উম্মুল মোমেনীন যয়নাব (রাঃ) এর পিতার নাম ছিল খুযাইমা। মায়ের নাম মানদাব বিনতে আউফ। তাঁর বিয়ে হয়েছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর আপন ফুফাত ভাই আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রাঃ) এর সাথে।
বিয়ের পূর্ব থেকেই জয়নাব (রাঃ) গরীব মানুষদেরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। অভাবী মানুষকে তিনি মুক্ত হাতে দান করতেন। এ কারণে তাঁকে উম্মুল মাছাকিন বা গরীবদের মা হিসেবে ডাকা হত। নবুয়তের প্রথম দিকেই তাঁরা উভয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
ওহুদের ময়দানে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রাঃ) শাহাদতবরণ করেন। এতে করে অসহায় হয়ে পড়লেন বিধবা জয়নাব (রাঃ)। চারিদিকে মুসলমানদের তখন চরম দুর্দিন।
রাসুল (সা) এর আত্মীয় ও দেশের মানুষেরা মক্কা থেকে ধেয়ে এসেছিল মদিনায়! লক্ষ্য চিরতরে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। ঠিক এমন সময়ে মদিনায় ইসলামের প্রাথমিক যুগে পুরুষের জন্য জীবনধারণ যেখানে সঙ্গিন ছিল, সেখানে একজন নারীর জন্য পরিস্থিতি আরো বিরূপ ও করুণ ছিল।
নবী (সাঃ) আশ্রয়হীনা মুসলিম নারীদেরকে বিয়ের মাধ্যমে আশ্রয় দানের জন্য সাহাবীদেরকে উৎসাহ প্রদান করতেন। তিনি নিজেও এই মহৎ কাজে এগিয়ে আসতেন। ঠিক এই সময়েও জয়নাব (রাঃ) কে আশ্রয় দানের মত কেউ ছিল না। উম্মুল মোমেনীন যয়নাব (রাঃ)
অবশেষে স্বয়ং নবী (সাঃ) এই অসহায় নারীকে নিজের স্ত্রীর মর্যাদা প্রদান করে তাঁকে আশ্রয় দান করেছিলেন। যে সময় রাসুল (সাঃ) এর সাথে তাঁর বিয়ে হচ্ছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল ৩০ আর নবী (সাঃ) এর বয়স ছিল ৫৬।
তারপরও তিনি আর বেশী দিন হায়াত পান নাই। রাসুল (সাঃ) এর জীবদ্দশায় যে দু’জন স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের দ্বিতীয়জন।
প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) মৃত্যুর সময় ইসলামী শরীয়তে জানাযার নামাজের নিয়ম চালু না হওয়াতে, তাঁর নামাজে জানাজা হয়নি কিন্তু যয়নাব (রাঃ) জানাযা নামাজ পড়িয়েছিলেন স্বয়ং রাসুল (সাঃ) এবং তিনি নিজ হাতেই মসজিদে নববীর অদূরে প্রিয় সহধর্মীনি যয়নাব (রাঃ) মৃতদেহ জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন করেছিলেন।
মিশরীয় গ্রন্থকার মাহবুব মুজাচ্ছাম আল হোদয়াবী কর্তৃক রচিত বিশ্বনবী থেকে সংকলিত


Discussion about this post