জামাল গোটা একটি কার্যকরী ঔষধি উদ্ভিদ। আমাদের দেশে এটা সাদা ভেরেণ্ডা হিসেবে পরিচিত। দেশের অধিকাংশ জায়গায় কিন্তু এটা “জামাল গোটা” হিসেবে বেশী পরিচিত। উর্দু, হিন্দিতেই এটাকে জামাল গোটা বলা হয়। কেন নাম হিসেবে জামাল গোটা, এটা জানা না গেলেও, কোনভাবে নামটি আমাদের দেশে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। জামাল গোটার তেলেসমাতি 

এর ইংরেজি নাম Jatropha curcas এই গাছের পাতাগুলো খুব সুন্দর। কাণ্ডের মাথায় ফুল ধরতে থাকে। একই কাণ্ডে তাজা ও পাকা ফল লটকে থাকতে দেখা যায়। ফলগুলো গোলাকার তার ভিতরে বিচি থাকে। দেখতে অনেকটা চড়ুই পাখির ডিমের মত বিচিত্র বর্ণের। 

আরো পড়তে পারেন…

বাংলাদেশের সর্বত্রই সাদা ভেরেণ্ডা জন্মে। এর পাতা তৃণভোজী প্রাণী তথা গরু-ছাগল খায় না। এই গাছটি পেয়ারা গাছের মত বড় হয়। খুব সহজে সর্বত্রই জন্মে থাকে এবং কোন ভিত্তি ছাড়াই, চিকনভাবে উপরের দিকে বেয়ে উঠতে পারে। ফলে এই গাছটি বেড়ার খুঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এই কারণে এটি গৃহস্থ বাড়ীর আশে পাশে দেখা যায়। গৃহস্থ বাড়ীর আশে পাশে দেখা যাবার হয়ত এটাই একমাত্র কারণ নয়। আরেকটি কারণ থাকতে পারে, যা নিচে আলোচিত হয়েছে।

জামাল গোটা গাছের বীজ থেকে প্রচুর পরিমাণ তেল বের হয়। এই তেল ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারো পায়খানা শক্ত হলে, যাকে অন্য কথায় কোষ্ঠ-কাঠিন্য বলা হয়, এই গাছের তেল কিংবা ফল ব্যবহারের ফলে আশু ফল লাভ করা হয়। পেট ঠিক করার কাজে খুবই কার্যকরী। তবে মাত্রার বেশী খেলে আমাশয় শুরু হয়ে যেতে পারে। জামাল গোটার তেলেসমাতি 

আমরা কুপি বাতির আলো দেখেছি। তেলের পাশে একটি সলতে লাগানো থাকে। তাতে আগুন দিলে মোমবাতির ন্যায় জ্বলতে থাকে; ঘর আলোকিত হয়। এই সেই তেল যদ্বারা প্রাচীন কাল থেকেই মানুষের জীবন আলোকিত হয়েছে। একদা পরিবারে আলোর জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও, এটি ছিল নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য। তাছাড়া এই তেলের আগুনে কালি পড়েনা। এই সব গুনের কারণে হয়ত, সাদা ভেরেণ্ডা বাংলার প্রতিটি গাঁয়ের আঙ্গিনায় দেখা যেত।

সাদা ভেরেণ্ডার তেল সাবান, মোমবাতি, ফার্নিচারের বার্ণিশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পোকা-মাকড়ের উপদ্রব রোধে এই তেলের ব্যবহার ছিল। বিগত শতাব্দীর মাঝামাঝিতেও মালীর উপকুলের মানুষেরা এই সাদা ভেরেণ্ডার তৈলকে বিশেষায়িত পন্থায় পানির ইঞ্জিনের জন্য ব্যবহার করে নৌকা চালাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *