দোষারোপ কারী মানুষ অন্যের দোষ তালাশ কিংবা দোষ প্রকাশ কিংবা দোষ দেখিয়ে দিতে আনন্দ পায়। এই খাসিয়ত দায় এড়ানোর প্রবণতা থেকেই সৃষ্টি হয়। নিজের সময় ব্যয় করে, নিজের মোবাইলের টাকা খরচ করে কাউকে ফোন দিলেন, অন্য প্রান্ত থেকে আচমকা আক্রমণাত্মক কথা ভেসে উঠবে, হায় আল্লাহ! এতদিন পরে আমার কথা মনে পড়ল! শুরুতেই ফোন কারী থতমত খেয়ে অ-পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি কথা বলে দায় এড়াতে চাইবে। যার কিছুটা বানানো, কিছুটা মিথ্যা আর ভাবতে থাকে; আরে ধ্যাত এর কাছে ফোন করলামই বা কেন?
বহুদিন নিকটাত্মীয়ের সাথে দেখা হয়নি, সুযোগ পেয়ে চিন্তা করলেন, বন্ধের দিনে ঘুরেই আসি। তার ঘরের দরজায় দেখা হওয়া মাত্রই যদি বলে উঠে, আজকে চাঁদ কোন আকাশে উদিত হল রে! কিভাবে মনে পড়ল এই দুর্ভাগা, হতভাগা, হাভাগার কথা! নিজের সময় ব্যবহার করে গিয়ে কারো দরজার সামনে দাড়িয়ে যদি আক্রমণের উত্তর দেয়া লাগে। তাহলে অন্তত আশা করা যায়, এই ব্যক্তির বাড়িতে বেড়াতে যেতে দ্বিতীয়বার এই ভুল করবেন না।
তবে তিনিও যদি বলে বসেন যে, তোমরা যাও নি বলেই আমরা এসে গেছি তোমরাও তো খরব নাও না! এধরনের কথায় দোষারোপ কারীদের মুখ বন্ধ করা যায় না। তার কাছে আরো ভিন্ন ধরনের বহু উত্তর জমা থাকবে, তার কথার স্বপক্ষে একে একে সব যুক্তি ছুঁড়ে মারবে। এ ধরনের বহু উপমা আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে চিঠিয়ে আছে।
দোষারোপ কারী মানুষের মনের তালিকা পড়া কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তারা হতাশা ও দুঃখে মনের অলিন্দে কার কি করণীয় সেটা নিয়ে লম্বা তালিকা বানাতে থাকে। যেমন,
– বড় ভাইয়ের অনেক বড় চাকুরী, আমার চলার জন্য তার অনেক কিছু করার ছিল।
– আমার ভাই ব্যবসায়ী ভাগিনার জন্য একটি দামী মোবাইল দেওয়া দরকার ছিল।
– বড় বোন স্বামীর বাড়ীতে সুখে আছে, মাসে মাসে গোপনে কিছু টাকা পাঠানো দরকার ছিল।
– ভাইটি আমার প্রবাসী, দুই ভরি স্বর্ণের হার দিলে, তার কত টাকা কমে যেত!
– চাচারা অর্থশালী বাড়ীর যায়গাটা ছেড়ে দিলে এমন কি ক্ষতি হত! ইত্যাদি
কিছু মানুষ আছে তারা দুনিয়ার রূঢ় বাস্তবতার মুল ছবি দেখতে পায় না। সারা জীবন না পাওয়ার হিসেব মেলাতে থাকে। এই চিন্তা থেকে তাদের কাছে দোষারোপের অভ্যাস গড়ে উঠে। এটি চরিত্রে এমনভাবে গেড়ে বসে যে, নিজেদের সুখময় সময়েও এরা অন্যকে দোষারোপ করছে ছাড়েন না। এই অভ্যাসে তাড়িত হয়ে এ সকল মানুষ এক পর্যায়ে আল্লাহকে দোষারোপ করতে থাকে।
যাকে আল্লাহ একটি সুন্দর দেহ-মন দিয়েছেন, তারপক্ষে দোষারোপ করা তো দূরের কথা। কেয়ামতের দিন প্রথম প্রশ্ন করা হবে, বান্দা তোমাকে সুন্দর স্বাস্থ্য দিয়েছিলাম তুমি এই স্বাস্থ্য কোন কাজে ব্যয় করেছ? তুমি কি আমার নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলে। আমরা ভাবি যদি আমার একটি গাড়ী থাকত তাহলে আমি নিজেকে কতই না ভাগ্যবান ও ধনাঢ্য ভাবতাম। মূলত আমাদের দেহ খানা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ লক্ষ গাড়ীর চেয়েও মূল্যবান। আমরা এই দেহকে কাজে লাগাই না বলেই আমরা ভাগ্য বিড়ম্বিত। মেহনত কারীর কষ্টকে, আল্লাহ খুবই মূল্য দেন। তাই সবার উচিত আমি কার জন্য কি করতে পেরেছি সেটার হিসেব আগে করা। এটাই হবে কেয়ামতের দিনের সেই প্রশ্নের অনেক উত্তরের একটি।

Discussion about this post