ফলের রাজা ডুরিয়ান

ডুরিয়ান

দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মত, এই ফলটির নাম ডুরিয়ান। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াতে সর্বাধিক পরিমাণ জন্মে। কৌতূহলী ফলের মধ্যে এটির অবস্থান প্রথম সাড়িতে। যে কোন ধরনের পর্যটকদের এই ফল আকর্ষণ করবেই। ফলের রাজা ডুরিয়ান

ডুরিয়ান দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মত হলেও চরিত্র কিন্তু কাঁঠালের মত নয়! কাঁঠালের গায়ে থাকে ছোট আকৃতির ভোতা কাঁটা কিন্তু ডুরিয়ানের গায়ে আছে বৃহদাকার ধারালো কাঁটা। তাই কাঁঠালকে খালি হাতে ভাঙ্গতে পারলেও, ছুরি ছাড়া ডুরিয়ানের গায়ে হাত লাগানো প্রায় অসম্ভব।

কাঁঠাল গাছে ফুল দেখা না গেলেও ডুরিয়ান গাছে থোকায় থোকায় ফুল ধরে। এক একটি থোকায় প্রায় ত্রিশটির মত পাঁচ পাপড়ি বিশিষ্ট ফুলের জন্ম হয়। এত ফুলে ফলন কমে যেতে পারে ভাবনায়, কৃষকেরা ফুল ছেঁটে সামান্য সংখ্যক করে রাখে।

কাঁঠালের পেটে অসংখ্য গোলাকার ছোট কোয়া থাকলেও, ডুরিয়ানের পেটে কলার মত লম্বাটে আকারে সাঁটানো থাকে কয়েকটি কোয়া। সে কোয়া গুলো আবার ছোট ছোট অংশে বিভক্ত। তার ভিতরে থাকে বিচি, ঠিক সিমের মত। কোয়া বের করে থালায় রাখলে মনে হবে, কলা-মাখন দিয়ে যেন ময়দার কাই বানানো হয়েছে।

সুখকর মিষ্টি; স্বাদে অনেকটা কাঁঠাল আর কলার মাঝামাঝি। তাই ডুরিয়ান ফলে কলা ও কাঁঠালের উপাদানের সবই আছে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলের মিষ্টি-ভাব খুবই দারুণ। যার কারণে ডুরিয়ানকে বলা হয়,

“King of Fruit তথা ফলের রাজা”

ঘ্রাণের কথা সম্ভবত বলা হয়নি! এই কারণেই ফলটি কৌতূহলের শীর্ষে!

কাঁঠালের ঘ্রাণে মানুষ সুখানুভূতি লাভ করে; খাওয়ার জন্য মন চাঙ্গা হয়ে উঠে কিন্তু পাকা ডুরিয়ানের ঘ্রাণে মানুষের খাবারের চিন্তা উবে যায়! কেননা এর ঘ্রাণ অনেকটা মানুষের উদরস্থ বায়ুর ন্যায়, যাকে সহজ বাংলায় বলা হয় ‘পাদের গন্ধ’! খাওয়ার সময় এই কথা মনে আসলে, অনেকেই রুচি হারিয়ে ফেলে। নতুন কেউ পচা ফল বলে উপেক্ষা করতে পারে।

নাক মুখ বন্ধ করে একবার খাওয়া শুরু করলে, এক সময় সুখকর অভ্যাস গড়ে উঠে। তবে অতীত জীবনে ঘটে যাওয়া, মল সংক্রান্ত কোন বিরক্তিকর ঘটনার কথা মনে পড়লে, উল্টো পেটের ভিতরের রক্ষিত খানা গলা দিয়ে বের হয়ে আসতে পারে!

না, এটা ফলের দুর্নাম করছি না। মহান আল্লাহ এমন গুণাবলী শুধু এই ফলেই দেন নাই, গন্ধভাদুলির কাছেও একই গুণাবলী রয়েছে। এই ঘ্রাণ মানুষের উদরের সমস্যা দূর করতে অনেক সাহায্য করে। যাদের দুর্গন্ধ সহ্য করার প্রয়োজনীয়তা আছে, তারা এগুলোর সান্নিধ্যে থাকলে উপকার পায়।

উপকারিতা:
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় দুরিয়ান। হার্টের দুর্বলতা দূর করে। প্রচুর আঁশযুক্ত ফল তাই কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখে। এটা মিষ্ট ফল হওয়া স্বত্বেও এটাতে চিনির পরিমাণ কম। তাই বহুমূত্র রোগীদের জন্য নিরাপদ ফল। মানুষের দেহের আভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক উভয় দিকেই ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক প্রতিরোধে দারুণ কাজ দেয়।

অপকারিতা:
মদ্যপদের জন্য এই ফল চরম ঝুঁকিময়। মদ্যপ অবস্থায় এই ফলের ঘ্রাণে মাতাল মাতোয়ারা হয়ে উঠে। আর যখনই এটা খায় তখনই মারাত্মক এলার্জি শুরু হয় এবং এটা মৃত্যুর কারণ ঘটায়।