ভাস্কর্য ও মূর্তি নিয়ে কথা কম হয়নি। ওয়াজ নসিহতে আলেমেরা ওয়াজ করছেন ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে। সরকারও মসজিদের ইমামদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভাস্কর্যের পক্ষে প্রচারণা চালাতে। শুধুমাত্র ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে, মূর্তি সংক্রান্ত কথাগুলো অনুপস্থিত থেকে যাচ্ছে। Broken Chair ভাঙ্গা বেদি ভাস্কর্য
আরো পড়তে পারেন…
- বই প্রীতি ও মানবীর প্রেম
- ইসলামী চেতনায় ভাস্কর্যের অবস্থান
- নিরাপদ বৈরাগীর রাষ্ট্রীয় সম্মান ও আল মাহমুদের নীরব প্রস্থান
মূলত মূর্তি দিয়ে যেভাবে ভাস্কর্য বানানো যায় সেভাবে অন্য কোন অবয়ব দিয়েও ভাস্কর্য বানানো যেতে পারে। এমনকি তিন রাস্তার মোড়ে বিশালকায় একটি ‘কুড়াল’ স্থাপন করলে তাকেও ভাস্কর্য বলা যাবে। সেভাবে একটি কলম, ঘড়ি, চামচ কিংবা ময়ূর, হরিণ কিংবা মানুষের অবয়ব দিয়ে, যাই বানানো হউক না কেন সেটাকেও ভাস্কর্য বলা যাবে।
ইসলামে প্রাণী দেহের অবয়বের একমাত্র পরিচয় মূর্তি। হাজার বছর ধরে এসবকে মূর্তিই বলা হয়েছে। ভাস্কর্যের বেদিতে প্রাণীর দেহায়ব বসিয়ে তাকে ভাস্কর্য বলা হলেও, সেটা আসলে মূর্তি ছাড়া আর কিছু নয়। তাই বলে গণহারে ভাস্কর্যকে হারাম বললে কথাটি অর্ধেক সত্যি হয়, বাকি অর্ধেক অসত্য থেকে যায়। কেননা ভাস্কর্যের দ্বারা ইঙ্গিতপূর্ণ অনেক শিক্ষণীয় জিনিস উপস্থাপন করা যায়।
Broken Chair ভাঙ্গা বেদি ভাস্কর্য
মূলত বিতর্ক কখনও বোতল নিয়ে হওয়া উচিত নয়! বোতলের ভিতরে কি আছে তা নিয়ে হতে হবে। বোতলে শরবত নাকি শরাব রাখা হয়েছে, সেটাই বিতর্কের বিষয় হতে পারে। ঠিক অনুরূপ আমরা ভাস্কর্য বিষয়ক কথা নিয়ে ব্যস্ত আছি কিন্তু বেদীতে কি বসানো হবে, সেটি নিয়ে কথা তুলছি না। এটাই মূল কথার ছিল।
তাই, দাবী যদি করতেই হয়, তাহলে কথা বলতে হবে, ভাস্কর্যের নামে কোন প্রাণী মূর্তি মানতে পারি না। কেননা প্রাণী মূর্তি কোরআন-হাদিসের দাবী বিরোধী ও মুমিন-মুসলমানের ইমান পরিপন্থী। তাই মুসলমানদের প্রচারণা হতে পারে মূর্তি কেন্দ্রিক, ভাস্কর্য কেন্দ্রিক নয়।