কেয়ামত তথা পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার অন্যতম একটি লক্ষণ হল, মানুষ ব্যাপক আকারে আমানতের খেয়ানত করবে। বর্তমানে আমাদের দেশ আমানতের খেয়ানত কর্মকাণ্ডে পৃথিবীর সকল দেশকে পিছিয়ে ফেলে তরতর করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ব্যাংকে যে টাকা রাখে, ব্যাংক সেটা আমানত হিসেবেই গ্রহণ করে।
আমানতের মূল কথাই হল, জিনিষটা যেভাবে, যে চেহারায় গচ্ছিত রাখা হয়েছিল হুবহু সেভাবে ফেরত দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের প্রচুর ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ দৃশ্য এমন নয় এসব এখন লুটপাটকে হার মানিয়েছে। সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে মানুষের আমানতের অর্থকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য সীমাহীন লুটপাট হচ্ছে। কেয়ামত
অনেক ব্যাংক দেউলিয়া হবার পথে। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত জনবিস্ফোরণ থামাতে আগে ভাগে নিরাপদ আইন বানিয়ে রাখা হয়েছে। এটা নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। বরং নিত্য নূতন বুদ্ধি বের করে, বাকি টাকাটা কিভাবে হাতিয়ে নেওয়া যায়, এই মতলবে ব্যস্ত লাইনে থাকা বুদ্ধিজীবীরা।
আবার অযোগ্য ব্যক্তিকে কোন স্থানে বসিয়ে দেওয়াটাকেও ইসলামে আমানতের খেয়ানত। কপট-লোভী মানুষকে আমানতের পাহারায় বসানো আমানতের খেয়ানত। এই চিত্রও বাংলাদেশে প্রবল।
ক্ষমতা ব্যবহার করে কিভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ সম্পদ তছরুপ করা হচ্ছে তার আর্কাইভ বাংলাদেশেই মজবুত। দেশের বালিশ কাণ্ড, গাছ কাণ্ড, ফার্নিচার কাণ্ড, কোরআন শরীফের প্রকাশনা কাণ্ড সহ দুনিয়ার সকল ঠগ-বাজের হাজারো নিত্য নতুন কাণ্ডের চাপে দেশের ভাবমূর্তি মাটিতে সেজদাবনতের পর্যায়ে।
এসব কারিগরেরা কখনও দেশের গরম খরব হয়ে উঠে। আইনের হাতে কখনও ধরা পরে। জনগণ ভাবে মনে হয় এবার ঠগ বাছা শুরু হবে কিন্তু সারা মুল্লুকটাই আজ ঠগ-বাজে ঠাসা। প্রবাদের কথা “ঠগ বাছতে গা উজাড়” এর দশা হয় কিনা সে জন্য আবার মাঝ পথে থেমে যায়।
এখানে যার হাতে ক্ষমতা আছে সেও নিশ্চুপ, যার দায়িত্ব আছে সেও নিশ্চুপ, যারা এর বিহিত ব্যবস্থা করতে পারবে তারাও নিশ্চুপ। জনগণ ভয়ে আতঙ্কে এর প্রতিবাদ করার কথা আগেই ভুলে গিয়েছে।
শেয়ার বাজারের হারানোর টাকার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেদের মেরুদণ্ড খুইয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হতে দেখে তারা ফেসবুকের মাধ্যমে হাসি, ঠাট্টা, ব্যঙ্গ, বিদ্রূপের পোষ্ট দেয়। মনে হয় এটা যেন এক উল্লাস।
কবি নজরুল এ ধরণের উল্লাসের নাম করেছিলেন ‘প্রলয়োল্লাস’! সঠিকভাবে মহা ধাক্কা মোকাবেলা করতে হবে, নতুন এই উল্লাস সারা জাতির ধ্বংসের জন্য অন্যতম কারণ হয়ে উঠবে।


Discussion about this post