জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেরা ইসলামী গানের একটি ছন্দ হল, ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়…। ত্রিভুবন বলতে কি বুঝায় সেটা অনেকের কাছেই প্রশ্ন রয়ে যায়। সেই প্রশ্নের উত্তরটি রয়েছে আমার তথ্য-কণিকায়।
এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন জগৎবিখ্যাত গণিতজ্ঞ ও ইসলামী দার্শনিক “আবু রায়হান আর বিরুনী” (৯৭৩-১০৫০) তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ “আল কিতাবুল হিন্দ”। চলুন সরাসরি তাঁর কিতাব থেকেই বিষয়টি দেখি।
তিন লোক, ত্রিলোক বা ত্রিভুবন
হিন্দুরা জগৎকে বা ভুবনকে ‘লোক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এর আবার তিনটি ভাগ,
ঊর্ধ্বলোক:
ঊর্ধ্বলোককে আবার স্বর্গলোক বলা হয়। যাকে সবাই স্বর্গ হিসেবে চিনে থাকে।
অধোলোক:
অধোলোকের অবস্থান পাতালে অন্যকথায় একেবারে নিচে। যার আরেক নাম ‘নাগলোক’। নাগ অর্থ সর্প, যে জগতে সর্পের দংশনে জর্জরিত হতে হয়। এই সাপের জগতের আরেক না ‘নরলোক’ বা ‘নরক’। ত্রিভুবন বলতে কি বুঝায়
মধ্যলোক:
মধ্যলোক হল এটা যাতে আমরা বসবাস করি। এটাকে মধ্যলোক বা মনুষ্যলোক তথা মানবসংসার বা মানবজগৎ বলে অভিহিত করা হয়।
তথ্যসূত্র ভারততত্ত্ব-৫১
আরো পড়ুন…
মহান দার্শনিক আল বিরুনী হিন্দুদের সমুদয় শাস্ত্রের পাতা তন্ন তন্ন করে পড়েছেন এবং তিনিই এসব কথা হাজার বছর আগে তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। কবি নজরুল অনেক পড়ুয়া ছিলেন, কয়েক ভাষায় দক্ষতা ছিল। তাই তিনি এই শব্দটির উৎপত্তি ও পিছনের ঘটনা জানতেন। তারাই আলোকে তিনি তার গানে এই শব্দটি গেঁথে দিয়েছেন।
কবি নজরুল ভারতীয় মানুষদের বুঝাতে চেয়েছেন, মুহাম্মদ (সাঃ) শুধু একটি নাম নয়। তিনি ত্রিভুবনেই প্রসিদ্ধ ও প্রিয় ব্যক্তি। দুনিয়াতে তার নাম প্রচারিত হয় ও বেহেশতেও তার সুনাম বইতে থাকবে। এমনকি নরকের অধিবাসী মানুষ ও তার আনিত বাণী গ্রহণ না করার অপরাধে আফসোস করতে থাকবে।