এক ব্যক্তি সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য ঘোড়া থেকে নামলেন। তিনি দেখলেন, ঘোড়া বাঁধার জন্য কোথাও কোন খুঁটি নাই। উপস্থিত সিদ্ধান্তে সহসা খেজুর গাছের একটি ডাল কেটে, খুঁটি বানিয়ে মাটিতে পুঁতে ঘোড়া বাঁধলেন। অন্য ঘোড় সওয়ার নামাজির উপকার হবে চিন্তা করে, খেজুর ডালের বাকি অংশ দিয়ে আরো কয়েকটি খুঁটি বানিয়ে মাটিতে পুঁতে দিলেন। কেননা তাঁর হৃদয়ে ভাল নিয়ত ছিল! এটা হল চিত্র নং – ১
অবশ্যই এটি একটি ভাল কাজ,
ইসলামে দৃষ্টিতে অবশ্যই এটি একটি ভাল কাজ এবং আগন্তুকের হৃদয়ে ভাল কাজের নিয়ত ছিল।! এই ভাল কাজের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান পাবেন। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘অণু-পরমাণুর ন্যায় ভাল ও মন্দ কাজ তাঁর দৃষ্টিসীমার বাহিরে থাকে না’।
একই রাত্রের সকাল বেলা ফজরের নামাজ পড়ার জন্য, মসজিদ মুখো হলেন। পথিমধ্যে মাঠের মধ্যে গেঁড়ে থাকা খুঁটির সাথে উষ্টা খেয়ে তিনি ব্যথা পেলেন! লক্ষ্য করে দেখলেন, মাঠের মধ্যে খেজুর গাছের কিছু খুঁটি মাটিতে গাঁথা আছে। তার মত অন্য কোন মুসল্লি যাতে পুনরায় ব্যথা না পায়, সে জন্য খুঁটি গুলো একে একে তুলে ফেললেন। কারণ তার হৃদয়ে ভাল নিয়ত ছিল। এটা হল চিত্র নং – ২
ইসলামে দৃষ্টিতে এটাও একটা ভাল কাজ! এই ব্যক্তি ভাল কাজটি করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাবেন।
লক্ষণীয় যে, এখানে ঘটনা একটা, কাজও একটা, এমনকি উপকরণও একটা; তবে উপলক্ষ দুটো। একটি কাজকে নিয়ে, দুটো ঘটনার সৃষ্টি দুটি ভিন্ন দিক থেকে। একই কাজে দুটি বিপরীত মুখী ঘটনার সৃষ্টি হলেও আল্লাহর কাছে দু’জনই উত্তম প্রতিদান পাবেন। কেননা দুই জনের নিয়ত তথা লক্ষ্য উদ্দেশ্যে ছিল সৎ, মহত ও ভাল!
যারা বাহ্যিক ভাবে একটি ঘটনার পুরাটা না দেখে তার আংশিক দেখে মন্তব্য করে, তাহলে তার কাছে প্রথমোক্ত ব্যক্তির কাজকে খারাপ কিংবা কারো কাছে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাজকে খারাপ লাগতে পারে। কেননা মানুষ বিশ্লেষণ করে মন্তব্য করে ততটুকু কাজের যতটুকু সে দেখে।
অথচ, আল্লাহ পুরো প্রক্রিয়ার বিচার করবেন, কেননা ঘটনার শুরুতে তিনি ছিলেন পরেও তিনি ছিলেন। তিনিই আদি, তিনিই অনন্ত। তাঁর কাছে সকল কিছুই বর্তমান। যার কারণে তাঁর বিচার হবে যথাযথ, সঠিক ও নির্ভুল।
সঠিক লক্ষ্য ও উত্তম নিয়ত নিয়ে কোন কাজ করার পর তা যদি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ও অকল্যাণকর বিবেচিত হয়, তাহলে সেখানে সওয়াব হবে এবং আল্লাহ তার প্রতিদান দিবেন। আবার অসৎ নিয়ত করে কোন কাজ করার পর দেখা গেল, সেটিতে প্রভূত জনকল্যাণ সাধিত হয়েছে! অসৎ উদ্দেশ্যে সৃষ্টির মাধ্যমে কাজ দ্বারা যদি ব্যাপক জনকল্যাণও সাধিত হয়, যিনি কাজটির প্রতিষ্ঠাতা তিনি আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদান আশা করতে পারেন না!
কেউ সুখ্যাতি পাবার জন্য, কেউ পুরষ্কার অর্জনের জন্য, কেউ পরিচিতি পাবার জন্য, কেউ মরে অমর হবার জন্য, কেউ মানবতার জন্য লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। তার মধ্যে কিছু উত্তম ও কল্যাণকর কাজ জগত বিখ্যাত হয়ে উঠে। যিনি উপরে উল্লেখিত উদ্দেশ্যে মানবিক কল্যাণকর কাজ করেন, আল্লাহ তাকে দুনিয়াতেই এর কল্যাণ দিয়ে দেন। আখিরাতের জন্য তার কিছুই নাই।
যারা দুনিয়াবি জীবনে সৎ উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য, ক্ষুদ্রতম কিছু করে থাকলেও, তারা দুনিয়াতে মর্যাদা প্রাপ্ত হন এবং আখিরাতে সবচেয়ে বেশী সম্মানিত হবেন।
সে জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “রাস্তা থেকে কষ্ট দায়ক বস্তু সরিয়ে রাখার মত, ক্ষুদ্র কাজের পুরষ্কার হিসেবে আমি জান্নাতে বহু মানুষকে ঘুরতে দেখেছি”
এটাই হল সেই কাজ, যেটা দুনিয়ার জীবনে কেউ গণ্য করেনি, কেউ প্রশংসা করেনি এমনকি বহু মানুষের অগোচরে ঘটে যাওয়া কাজের ফল কারো চোখে পড়েনি কিন্তু সেই একজনের চোখে পড়েছে, যিনি প্রতিটি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি প্রতিটি পদক্ষেপ কে নজরে রেখেছিলেন, তিনি হলেন সর্বশক্তিমান সত্ত্বা, মহান ‘আল্লাহ’ সোবহানাহু ওয়া তায়ালা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সর্বদা ভাল নিয়তে কাজ করার তৌফিক দিন। আমীন