উম্মুল মুমিনিন মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) সংক্ষিপ্ত জীবনী

মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) সংক্ষিপ্ত জীবনী

মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) পরিচয়

ম্মুল মুমিনিন মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) ইসলামী ইতিহাসের বিরাট একটা অংশ জুড়ে অবস্থান করছেন তিনি। হোদায়বিয়ার সন্ধির পরে, রাসুল (সা) এর কাছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ ঘটে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আন্তর্জাতিক পরিসরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শাসকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র প্রেরণ করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি মিশরের শাসকের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

তদানীন্তন মিশরের শাসক ‘মুকাউকিস’ বিশ্বনবী (সাঃ) এর দূতকে অত্যন্ত সম্মান মর্যাদা দান করেছিলেন।

উম্মুল মুমিনিন মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) মিশরে ইসলামের দাওয়াত পৌছানোর উপলক্ষ্য সৃষ্টি করেন

বিশ্বনবী (সাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র পত্র বাহক ‘হাতিব’ (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) এর মাধ্যমে নবী সাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জন্য প্রচুর উপঢৌকনসহ সম্মানজনক ভাবে মিশরের রাজ দরবার থেকে বিদায় করেছিলেন।

মিশরের শাসক ‘মুকাউকিস’ উপঢৌকনের সাথে ‘মারিয়া কিবতিয়া’ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা কেও নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে রাজকীয় উপহার হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন।

উম্মুল মুমিনিন মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) ঔরসে রাসুল (সাঃ) পুত্র ইব্রাহীমের জন্ম হয়

সুদূর মিশর থেকে প্রেরিত এই নারীকে খাদেমা হিসেবে না রেখে, নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিলেন।

শুধু তাই নয়, তিনি রাসুল (সা) এর সর্বশেষ সন্তান ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর মাতা হবার দুর্লভ সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।

খাদিজা (রা) ব্যতীত আর কোন স্ত্রী নবী (সা) এর সন্তানের মা হবার সৌভাগ্য পান নি! ব্যতিক্রম ছিলেন ‘মারিয়া কিবতীয়া’ (রা)। যদিও সে পুত্র শিশু বেশীদিন বাঁচেন নি।

সেই জমানায় দাসীর ঘরেও সন্তান হওয়ার বৈধ রীতি-নিতী ছিল। মা ইচ্ছে করলে মুক্ত হয়ে যেতে পারতেন তবে, সন্তানের সকল দায়-দায়িত্ব পিতার।

অনেক ঐতিহাসিকদের মতে মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) মিশর হতে দাসী হিসেবেই প্রেরিত হয়েছিলন এবং তিনি দাসী হিসেবেই রাসুল (সাঃ) এর সন্তানের মা হয়েছিলেন।

রাসুল (সাঃ) সর্বদা মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) খরব রাখতেন। তার ঔরসজাত সন্তানের মা হবার কারণে তার প্রতি আলাদা একটি টান থাকত। কিন্তু তার ঘরে আগত ইব্রাহীম বেশীদিন বাঁচেন নাই।

শিশু ইব্রাহীমের মৃত্যুতে মা মারিয়া কিবতিয়া ও পিতা রাসুল (সাঃ) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তোষ প্রকাশ পূর্বক দোয়া করেন

উম্মুল মুমিনিন মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর সর্বশেষ স্ত্রী হিসেবে গন্য হন

মারিয়া কিবতিয়াকে বিয়ে করার পরে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই, রাসুল (সাঃ) এর জন্যে আর কোন স্ত্রী গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়। সে হিসেবে তিনিই সর্বশেষ স্ত্রী।

উম্মুল মুমিনিন মারিয়া কিবতিয়া (রাঃ) মৃত্যু

হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর খেলাফতের সময় তিনি মদিনাতেই ইন্তেকাল করেন। তার জানাযার নামাজ আদায় করিয়েছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু স্বয়ং নিজেই।

মিশেরর মেয়ে রাজকীয় দাসী হিসেবে এসেছিলেন মদিনায়, তিনি আবার রাসুল (সা) স্ত্রী হয়ে মদিনাকেই ভালবেসে, সেখানেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

আত্মীয় বিহীন জনপদে স্বামীর ইন্তেকালের কারণে তিনি নিজ দেশে ফিরে যান নি। মসজিদে নববীর অদূরে জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে তাকে চির নিদ্রায় শয়ন করিয়ে দেওয়া হয়।