কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতার জন্যে ভোটের বয়ান

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতার জন্যে লোভনীয় ভোটের বয়ান তৈরি না করলে, ভোটে বিজয়ী হওয়া যাবে না, সরকার পরিবর্তন হলে দিন-মজুর মানুষের জীবনে কোন প্রভাব পড়ে না।

আওয়ামীলীগ গিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় বসলেও তাদের জীবনে ছন্দপতন ঘটে না! তাই কোন দল ক্ষমতায় এল, কোন দল বাহিরে গেল, এটা নিয়ে তাদের তেমন কোন মাথা ব্যথাও নাই! কারণ ও আছে!

মুদ্রাস্ফীতির কারণে জীবন যাত্রার মান বেড়ে গেলে রিক্সাওয়ালা ভাড়া বাড়ায়; একইভাবে সিএনজি, ঠেলাগাড়ি, গাড়ীর ড্রাইভার তাদের বেতন বাড়িয়ে নেয়। খেটে খাওয়া বুয়ারা বাড়ীওয়ালার কাছে ডিমান্ড বাড়ায়। শ্রমিক, কুলি, মজুর তাদের পারিশ্রমিক বাড়ায়।

ফলে চলমান বাড়তি জীবন যাত্রায়, তারা কয়েকদিন একটু হোঁচট খেলেও, বেতন বাড়িয়ে তা সমন্বয় করে নেয়! আবার এসব মানুষ কোন দলের হয়ে ভাড়ায় মিছিলে গেলে, দৈনিক বেতনের সাথে আরেকটু বেশী এবং খানা দুটোই জুটে!

অধিকন্তু ভোটের আগের রাতে একটি লুঙ্গি কিংবা শাড়ী, একটি গামছা কিংবা ১ কেজি চিনি, লবণের বিনিময়ে ভোট বিক্রি করে দেয়। এটা সচ্ছল মানুষের জন্যে সাধারণ বিষয় হলেও খেটে খাওয়া মানুষের, দৈনিক আয়ের ১০ – ৫০% শতাংশ। যে অনুদান একটি দিন কিংবা ছয়টি মাসের সাথী হয়ে থাকে। ওরা এই অনুদানকে মনে রাখে এর ফলেই সেই নেতার বাক্সে ভোট দেয়।

তাদের কাছে গিয়ে কোন সরকার খারাপ! কোন সরকারের নেতা খারাপ! তারা কিভাবে দুর্নীতি করে দেশ ঢুবিয়েছে! ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করেছে! এসব ফিরিস্তি বলে তাদের মন জয় করা কঠিন!

তারা সংক্ষেপে এটা বুঝে, নেতা যতই খারাপ হউক, তাকে লুঙ্গি দিয়েছে। দেশটি ভারতে নিক কিংবা দেশীয় দালালদের খপ্পরে থাকুক, তাদের গরীবত্ব অন্তত কোনদিন যাবে না। সুতরাং এসব ঘটনা বলে, তাদের মনে ঝড় তোলা সম্ভব নয়।

কমিউনিস্ট বিপ্লব সফল হয়েছিল এই কারণে যে, তারা গরীবদেরকে ধনীদের বিরুদ্ধে উস্কে দিত। তারা গরীবদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে, আমরা ক্ষমতায় গেলে ধনীদের সম্পদ সরকারী করণ (লুণ্ঠন) করে, গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হবে।

ফলও পেয়েছিল তড়িৎ গতিতে। দুনিয়াবি বৃহত্তম লাভের লোভ ব্যতীত এই শ্রেণীর মানুষদের আকৃষ্ট করা যায় না। বিএনপি, আওয়ামীলীগের চেয়ে, ইসলামী দলগুলো এই কাজে বহু পিছিয়ে।

সুতরাং ক্ষমতায় গেলে ছিন্নমূল মানুষ, দিন-কারবারি মেহনতি মানুষ, গার্মের্ন্টস-টেক্সটাইল শ্রমিকদের জন্যে কি করা হবে, সেটার বয়ান হাজির করতে হবে। চাষা এবং কৃষকদের দৃশ্যমান কি উন্নতি ঘটাবেন তার পরিকল্পনা প্রণয়ন করুন।

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা যাতে, এক বাক্যে এসব বুঝে নেয় এবং উজ্জীবিত হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বয়ান মজবুত হলে, কোন এলাকার দলীয় প্রার্থী দুর্বল হলেও, তার পক্ষে ভোটে জেতা সহজ হয়ে যাবে।