদের দলীয় প্রার্থীদের দিকে তাকালে বুঝা যায়, তারা উপরোক্ত কাজের জন্যে কেমন ব্যক্তিদের বাছাই করেছেন। ফলে;

  • জাতীকে বন্দি বানিয়ে দলীয় সুবিধা আদায়:  

রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সমস্যা সমাধানে মনোযোগের চেয়ে, বরং যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়া এবং প্রাপ্ত ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার ধান্ধায় নিজেদের রাজনীতিকে সাজায় ফলে, সর্বদা জাতীর চেয়ে দলের স্বার্থ প্রাধান্য পায়।

  • জাতীয় ঐক্যের চেয়ে অনৈক্যে আগ্রহী:

জাতীয় সনদের মতো একটি জাতীয় দলিল নিয়েও দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না, বরং সেটা যাতে আরো জটিল হয়, লক্ষ্য বাধা প্রাপ্ত হয়, সে জন্যে কথার কৌশল, বাক্যের কৌশল, কর্মের কৌশল প্রয়োগ করে এমন বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। যা প্রমাণ করে যে তাদের মূল লক্ষ্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরণ নয়, বরং ক্ষমতায় গিয়ে শক্ত হয়ে বসে, সবকিছু ভুলে যাবার কৌশল।

৩. শেষ চেষ্টা: আওয়ামী লীগ/জাতীয় পার্টির প্রতি রুচি

বর্তমান বিএনপি, পলাতক আওয়ামীলীগ কিংবা জাতীয়পার্টি কিংবা সুবিধাবাদী বামপন্থিদের সুবিদা দিয়ে হলেও, জামায়াতের উত্থান ঠেকাতে মরিয়া। কারণ:

  • সহনীয় প্রতিপক্ষ খোঁজ করা:

জামায়াতকে এড়াতে, বিএনপি তাদের চেয়ে ‘সহনীয়’ প্রতিপক্ষ হিসেবে আওয়ামী লীগ অথবা অন্তত জাতীয় পার্টিকে চায়। অর্থাৎ, জামায়াত ক্ষমতায় আসার চেয়ে তাদের কাছে বরং এই দলগুলো ক্ষমতায় থাকা বা বিরোধী দলে থাকাটা অনেক বেশি সুবিধাজনক। তাদেরকে লোভ-লালসা লাগিয়ে যতটুকু বাগে আনা যাবে সেটা জামায়াতের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়

  • বিএনপির বহু স্বপ্ন মাঠে মারা যাবে:

যদি জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় এবং এর ফলস্বরূপ জামায়াত রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়, তবে বিএনপি ও অন্যান্য দলের (যেমন জাতীয় পার্টি) সব রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন বা আপস-মীমাংসার সুযোগ মাঠে মারা যাবে। হতেও পারে নুতন প্রতিবেশী হিসেবে ভারত তাদেরকে নিজেদের স্বার্থে মানিয়ে নিবে। যদি এমনটি একবার ঘটে, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি এমন মোড় ঘুরবে, যা আগামী ৫০ বছরেও ব্যর্থ করাটা কঠিন হবে।