বহেড়া মানব কল্যাণে এক অত্যাশ্চর্য উপকারী গাছ

বহেড়া

অনেকেই বহেড়ার হয়ত নাম শুনে থাকবেন কিন্তু কখনও দেখা হয়নি। স্বাদে বিস্বাদ, কিছুটা তেতো তবে ঔষধি ঘ্রাণ যুক্ত। মানুষের জিহ্বায় বহেড়ার ফল তেতো লাগলেও এটা কিন্তু হরিণের খুবই প্রিয় খাবার। বহেড়া মানব কল্যাণে এক অত্যাশ্চর্য উপকারী গাছ

এই গাছের সবকিছুই ঔষধি গুন সম্পন্ন। একদা বাংলাদেশের সর্বত্রই এটা দেখা যেত। কারণ এসব গাছের গুণাবলী সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ওয়াকিবহাল ছিল তাই নিজ দায়িত্বে এলাকায় এগুলোর উপস্থিতি ধরে রাখা হত। জমিদার বাড়ীর বহিরাঙ্গণে বহেরা-হরিতকীর গাছ শোভা পেত।

ধারণা নেই বলে মানুষ বুঝতে পারেনা, এটি আল্লাহর দেওয়া কত বড় উত্তম নেয়ামত। ১৯৯২ সালে “বায়োডাইভারসিটি” তথা জীব-বৈচিত্র্য আইন কার্যকরী হলে পরে, বাংলাদেশের কিছু বনাঞ্চলে এই গাছটি এখনও বেঁচে আছে। 

বহেরা কে ইংরেজিতে Bhera বা Beleric হিসেবে বলা হয়। গাছটি বড় হলে দেখতে খুবই সুন্দর দেখায়। পাখির বাসা বানানোর জন্য খুবই উপযোগী। পাতাগুলো চেপ্টা, ফলগুলো সুপারির আকারের। দুই দিকে একটু লম্বাটে। স্বাদে বিস্বাদ, কিছুটা তেতো তবে ঔষধি ঘ্রাণ যুক্ত।

গ্রামের বহেড়া মানুষ সংগ্রহ করে আর বনের বনের বহেরা প্রাণীরা শেষ করে দেয়, তাই বিচি থেকে গাছ জন্মাবার সুযোগ থাকে না।

তবুও অভয়ারণ্যে কিছু গাছ প্রয়োজনের কারণে এখনও দেখা যায়। বস্তুত এই গাছটি হরিণের চেয়েও মানুষের জন্যই বেশী উপকারী। এই গাছে শুধু মানুষের জন্য কল্যাণই লুকায়িত। চলুন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী সম্পর্কে ধারণা অর্জন করি।

 
– যে কোন আমাশয়ের জন্য বহেড়ার গুড়োর কোন তুলনা নাই। বর্তমানের মানুষ ফ্লাজিল ট্যাবলেট খেয়ে পেটের অন্ত্র নষ্ট করে কিন্তু ঠিক এই কাজটিই বহেরা ফলের গুড়ো করে থাকে।
– পেটের কৃমি নষ্ট করে। বর্তমান যুগে বহু ধরণের ট্যাবলেটের সৃষ্টি হয়েছে এগুলো কৃত্রিম কিন্তু মানুষ হাজার বছর ধরে পেটের কৃমি দমানোর জন্য বড়েরা বিচির গুড়ো ব্যবহার করত।
– যাবতীয় চর্মরোগ, মুখের মেচতা, ঘা, পাছড়া দূর করতে বহেড়ার বিচির তেল রাজ দরবারেই ব্যবহার হত।
– অকালে চুল পাকা, চুল ঝড়ে পড়া, ভেঙ্গে যাওয়া কিংবা অকালে মাথায় টাক দেখা দেওয়া বর্তমান খুবই বিব্রতকর ব্যাপার অথচ অতীতের মানুষেরা বহেরা গাছের ছালের রস মাথায় মেখেই এর থেকে নিষ্কৃতি পেত।
– বুকে কফ আটকে গেলে বর্তমানে ডাক্তারেরা এমন ঔষধ দেয়, এতে মানুষকে ঘুমের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। অথচ বহুকাল ধরেই মানুষ বহেড়ার গুড়ো, ঘি ও মধু যোগে খেয়ে এই রোগ থেকে মুক্তি পেত। বর্তমানেও কিছু কাশির সিরাপে বহেড়ার গন্ধের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
– ইন্দ্রিয়ের দুর্বলতা কাটাতে রাজা-মহারাজাদের কবিরাজেরা হালুয়া বানিয়ে খাওয়াত কিন্তু বহু মানুষ জানে না যে এই হালুয়ার কেন্দ্রীয় উপাদান ছিল বহেরার গুড়ো।
– তাছাড়া হাত-পা জ্বালা পোড়া থেকে মুক্তি পেতে, চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে, শিশুদের পেট ফাঁপা ও বদহজম দূর করা সহ অনেক ধরনের ঔষধি কাজে বহেড়ার ব্যবহার হয় ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রে।