বাংলাদেশের সর্বত্রই এই উদ্ভিদের দেখা যায়। এটাকে শ্বেতাদ্রোণ ও বলা হয়। স্থানীয় ভাষায় বহু নাম রয়েছে যেমন, ধুলফি, দুলপি, দনকলস, ছোট হালকুশা, দল কলস, ধুবরি, দোর কলস, কান শিশা, কাউন শিশা, ধুরপ শাক, কাইষ্টা ইত্যাদি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Leucas Cephalotes. দণ্ডকলস অতি উপকারী উদ্ভিদ
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যাণ্ড, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং গনচিনে এই উদ্ভিদ ভূমি মালীকের অনুমতি ব্যতিরেকেই মাথা উঁচু করে গজায়। কাণ্ডের মাথায় একটি গুচ্ছের সৃষ্টি হয়। সেখান প্রতিদিনই নতুন নতুন ফুলের জন্ম হয়, এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকে।
এই উদ্ভিদটি বহু উপকারী। প্রথমত এর ফুলে ভাল মধু পাওয়া যায়। একটি ফুল থেকে কয়েকবার মধু সংগ্রহ করা যায় বলে মৌমাছি, ভ্রমরা, প্রজাপতির সদা আনাগোনা লেগে থাকে। শিশুকালে লেখক নিজেও স্কুলের মাঠের পাশে জন্মানো শ্বেতাদ্রোণ থেকে মধু খাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
কাঁচা পাতার কড়া ঘ্রাণ সুখকর নয় তবে মজাদার শাক হিসেবে এই উদ্ভিদের পাতা বহুল পরিচিত। পচা ঘায়ে মাছির ডিম ও কীট জন্মালে এই গাছের গুড়ো চূর্ণ অব্যর্থ কার্যকর। এই গাছের পাতার ঘ্রাণ মাছির জন্য একেবারেই অসহনীয়। তাই মাছি থেকে খাদ্য নিরাপদ রাখতে এই গাছের ব্যবহারের জুড়ি নেই।
ক্ষেতের পাশে, রাস্তার ধারে নিজেই লড়াই করে পরিবেশের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া এই উদ্ভিদের অনেক ভেষজ গুন রয়েছে। কৃমি নাশ করতে এই উদ্ভিদের পাতা-কাণ্ড ইউনানি-আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বহুল ব্যবহার আছে। সে হিসেবে ধরতে গেলে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক এমন সকল পতঙ্গ ও কীট বিরুদ্ধে এই গাছের অবদান অনস্বীকার্য।
পায়ের ব্যথা বেদনা উপশম, টনসিলের ব্যথা নাশ, ফোঁড়া গলানো, বিষাক্ত পতঙ্গের বিষ তাড়ানো, চর্ম রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দীর্ঘকাল বাংলার জনপদে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। মহিলাদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে এর কাথ খাইয়ে রোগীকে সুস্থ করা হত। এর শাক শ্বেতপ্রদর (leucorrhoea), অ্যাজমা, সাইনাসের প্রদাহে (Sinusitis) দারুণ কাজ দেয়।