উম্মু আয়মন (রাঃ) পরিচয়
উম্মু আয়মন ছিলেন রাসুল (সা) পিতা আবদুল্লাহর দাসী।
তাঁর নাম প্রকৃত নাম ছিল ‘বারাকা’।
উম্মু আয়মনের পিতার নাম ‘সালাবা’ এবং জাতে হাবশী।
উম্মু আয়মন ছিলেন রাসুল (সা) এর জন্ম ধাত্রী
ফলে উম্মু আয়মন রাসুল (সা) শিশুকালের বহু ঘটনা জানেন।
রাসুল (সা) এর পাঁচ বছর বয়সে, মায়ের সাথে মদিনায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
ফেরার পথে পথিমধ্যে মা আমেনা ইন্তেকাল করেন।
উম্মু আয়মন ইয়াতিম মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসেন।
আরো পড়তে পারেন…
- উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রাঃ)
- উম্মুল মুমিনিন মাইমুনা (রাঃ)
- উম্মুল মুমিনিন উম্মে হাবিবা (রাঃ)
- উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালমা (রাঃ)
উম্মু আয়মনের সাথে রাসুল (সাঃ) শিশুকালের স্মৃতি
শিশুকালে রাসুল (সা) উম্মু আয়মনের কাঁধে-পিটে চরেছেন।
মায়ের মৃত্যুর ফলে পৈত্রিক সূত্রে উম্মু আয়মন রাসুল (সা) দাসী হিসেবে পরিগণিত হন।
রাসুল (সা) এর মায়ের সাতটি ছাগী ছিল, ওগুলো তিনি চড়াতেন।
পরবর্তীতে রাসুল (সা) তাঁকে মুক্তি দিয়ে স্বাধীন করে দিয়েছিলেন।
রাসুল (সাঃ) উম্মু আয়মন (রাঃ) এর বিয়ের ব্যবস্থা করেন
রাসুল (সা) বিধবা ধাইমা উম্মু আয়মনকে, বিয়ে করতে কেউ আগ্রহী কিনা জানতে চান।
তাঁরই পালক পুত্র ‘যায়েদ বিন হারেসা’ আগ্রহী হলে তার সাথেই বিয়ে দেওয়া হয়।
সেই ঘরেই জন্ম হয় ‘ওসামা ইবনে জায়েদ’ নামে সৌভাগ্যশালী শিশু।
রাসুল (সা) শিশু ওসামাকে সাথে নিয়ে বহুবার ঘোড়ার পিটে সওয়ার হয়েছিলেন।
রাসুল (সাঃ) উম্মু আয়মন (রাঃ) এর সন্তান ওসামামে অনেক মর্যাদা দিয়েছেন
রাসুলের (সা) মৃত্যুর কয়েকদিন পূর্বে ওসামা (রা) কে রোম অভিযানের সেনাপতির দায়িত্ব দেন।
হঠাৎ রাসুল (সা) স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকলে, তিনি অভিযান সাময়িক স্থগিত করেন।
তাঁর বয়স অল্প হওয়াতে, অনেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে কিছুটা দুদোল্যমানতায় থাকেন।
আবু বকর (রা) দৃঢ় চিত্তে উত্তর দিয়েছিলেন, তোমরা কেউ রাসুল (সা) চেয়ে বেশী দূরদর্শী নও।
তিনি বলেন, ইসলাম তাকওয়া ও যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেয়।
ফলে খেলাফতে বসেই আবুবকর (রা) যায়েদকে অভিযানে যেতে নির্দেশ দেন।
আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলীর (রা) মত ব্যক্তিরা তা হুবহু মেনেছিলেন।
উম্মু আয়মন (রাঃ) ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর পরিবারের সদস্যদে মত
উম্মু আয়মন (রা) কে রাসুল (সা) এর পরিবারের সদস্য মনে করা হতো
তিনি খাদিজা (রা) কে জানাযার শেষ গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন।
রাসূল (সা) এর তিন কন্যার জানাযার গোসলের ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন।
ফাতিমা ও আলী (রা) বিয়ে সম্পর্কিত বহু কাজের আঞ্জাম তিনি দিয়েছিলেন।
উম্মু আয়মন (রাঃ) স্বভাব চরিত্র
উম্মু আয়মন ছিলেন একটু সহজ সরল প্রকৃতির!
একদা তিনি রাসুল (সা) কাছে একটি উট চাইলেন,
রাসুল (সা) বললেন, ‘আমি আপনাকে একটি মাদি উটের বাচ্চা দেব’।
উম্মু আয়মন তাজ্জব হয়ে বললেন, উটের বাচ্চা আমার কোন কাজে আসবে না।
রাসুল (সা) বললেন, সকল উটই তো কোন এক মাদী উটের বাচ্চা!
এভাবে রাসুল (সা) তাঁর সাথে, কথার ফাঁকে সামান্য মাত্রায় হাস্যরস করতেন।
উম্মু আয়মন (রাঃ) এর প্রতি জুলুমের বদলা নিয়েছিলেন রাসুল (সাঃ)
মদিনায় মদিনার উপকণ্ঠে রাসুল (সা) তাঁকে একটি বাগান দিয়েছিলেন।
তিনি উহুদ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে পানি পানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
তাকে লক্ষ্য করে হিব্বান ইবনে আরাকা নামে মক্কার কাফের তীর মেরে আহত করে অট্টহাসি দিচ্ছিলেন।
উম্মু আয়মনের প্রতি এমন কদাকার অট্টহাসি, রাসুল (সা) সহ্য করতে পারেন নি।
তিনি নিজের তুন থেকে একটি তীর ‘সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের হাতে দিয়ে বলেন, এটা তার বরাবরে নিক্ষেপ কর’
সাদ (রা) তীর ছুড়ে মারলে সেটি সোজা হিব্বান কে আঘাত করে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করে।
উম্মু আয়মন (রাঃ) এর জীবনে একটি ঘটনা
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পথে, তিনি চরম পানির তৃষ্ণায় ভুগেন।
সন্ধ্যায় অলৌকিক ভাবে তাঁর সামনে বাটি ভরা পানি উপস্থিত হয়।
এটি পান করার পরে বাকী জীবনে কখনও তিনি পানির তৃষ্ণা অনুভব করেন নি।
তিনি সর্বমোট পাঁচটি হাদিস বর্ণনা করেন।
উম্মু আয়মনের জিহ্বার সব শব্দ উচ্চারিত হতো না।
একদিন রাসুল (সা) সালাম দিলেন, (সালামু লা ‘আলাইকুম) এভাবে,
রাসুল (সা) তাঁকে “আস-সালামু” বলার অনুমতি দান করলেন।
রাসুল (সা) ইন্তেকালের পরে যখনই রাসুলের কথা মনে পড়ত, তখনই অঝোর ধারায় কাঁদতেন।
ওসমান (রা) যুগে উম্মু আয়মন (রা) ইন্তেকাল করেন।
উম্মু আয়মন (রা) প্রথম স্বামী ছিলেন মক্কার ‘আমর আল খাজরাজী’।
সে ঘরে আয়মন নামে ছেলের জন্ম হয়, সেখান থেকেই সবাই উম্মু আয়মন তথা আয়মনের মা হিসেবে চিনত।
[তথ্য সূত্র আসহাবে রাসুলের জীবনকথা]