একচোখা নিতীর খারাপ প্রভাব বলতে গেলে আগে আমাদের একচোখা জিনিষটি কি সেটাই পরিষ্কার হতে হবে। আমরা প্রায় সময়ই কাউকে একচোখা বলে নিন্দাবাদ করে থাকি। এটি মানুষের অন্যতম বদগুণ। কাউকে একচোখা বলে গোস্বা পানি করলেও, অনেকই জানেনা একচোখা মানুষের প্রকৃত স্বভাব-চরিত্র কি! সামাজিক কাঠামো, শিক্ষার ধরণ, পরিবেশের প্রভাব কিংবা সহপাঠীদের আচরণের কারণে অনেক মানুষ এক চোখা হয়ে উঠতে পারে। একচোখা চরিত্রকে ইংরেজিতে Partiality বলে। বাংলায় প্রাধান্য দেওয়া, পক্ষপাতদুষ্ট ও একদেশদর্শীও বলা হয়।
অজ্ঞ, মূর্খ, অশিক্ষিত, শিক্ষিত সবাই একচোখা প্রবণতা দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। পরিবারে কিংবা প্রতিষ্ঠানের Partiality বেড়ে গেলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ছবির দৃশ্যের সাথে হয়ত অনেকের জীবনে কোন ঘটনা থেকে থাকবে। যেখানে মালিক বিড়ালকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে কুকুর তার প্রতিবাদ করছে। এটা মানব জীবনে আরো রূঢ় ভাবে প্রকাশ পায়। একচোখা মানুষ যত বিদ্বান হবে, ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়তে থাকে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ক্ষতি এবং সমাজ পরিচালনায় সমূহ বিপর্যয় নিয়ে আসে। খ্যাতির মধ্য গগনে জ্বলতে থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে একজন একচোখা মানুষকে ছয়মাসের দায়িত্ব দিয়ে বসালেই যথেষ্ট। একচোখা নিতীর খারাপ প্রভাব
আরো পড়ুন…
- বিচক্ষণতা : সফল ও শ্রেষ্ঠ মানুষের উন্নতির সোপান
- দূরদর্শিতা অর্জনের গুরুত্ব ও উপায়
একচোখা মানুষ সর্বদা নিজের মতামতকে প্রাধান্য দিতে থাকে। তার মতামত বাস্তবায়নে কেউ প্রতিবন্ধক হলে তাকে তুলো-ধুনো করে ছাড়ে এবং তার মতামত বাস্তবায়নে জোড় খাটাতে থাকে। অন্যের মন বুঝার ধার ধারে না, নিজের লাভ বুঝার ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে কথা বলে। তার জন্য কেউ কিছু করেনি বলে সর্বদা অন্যদের চাপিয়ে রাখতে চায়। সম্মিলিত পরিবার ও সংসারে এ ধরণের একজন মানুষের উপস্থিতি সারা সংসারকে ধ্বংস করে ছাড়ে। প্রয়োজনে অসহায় পিতা-মাতা কিংবা বিধবা বোনের সহায় সম্পদ নোংরা উপায়ে হস্তগত করতেও এরা লজ্জাবোধ করেনা।
শিক্ষিত বিদ্বানেরা এই গুনের অধিকারী হলে, তাদের চরিত্রে ভিন্নতা প্রকাশ পায়। তার বিরোধী মতের মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন ও তুচ্ছ জ্ঞান করে। চিন্তাগত ভাবে নিজেকে অনেক জ্ঞানী ও পরিপক্ব চিন্তার অধিকারী মনে করে। প্রতিপক্ষ তার সমকক্ষ কিংবা শিক্ষিত-বিদ্বান হলেও, এক চোখা মানুষ তাকে নিকৃষ্টতম জ্ঞান করে। তারা ভুল স্বীকার করে কাছে আসতে চাইলেও, একচোখা মানুষ পা ধরে মাপ চাওয়ার শর্ত আরোপ করবে। কাউকে একবার অপছন্দ হলে একচোখা মানুষ ইহজন্মে তাকে আর কাছে ভিড়তে দেয় না!
ধর্মীয় পণ্ডিত একচোখা হলে, অনুসারীরা উগ্র, গোয়ার হয়ে উঠতে পারে। ধীরে ধীরে একচোখা স্বভাব তার অনুসারীদের ব্যক্তিজীবন ও চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলে। ফলে তারাও সমাজ-সংস্কৃতির জন্য এক বিষ ফোড়ার মত বেড়ে উঠে। একচোখা মানুষ নিজের চিন্তার মানুষ ছাড়া অন্যদের উপদেশ-আবেদনকে গুরুত্ব দেয়না। অধিকন্তু তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের মাধ্যমে নীচ-হীন হিসেবে প্রকাশ করে। এটা এদের স্থায়ী স্বভাব হয়ে যায় এবং বিপদজনক পর্যায়ে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা ধর্মীয় পণ্ডিতের পক্ষেও সম্ভবপর হয়না।
সমাজ পরিচালকেরা যদি এই রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে তার আচরণে সর্বদা ক্ষুব্ধ ভাব প্রকাশ পাবে। কখনও বদরাগ ও কর্কশ আচরণের কারণে অনুগত মানুষ ও পরিশ্রমী নিরলস কর্মীরাও তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উটতে পারে। দলীয় ও সামাজিক শৃঙ্খলার শিকল দুর্বল হতে থাকে; কখনও গায়ে হাত দিতেও উদ্যত হতে পারে। নেতা-কর্মীদের মনের মাঝে আর খাপ খাওয়ার সুযোগ থাকেনা।


Discussion about this post